‘সায়েন্স ফিকশনের নামে সায়েন্স ফ্যান্টাসি লেখা হচ্ছে’
jugantor
‘সায়েন্স ফিকশনের নামে সায়েন্স ফ্যান্টাসি লেখা হচ্ছে’

  যুগান্তর ডেস্ক  

০২ অক্টোবর ২০২০, ০২:০৩:২১  |  অনলাইন সংস্করণ

‘সায়েন্স ফিকশনের নামে সায়েন্স ফ্যান্টাসি লেখা হচ্ছে’

খন্দকার রেজাউল করিম শিক্ষক, গবেষক, লেখক। শিক্ষকতা শুরু ১৯৭৫ সালে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে। ১৯৭৮ সালে উচ্চশিক্ষার জন্য আমেরিকা যান।

১৯৮৩ সালে ইউনিভার্সিটি অব অরিগন থেকে পদার্থবিদ্যায় ডক্টরেট ডিগ্রি অর্জন করেন। এরপর ৩০ বছর কাটিয়েছেন আমেরিকার বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণা ও শিক্ষকতার কাজে। বর্তমানে আমেরিকার ইলিনয় স্টেট ইউনিভার্সিটির ইমেরিটাস প্রফেসর।

ড. করিম গবেষণার কাজে জড়িত ছিলেন নাসা, মার্কিন জাতীয় বিজ্ঞান সংস্থা, মার্কিন এনার্জি সংস্থা, ন্যাটো, টোকোমাক ফিউশন টেস্ট রিয়্যাক্টর এবং আরও অনেক প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞান প্রকল্পে। তার ৮০টি গবেষণা-প্রবন্ধ রয়েছে।

এর বাইরে লিখেছেন দুটি বই- ‘Quantum Nursery Rhymes’ ও ‘কোয়ান্টাম রাজ্যে ডালিম কুমার’।

বহুল পঠিত এবং আলোচিত ‘কোয়ান্টাম রাজ্যে ডালিম কুমার’ বইটি বিজ্ঞানের সঙ্গে সাহিত্যের সম্পর্ক স্থাপনের দৃষ্টান্ত। বিজ্ঞানও যে এক ধরনের শিল্প তা ড. করিমের এ বইতে সুন্দরভাবে উঠে এসেছে।

সাক্ষাৎকার নিয়েছেন- জুননু রাইন

যুগান্তর: দীর্ঘ সময় ধরে বিজ্ঞানচর্চার সঙ্গে যুক্ত আছেন। দূর থেকে হলেও বাংলাদেশের বিজ্ঞানচর্চার সঙ্গে আপনার এক ধরনের সম্পৃক্ততা দেখতে পাই ‘কোয়ান্টাম রাজ্যে ডালিম কুমার’ গ্রন্থের লেখাগুলো পড়ে। উন্নত বিশ্বের তুলনায় বাংলাদেশের বিজ্ঞানচর্চা কতটা এগিয়েছে?

খন্দকার রেজাউল করিম : বিজ্ঞানচর্চার প্রধান মাপকাঠি হল দেশের শিক্ষক এবং গবেষকদের গবেষণা প্রবন্ধের সংখ্যা এবং গুণমান।

এ প্রবন্ধ যে গবেষণা পত্রিকায় ছাপা হয়েছে তার মান কেমন? প্রবন্ধটি প্রকাশের পর কতজন গবেষক এ গবেষণার উদ্ধৃতি দিয়েছেন? এসব প্রশ্নের উত্তর থেকে বিজ্ঞানচর্চার খবর মেলে।

একজন বিজ্ঞান গবেষকের সবচেয়ে বড় সম্মান এবং স্বীকৃতি হল নোবেল পুরস্কার পাওয়া। একটি দেশ থেকে গত দশ বছরে কয়জন নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন সে খবর থেকে দেশটির বিজ্ঞানচর্চার মান বোঝা যায়।

নিয়মিতভাবে মানসম্মত গবেষণা প্রবন্ধ প্রকাশ করেন এমন শিক্ষক বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়ে খুব বেশি নেই। তবে অনেক প্রতিকূল অবস্থার ভেতরে থেকেও বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু শিক্ষক নামি বিদেশি জার্নালে প্রতি বছর একাধিক গবেষণা প্রবন্ধ প্রকাশ করছেন। এ গবেষণায় ছাত্ররাও যোগ দিচ্ছে। এটা বড় আশার কথা।

যুগান্তর : ‘প্রতিকূল’ অবস্থার কথা বিস্তারিতভাবে বলবেন? অর্থাৎ কোন ক্ষেত্রে কী ধরনের সমস্যা আছে বললে সমাধানের দিশা স্পষ্ট হতে পারে

খন্দকার রেজাউল করিম : বাংলাদেশে গবেষকরা দু’ধরনের প্রতিকূলতার সম্মুখীন হন : (১) গবেষণার জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি, বই, এবং জার্নালের অভাব। (২) উৎসাহের অভাব।
আমেরিকান বিশ্ববিদ্যালয়ে বেতন বৃদ্ধি এবং পদোন্নতি শিক্ষকের গবেষণার সঙ্গে জড়িত। যে শিক্ষক যত বেশি গবেষণা প্রবন্ধ প্রকাশ করেন, যত বেশি সরকারি এবং বেসরকারি অনুদান জোগাড় করতে পারেন, তার বেতন তত বেশি।

‘Publish or perish’ কথাটি মার্কিন বিশ্ববিদ্যালয়ে খুব প্রচলিত। বাংলাদেশে সব শিক্ষকের বেতন বছর শেষে একই হারে বাড়ে। গবেষণা করে কী লাভ?

যুগান্তর : আমরা দেখতে পাই বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের মধ্যে এক ধরনের বিজ্ঞানভীতি রয়েছে। এটা কী কারণে হচ্ছে? এ থেকে উত্তরণের উপায় কী?

খন্দকার রেজাউল করিম : কী? কেন? কেমন করে? চারপাশে প্রকৃতিতে যা দেখছি তা নিয়ে এ ধরনের প্রশ্নের উত্তর খোঁজাই বিজ্ঞানের কাজ। সেদিক থেকে সব শিশু-কিশোর বিজ্ঞানীর মতো আচরণ করে। এসব প্রশ্নের উত্তর অনেক গুরুজনের জানা নেই।

সেটা স্পষ্ট করে জানিয়ে দিলে বিজ্ঞানের প্রতি শিশুদের আগ্রহ আরও বাড়বে। ধমক দিলে সব কৌতূহলের অবসান ঘটবে, একজন খুদে বিজ্ঞানীর বিজ্ঞানমনস্কতা অকালেই ঝরে যাবে। বিজ্ঞানশিক্ষা ব্যয়বহুল। শিশু-কিশোরদের হাতে কলমে বিজ্ঞানের সহজ আইনগুলো নিয়ে পরীক্ষা করা ভীষণ জরুরি।

কিন্তু বেশিরভাগ স্কুল এবং কলেজে পর্যাপ্ত ল্যাব নেই, তাই সে সুযোগ নেই। বাংলায় বিজ্ঞানের পাঠ্যবইগুলো দুর্বোধ্য ভাষায় লেখা।

মুখস্থ বিদ্যা বিজ্ঞানের এক নম্বর শত্রু। বিজ্ঞান বোঝার জিনিস, মুখস্থ করার জিনিস নয়। বোঝার পর্ব শেষ হওয়ার পর, নিজের ভাষায় তা লিখতে হবে। মুখস্ত করতে গেলে বিজ্ঞান ভীতিকর মনে হবে।

যুগান্তর : আপনার বিজ্ঞানবিষয়ক বাংলা লেখাগুলো পড়লে বুঝতে পারি বিজ্ঞানের সঙ্গে সাহিত্যের সুন্দর একটা যোগসূত্র ঘটছে।

আপনি কী সাহিত্যকে বিজ্ঞানের ফ্লেভার দিতে চান? নাকি বিজ্ঞানকে সাহিত্যরসে তুলে ধরা আপনার উদ্দেশ্য? আপনি নিজেকে সাহিত্যের মানুষ ভাবেন? নাকি বিজ্ঞানের?

খন্দকার রেজাউল করিম : বিজ্ঞানকে সাহিত্য রসে তুলে ধরতে চাই। বিজ্ঞানের আনন্দ সবার কাছে পৌঁছে দিতে চাই। বিজ্ঞান আমার পেশা। কিন্তু গান না শুনে, কবিতা না পড়ে আমার একদিনও চলে না।

যুগান্তর : আপনার ‘কোয়ান্টাম রাজ্যে ডালিম কুমার’ বইটিতে অনেক কবিতা-গানের উদ্ধৃতি দিয়েছেন। কেন?

খন্দকার রেজাউল করিম : বিজ্ঞান এবং সাহিত্যের মধ্যে যে একটা দেয়াল গড়ে উঠেছে তাকে লোপাট করার চেষ্টা। ডিরাক সমীকরণ কোয়ান্টাম এবং আপেক্ষিকতা তত্ত্বের মিলন ঘটায়।

তার নিজের আবিষ্কার করা এ সমীকরণ সম্পর্কে ডিরাক বলেছিলেন, ‘এই সমীকরণের কাছে আমি অনেক কিছু শিখেছি।’ সাহিত্যেও এমন ঘটে, প্রথম পরিচয়ে সব জানাজানি শেষ হয়ে যায় না। যদি যায়, তবে সেটা কোনো বড় মাপের সাহিত্য নয়।

শেক্সপিয়ারের একটা সনেট কতবার পড়া যায়? প্রতিবার ও যেন নতুন রূপে হাজির হয়। আইনস্টাইনের আপেক্ষিকতা তত্ত্ব যে কত রূপে সামনে এসে দাঁড়াতে পারে তা আইনস্টাইন ভাবতেও পারেননি।

যুগান্তর: বর্তমানে বাংলাদেশের সায়েন্স ফিকশন নামের সাহিত্যগুলো বিজ্ঞানের বিষয়ে মানুষকে উৎসাহিত করার জন্য যথেষ্ট কি?

এখানে ভালো সায়েন্স ফিকশনের অভাব নাকি ভালো পাঠকের অভাব?

খন্দকার রেজাউল করিম : না, যথেষ্ট নয়। কম্পিউটারের পর্দায় ভিডিও গেম খেলে কিশোর-কিশোরী কি কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিং পড়তে উৎসাহিত হবে? শুধু বাংলাদেশ নয়, ইউরোপ আমেরিকা সর্বত্র সায়েন্স ফিকশনের নামে সায়েন্স ফ্যান্টাসি নিয়ে আজকাল বেশি লেখালিখি হচ্ছে।

আমরা হয়তো অন্ধের মতো ওদের অনুসরণ করছি। প্রাথমিকভাবে এসব বই কিশোর-কিশোরীদের বিজ্ঞানের প্রতি আকৃষ্ট করতে পারে। তবে শুধু এ ধরনের বই নিয়ে মেতে থাকলে ভবিষ্যতে বিজ্ঞানী হওয়ার কোনো আশা নেই।

ভালো সায়েন্স ফিকশনের বই বিজ্ঞানীদেরও অনুপ্রেরণা দিতে পারে। আর্থার ক্লার্কের লেখা ‘২০০১ : A Space Odyssey’ বিজ্ঞানী পল ডিরাকের অনুপ্রেরণা ছিল। ইদানীংকালে বাংলায় লেখা দু-একটি সায়েন্স ফিকশনের বই পড়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু বেশিদূর এগোতে পারিনি।

সাইন্স ফিকশন সাধারণত কিশোর-কিশোরীরা পড়ে থাকে। ওদের মন ধোয়া স্লেটের মতো। বাছবিচার না করে ওরা তো সব কিছুই পড়ে। তাই পাঠকের কোনো অভাব নেই। আগ্রহেরও অভাব নেই। কিন্তু পাঠককে বিজ্ঞানকেন্দ্রিক ভালো গল্প উপহার দেয়ার দায়িত্ব লেখকের। এমন লেখকের অভাব আছে।

যুগান্তর: আপনার প্রিয় বিজ্ঞানবিষয়ক তিনটি সিনেমার নাম জানতে চাই। এবং সেগুলোতে কী ধরনের রসদ উপভোগ করেছেন?

খন্দকার রেজাউল করিম: ‘Twenty thousand leagues under the sea’- জুলস ভার্নের সায়েন্স ফিকশন থেকে ডিজনির করা সিনেমা। এ গল্পে ক্যাপ্টেন নিমো সাবমেরিন নিয়ে সমুদ্রের তলে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। সাবমেরিন দিয়ে ডুবিয়ে দিচ্ছেন ব্রিটিশ সমুদ্র জাহাজ।

তিনি জানেন আণবিক শক্তির রহস্য। এ রহস্য জানার জন্য ‘সভ্য’ সমাজ তার স্ত্রী-পুত্রকে খুন করেছে। সাবমেরিন এবং আণবিক শক্তির গোপন কথা জানার আগেই এ গল্পে তার উল্লেখ আছে।
এ সিনেমার মূল চরিত্রে আছেন ক্যাপ্টেন নিমো, একজন প্রফেসর এবং একজন তিমি মাছ শিকারি। সমুদ্রতলের দুঃসাহসিক অভিযান, প্রফেসর এবং নিমোর মাঝে দার্শনিক বিতর্ক, তিমি মাছ শিকারির হার্পুন, বীরত্ব এবং নাচ, সবই উপভোগ করার মতো।

‘২০০১ : A Space Odyssey’ আর্থার ক্লার্কের লেখা বই থেকে করা সিনেমা। প্রধান চরিত্রে আছেন একজন নভোচারী এবং তার কম্পিউটার ‘হাল’।

হোমারের ওডেসিতে নায়ক দেশে ফিরছিলেন, এখানে নভোচারী যাচ্ছেন সৌরজগৎ পেরিয়ে অন্য কোথায়। তাদের কার্যকলাপ দূর থেকে নিয়ন্ত্রণ করছে এক অজানা সভ্যতা।

এ সিনেমাটি উপভোগ করার জন্য কানের তেমন দরকার নেই, চোখ থাকলেই চলবে। ২ ঘণ্টা ১৯ মিনিটের সিনেমায় মাত্র ৪০ মিনিট কথাবার্তার জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে।

এ সিনেমাটি বিজ্ঞানী পল ডিরাকের খুব পছন্দের, ডিরাক নীরবে থাকতেই ভালোবাসতেন, কথা বললে সবচেয়ে কম সংখ্যক শব্দ ব্যবহার করতেন।

‘Star Wars’ জর্জ লুকাসের অতি জনপ্রিয় একটি সিনেমা। গ্যালাক্টিক রাজত্বের কর্ণধারের সঙ্গে বিদ্রোহীদের যুদ্ধ। প্রধান চরিত্রে আছেন রাজকুমারী লেয়া, এক দ্রুতগতি নভোযানের মালিক হান সলো, এবং স্কাই ওয়াকার লুক।

হান সলো একজন দুঃসাহসী যোদ্ধা যে শুধুই টাকার জন্য যুদ্ধ করে, কিন্তু রাজকুমারীর আকর্ষণ এড়াতে পারে না। বিখ্যাত জাপানি পরিচালক আকিরা কুরোসোয়ার ‘The Hidden Fortress’ সিনেমাটির প্রভাব এ সিনেমায় স্পষ্ট।

চরিত্রগুলোর সাজপোশাক, রোবট ‘আর টু-ডি টু’র কাণ্ড, যুদ্ধ এবং নভোযানগুলোর ডগফাইট উপভোগ করার মতো।

যুগান্তর : সাহিত্য বিজ্ঞান দুটোই আপনার চর্চার বিষয়। দু’দিক থেকে বিচার করলে আপনার কাছে প্রেম-ভালোবাসার অর্থটা কেমন?

খন্দকার রেজাউল করিম : শরীরের কয়েকটি গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত হরমোন ভালোবাসার অনুভূতি সৃষ্টি করে। রোমিয়োর শরীর থেকে এ গ্রন্থিগুলো কেটে বাদ দিলে সে জুলিয়েটের প্রতি সব আকর্ষণ হারাবে।

প্রাণীদের ওপর পরীক্ষা করে এর সত্যতা প্রমাণ করা গেছে। রক্তে হরমোনের পরিমাণ মেপে এবং মস্তিষ্কের নিউরোনের সক্রিয়তা নির্ধারণ করে বিজ্ঞানীরা ভালোবাসার পরিমাণ মাপতে পারেন।

দার্শনিকরা তিন রকম ভালোবাসার কথা বলেন; নিজেকে ভালোবাসা (narcissism), যৌন ভালোবাসা (libido), এবং প্লেটোনিক (Platonic) ভালোবাসা।

প্লেটো রোমান্টিক ভালোবাসাকে লিবিডো হিসেবে বিবেচনা করেছেন। অনেকে ঈশ্বরকে ভালোবাসা একটি মৌলিক ভালোবাসা বলে দাবি করেন। অনেকে প্রকৃতির মাঝে ঈশ্বরকে অনুভব করাকেই ভালোবাসা হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।

কবি-সাহিত্যিকরা রোমান্টিক ভালোবাসা নিয়ে লেখালেখি করেন। কিন্তু এ ভালোবাসা মাপার কোনো উপায় কবিদের জানা নেই। ঈশ্বর, প্রকৃতি, জ্ঞান, বই ইত্যাদির প্রতি যৌনতাবিহীন ভালোবাসাকে প্লেটোনিক ভালোবাসা বলে।

ফ্রয়েড শিশুদের আঙ্গুল চোষা থেকে বুড়োদের হুক্কা চোষার মধ্যেও যৌনতার গন্ধ খুঁজে পেয়েছেন।

যুগান্তর : আমাদের সামাজিক ইতিহাসের নিরিখে (৭১ পরবর্তী) মননশীলতার উন্নতি বা অবনতি সম্পর্কে ২০২০ সালে এসে কী বলবেন?

খন্দকার রেজাউল করিম : আমার মনে হয় মননশীলতার অবনতি হয়েছে। দুর্নীতি আরও বেড়েছে। শিক্ষা এবং চিকিৎসা, মানুষের এ দুটি মৌলিক চাহিদা নিয়ে লাভজনক ব্যবস্যা চলছে।

যুগান্তর : এমন দুটো বই, যা অবশ্যই পড়া উচিত বলে পাঠককে পরামর্শ দেবেন।

খন্দকার রেজাউল করিম : মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘পুতুলনাচের ইতিকথা’ এবং
Antoine de Exupery-এর লেখা ‘The Little Prince.’

‘সায়েন্স ফিকশনের নামে সায়েন্স ফ্যান্টাসি লেখা হচ্ছে’

 যুগান্তর ডেস্ক 
০২ অক্টোবর ২০২০, ০২:০৩ এএম  |  অনলাইন সংস্করণ
‘সায়েন্স ফিকশনের নামে সায়েন্স ফ্যান্টাসি লেখা হচ্ছে’
ছবি: যুগান্তর

খন্দকার রেজাউল করিম শিক্ষক, গবেষক, লেখক। শিক্ষকতা শুরু ১৯৭৫ সালে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে। ১৯৭৮ সালে উচ্চশিক্ষার জন্য আমেরিকা যান। 

১৯৮৩ সালে ইউনিভার্সিটি অব অরিগন থেকে পদার্থবিদ্যায় ডক্টরেট ডিগ্রি অর্জন করেন। এরপর ৩০ বছর কাটিয়েছেন আমেরিকার বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণা ও শিক্ষকতার কাজে। বর্তমানে আমেরিকার ইলিনয় স্টেট ইউনিভার্সিটির ইমেরিটাস প্রফেসর।

ড. করিম গবেষণার কাজে জড়িত ছিলেন নাসা, মার্কিন জাতীয় বিজ্ঞান সংস্থা, মার্কিন এনার্জি সংস্থা, ন্যাটো, টোকোমাক ফিউশন টেস্ট রিয়্যাক্টর এবং আরও অনেক প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞান প্রকল্পে। তার ৮০টি গবেষণা-প্রবন্ধ রয়েছে। 

এর বাইরে লিখেছেন দুটি বই- ‘Quantum Nursery Rhymes’ ও ‘কোয়ান্টাম রাজ্যে ডালিম কুমার’। 

বহুল পঠিত এবং আলোচিত ‘কোয়ান্টাম রাজ্যে ডালিম কুমার’ বইটি বিজ্ঞানের সঙ্গে সাহিত্যের সম্পর্ক স্থাপনের দৃষ্টান্ত। বিজ্ঞানও যে এক ধরনের শিল্প তা ড. করিমের এ বইতে সুন্দরভাবে উঠে এসেছে।

সাক্ষাৎকার নিয়েছেন- জুননু রাইন

যুগান্তর: দীর্ঘ সময় ধরে বিজ্ঞানচর্চার সঙ্গে যুক্ত আছেন। দূর থেকে হলেও বাংলাদেশের বিজ্ঞানচর্চার সঙ্গে আপনার এক ধরনের সম্পৃক্ততা দেখতে পাই ‘কোয়ান্টাম রাজ্যে ডালিম কুমার’ গ্রন্থের লেখাগুলো পড়ে। উন্নত বিশ্বের তুলনায় বাংলাদেশের বিজ্ঞানচর্চা কতটা এগিয়েছে? 

খন্দকার রেজাউল করিম : বিজ্ঞানচর্চার প্রধান মাপকাঠি হল দেশের শিক্ষক এবং গবেষকদের গবেষণা প্রবন্ধের সংখ্যা এবং গুণমান। 

এ প্রবন্ধ যে গবেষণা পত্রিকায় ছাপা হয়েছে তার মান কেমন? প্রবন্ধটি প্রকাশের পর কতজন গবেষক এ গবেষণার উদ্ধৃতি দিয়েছেন? এসব প্রশ্নের উত্তর থেকে বিজ্ঞানচর্চার খবর মেলে। 

একজন বিজ্ঞান গবেষকের সবচেয়ে বড় সম্মান এবং স্বীকৃতি হল নোবেল পুরস্কার পাওয়া। একটি দেশ থেকে গত দশ বছরে কয়জন নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন সে খবর থেকে দেশটির বিজ্ঞানচর্চার মান বোঝা যায়।
 
নিয়মিতভাবে মানসম্মত গবেষণা প্রবন্ধ প্রকাশ করেন এমন শিক্ষক বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়ে খুব বেশি নেই। তবে অনেক প্রতিকূল অবস্থার ভেতরে থেকেও বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু শিক্ষক নামি বিদেশি জার্নালে প্রতি বছর একাধিক গবেষণা প্রবন্ধ প্রকাশ করছেন। এ গবেষণায় ছাত্ররাও যোগ দিচ্ছে। এটা বড় আশার কথা।

যুগান্তর : ‘প্রতিকূল’ অবস্থার কথা বিস্তারিতভাবে বলবেন? অর্থাৎ কোন ক্ষেত্রে কী ধরনের সমস্যা আছে বললে সমাধানের দিশা স্পষ্ট হতে পারে

খন্দকার রেজাউল করিম : বাংলাদেশে গবেষকরা দু’ধরনের প্রতিকূলতার সম্মুখীন হন : (১) গবেষণার জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি, বই, এবং জার্নালের অভাব। (২) উৎসাহের অভাব। 
আমেরিকান বিশ্ববিদ্যালয়ে বেতন বৃদ্ধি এবং পদোন্নতি শিক্ষকের গবেষণার সঙ্গে জড়িত। যে শিক্ষক যত বেশি গবেষণা প্রবন্ধ প্রকাশ করেন, যত বেশি সরকারি এবং বেসরকারি অনুদান জোগাড় করতে পারেন, তার বেতন তত বেশি। 

‘Publish or perish’ কথাটি মার্কিন বিশ্ববিদ্যালয়ে খুব প্রচলিত। বাংলাদেশে সব শিক্ষকের বেতন বছর শেষে একই হারে বাড়ে। গবেষণা করে কী লাভ?

যুগান্তর : আমরা দেখতে পাই বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের মধ্যে এক ধরনের বিজ্ঞানভীতি রয়েছে। এটা কী কারণে হচ্ছে? এ থেকে উত্তরণের উপায় কী? 

খন্দকার রেজাউল করিম : কী? কেন? কেমন করে? চারপাশে প্রকৃতিতে যা দেখছি তা নিয়ে এ ধরনের প্রশ্নের উত্তর খোঁজাই বিজ্ঞানের কাজ। সেদিক থেকে সব শিশু-কিশোর বিজ্ঞানীর মতো আচরণ করে। এসব প্রশ্নের উত্তর অনেক গুরুজনের জানা নেই। 

সেটা স্পষ্ট করে জানিয়ে দিলে বিজ্ঞানের প্রতি শিশুদের আগ্রহ আরও বাড়বে। ধমক দিলে সব কৌতূহলের অবসান ঘটবে, একজন খুদে বিজ্ঞানীর বিজ্ঞানমনস্কতা অকালেই ঝরে যাবে। বিজ্ঞানশিক্ষা ব্যয়বহুল। শিশু-কিশোরদের হাতে কলমে বিজ্ঞানের সহজ আইনগুলো নিয়ে পরীক্ষা করা ভীষণ জরুরি। 

কিন্তু বেশিরভাগ স্কুল এবং কলেজে পর্যাপ্ত ল্যাব নেই, তাই সে সুযোগ নেই। বাংলায় বিজ্ঞানের পাঠ্যবইগুলো দুর্বোধ্য ভাষায় লেখা। 

মুখস্থ বিদ্যা বিজ্ঞানের এক নম্বর শত্রু। বিজ্ঞান বোঝার জিনিস, মুখস্থ করার জিনিস নয়। বোঝার পর্ব শেষ হওয়ার পর, নিজের ভাষায় তা লিখতে হবে। মুখস্ত করতে গেলে বিজ্ঞান ভীতিকর মনে হবে। 

যুগান্তর : আপনার বিজ্ঞানবিষয়ক বাংলা লেখাগুলো পড়লে বুঝতে পারি বিজ্ঞানের সঙ্গে সাহিত্যের সুন্দর একটা যোগসূত্র ঘটছে। 

আপনি কী সাহিত্যকে বিজ্ঞানের ফ্লেভার দিতে চান? নাকি বিজ্ঞানকে সাহিত্যরসে তুলে ধরা আপনার উদ্দেশ্য? আপনি নিজেকে সাহিত্যের মানুষ ভাবেন? নাকি বিজ্ঞানের?

খন্দকার রেজাউল করিম : বিজ্ঞানকে সাহিত্য রসে তুলে ধরতে চাই। বিজ্ঞানের আনন্দ সবার কাছে পৌঁছে দিতে চাই। বিজ্ঞান আমার পেশা। কিন্তু গান না শুনে, কবিতা না পড়ে আমার একদিনও চলে না।

যুগান্তর : আপনার ‘কোয়ান্টাম রাজ্যে ডালিম কুমার’ বইটিতে অনেক কবিতা-গানের উদ্ধৃতি দিয়েছেন। কেন? 

খন্দকার রেজাউল করিম : বিজ্ঞান এবং সাহিত্যের মধ্যে যে একটা দেয়াল গড়ে উঠেছে তাকে লোপাট করার চেষ্টা। ডিরাক সমীকরণ কোয়ান্টাম এবং আপেক্ষিকতা তত্ত্বের মিলন ঘটায়। 

তার নিজের আবিষ্কার করা এ সমীকরণ সম্পর্কে ডিরাক বলেছিলেন, ‘এই সমীকরণের কাছে আমি অনেক কিছু শিখেছি।’ সাহিত্যেও এমন ঘটে, প্রথম পরিচয়ে সব জানাজানি শেষ হয়ে যায় না। যদি যায়, তবে সেটা কোনো বড় মাপের সাহিত্য নয়। 

শেক্সপিয়ারের একটা সনেট কতবার পড়া যায়? প্রতিবার ও যেন নতুন রূপে হাজির হয়। আইনস্টাইনের আপেক্ষিকতা তত্ত্ব যে কত রূপে সামনে এসে দাঁড়াতে পারে তা আইনস্টাইন ভাবতেও পারেননি।

যুগান্তর: বর্তমানে বাংলাদেশের সায়েন্স ফিকশন নামের সাহিত্যগুলো বিজ্ঞানের বিষয়ে মানুষকে উৎসাহিত করার জন্য যথেষ্ট কি? 

এখানে ভালো সায়েন্স ফিকশনের অভাব নাকি ভালো পাঠকের অভাব? 

খন্দকার রেজাউল করিম : না, যথেষ্ট নয়। কম্পিউটারের পর্দায় ভিডিও গেম খেলে কিশোর-কিশোরী কি কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিং পড়তে উৎসাহিত হবে? শুধু বাংলাদেশ নয়, ইউরোপ আমেরিকা সর্বত্র সায়েন্স ফিকশনের নামে সায়েন্স ফ্যান্টাসি নিয়ে আজকাল বেশি লেখালিখি হচ্ছে। 

আমরা হয়তো অন্ধের মতো ওদের অনুসরণ করছি। প্রাথমিকভাবে এসব বই কিশোর-কিশোরীদের বিজ্ঞানের প্রতি আকৃষ্ট করতে পারে। তবে শুধু এ ধরনের বই নিয়ে মেতে থাকলে ভবিষ্যতে বিজ্ঞানী হওয়ার কোনো আশা নেই। 

ভালো সায়েন্স ফিকশনের বই বিজ্ঞানীদেরও অনুপ্রেরণা দিতে পারে। আর্থার ক্লার্কের লেখা ‘২০০১ : A Space Odyssey’ বিজ্ঞানী পল ডিরাকের অনুপ্রেরণা ছিল। ইদানীংকালে বাংলায় লেখা দু-একটি সায়েন্স ফিকশনের বই পড়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু বেশিদূর এগোতে পারিনি।

সাইন্স ফিকশন সাধারণত কিশোর-কিশোরীরা পড়ে থাকে। ওদের মন ধোয়া স্লেটের মতো। বাছবিচার না করে ওরা তো সব কিছুই পড়ে। তাই পাঠকের কোনো অভাব নেই। আগ্রহেরও অভাব নেই। কিন্তু পাঠককে বিজ্ঞানকেন্দ্রিক ভালো গল্প উপহার দেয়ার দায়িত্ব লেখকের। এমন লেখকের অভাব আছে।

যুগান্তর: আপনার প্রিয় বিজ্ঞানবিষয়ক তিনটি সিনেমার নাম জানতে চাই। এবং সেগুলোতে কী ধরনের রসদ উপভোগ করেছেন? 

খন্দকার রেজাউল করিম: ‘Twenty thousand leagues under the sea’- জুলস ভার্নের সায়েন্স ফিকশন থেকে ডিজনির করা সিনেমা। এ গল্পে ক্যাপ্টেন নিমো সাবমেরিন নিয়ে সমুদ্রের তলে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। সাবমেরিন দিয়ে ডুবিয়ে দিচ্ছেন ব্রিটিশ সমুদ্র জাহাজ। 

তিনি জানেন আণবিক শক্তির রহস্য। এ রহস্য জানার জন্য ‘সভ্য’ সমাজ তার স্ত্রী-পুত্রকে খুন করেছে। সাবমেরিন এবং আণবিক শক্তির গোপন কথা জানার আগেই এ গল্পে তার উল্লেখ আছে। 
এ সিনেমার মূল চরিত্রে আছেন ক্যাপ্টেন নিমো, একজন প্রফেসর এবং একজন তিমি মাছ শিকারি। সমুদ্রতলের দুঃসাহসিক অভিযান, প্রফেসর এবং নিমোর মাঝে দার্শনিক বিতর্ক, তিমি মাছ শিকারির হার্পুন, বীরত্ব এবং নাচ, সবই উপভোগ করার মতো। 

‘২০০১ : A Space Odyssey’ আর্থার ক্লার্কের লেখা বই থেকে করা সিনেমা। প্রধান চরিত্রে আছেন একজন নভোচারী এবং তার কম্পিউটার ‘হাল’। 

হোমারের ওডেসিতে নায়ক দেশে ফিরছিলেন, এখানে নভোচারী যাচ্ছেন সৌরজগৎ পেরিয়ে অন্য কোথায়। তাদের কার্যকলাপ দূর থেকে নিয়ন্ত্রণ করছে এক অজানা সভ্যতা। 

এ সিনেমাটি উপভোগ করার জন্য কানের তেমন দরকার নেই, চোখ থাকলেই চলবে। ২ ঘণ্টা ১৯ মিনিটের সিনেমায় মাত্র ৪০ মিনিট কথাবার্তার জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে। 

এ সিনেমাটি বিজ্ঞানী পল ডিরাকের খুব পছন্দের, ডিরাক নীরবে থাকতেই ভালোবাসতেন, কথা বললে সবচেয়ে কম সংখ্যক শব্দ ব্যবহার করতেন।

‘Star Wars’ জর্জ লুকাসের অতি জনপ্রিয় একটি সিনেমা। গ্যালাক্টিক রাজত্বের কর্ণধারের সঙ্গে বিদ্রোহীদের যুদ্ধ। প্রধান চরিত্রে আছেন রাজকুমারী লেয়া, এক দ্রুতগতি নভোযানের মালিক হান সলো, এবং স্কাই ওয়াকার লুক। 

হান সলো একজন দুঃসাহসী যোদ্ধা যে শুধুই টাকার জন্য যুদ্ধ করে, কিন্তু রাজকুমারীর আকর্ষণ এড়াতে পারে না। বিখ্যাত জাপানি পরিচালক আকিরা কুরোসোয়ার ‘The Hidden Fortress’ সিনেমাটির প্রভাব এ সিনেমায় স্পষ্ট। 

চরিত্রগুলোর সাজপোশাক, রোবট ‘আর টু-ডি টু’র কাণ্ড, যুদ্ধ এবং নভোযানগুলোর ডগফাইট উপভোগ করার মতো।

যুগান্তর : সাহিত্য বিজ্ঞান দুটোই আপনার চর্চার বিষয়। দু’দিক থেকে বিচার করলে আপনার কাছে প্রেম-ভালোবাসার অর্থটা কেমন? 

খন্দকার রেজাউল করিম : শরীরের কয়েকটি গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত হরমোন ভালোবাসার অনুভূতি সৃষ্টি করে। রোমিয়োর শরীর থেকে এ গ্রন্থিগুলো কেটে বাদ দিলে সে জুলিয়েটের প্রতি সব আকর্ষণ হারাবে। 

প্রাণীদের ওপর পরীক্ষা করে এর সত্যতা প্রমাণ করা গেছে। রক্তে হরমোনের পরিমাণ মেপে এবং মস্তিষ্কের নিউরোনের সক্রিয়তা নির্ধারণ করে বিজ্ঞানীরা ভালোবাসার পরিমাণ মাপতে পারেন। 

দার্শনিকরা তিন রকম ভালোবাসার কথা বলেন; নিজেকে ভালোবাসা (narcissism), যৌন ভালোবাসা (libido), এবং প্লেটোনিক (Platonic) ভালোবাসা। 

প্লেটো রোমান্টিক ভালোবাসাকে লিবিডো হিসেবে বিবেচনা করেছেন। অনেকে ঈশ্বরকে ভালোবাসা একটি মৌলিক ভালোবাসা বলে দাবি করেন। অনেকে প্রকৃতির মাঝে ঈশ্বরকে অনুভব করাকেই ভালোবাসা হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। 

কবি-সাহিত্যিকরা রোমান্টিক ভালোবাসা নিয়ে লেখালেখি করেন। কিন্তু এ ভালোবাসা মাপার কোনো উপায় কবিদের জানা নেই। ঈশ্বর, প্রকৃতি, জ্ঞান, বই ইত্যাদির প্রতি যৌনতাবিহীন ভালোবাসাকে প্লেটোনিক ভালোবাসা বলে। 

ফ্রয়েড শিশুদের আঙ্গুল চোষা থেকে বুড়োদের হুক্কা চোষার মধ্যেও যৌনতার গন্ধ খুঁজে পেয়েছেন। 

যুগান্তর : আমাদের সামাজিক ইতিহাসের নিরিখে (৭১ পরবর্তী) মননশীলতার উন্নতি বা অবনতি সম্পর্কে ২০২০ সালে এসে কী বলবেন? 

খন্দকার রেজাউল করিম : আমার মনে হয় মননশীলতার অবনতি হয়েছে। দুর্নীতি আরও বেড়েছে। শিক্ষা এবং চিকিৎসা, মানুষের এ দুটি মৌলিক চাহিদা নিয়ে লাভজনক ব্যবস্যা চলছে। 

যুগান্তর : এমন দুটো বই, যা অবশ্যই পড়া উচিত বলে পাঠককে পরামর্শ দেবেন। 

খন্দকার রেজাউল করিম : মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘পুতুলনাচের ইতিকথা’ এবং 
Antoine de Exupery-এর লেখা ‘The Little Prince.’