‘সস্তা লেখকদের জনপ্রিয়তা চিরকালই বেশি’
jugantor
‘সস্তা লেখকদের জনপ্রিয়তা চিরকালই বেশি’

  অসীম সাহা  

০৩ সেপ্টেম্বর ২০২০, ২৩:৪২:২৮  |  অনলাইন সংস্করণ

অসীম সাহার জন্ম ১৯৪৯ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি নেত্রকোনা শহরের মামাবাড়িতে। পিতৃপুরুষের বাড়ি মানিকগঞ্জ জেলার শিবালয় থানার তেওতা গ্রাম।

লেখালেখির জীবন শুরু ১৯৬৪ সালে। ১৯৬৫ সালে ঢাকার পত্রিকায় ছোটদের জন্য লেখালেখি দিয়ে আত্মপ্রকাশ। সেই থেকে কবিতা, গল্প, উপন্যাস, প্রবন্ধ, ছড়া, কিশোর কবিতা, গান প্রভৃতি রচনায় সিদ্ধহস্ত। তার প্রকাশিত বইয়ের সংখ্যা ৫৭টি।

শেষ ষাটের কবিদের অন্যতম প্রধান কবিতায় সামগ্রিক অবদানের জন্য এ-পর্যন্ত আলাওল সাহিত্য পুরস্কার (১৯৯৩), বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার (২০১১), শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন পুরস্কার (২০১২), কবিতালাপ পুরস্কার (২০১২), আন্তর্জাতিক রূপসী বাংলা পুরস্কার (পশ্চিমবঙ্গ) (২০১৩), বঙ্গবন্ধু স্মারক পুরস্কার (পশ্চিমবঙ্গ) (২০১৬), আইএফআইসি ব্যাংক পুরস্কার (২০১৭) প্রভৃতি লাভ করেছেন। ২০১৯ সালে লাভ করেছেন দেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় পুরস্কার ‘একুশে পদক’।

তিনি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত চলচ্চিত্রের অভিনেতা, গীতিকার ও সুরকারও। বিভিন্ন টিভি চ্যানেল ও বেতারের অনুষ্ঠান-উপস্থাপক হিসেবেও কাজ করেছেন। এছাড়াও দেশের মূলধারার পত্রিকায় ৫৬ বছর সাংবাদিকতা করার পর এখন সম্পূর্ণরূপে লেখালেখিতে নিয়োজিত।

যুগান্তর: দীর্ঘ সময় ধরে কবিতা চর্চা করে যাচ্ছেন। গল্প-প্রবন্ধেও আপনি স্বাচ্ছন্দ্যে কাজ করেছেন। এই দীর্ঘ সাহিত্য যাপনের অভিজ্ঞতায় সামনের দিনগুলোতে সাহিত্যে বিশেষ কোনো পরিবর্তনের সম্ভাবনা দেখছেন?

অসীম সাহা: সাহিত্য প্রবহমাণ নদীর মতো। একই জায়গায় কখনও স্থির হয়ে থাকে না। সেই প্রবহমাণতার মধ্যে নদীর মতোই সাহিত্যেও বাঁকবদল ঘটে। কিন্তু নির্দিষ্ট করে বলা মুশকিল, তা কখন, কীভাবে ঘটবে।

তবে ঘটবে যে, তা নিশ্চিত। ক্ল্যাসিক যুগ থেকে রোমান্টিক যুগ, রোমান্টিক যুগ থেকে আধুনিক যুগ এবং পরবর্তীকালে উত্তরাধুনিক যুগের যে দাবি, তা তো পরিবর্তনের বাস্তবতা ও ইশারার মধ্য দিয়েই সম্পন্ন হয়েছে।

এর মধ্যে আবার পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে নতুন নতুন কাব্য-প্রপঞ্চ নির্মাণের জন্য উন্মাতাল তরুণরা নানাভাবে চেষ্টা করে গেছেন। তার কোনটা সফল হয়েছে, কোনটা হয়নি। কিন্তু পরিবর্তনের প্রয়াস থেমে থাকেনি। এখনও থেমে নেই। এখন তার লক্ষণ তেমন দৃষ্টিগোচর না হলেও তা যে অনিবার্য, সে-ব্যাপারে সংশয় থাকার কোনো কারণ নেই।

যুগান্তর: করোনা পরিস্থিতিতে অথবা করোনা-পরবর্তী সাহিত্যের বিষয়বস্তুতে কোনো ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে?

অসীম সাহা: করোনা পরিস্থিতির কারণে সারা বিশ্বেই মানবজীবনে যে অভিঘাত সৃষ্টি হয়েছে, তার প্রতিফলন সাহিত্যে ইতোমধ্যেই শুরু হয়ে গেছে। তবে তা সাহিত্যের বিষয়বস্তুতে মৌলিক কোনো পরিবর্তন ঘটাবে কিনা, এখনো তা বলার সময় হয়নি বলেই আমি মনে করি।

যুগান্তর: আপনার লেখালেখির শুরু থেকে সাহিত্যে বিশেষ পরিবর্তনের সময়টি বলেন, কী ধরনের পরিবর্তন চোখে পড়েছে?

অসীম সাহা: আমি যখন লেখালেখি শুরু করি, তখন বিশেষ করে বাংলাদেশে ত্রিশের কবিতার প্রভাববিস্তারি চর্চা শুরু হলেও ব্যাপক অভিঘাত সৃষ্টিকারী দ্যোতনা তৈরি করতে পারেনি। ষাটের দশকে এসে বিশেষত আমেরিকান বীট, কলকাতার হাংরি কিংবা শ্রুতি আন্দোলনের প্রভাবে নতুন কবিতা লেখার প্রয়াসে কিছু তেজি তরুণ স্যাড জেনারেশন আন্দোলন গড়ে তুলে আধুনিক কবিতায় নতুন মাত্রা সংযোজন করার চেষ্টা করেছিলেন। সেটা হয়েছিল নতুন কাব্যযাত্রার সাহসী অভিলাষেই। তার সফলতা-ব্যর্থতা নিয়ে প্রশ্ন থাকতেই পারে। কিন্তু পরিবর্তনের একটা জোয়ার যে এসেছিল, তাতে কোনো সন্দেহ নেই। কিন্ত ষাটের শেষে কবিতায় একটি মৌলিক পরিবর্তন ঘটে। কবিতার বিষয়বস্তুতে রাজনীতি প্রধান হয়ে দাঁড়ায়। দেশের রাজনীতি তখন সমাজ নিয়ন্ত্রকের ভূমিকা পালন করে বলে কবিরাও তার প্রধান অংশভাগী হয়ে দাঁড়ায়। আধুনিক কবিতার মৌলিক আবকাঠামোর মধ্যে রাজনীতি বা দেশপ্রেম প্রধান আধার হয়ে ওঠে। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত এ ধারা অব্যাহত থাকে।

যুগান্তর: বাংলাভাষার কোন গ্রন্থগুলো অন্য ভাষায় অনুবাদ হওয়া দরকার মনে করেন?

অসীম সাহা: অবশ্যই বাংলা ক্ল্যাসিক গ্রন্থগুলো। একই সঙ্গে সমসাময়িক বাংলা কবিতা ও কথাসাহিত্যের সেরা লেখকদের গ্রন্থও।

যুগান্তর: বর্তমানে বাংলাদেশের সাহিত্যে ভালো লেখকের অভাব নাকি ভালো মানের পাঠকের অভাব?

অসীম সাহা: দুটোই।

যুগান্তর: যাদের লেখা সমাজে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে, জীবিত এমন তিনজন লেখকের নাম।

অসীম সাহা: এই মুহূর্তে নির্দিষ্ট করে বলা কঠিন।

যুগান্তর: লেখক হিসেবে বহুল আলোচিত কিন্তু আপনার বিবেচনায় এদের নিয়ে এতটা আলোচনা হওয়ার কিছু নেই এমন তিনজন লেখকের নাম।

অসীম সাহা: চিরকালই সস্তা লেখকদের জনপ্রিয়তা বেশি। জনপ্রিয়তার মানদণ্ডে লেখকের মূল্যায়ন সাহিত্যকে অবমাননা করার শামিল। এমন লেখকরা ক্ষণকালের চাহিদা মেটায়, মহাকালের রথে এদের কখনো স্থান হয় না। এমন লেখক এখানে নেহায়েত কম নয়। তাই নির্দিষ্ট করে নাম বলার প্রয়োজন আছে বলে মনে করি না।

যুগান্তর: এখানে গুরুত্বপূর্ণ লেখকরা কী কম আলোচিত? যদি সেটা হয়, তাহলে কী কী কারণে হচ্ছে? এমন তিনটি সমস্যার কথা উল্লেখ করুন।

অসীম সাহা: অবশ্যই কম আলোচিত। কারণ : ১. গুরুত্বপূর্ণ লেখকরা করুণাভিখারি নন। ২. মিডিয়ার আনুকূল্য পেতে তাঁরা স্থূল ভুমিকায় অবতীর্ণ হন না। ৩. যোগ্য সমালোচকের অভাব।

যুগান্তর: সাহিত্য থেকে হওয়া আপনার দেখা সেরা সিনেমা।

অসীম সাহা: আমি খুব বেশি সিনেমা দেখি না। এখন পর্যন্ত দেখা ছবির মধ্যে সত্যজিৎ রায়ের ‘পথের পাঁচালী’ আমাকে বিমুগ্ধ করেছিল।

যুগান্তর: জীবিত একজন আদর্শ রাজনীতিবিদের নাম বলুন।

অসীম সাহা: নেই।

যুগান্তর: দুই বাংলার সাহিত্যে তুলনা করলে বর্তমানে আমরা কোন বিভাগে এগিয়ে কোন বিভাগে পিছিয়ে?

অসীম সাহা: কবিতায় এগিয়ে। আর সব ক্ষেত্রেই পিছিয়ে। বিশেষত গবেষণায় বলতে গেলে আমরা অজ্ঞ।

যুগান্তর: একজন অগ্রজ এবং একজন অনুজ লেখকের নাম বলুন, যারা বাংলা সাহিত্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

অসীম সাহা: অগ্রজদের মধ্যে হাসান আজিজুল হক। তরুণদের মধ্যে অনেকেই আছেন। একজনের নাম বলা সম্ভব নয়।

যুগান্তর: এমন দুটি বই, যা অবশ্যই পড়া উচিত বলে পাঠককে পরামর্শ দেবেন।

অসীম সাহা: ‘জীবনানন্দ দাশের কাব্যসম্ভার’ এবং রবীন্দ্রনাথের ‘শেষের কবিতা’।

যুগান্তর: লেখক না হলে কী হতে চাইতেন?
অসীম সাহা: কৃষক।

যুগান্তর: গানে আছে ‘প্রেম একবার এসেছিল জীবনে’- আপনার জীবনে কয়বার এসেছিল?

অসীম সাহা: প্রেম নয়, অনুরাগ জীবনে বারবার আসে। আমার প্রথম ও শেষ প্রেম কবি অঞ্জনা সাহা।

যুগান্তর : আপনার সবচেয়ে ভালো লাগার বিষয়, সবচেয়ে খারাপ লাগার বিষয়।

অসীম সাহা: ভালো লাগা : নিষ্কলুষ আড্ডা ও বেড়ানো। খারাপ লাগা : মিথ্যা কথা বলা ও অকারণে অপরের নিন্দা করা।

‘সস্তা লেখকদের জনপ্রিয়তা চিরকালই বেশি’

 অসীম সাহা 
০৩ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১১:৪২ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

অসীম সাহার জন্ম ১৯৪৯ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি নেত্রকোনা শহরের মামাবাড়িতে। পিতৃপুরুষের বাড়ি মানিকগঞ্জ জেলার শিবালয় থানার তেওতা গ্রাম।

লেখালেখির জীবন শুরু ১৯৬৪ সালে। ১৯৬৫ সালে ঢাকার পত্রিকায় ছোটদের জন্য লেখালেখি দিয়ে আত্মপ্রকাশ। সেই থেকে কবিতা, গল্প, উপন্যাস, প্রবন্ধ, ছড়া, কিশোর কবিতা, গান প্রভৃতি রচনায় সিদ্ধহস্ত। তার প্রকাশিত বইয়ের সংখ্যা ৫৭টি।

শেষ ষাটের কবিদের অন্যতম প্রধান কবিতায় সামগ্রিক অবদানের জন্য এ-পর্যন্ত আলাওল সাহিত্য পুরস্কার (১৯৯৩), বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার (২০১১), শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন পুরস্কার (২০১২), কবিতালাপ পুরস্কার (২০১২), আন্তর্জাতিক রূপসী বাংলা পুরস্কার (পশ্চিমবঙ্গ) (২০১৩), বঙ্গবন্ধু স্মারক পুরস্কার (পশ্চিমবঙ্গ) (২০১৬), আইএফআইসি ব্যাংক পুরস্কার (২০১৭) প্রভৃতি লাভ করেছেন। ২০১৯ সালে লাভ করেছেন দেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় পুরস্কার ‘একুশে পদক’।

তিনি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত চলচ্চিত্রের অভিনেতা, গীতিকার ও সুরকারও। বিভিন্ন টিভি চ্যানেল ও বেতারের অনুষ্ঠান-উপস্থাপক হিসেবেও কাজ করেছেন। এছাড়াও দেশের মূলধারার পত্রিকায় ৫৬ বছর সাংবাদিকতা করার পর এখন সম্পূর্ণরূপে লেখালেখিতে নিয়োজিত।

যুগান্তর: দীর্ঘ সময় ধরে কবিতা চর্চা করে যাচ্ছেন। গল্প-প্রবন্ধেও আপনি স্বাচ্ছন্দ্যে কাজ করেছেন। এই দীর্ঘ সাহিত্য যাপনের অভিজ্ঞতায় সামনের দিনগুলোতে সাহিত্যে বিশেষ কোনো পরিবর্তনের সম্ভাবনা দেখছেন?

অসীম সাহা: সাহিত্য প্রবহমাণ নদীর মতো। একই জায়গায় কখনও স্থির হয়ে থাকে না। সেই প্রবহমাণতার মধ্যে নদীর মতোই সাহিত্যেও বাঁকবদল ঘটে। কিন্তু নির্দিষ্ট করে বলা মুশকিল, তা কখন, কীভাবে ঘটবে।

তবে ঘটবে যে, তা নিশ্চিত। ক্ল্যাসিক যুগ থেকে রোমান্টিক যুগ, রোমান্টিক যুগ থেকে আধুনিক যুগ এবং পরবর্তীকালে উত্তরাধুনিক যুগের যে দাবি, তা তো পরিবর্তনের বাস্তবতা ও ইশারার মধ্য দিয়েই সম্পন্ন হয়েছে।

এর মধ্যে আবার পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে নতুন নতুন কাব্য-প্রপঞ্চ নির্মাণের জন্য উন্মাতাল তরুণরা নানাভাবে চেষ্টা করে গেছেন। তার কোনটা সফল হয়েছে, কোনটা হয়নি। কিন্তু পরিবর্তনের প্রয়াস থেমে থাকেনি। এখনও থেমে নেই। এখন তার লক্ষণ তেমন দৃষ্টিগোচর না হলেও তা যে অনিবার্য, সে-ব্যাপারে সংশয় থাকার কোনো কারণ নেই।

যুগান্তর: করোনা পরিস্থিতিতে অথবা করোনা-পরবর্তী সাহিত্যের বিষয়বস্তুতে কোনো ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে?

অসীম সাহা: করোনা পরিস্থিতির কারণে সারা বিশ্বেই মানবজীবনে যে অভিঘাত সৃষ্টি হয়েছে, তার প্রতিফলন সাহিত্যে ইতোমধ্যেই শুরু হয়ে গেছে। তবে তা সাহিত্যের বিষয়বস্তুতে মৌলিক কোনো পরিবর্তন ঘটাবে কিনা, এখনো তা বলার সময় হয়নি বলেই আমি মনে করি।

যুগান্তর: আপনার লেখালেখির শুরু থেকে সাহিত্যে বিশেষ পরিবর্তনের সময়টি বলেন, কী ধরনের পরিবর্তন চোখে পড়েছে?

অসীম সাহা: আমি যখন লেখালেখি শুরু করি, তখন বিশেষ করে বাংলাদেশে ত্রিশের কবিতার প্রভাববিস্তারি চর্চা শুরু হলেও ব্যাপক অভিঘাত সৃষ্টিকারী দ্যোতনা তৈরি করতে পারেনি। ষাটের দশকে এসে বিশেষত আমেরিকান বীট, কলকাতার হাংরি কিংবা শ্রুতি আন্দোলনের প্রভাবে নতুন কবিতা লেখার প্রয়াসে কিছু তেজি তরুণ স্যাড জেনারেশন আন্দোলন গড়ে তুলে আধুনিক কবিতায় নতুন মাত্রা সংযোজন করার চেষ্টা করেছিলেন। সেটা হয়েছিল নতুন কাব্যযাত্রার সাহসী অভিলাষেই। তার সফলতা-ব্যর্থতা নিয়ে প্রশ্ন থাকতেই পারে। কিন্তু পরিবর্তনের একটা জোয়ার যে এসেছিল, তাতে কোনো সন্দেহ নেই। কিন্ত ষাটের শেষে কবিতায় একটি মৌলিক পরিবর্তন ঘটে। কবিতার বিষয়বস্তুতে রাজনীতি প্রধান হয়ে দাঁড়ায়। দেশের রাজনীতি তখন সমাজ নিয়ন্ত্রকের ভূমিকা পালন করে বলে কবিরাও তার প্রধান অংশভাগী হয়ে দাঁড়ায়। আধুনিক কবিতার মৌলিক আবকাঠামোর মধ্যে রাজনীতি বা দেশপ্রেম প্রধান আধার হয়ে ওঠে। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত এ ধারা অব্যাহত থাকে।

যুগান্তর: বাংলাভাষার কোন গ্রন্থগুলো অন্য ভাষায় অনুবাদ হওয়া দরকার মনে করেন?

অসীম সাহা: অবশ্যই বাংলা ক্ল্যাসিক গ্রন্থগুলো। একই সঙ্গে সমসাময়িক বাংলা কবিতা ও কথাসাহিত্যের সেরা লেখকদের গ্রন্থও।

যুগান্তর: বর্তমানে বাংলাদেশের সাহিত্যে ভালো লেখকের অভাব নাকি ভালো মানের পাঠকের অভাব?

অসীম সাহা: দুটোই।

যুগান্তর: যাদের লেখা সমাজে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে, জীবিত এমন তিনজন লেখকের নাম।

অসীম সাহা: এই মুহূর্তে নির্দিষ্ট করে বলা কঠিন।

যুগান্তর: লেখক হিসেবে বহুল আলোচিত কিন্তু আপনার বিবেচনায় এদের নিয়ে এতটা আলোচনা হওয়ার কিছু নেই এমন তিনজন লেখকের নাম।

অসীম সাহা: চিরকালই সস্তা লেখকদের জনপ্রিয়তা বেশি। জনপ্রিয়তার মানদণ্ডে লেখকের মূল্যায়ন সাহিত্যকে অবমাননা করার শামিল। এমন লেখকরা ক্ষণকালের চাহিদা মেটায়, মহাকালের রথে এদের কখনো স্থান হয় না। এমন লেখক এখানে নেহায়েত কম নয়। তাই নির্দিষ্ট করে নাম বলার প্রয়োজন আছে বলে মনে করি না।

যুগান্তর: এখানে গুরুত্বপূর্ণ লেখকরা কী কম আলোচিত? যদি সেটা হয়, তাহলে কী কী কারণে হচ্ছে? এমন তিনটি সমস্যার কথা উল্লেখ করুন।

অসীম সাহা: অবশ্যই কম আলোচিত। কারণ : ১. গুরুত্বপূর্ণ লেখকরা করুণাভিখারি নন। ২. মিডিয়ার আনুকূল্য পেতে তাঁরা স্থূল ভুমিকায় অবতীর্ণ হন না। ৩. যোগ্য সমালোচকের অভাব।

যুগান্তর: সাহিত্য থেকে হওয়া আপনার দেখা সেরা সিনেমা।

অসীম সাহা: আমি খুব বেশি সিনেমা দেখি না। এখন পর্যন্ত দেখা ছবির মধ্যে সত্যজিৎ রায়ের ‘পথের পাঁচালী’ আমাকে বিমুগ্ধ করেছিল।

যুগান্তর: জীবিত একজন আদর্শ রাজনীতিবিদের নাম বলুন।

অসীম সাহা: নেই।

যুগান্তর: দুই বাংলার সাহিত্যে তুলনা করলে বর্তমানে আমরা কোন বিভাগে এগিয়ে কোন বিভাগে পিছিয়ে?

অসীম সাহা: কবিতায় এগিয়ে। আর সব ক্ষেত্রেই পিছিয়ে। বিশেষত গবেষণায় বলতে গেলে আমরা অজ্ঞ।

যুগান্তর: একজন অগ্রজ এবং একজন অনুজ লেখকের নাম বলুন, যারা বাংলা সাহিত্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

অসীম সাহা: অগ্রজদের মধ্যে হাসান আজিজুল হক। তরুণদের মধ্যে অনেকেই আছেন। একজনের নাম বলা সম্ভব নয়।

যুগান্তর: এমন দুটি বই, যা অবশ্যই পড়া উচিত বলে পাঠককে পরামর্শ দেবেন।

অসীম সাহা: ‘জীবনানন্দ দাশের কাব্যসম্ভার’ এবং রবীন্দ্রনাথের ‘শেষের কবিতা’।

যুগান্তর: লেখক না হলে কী হতে চাইতেন?
অসীম সাহা: কৃষক।

যুগান্তর: গানে আছে ‘প্রেম একবার এসেছিল জীবনে’- আপনার জীবনে কয়বার এসেছিল?

অসীম সাহা: প্রেম নয়, অনুরাগ জীবনে বারবার আসে। আমার প্রথম ও শেষ প্রেম কবি অঞ্জনা সাহা।

যুগান্তর : আপনার সবচেয়ে ভালো লাগার বিষয়, সবচেয়ে খারাপ লাগার বিষয়।

অসীম সাহা: ভালো লাগা : নিষ্কলুষ আড্ডা ও বেড়ানো। খারাপ লাগা : মিথ্যা কথা বলা ও অকারণে অপরের নিন্দা করা।