বেদনা যত বেশি তার ভাষা তত কম
jugantor
বেদনা যত বেশি তার ভাষা তত কম

  যুগান্তর রিপোর্ট  

২৯ নভেম্বর ২০২০, ১৩:১৬:২১  |  অনলাইন সংস্করণ

আতিক

‘জীবনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হইলো নিজের ইচ্ছারে ঠিক করা/ আমি খুব ঘুরতে ছিলাম, বেচাইন হয়ে আন্ধার মতো বইসা ছিলাম/ একগাদা অন্ধকার নিয়া/ কিন্তু আমি আমার ইচ্ছা জানতে পারলাম/ যখন তোমার ইচ্ছা জানতে পারলাম/ আর তুমি ছাড়া অন্যসব সংযোগ বেখেয়ালি বাতাসের মতো উইড়া গেল।’

দুনিয়ায় জীবনের নোঙর ফেলা নিয়ে, তার দিক-গতি ঠিক করা নিয়ে উপরোক্ত পঙক্তিগুলো প্রায় ১৩শ বছর আগে আরবি ভাষায় রচিত। আর এর রচয়িতা মধ্যপ্রাচ্যের প্রখ্যাত সুফি কবি হযরত রাবেয়া বসরী (রহ)। বাংলাদেশসহ উপমহাদেশে এই নাম সুবিদিত। খোদার সত্তায় নিজেকে বিলীন করে দেয়া এই নারীর দর্শনচিন্তা আর তার আলাপগুলো নিয়ে লিখেছেন আরেক বিশ্বখ্যাত সুফি কবি ফরিদউদ্দীন আত্তার (রহ)।

ফার্সি ভাষায় লেখা প্রাচীন ওই গ্রন্থের পাতা বাংলা ভাষায় মেলে ধরছেন কবি ও অনুবাদক হাসসান আতিক। রাবেয়া তার আলাপে কথা ও ভাবের মুক্তাদানা ছড়িয়েছেন। যেমন তিনি বলছেন- ‘ঘর চাই না, ঘরের মালিকরে চাই’, ‘মাংস কাটার ছুরি যেন প্রেমরে কাইটা না ফেলে’, ‘লোকেরা শুধু ফুলটাই দেখে গাছটা দেখে না’, ‘বেদনা যত বেশি তার ভাষা তত কম’।

শুধু রাবেয়া বসরী নয়, হাজার বছর আগের লেখা আত্তারের ওই কেতাব ‘তাজকিরাতুল আউলিয়া’ থেকে হাসসান তর্জমা করেছেন ‘সুলতানুল আরেফিন’ উপাধি পাওয়া হযরত বায়েজিদ বোস্তামীর (রহ) জীবনীও।

‘সে এক নুকতাবিহীন আলিফের মতো’ এবং ‘কিছু জিব্বা তো এমন কান যার ভাষা জানে না’ শিরোনামে রাবেয়া বসরী ও বায়েজিদ বোস্তামীকে নিয়ে রচিত গ্রন্থ দুটি নিয়ে গত শুক্রবার সন্ধ্যায় আলোচনা হয় ঢাকার পরীবাগে অবস্থিত সংস্কৃতি বিকাশকেন্দ্রে।

প্রকাশনা সংস্থা বাছবিচার ও প্রিন্ট পোয়েট্রি ‘রাইটার্স মিট’ নামে এই প্রোগ্রামের আয়োজন করে। অনুষ্ঠানে লেখকদের পাশাপাশি অংশ নেন বিশিষ্ট কবি, সাহিত্যিক, চিন্তকরা। এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন তরুণ লেখক ও দীক্ষিত পাঠকগণ।

এতে আলোচনা হয় সম্প্রতি বাছবিচার ও প্রিন্ট পোয়েট্রি প্রকাশিত আরও কয়েকটি বই নিয়ে। তার মধ্যে রয়েছে- কবিতাবিষয়ক আলাপ নিয়ে কবি ও চিন্তক ইমরুল হাসানের ‘কবি’, খাস বাংলার ভাষা ও দর্শন নিয়ে বিপুল কর্মযজ্ঞের আয়োজক রক মনুর ‘কবুল কবুল: কবুলিয়াতের শাসন’ এবং নারীবিষয়ক আলাপ নিয়ে কবি ইব্রাকর ঝিল্লীর ‘তিনখানা নারীবাদ’।

হযরত বায়েজিদ বোস্তামী ও হযরত রাবেয়া বসরীকে নিয়ে অনূদিত গ্রন্থ দুটির অংশবিশেষ পাঠ করে আলোচকরা বলেন, মূল ফার্সি ভাষা থেকে অনূদিত হওয়ায় বই দুটি আনকোরা হয়ে উঠেছে। অনুবাদক ছুঁতে পেরেছেন ফরিদউদ্দীন আত্তারের টোনকে, তার এরাদাকে। এ ছাড়া এই তর্জমায় যে কোমলতা, আর্দ্রতা আর সরলতার সুর দেখা যাচ্ছে, বাংলা ভাষা-সাহিত্যে এটি অবশ্যই নতুন কিছু।

উল্লেখ্য, একশ ও দেড়শ টাকা মূল্যের বই দুটি ঘরে বসে হাতে পেতে ফোন করুন- ০১৮২২৩০৯৩০৭ এই নাম্বারে।

বেদনা যত বেশি তার ভাষা তত কম

 যুগান্তর রিপোর্ট 
২৯ নভেম্বর ২০২০, ০১:১৬ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ
আতিক
কবি ও অনুবাদক হাসসান আতিক। ছবি-ফেসবুক

‘জীবনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হইলো নিজের ইচ্ছারে ঠিক করা/ আমি খুব ঘুরতে ছিলাম, বেচাইন হয়ে আন্ধার মতো বইসা ছিলাম/ একগাদা অন্ধকার নিয়া/ কিন্তু আমি আমার ইচ্ছা জানতে পারলাম/ যখন তোমার ইচ্ছা জানতে পারলাম/ আর তুমি ছাড়া অন্যসব সংযোগ বেখেয়ালি বাতাসের মতো উইড়া গেল।’

দুনিয়ায় জীবনের নোঙর ফেলা নিয়ে, তার দিক-গতি ঠিক করা নিয়ে উপরোক্ত পঙক্তিগুলো প্রায় ১৩শ বছর আগে আরবি ভাষায় রচিত। আর এর রচয়িতা মধ্যপ্রাচ্যের প্রখ্যাত সুফি কবি হযরত রাবেয়া বসরী (রহ)। বাংলাদেশসহ উপমহাদেশে এই নাম সুবিদিত। খোদার সত্তায় নিজেকে বিলীন করে দেয়া এই নারীর দর্শনচিন্তা আর তার আলাপগুলো নিয়ে লিখেছেন আরেক বিশ্বখ্যাত সুফি কবি ফরিদউদ্দীন আত্তার (রহ)। 

ফার্সি ভাষায় লেখা প্রাচীন ওই গ্রন্থের পাতা বাংলা ভাষায় মেলে ধরছেন কবি ও অনুবাদক হাসসান আতিক। রাবেয়া তার আলাপে কথা ও ভাবের মুক্তাদানা ছড়িয়েছেন। যেমন তিনি বলছেন- ‘ঘর চাই না, ঘরের মালিকরে চাই’, ‘মাংস কাটার ছুরি যেন প্রেমরে কাইটা না ফেলে’, ‘লোকেরা শুধু ফুলটাই দেখে গাছটা দেখে না’, ‘বেদনা যত বেশি তার ভাষা তত কম’।

শুধু রাবেয়া বসরী নয়, হাজার বছর আগের লেখা আত্তারের ওই কেতাব ‘তাজকিরাতুল আউলিয়া’ থেকে হাসসান তর্জমা করেছেন ‘সুলতানুল আরেফিন’ উপাধি পাওয়া হযরত বায়েজিদ বোস্তামীর (রহ) জীবনীও।

‘সে এক নুকতাবিহীন আলিফের মতো’ এবং ‘কিছু জিব্বা তো এমন কান যার ভাষা জানে না’ শিরোনামে রাবেয়া বসরী ও বায়েজিদ বোস্তামীকে নিয়ে রচিত গ্রন্থ দুটি নিয়ে গত শুক্রবার সন্ধ্যায় আলোচনা হয় ঢাকার পরীবাগে অবস্থিত সংস্কৃতি বিকাশকেন্দ্রে। 

প্রকাশনা সংস্থা বাছবিচার ও প্রিন্ট পোয়েট্রি ‘রাইটার্স মিট’ নামে এই প্রোগ্রামের আয়োজন করে। অনুষ্ঠানে লেখকদের পাশাপাশি অংশ নেন বিশিষ্ট কবি, সাহিত্যিক, চিন্তকরা। এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন তরুণ লেখক ও দীক্ষিত পাঠকগণ।

এতে আলোচনা হয় সম্প্রতি বাছবিচার ও প্রিন্ট পোয়েট্রি প্রকাশিত আরও কয়েকটি বই নিয়ে। তার মধ্যে রয়েছে- কবিতাবিষয়ক আলাপ নিয়ে কবি ও চিন্তক ইমরুল হাসানের ‘কবি’, খাস বাংলার ভাষা ও দর্শন নিয়ে বিপুল কর্মযজ্ঞের আয়োজক রক মনুর ‘কবুল কবুল: কবুলিয়াতের শাসন’ এবং নারীবিষয়ক আলাপ নিয়ে কবি ইব্রাকর ঝিল্লীর ‘তিনখানা নারীবাদ’।

হযরত বায়েজিদ বোস্তামী ও হযরত রাবেয়া বসরীকে নিয়ে অনূদিত গ্রন্থ দুটির অংশবিশেষ পাঠ করে আলোচকরা বলেন, মূল ফার্সি ভাষা থেকে অনূদিত হওয়ায় বই দুটি আনকোরা হয়ে উঠেছে। অনুবাদক ছুঁতে পেরেছেন ফরিদউদ্দীন আত্তারের টোনকে, তার এরাদাকে। এ ছাড়া এই তর্জমায় যে কোমলতা, আর্দ্রতা আর সরলতার সুর দেখা যাচ্ছে, বাংলা ভাষা-সাহিত্যে এটি অবশ্যই নতুন কিছু।

উল্লেখ্য, একশ ও দেড়শ টাকা মূল্যের বই দুটি ঘরে বসে হাতে পেতে ফোন করুন- ০১৮২২৩০৯৩০৭ এই নাম্বারে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন