প্রকাশনা শিল্প রক্ষায় প্রধানমন্ত্রীর কাছে খোলা চিঠি
jugantor
প্রকাশনা শিল্প রক্ষায় প্রধানমন্ত্রীর কাছে খোলা চিঠি

  যুগান্তর প্রতিবেদন  

১৩ এপ্রিল ২০২১, ০০:৪২:০৫  |  অনলাইন সংস্করণ

বর্তমান করোনা পরিস্থিতিতে প্রকাশনা শিল্প রক্ষায় প্রকাশকদের পক্ষে প্রধানমন্ত্রীর কাছে খোলা চিঠি লিখেছেন প্রকাশকদের রক্ষা করুন আগামী প্রকাশনীর প্রকাশক ওসমান গনি।

খোলা চিঠিতে লকডাউনের মধ্যেও স্বাস্থ্যবিধি মেনে বইয়ের দোকান খোলা রাখা এবং ক্ষয়ক্ষতি পূরণ করার জন্য ১০০ কোটি টাকার বই ক্রয়ের অনুরোধ জানিয়ে তিনি লিখেছেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আমি একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা ও আপনার সর্বাধিক গ্রন্থের প্রকাশক। বাংলাদেশের প্রকাশনা শিল্পের উৎকর্ষ-সাধনে আপনার প্রকাশক বান্ধব সরকার নানামুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করলেও প্রকাশনা শিল্পের রুগ্ন চেহারায় কিছুতেই হাসি ফুটছে না। সরকার ঘোষিত ‘মুজিববর্ষ’ কেন্দ্র করে এদেশের প্রকাশনা শিল্প আশার আলো দেখেছিল।

একই সঙ্গে বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবর্ষ ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন বাংলার মানুষের মনে অভূতপূর্ব সাড়া ও আনন্দ জাগিয়েছিল। এই আনন্দ-আয়োজনে মহাসমারোহে যোগ দিতে বাংলাদেশের প্রকাশক সমাজও তাদের যথাসাধ্য বিনিয়োগ করেছিল প্রকাশনা-শিল্পে। কিন্তু কোভিড-১৯ এর আকস্মিক ছোবল দেশের অন্যান্য শিল্পের মতো প্রকাশনাশিল্পেও গভীর ক্ষত সৃষ্টি করে।

এই প্রকাশক লিখেছেন, অমর একুশে গ্রন্থমেলা এদেশের প্রকাশনাশিল্পে নবপ্রাণ সঞ্চার করে। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বইপ্রেমী মানুষ এসে কোটি কোটি টাকার বই ক্রয় করে। এবার অমর একুশে গ্রন্থমেলা নানান প্রতীক‚ লতার মধ্য দিয়ে শুরু হলেও তাতে লাভের চেয়ে প্রকাশকদের ক্ষতিই হয়েছে বেশি। কোভিড-১৯ এর প্রথম আঘাতেই এদেশের অনেক প্রকাশক তাদের প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেন। অনেকগুলো অভিজাত বইয়ের দোকানও বন্ধ হয়ে যায় অর্থনৈতিক সংকটের কারণে। এমতাবস্থায় বাংলাদেশের প্রকাশনাশিল্প কঠিন এক সমস্যার মুখোমুখি হয়েছে।

আগামী প্রকাশনীর প্রকাশক ওসমান গনি

কোভিড-১৯ এর প্রথম ধাক্কা কাটিয়ে উঠতে না উঠতেই দ্বিতীয় ধাক্কা এসে সবকিছু এলোমেলো করে দিয়েছে। মুখ থুবড়ে পড়েছে প্রকাশনাশিল্প। নিশ্চিত বিপর্যয়ের হাত থেকে প্রকাশনাশিল্পকে বাঁচাতে হলে কয়েকটি পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরি।

যেমন- বইকে জরুরি পণ্য হিসেবে ঘোষণা দিয়ে লকডাউনের মধ্যেও স্বাস্থ্যবিধি মেনে বইয়ের দোকান খোলা রাখা। এবারের অমর একুশে বইমেলায় যেসব প্রকাশক ক্ষয়ক্ষতি মেনেও মেলায় স্টল দিয়ে আর্থিক সংকটের সম্মুখীন হয়েছেন তাদের সবার ক্ষয়ক্ষতি পূরণ করার জন্য ১০০ কোটি টাকার বই ক্রয়।

তিনি আরও লিখেছেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আপনি শুধু একজন সফল রাষ্ট্রনায়কই নন, আপনি একজন সফল লেখকও। একজন লেখক হিসেবে এদেশের প্রকাশনাশিল্পের সুবিধা-অসুবিধা সবকিছুই আপনি সম্যকভাবে অবগত। আপনার হস্তক্ষেপ ছাড়া মুমূর্ষু প্রকাশনাশিল্প বাঁচানো অসম্ভব। আপনার তড়িৎ সিদ্ধান্তের উপর এখন এই শিল্পের ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে। আমরা আশা করি, আপনি সময়োচিত সিদ্ধান্তই গ্রহণ করবেন।

প্রকাশনা শিল্প রক্ষায় প্রধানমন্ত্রীর কাছে খোলা চিঠি

 যুগান্তর প্রতিবেদন 
১৩ এপ্রিল ২০২১, ১২:৪২ এএম  |  অনলাইন সংস্করণ

বর্তমান করোনা পরিস্থিতিতে প্রকাশনা শিল্প রক্ষায় প্রকাশকদের পক্ষে প্রধানমন্ত্রীর কাছে খোলা চিঠি লিখেছেন প্রকাশকদের রক্ষা করুন আগামী প্রকাশনীর প্রকাশক ওসমান গনি।

খোলা চিঠিতে লকডাউনের মধ্যেও স্বাস্থ্যবিধি মেনে বইয়ের দোকান খোলা রাখা এবং ক্ষয়ক্ষতি পূরণ করার জন্য ১০০ কোটি টাকার বই ক্রয়ের অনুরোধ জানিয়ে তিনি লিখেছেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আমি একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা ও আপনার সর্বাধিক গ্রন্থের প্রকাশক। বাংলাদেশের প্রকাশনা শিল্পের উৎকর্ষ-সাধনে আপনার প্রকাশক বান্ধব সরকার নানামুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করলেও প্রকাশনা শিল্পের রুগ্ন চেহারায় কিছুতেই হাসি ফুটছে না। সরকার ঘোষিত ‘মুজিববর্ষ’ কেন্দ্র করে এদেশের প্রকাশনা শিল্প আশার আলো দেখেছিল। 

একই সঙ্গে বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবর্ষ ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন বাংলার মানুষের মনে অভূতপূর্ব সাড়া ও আনন্দ জাগিয়েছিল। এই আনন্দ-আয়োজনে মহাসমারোহে যোগ দিতে বাংলাদেশের প্রকাশক সমাজও তাদের যথাসাধ্য বিনিয়োগ করেছিল প্রকাশনা-শিল্পে। কিন্তু কোভিড-১৯ এর আকস্মিক ছোবল দেশের অন্যান্য শিল্পের মতো প্রকাশনাশিল্পেও গভীর ক্ষত সৃষ্টি করে। 

এই প্রকাশক লিখেছেন, অমর একুশে গ্রন্থমেলা এদেশের প্রকাশনাশিল্পে নবপ্রাণ সঞ্চার করে। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বইপ্রেমী মানুষ এসে কোটি কোটি টাকার বই ক্রয় করে। এবার অমর একুশে গ্রন্থমেলা নানান প্রতীক‚ লতার মধ্য দিয়ে শুরু হলেও তাতে লাভের চেয়ে প্রকাশকদের ক্ষতিই হয়েছে বেশি। কোভিড-১৯ এর প্রথম আঘাতেই এদেশের অনেক প্রকাশক তাদের প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেন। অনেকগুলো অভিজাত বইয়ের দোকানও বন্ধ হয়ে যায় অর্থনৈতিক সংকটের কারণে। এমতাবস্থায় বাংলাদেশের প্রকাশনাশিল্প কঠিন এক সমস্যার মুখোমুখি হয়েছে।

আগামী প্রকাশনীর প্রকাশক ওসমান গনি

কোভিড-১৯ এর প্রথম ধাক্কা কাটিয়ে উঠতে না উঠতেই দ্বিতীয় ধাক্কা এসে সবকিছু এলোমেলো করে দিয়েছে। মুখ থুবড়ে পড়েছে প্রকাশনাশিল্প। নিশ্চিত বিপর্যয়ের হাত থেকে প্রকাশনাশিল্পকে বাঁচাতে হলে কয়েকটি পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরি। 

যেমন- বইকে জরুরি পণ্য হিসেবে ঘোষণা দিয়ে লকডাউনের মধ্যেও স্বাস্থ্যবিধি মেনে বইয়ের দোকান খোলা রাখা। এবারের অমর একুশে বইমেলায় যেসব প্রকাশক ক্ষয়ক্ষতি মেনেও মেলায় স্টল দিয়ে আর্থিক সংকটের সম্মুখীন হয়েছেন তাদের সবার ক্ষয়ক্ষতি পূরণ করার জন্য ১০০ কোটি টাকার বই ক্রয়। 

তিনি আরও লিখেছেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আপনি শুধু একজন সফল রাষ্ট্রনায়কই নন, আপনি একজন সফল লেখকও। একজন লেখক হিসেবে এদেশের প্রকাশনাশিল্পের সুবিধা-অসুবিধা সবকিছুই আপনি সম্যকভাবে অবগত। আপনার হস্তক্ষেপ ছাড়া মুমূর্ষু প্রকাশনাশিল্প বাঁচানো অসম্ভব। আপনার তড়িৎ সিদ্ধান্তের উপর এখন এই শিল্পের ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে। আমরা আশা করি, আপনি সময়োচিত সিদ্ধান্তই গ্রহণ করবেন।  

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন