‘উৎকৃষ্ট গবেষণার জন্য নিঃশর্ত আর্থিক সহায়তা দরকার’
jugantor
‘উৎকৃষ্ট গবেষণার জন্য নিঃশর্ত আর্থিক সহায়তা দরকার’

  জুননু রাইন  

১৩ নভেম্বর ২০২০, ০০:৫৯:১৮  |  অনলাইন সংস্করণ

আবুল কাসেম ফজলুল হক প্রাবন্ধিক, গবেষক, অনুবাদক, সমাজবিশ্লেষক, সাহিত্য-সমালোচক ও রাষ্ট্রচিন্তাবিদ।

আবুল কাসেম ফজলুল হক প্রাবন্ধিক, গবেষক, অনুবাদক, সমাজবিশ্লেষক, সাহিত্য-সমালোচক ও রাষ্ট্রচিন্তাবিদ।

জন্ম: ৩০ সেপ্টেম্বর ১৯৪৪, কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায়। তার রচনা স্বদেশ ভাবনা ও রাজনৈতিক চিন্তায় ঋদ্ধ। প্রগতিপ্রয়াসী মন নিয়ে তিনি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ঘটনাবলি সম্পর্কে মত প্রকাশ করেন।

উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ- ‘মুক্তিসংগ্রাম’, ‘কালের যাত্রার ধ্বনি’, ‘একুশে ফেব্রুয়ারি আন্দোলন’, ‘উনিশ শতকের মধ্যশ্রেণি ও বাঙলা সাহিত্য’। অনুবাদ- ‘বার্ন্ট্রান্ড রাসেল প্রণীত : রাজনৈতিক আদর্শ (১৯৭২)’। সম্পাদনা করেছেন- ‘লোকায়ত’ নামে একটি পত্রিকা।

কর্মজীবনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগে দীর্ঘ চার দশক শিক্ষকতা করেছেন। ১৯৮১ সালে পেয়েছেন বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার।

সাক্ষাৎকার নিয়েছেন: জুননু রাইন

যুগান্তর : দীর্ঘসময় সাহিত্যচর্চা করে যাচ্ছেন এবং সাহিত্যের অধ্যাপনাও করেছেন। এ সাহিত্য যাপনের অভিজ্ঞতায় স্বাধীনতা-পরবর্তী বাংলাদেশের সাহিত্যে উল্লেখ করার মতো বিশেষ কী পরিবর্তন দেখেছেন?

আবুল কাসেম ফজলুল হক: দুটো কথা মনে রাখা দরকার। এক. কোনো বিষয়ের জ্ঞানই সেই বিষয়ের ইতিহাসের জ্ঞান ছাড়া পর্যাপ্ত ও কর্যোপযোগী হয় না। দুই. বর্তমান সৃষ্টি হয়েছে অতীতের দ্বারা, এবং ভবিষ্যৎ সৃষ্টি হচ্ছে বর্তমানের দ্বারা। স্বাধীনতা পরবর্তী বাংলাদেশের সাহিত্য আগের ধারাবাহিকতা অবলম্বন করে এগোয়নি।

১৯৭২ সালের শুরু থেকেই দেখছি রাষ্ট্রব্যবস্থার সকল পর্যায়ে সার্বিক বিশৃঙ্খলা। লেখকদের ও শিল্পী সাহিত্যিকদের আচরণ, চিন্তা-চেতনা ও প্রবণতাও এ বিশৃঙ্খলার মধ্যে পড়ে।

পাকিস্তানবাদীরা পরাজিত, এবং দৃশ্যের অন্তরালে থেকে আত্মরক্ষায় ব্যস্ত। সার্বিক বিশৃঙ্খলার মধ্যে তারা নিজেদের জন্য সুদিন আশা করছে।

বাঙালি জাতীয়তাবাদীরা, ধর্মনিরপেক্ষতাবাদীরা, গণতন্ত্রীরা ও সমাজতন্ত্রীরা কোনো সংকল্প না নিয়ে, Commitment অবলম্বন না করে, সুবিধাবাদী হয়ে পড়েছেন। ব্যতিক্রম যে কিছু ছিল না, তা নয়। প্রতিবাদীরা সমর্থক কোনো বক্তব্য নিয়ে সামনে আসেননি।

এক সময় দেখলাম কিছু ব্যক্তি প্রতিবাদ করেন প্রতিবাদের মাধ্যমে কেবল নিজেদের স্বার্থ হাসিল করে নেয়ার জন্য। এর মধ্যেও নতুন সৃষ্টি কিছু হয়েছে। গত পঞ্চাশ বছরের মধ্যে গবেষণায় ও প্রবন্ধে, উপন্যাস ও গল্পে নাটকেও কবিতায় কিছু উৎকৃষ্ট সৃষ্টি আছে।

কিছু লেখক অসাধারণ জনপ্রিয় হয়েছেন। যারা জনপ্রিয় হয়েছেন তাদের সৃষ্টি যে খুব ভালো, তা বলার কারণ দেখি না। ভালো অর্থে সমালোচনা বিকশিত হয়নি। সমালোচনার অভাবে ভালো মন্দ, উৎকৃষ্ট-অপকৃষ্ট চিহ্নিত হয়নি। কোনো প্রচারমাধ্যম কোনো উন্নত মূল্যবোধ বা শ্রেয়োনীতি অবলম্বন করেনি।

যুগান্তর : মহামারী-পরবর্তী সাহিত্যের বিষয়বস্তুতে কোন ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে?

আবুল কাসেম ফজলুল হক: করোনাভাইরাসের ব্যাপ্তির ফলে সব কিছুই বিপর্যস্ত। এ বিপর্যয় অবশ্যই লেখকদের মানকেও পীড়িত করছে। প্রত্যেক রাষ্ট্র, প্রত্যেক জাতি ক্ষতি স্বীকার করে চলছে, এবং আশা করছে গবেষকদের ও বিজ্ঞানের কল্যাণে সমাধান সম্ভব হবে।

করোনাভাইরাসের কালেও সবরকম মানবতাবিরোধী কার্যকলাপ চলছে। করোনাভাইরাস নিয়ন্ত্রিত হলে যে অবস্থা হবে তাতে লেখক-শিল্পীদের মধ্যে নবচেতনা দেখা দেয়ার সম্ভাবনা আছে।

দরকার মূল্যবোধ ও নৈতিক চেতনার উন্নতি। দরকার বৌদ্ধিক চরিত্র (Intellectual character) ও সৃষ্টিশীলতা। দরকার উন্নত চরিত্রের নেতৃত্ব।

যুগান্তর: বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণার মান নিয়ে প্রায়ই কথা হয়। পৃথিবীর অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণার সাথে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণার তুলনায় কী বলবেন?

আবুল কাসেম ফজলুল হক: বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষকতা চাকরি পাওয়ার জন্য এবং পদোন্নতির জন্য গবেষণা দরকার হয়। তা ছাড়া এমফিল ও পিএইচডি ডিগ্রি লাভের জন্য গবেষণা করতে হয়। এটাও চাকরির জন্যই। এসব গবেষণায় গবেষকের চিন্তার স্বাধীনতা থাকে না।

এ রকম বাধ্যবাধকতার মধ্যে যান্ত্রিক নিয়মে এসব গবেষণা করতে হয়। এর মধ্যে যথার্থ গবেষণা সম্ভব নয়। স্বাধীন চিন্তাশীলতার সুযোগ কমই আছে। উৎকৃষ্ট গবেষণার জন্য চিন্তার স্বাধীনতা, বৌদ্ধিক (Intellectual) চরিত্র ও নিঃশর্ত আর্থিক সহায়তা দরকার।

বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো ভালো চলছে না। ছাত্র-শিক্ষক প্রায় সবাই অন্ধভাবে পশ্চিমা বৃহৎ শক্তিবর্গকে অনুসরণ করার চেষ্টা করছে।

যুগান্তর: আমাদের সামাজিক ইতিহাসের নিরিখে (’৭১-পরবর্তী) মননশীলতার উন্নতি বা অবনতি সম্পর্কে ২০২০ সালে এসে কী বলবেন?

আবুল কাসেম ফজলুল হক: ইংরেজ শাসনামলে ও পাকিস্তানকালে মননশীলতার বা চিন্তাচর্চার যে সুযোগ ছিল, স্বাধীন বাংলাদেশে চিন্তাচর্চার বা মননশীলতার সে সুযোগটুকুও নেই। দেশের রাজনৈতিক ও আর্থ-সামাজিক সাংস্কৃতিক অবস্থা লক্ষ করলে সহজেই এটা বোঝা যায়।

রামমোহন, বিদ্যাসাগর, বঙ্কিম, রবীন্দ্রনাথ, শরৎচন্দ্র, বেগম রোকেয়া, এস ওয়াজেদ আলি, মোহাম্মদ লুৎফর রহমান, কাজী আবদুল ওদুদ, কবি নজরুল ইসলাম, মোতাহের হোসেন চৌধুরী প্রমুখ লেখকের চরনাবলি পাঠ করলে যে রেনেসাঁসের উত্তাপ অনুভব করা যায়, তা স্বাধীন বাংলাদেশের লেখকদের রচনাবলি পড়তে গেলে পাওয়া যায় না।

আধুনিকবাদ ও উত্তরাধুনিকবাদ রেনেসাঁসের পরিপন্থী। আজ দরকার নতুন রেনেসাঁস।

যুগান্তর: লেখকের অর্ধসত্য বক্তব্য কী সাধারণ মানুষের জন্য অর্ধপ্রাপ্তি যোগ করে? না বিভ্রান্ত করে? এতে পাঠক তথা জনগণের লাভ-ক্ষতির হিসাবটি কোথায় এসে দাঁড়ায়?

আবুল কাসেম ফজলুল হক: লেখকের অর্ধসত্য বক্তব্য প্রচারিত হলে তা বিভ্রান্তির কারণ হয়। পূর্ণ সত্যের সন্ধানে সবারই আগ্রহ দেখা দিলে তা কল্যাণকর হবে।

যুগান্তর: অনেক লেখককেই দেখা যায় কোনো এক রাজনৈতিক দলকে সমর্থন করে অন্য দলের সমালোচনা করেন। লেখক কী ভিন্নভাবে নিজের অবস্থান থেকে যে কোনো দলের ভুল-ত্রুটি তুলে ধরতে পারেন না?

কোনো আদর্শ লেখকের সার্বক্ষণিক সমর্থন পাওয়ার মতো রাজনৈতিক দল বাংলাদেশে আছে?

আবুল কাসেম ফজলুল হক: লেখক দলনিরপেক্ষ থাকতে পারেন। তবে তার প্রতি সমাজে শ্রদ্ধাবোধ থাকতে হবে। তা না হলে দলনিরপেক্ষ লেখকের জীবন বিপন্ন হবে। লেখক কোনো দলের সদস্য হতে পারেন।

সে ক্ষেত্রে তার কর্তব্য হবে নিজের দলকে দুর্নীতিমুক্ত ও প্রগতিশীল করার চেষ্টা করা। সব দলেরই উচিত প্রকৃত লেখকদের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়া। গণতান্ত্রিক পরিবেশে যা করা যায় গণতন্ত্রবিহীন পরিবেশে তা করা যায় না।

আমি মনে করি প্রত্যেক নাগরিকেরই রাজনৈতিক দায়িত্ব ও কর্তব্য আছে। লেখকের মধ্যে এ কর্তব্যবোধের অভাব ঘটলে রাষ্ট্রের রাজনীতি ভুল পথে যায়। বাংলাদেশে এখন কোনো রাজনৈতিক দলই দুর্নীতিমুক্ত নয়। রাজনৈতিক দিক দিয়ে বাংলাদেশ দুর্গত।

দুর্গত এ রাজনীতিকে সুস্থ ও উন্নয়নশীল করে তোলার জন্য লেখকদের চেষ্টা করা উচিত।

যুগান্তর: আপনি শিক্ষকতার পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে সম্পাদনাও করে চলেছেন। বিশেষ করে আপনার সম্পাদিত ‘লোকায়াত’ উন্নত রুচির পাঠক এবং লেখকের চিন্তার খোরাক হয়েছে।

একটা দরকারি সাহিত্য-সমাজবিজ্ঞানবিষয়ক পত্রিকা দাঁড় করাতে কী কী সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়? কোন কোন বিষয়গুলোর দিকে বেশি মনোযোগী হতে হয়?...এ বিষয়ে আপনার কিছু অভিজ্ঞতা জানতে চাই

আবুল কাসেম ফজলুল হক: প্রগতিশীল সাময়িকপত্র প্রকাশ করা অত্যন্ত কঠিন কাজ। বাংলাদেশে প্রথম অসুবিধা লেখক নিয়ে। পরিচ্ছন্ন প্রগতিমনস্ক লেখক পাওয়া অত্যন্ত দুরূহ ব্যাপার। দ্বিতীয় অসুবিধা অর্থসংস্থান নিয়ে। বাংলাদেশে এখন ধনবান লোকের অভাব নেই।

কিন্তু একটি প্রগতিশীল পত্রিকা চালিয়ে নেয়ার জন্য যে অর্থের দরকার সে অর্থ তাদের থেকে পাওয়া যায় না। তাদের থেকে বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে অর্থ সংস্থান করতে গিয়ে পত্রিকার প্রগতিশীল পরিচ্ছন্ন বৈশিষ্ট্য রক্ষা করা যায় না। তৃতীয় সমস্যা পাঠকদের নিয়ে।

যদি যথেষ্ট সংখ্যক পাঠক পাওয়া যেত তাহলে ভালো পত্রিকা প্রকাশ দুরূহ হলেও অসম্ভব হতো না। নির্ভুলভাবে পত্রিকা প্রকাশের জন্য ছাপার ব্যাপারটিও দুরূহ। এর মধ্যেও অনেক পত্রিকা প্রকাশিত হচ্ছে। কিন্তু এখন কোনো পত্রিকাই দেখা যায় না যেটি জাতি গঠন, রাষ্ট্র গঠন এবং প্রগতির সুস্পষ্ট লক্ষ্য নিয়ে চলছে।

যুগান্তর: বর্তমানে বাংলাদেশের সাহিত্যে ভালো লেখকের অভাব নাকি ভালো মানের পাঠকের অভাব?

আবুল কাসেম ফজলুল হক: দুটিই সমানভাবে আছে। যারা লেখক হিসেবে খুব জনপ্রিয়, তারা কী উদ্দেশ্যে লেখেন এবং তাদের বইয়ের কী প্রভাব সমাজে পড়ে তা বিচার করে দেখা দরকার।

যুগান্তর : যাদের লেখা সমাজে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে, জীবিত এমন তিনজন লেখকের নাম

আবুল কাসেম ফজলুল হক: বদরুদ্দীন উমর, যতীন সরকার, আনু মুহম্মদ।

যুগান্তর : এখানে গুরুত্বপূর্ণ লেখকরা কি কম আলোচিত? যদি সেটা হয়, তাহলে কী কী কারণে হচ্ছে? এমন তিনটি সমস্যার কথা উল্লেখ করুন।

আবুল কাসেম ফজলুল হক: সমালোচনা নেই। অত্যন্ত শক্তিশালী সব প্রচারমাধ্যম মূল্য বিচার না করে প্রচার চালায়। কিছু সংখ্যক লেখক নানাভাবে প্রচারমাধ্যমকে হাত করে নিজের বইয়ের পক্ষে প্রচার চালানোর ব্যবস্থা করে থাকেন।

যুগান্তর : অনেকেই বলেন, বাংলাদেশে মননশীল সাহিত্যের চর্চা কম হয়ে থাকে অথবা যা হচ্ছে তা মানের দিক থেকে যথাযথ নয়। এ বিষয়ে আপনার বক্তব্য জানতে চাই

আবুল কাসেম ফজলুল হক: মননশীল সাহিত্যের চর্চা বৃদ্ধি পেলে, লেখক ও পাঠকদের মধ্যে চিন্তাচর্চা বৃদ্ধি পেলে কায়েমি স্বার্থবাদীদের এবং সম্রাজ্যবাদীদের কার্যধারা সমালোচিত হবে এবং তাদের কর্তৃত্ব খর্ব হবে, এ বিবেচনায় তারা মননকে নানাভাবে নিরুৎসাহিত করে।

বাংলাদেশ পরিচালিত হয়ে চলছে বিশ্বব্যাংক দ্বারা নব্য-উদারবাদী নীতি নিয়ে। এনজিওগুলো এবং সিভিল সোসাইটি সংগঠনগুলো সাম্রাজ্যবাদীদের চিন্তাধারার বাইরে কোনো চিন্তাকেই গড়ে উঠতে দিতে চায় না। লেখক-গবেষকরা এনজিও সিভিল সোসাইটি অরগানাইজেশনগুলোতে যুক্ত হয়ে আছেন। এতে স্বাধীন চিন্তাশীলতা ব্যাহত হচ্ছে।

রাজনীতি ও জাতীয় সংস্কৃতি একটা ছকের মধ্যে পড়ে আছে। গবেষক ও লেখকদের মধ্যে উন্নত মূল্যবোধের উন্নত নৈতিক চেতনার প্রকাশ দেখা যায় না। একটা দুঃসময় চলছে, কেবল বাংলাদেশে নয়, গোটা পৃথিবীতে। সুসময়ে উন্নীত হওয়ার জন্য মননশীল সাহিত্য ও চিন্তাচর্চা অপরিহার্য। সভ্যতা, সংস্কৃতি ও প্রগতি সম্পর্কে নতুন চিন্তা দরকার।

কেবল চিন্তা দিয়ে হবে না, নতুন ধারার কর্মও লাগবে। অন্যায়, অবিচার থেকে মুক্ত হওয়ার ও উন্নতির জন্য চাই নতুন রেনেসাঁস ও নতুন গণজাগরণ।

যুগান্তর: একজন অগ্রজ এবং একজন অনুজ লেখকের নাম বলুন, যাদের লেখা পড়ার জন্য পাঠককে পরামর্শ দেবেন

আবুল কাসেম ফজলুল হক: আবুল মোমেন, কবি রহমান হেনরী।

যুগান্তর : এমন দুটো বই, যা পাঠককে পড়ার পরামর্শ দেবেন।

আবুল কাসেম ফজলুল হক: ‘আমার দেখা রাজনীতির পঞ্চাশ বছর’ আবুল মনসুর আহমদ, ‘সাহিত্য জিজ্ঞাসা : সাহিত্য সৃষ্টি ও সাহিত্য বিচার’- আমার সম্পাদিত আগামী প্রকাশনী কর্তৃক প্রকাশিত।

যুগান্তর: লেখক না হলে কী হতে চাইতেন?

আবুল কাসেম ফজলুল হক: চেয়েছিলাম জনগণের কল্যাণে কাজ করার জন্য রাজনীতি করব। রাজনীতির গতি প্রকৃতি দেখে রাজনীতির দিকে এগোলাম না। রাজনীতির মাধ্যমে যা অর্জন করতে চেয়েছিলাম তা অর্জন করার জন্য লেখাকে জীবনের ব্রত করে নিলাম।

বাংলাদেশের রাজনীতিকে উন্নত করার জন্য সংকল্পবদ্ধ একদল লেখক দরকার। দেশপ্রেমিক, জাতীয়তাবাদী, জনকল্যাণকামী, ঐক্যবদ্ধ একদল লেখক বাংলাদেশের কল্যাণে অসাধ্য সাধন করতে পারবেন।

‘উৎকৃষ্ট গবেষণার জন্য নিঃশর্ত আর্থিক সহায়তা দরকার’

 জুননু রাইন 
১৩ নভেম্বর ২০২০, ১২:৫৯ এএম  |  অনলাইন সংস্করণ
আবুল কাসেম ফজলুল হক প্রাবন্ধিক, গবেষক, অনুবাদক, সমাজবিশ্লেষক, সাহিত্য-সমালোচক ও রাষ্ট্রচিন্তাবিদ।
ছবি: যুগান্তর

আবুল কাসেম ফজলুল হক প্রাবন্ধিক, গবেষক, অনুবাদক, সমাজবিশ্লেষক, সাহিত্য-সমালোচক ও রাষ্ট্রচিন্তাবিদ। 

জন্ম: ৩০ সেপ্টেম্বর ১৯৪৪, কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায়। তার রচনা স্বদেশ ভাবনা ও রাজনৈতিক চিন্তায় ঋদ্ধ। প্রগতিপ্রয়াসী মন নিয়ে তিনি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ঘটনাবলি সম্পর্কে মত প্রকাশ করেন। 

উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ- ‘মুক্তিসংগ্রাম’, ‘কালের যাত্রার ধ্বনি’, ‘একুশে ফেব্রুয়ারি আন্দোলন’, ‘উনিশ শতকের মধ্যশ্রেণি ও বাঙলা সাহিত্য’। অনুবাদ- ‘বার্ন্ট্রান্ড রাসেল প্রণীত : রাজনৈতিক আদর্শ (১৯৭২)’। সম্পাদনা করেছেন- ‘লোকায়ত’ নামে একটি পত্রিকা। 

কর্মজীবনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগে দীর্ঘ চার দশক শিক্ষকতা করেছেন। ১৯৮১ সালে পেয়েছেন বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার।

সাক্ষাৎকার নিয়েছেন: জুননু রাইন

যুগান্তর : দীর্ঘসময় সাহিত্যচর্চা করে যাচ্ছেন এবং সাহিত্যের অধ্যাপনাও করেছেন। এ সাহিত্য যাপনের অভিজ্ঞতায় স্বাধীনতা-পরবর্তী বাংলাদেশের সাহিত্যে উল্লেখ করার মতো বিশেষ কী পরিবর্তন দেখেছেন?

আবুল কাসেম ফজলুল হক: দুটো কথা মনে রাখা দরকার। এক. কোনো বিষয়ের জ্ঞানই সেই বিষয়ের ইতিহাসের জ্ঞান ছাড়া পর্যাপ্ত ও কর্যোপযোগী হয় না। দুই. বর্তমান সৃষ্টি হয়েছে অতীতের দ্বারা, এবং ভবিষ্যৎ সৃষ্টি হচ্ছে বর্তমানের দ্বারা। স্বাধীনতা পরবর্তী বাংলাদেশের সাহিত্য আগের ধারাবাহিকতা অবলম্বন করে এগোয়নি। 

১৯৭২ সালের শুরু থেকেই দেখছি রাষ্ট্রব্যবস্থার সকল পর্যায়ে সার্বিক বিশৃঙ্খলা। লেখকদের ও শিল্পী সাহিত্যিকদের আচরণ, চিন্তা-চেতনা ও প্রবণতাও এ বিশৃঙ্খলার মধ্যে পড়ে। 

পাকিস্তানবাদীরা পরাজিত, এবং দৃশ্যের অন্তরালে থেকে আত্মরক্ষায় ব্যস্ত। সার্বিক বিশৃঙ্খলার মধ্যে তারা নিজেদের জন্য সুদিন আশা করছে। 

বাঙালি জাতীয়তাবাদীরা, ধর্মনিরপেক্ষতাবাদীরা, গণতন্ত্রীরা ও সমাজতন্ত্রীরা কোনো সংকল্প না নিয়ে, Commitment অবলম্বন না করে, সুবিধাবাদী হয়ে পড়েছেন। ব্যতিক্রম যে কিছু ছিল না, তা নয়। প্রতিবাদীরা সমর্থক কোনো বক্তব্য নিয়ে সামনে আসেননি। 

এক সময় দেখলাম কিছু ব্যক্তি প্রতিবাদ করেন প্রতিবাদের মাধ্যমে কেবল নিজেদের স্বার্থ হাসিল করে নেয়ার জন্য। এর মধ্যেও নতুন সৃষ্টি কিছু হয়েছে। গত পঞ্চাশ বছরের মধ্যে গবেষণায় ও প্রবন্ধে, উপন্যাস ও গল্পে নাটকেও কবিতায় কিছু উৎকৃষ্ট সৃষ্টি আছে। 

কিছু লেখক অসাধারণ জনপ্রিয় হয়েছেন। যারা জনপ্রিয় হয়েছেন তাদের সৃষ্টি যে খুব ভালো, তা বলার কারণ দেখি না। ভালো অর্থে সমালোচনা বিকশিত হয়নি। সমালোচনার অভাবে ভালো মন্দ, উৎকৃষ্ট-অপকৃষ্ট চিহ্নিত হয়নি। কোনো প্রচারমাধ্যম কোনো উন্নত মূল্যবোধ বা শ্রেয়োনীতি অবলম্বন করেনি।

যুগান্তর : মহামারী-পরবর্তী সাহিত্যের বিষয়বস্তুতে কোন ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে?

আবুল কাসেম ফজলুল হক: করোনাভাইরাসের ব্যাপ্তির ফলে সব কিছুই বিপর্যস্ত। এ বিপর্যয় অবশ্যই লেখকদের মানকেও পীড়িত করছে। প্রত্যেক রাষ্ট্র, প্রত্যেক জাতি ক্ষতি স্বীকার করে চলছে, এবং আশা করছে গবেষকদের ও বিজ্ঞানের কল্যাণে সমাধান সম্ভব হবে। 

করোনাভাইরাসের কালেও সবরকম মানবতাবিরোধী কার্যকলাপ চলছে। করোনাভাইরাস নিয়ন্ত্রিত হলে যে অবস্থা হবে তাতে লেখক-শিল্পীদের মধ্যে নবচেতনা দেখা দেয়ার সম্ভাবনা আছে। 

দরকার মূল্যবোধ ও নৈতিক চেতনার উন্নতি। দরকার বৌদ্ধিক চরিত্র (Intellectual character) ও সৃষ্টিশীলতা। দরকার উন্নত চরিত্রের নেতৃত্ব।

যুগান্তর: বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণার মান নিয়ে প্রায়ই কথা হয়। পৃথিবীর অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণার সাথে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণার তুলনায় কী বলবেন?

আবুল কাসেম ফজলুল হক: বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষকতা চাকরি পাওয়ার জন্য এবং পদোন্নতির জন্য গবেষণা দরকার হয়। তা ছাড়া এমফিল ও পিএইচডি ডিগ্রি লাভের জন্য গবেষণা করতে হয়। এটাও চাকরির জন্যই। এসব গবেষণায় গবেষকের চিন্তার স্বাধীনতা থাকে না। 

এ রকম বাধ্যবাধকতার মধ্যে যান্ত্রিক নিয়মে এসব গবেষণা করতে হয়। এর মধ্যে যথার্থ গবেষণা সম্ভব নয়। স্বাধীন চিন্তাশীলতার সুযোগ কমই আছে। উৎকৃষ্ট গবেষণার জন্য চিন্তার স্বাধীনতা, বৌদ্ধিক (Intellectual) চরিত্র ও নিঃশর্ত আর্থিক সহায়তা দরকার। 

বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো ভালো চলছে না। ছাত্র-শিক্ষক প্রায় সবাই অন্ধভাবে পশ্চিমা বৃহৎ শক্তিবর্গকে অনুসরণ করার চেষ্টা করছে।

যুগান্তর: আমাদের সামাজিক ইতিহাসের নিরিখে (’৭১-পরবর্তী) মননশীলতার উন্নতি বা অবনতি সম্পর্কে ২০২০ সালে এসে কী বলবেন?

আবুল কাসেম ফজলুল হক: ইংরেজ শাসনামলে ও পাকিস্তানকালে মননশীলতার বা চিন্তাচর্চার যে সুযোগ ছিল, স্বাধীন বাংলাদেশে চিন্তাচর্চার বা মননশীলতার সে সুযোগটুকুও নেই। দেশের রাজনৈতিক ও আর্থ-সামাজিক সাংস্কৃতিক অবস্থা লক্ষ করলে সহজেই এটা বোঝা যায়। 

রামমোহন, বিদ্যাসাগর, বঙ্কিম, রবীন্দ্রনাথ, শরৎচন্দ্র, বেগম রোকেয়া, এস ওয়াজেদ আলি, মোহাম্মদ লুৎফর রহমান, কাজী আবদুল ওদুদ, কবি নজরুল ইসলাম, মোতাহের হোসেন চৌধুরী প্রমুখ লেখকের চরনাবলি পাঠ করলে যে রেনেসাঁসের উত্তাপ অনুভব করা যায়, তা স্বাধীন বাংলাদেশের লেখকদের রচনাবলি পড়তে গেলে পাওয়া যায় না। 

আধুনিকবাদ ও উত্তরাধুনিকবাদ রেনেসাঁসের পরিপন্থী। আজ দরকার নতুন রেনেসাঁস।

যুগান্তর: লেখকের অর্ধসত্য বক্তব্য কী সাধারণ মানুষের জন্য অর্ধপ্রাপ্তি যোগ করে? না বিভ্রান্ত করে? এতে পাঠক তথা জনগণের লাভ-ক্ষতির হিসাবটি কোথায় এসে দাঁড়ায়?

আবুল কাসেম ফজলুল হক: লেখকের অর্ধসত্য বক্তব্য প্রচারিত হলে তা বিভ্রান্তির কারণ হয়। পূর্ণ সত্যের সন্ধানে সবারই আগ্রহ দেখা দিলে তা কল্যাণকর হবে।

যুগান্তর: অনেক লেখককেই দেখা যায় কোনো এক রাজনৈতিক দলকে সমর্থন করে অন্য দলের সমালোচনা করেন। লেখক কী ভিন্নভাবে নিজের অবস্থান থেকে যে কোনো দলের ভুল-ত্রুটি তুলে ধরতে পারেন না?

কোনো আদর্শ লেখকের সার্বক্ষণিক সমর্থন পাওয়ার মতো রাজনৈতিক দল বাংলাদেশে আছে?

আবুল কাসেম ফজলুল হক: লেখক দলনিরপেক্ষ থাকতে পারেন। তবে তার প্রতি সমাজে শ্রদ্ধাবোধ থাকতে হবে। তা না হলে দলনিরপেক্ষ লেখকের জীবন বিপন্ন হবে। লেখক কোনো দলের সদস্য হতে পারেন। 

সে ক্ষেত্রে তার কর্তব্য হবে নিজের দলকে দুর্নীতিমুক্ত ও প্রগতিশীল করার চেষ্টা করা। সব দলেরই উচিত প্রকৃত লেখকদের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়া। গণতান্ত্রিক পরিবেশে যা করা যায় গণতন্ত্রবিহীন পরিবেশে তা করা যায় না। 

আমি মনে করি প্রত্যেক নাগরিকেরই রাজনৈতিক দায়িত্ব ও কর্তব্য আছে। লেখকের মধ্যে এ কর্তব্যবোধের অভাব ঘটলে রাষ্ট্রের রাজনীতি ভুল পথে যায়। বাংলাদেশে এখন কোনো রাজনৈতিক দলই দুর্নীতিমুক্ত নয়। রাজনৈতিক দিক দিয়ে বাংলাদেশ দুর্গত। 

দুর্গত এ রাজনীতিকে সুস্থ ও উন্নয়নশীল করে তোলার জন্য লেখকদের চেষ্টা করা উচিত।

যুগান্তর: আপনি শিক্ষকতার পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে সম্পাদনাও করে চলেছেন। বিশেষ করে আপনার সম্পাদিত ‘লোকায়াত’ উন্নত রুচির পাঠক এবং লেখকের চিন্তার খোরাক হয়েছে। 

একটা দরকারি সাহিত্য-সমাজবিজ্ঞানবিষয়ক পত্রিকা দাঁড় করাতে কী কী সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়? কোন কোন বিষয়গুলোর দিকে বেশি মনোযোগী হতে হয়?...এ বিষয়ে আপনার কিছু অভিজ্ঞতা জানতে চাই 

আবুল কাসেম ফজলুল হক: প্রগতিশীল সাময়িকপত্র প্রকাশ করা অত্যন্ত কঠিন কাজ। বাংলাদেশে প্রথম অসুবিধা লেখক নিয়ে। পরিচ্ছন্ন প্রগতিমনস্ক লেখক পাওয়া অত্যন্ত দুরূহ ব্যাপার। দ্বিতীয় অসুবিধা অর্থসংস্থান নিয়ে। বাংলাদেশে এখন ধনবান লোকের অভাব নেই। 

কিন্তু একটি প্রগতিশীল পত্রিকা চালিয়ে নেয়ার জন্য যে অর্থের দরকার সে অর্থ তাদের থেকে পাওয়া যায় না। তাদের থেকে বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে অর্থ সংস্থান করতে গিয়ে পত্রিকার প্রগতিশীল পরিচ্ছন্ন বৈশিষ্ট্য রক্ষা করা যায় না। তৃতীয় সমস্যা পাঠকদের নিয়ে। 

যদি যথেষ্ট সংখ্যক পাঠক পাওয়া যেত তাহলে ভালো পত্রিকা প্রকাশ দুরূহ হলেও অসম্ভব হতো না। নির্ভুলভাবে পত্রিকা প্রকাশের জন্য ছাপার ব্যাপারটিও দুরূহ। এর মধ্যেও অনেক পত্রিকা প্রকাশিত হচ্ছে। কিন্তু এখন কোনো পত্রিকাই দেখা যায় না যেটি জাতি গঠন, রাষ্ট্র গঠন এবং প্রগতির সুস্পষ্ট লক্ষ্য নিয়ে চলছে।

যুগান্তর: বর্তমানে বাংলাদেশের সাহিত্যে ভালো লেখকের অভাব নাকি ভালো মানের পাঠকের অভাব?

আবুল কাসেম ফজলুল হক: দুটিই সমানভাবে আছে। যারা লেখক হিসেবে খুব জনপ্রিয়, তারা কী উদ্দেশ্যে লেখেন এবং তাদের বইয়ের কী প্রভাব সমাজে পড়ে তা বিচার করে দেখা দরকার।

যুগান্তর : যাদের লেখা সমাজে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে, জীবিত এমন তিনজন লেখকের নাম

আবুল কাসেম ফজলুল হক: বদরুদ্দীন উমর, যতীন সরকার, আনু মুহম্মদ।

যুগান্তর : এখানে গুরুত্বপূর্ণ লেখকরা কি কম আলোচিত? যদি সেটা হয়, তাহলে কী কী কারণে হচ্ছে? এমন তিনটি সমস্যার কথা উল্লেখ করুন।

আবুল কাসেম ফজলুল হক: সমালোচনা নেই। অত্যন্ত শক্তিশালী সব প্রচারমাধ্যম মূল্য বিচার না করে প্রচার চালায়। কিছু সংখ্যক লেখক নানাভাবে প্রচারমাধ্যমকে হাত করে নিজের বইয়ের পক্ষে প্রচার চালানোর ব্যবস্থা করে থাকেন।

যুগান্তর : অনেকেই বলেন, বাংলাদেশে মননশীল সাহিত্যের চর্চা কম হয়ে থাকে অথবা যা হচ্ছে তা মানের দিক থেকে যথাযথ নয়। এ বিষয়ে আপনার বক্তব্য জানতে চাই

আবুল কাসেম ফজলুল হক: মননশীল সাহিত্যের চর্চা বৃদ্ধি পেলে, লেখক ও পাঠকদের মধ্যে চিন্তাচর্চা বৃদ্ধি পেলে কায়েমি স্বার্থবাদীদের এবং সম্রাজ্যবাদীদের কার্যধারা সমালোচিত হবে এবং তাদের কর্তৃত্ব খর্ব হবে, এ বিবেচনায় তারা মননকে নানাভাবে নিরুৎসাহিত করে। 

বাংলাদেশ পরিচালিত হয়ে চলছে বিশ্বব্যাংক দ্বারা নব্য-উদারবাদী নীতি নিয়ে। এনজিওগুলো এবং সিভিল সোসাইটি সংগঠনগুলো সাম্রাজ্যবাদীদের চিন্তাধারার বাইরে কোনো চিন্তাকেই গড়ে উঠতে দিতে চায় না। লেখক-গবেষকরা এনজিও সিভিল সোসাইটি অরগানাইজেশনগুলোতে যুক্ত হয়ে আছেন। এতে স্বাধীন চিন্তাশীলতা ব্যাহত হচ্ছে। 

রাজনীতি ও জাতীয় সংস্কৃতি একটা ছকের মধ্যে পড়ে আছে। গবেষক ও লেখকদের মধ্যে উন্নত মূল্যবোধের উন্নত নৈতিক চেতনার প্রকাশ দেখা যায় না। একটা দুঃসময় চলছে, কেবল বাংলাদেশে নয়, গোটা পৃথিবীতে। সুসময়ে উন্নীত হওয়ার জন্য মননশীল সাহিত্য ও চিন্তাচর্চা অপরিহার্য। সভ্যতা, সংস্কৃতি ও প্রগতি সম্পর্কে নতুন চিন্তা দরকার। 

কেবল চিন্তা দিয়ে হবে না, নতুন ধারার কর্মও লাগবে। অন্যায়, অবিচার থেকে মুক্ত হওয়ার ও উন্নতির জন্য চাই নতুন রেনেসাঁস ও নতুন গণজাগরণ। 

যুগান্তর: একজন অগ্রজ এবং একজন অনুজ লেখকের নাম বলুন, যাদের লেখা পড়ার জন্য পাঠককে পরামর্শ দেবেন

আবুল কাসেম ফজলুল হক: আবুল মোমেন, কবি রহমান হেনরী।

যুগান্তর : এমন দুটো বই, যা পাঠককে পড়ার পরামর্শ দেবেন।

আবুল কাসেম ফজলুল হক: ‘আমার দেখা রাজনীতির পঞ্চাশ বছর’ আবুল মনসুর আহমদ, ‘সাহিত্য জিজ্ঞাসা : সাহিত্য সৃষ্টি ও সাহিত্য বিচার’- আমার সম্পাদিত আগামী প্রকাশনী কর্তৃক প্রকাশিত।

যুগান্তর: লেখক না হলে কী হতে চাইতেন?

আবুল কাসেম ফজলুল হক: চেয়েছিলাম জনগণের কল্যাণে কাজ করার জন্য রাজনীতি করব। রাজনীতির গতি প্রকৃতি দেখে রাজনীতির দিকে এগোলাম না। রাজনীতির মাধ্যমে যা অর্জন করতে চেয়েছিলাম তা অর্জন করার জন্য লেখাকে জীবনের ব্রত করে নিলাম। 

বাংলাদেশের রাজনীতিকে উন্নত করার জন্য সংকল্পবদ্ধ একদল লেখক দরকার। দেশপ্রেমিক, জাতীয়তাবাদী, জনকল্যাণকামী, ঐক্যবদ্ধ একদল লেখক বাংলাদেশের কল্যাণে অসাধ্য সাধন করতে পারবেন।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন