৩৫ খণ্ডে সৈয়দ শামসুল হক রচনাসমগ্র
jugantor
৩৫ খণ্ডে সৈয়দ শামসুল হক রচনাসমগ্র

  অনলাইন ডেস্ক  

২৭ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১৪:৫৫:১০  |  অনলাইন সংস্করণ

বাংলা সাহিত্যের এমন কোনো শাখা নেই যা তার সৃষ্টিতে সমৃদ্ধ হয়নি। কবিতা, গল্প, উপন্যাস, নাটক, কাব্যনাট্য, প্রবন্ধ-নিবন্ধ, শিশু-কিশোরসাহিত্য, সায়েন্স ফিকশন, সাহিত্য-কলাম, অনুবাদ, আত্মজীবনী, স্মৃতিকথা, ভ্রমণকাহিনী-সবক্ষেত্রেই তাঁর সদর্প পদচারণা।

আশি বছরের বর্ণাঢ্য জীবনে সবসময় সন্ধান করেছেন সাহিত্যের নতুন প্রকরণ। ‘গল্পপ্রবন্ধ’, ‘গল্পপট’, ‘গাথাকাব্য’-এর মতো নিজস্ব সাহিত্যশাখা তৈরি করেছেন। সাহিত্যকর্মের সমান্তরালে রচনা করেছেন স্মরণীয় কিছু চলচ্চিত্রের চিত্রনাট্য এবং কালজয়ী বাংলা গান। রবীন্দ্রনাথের মতোই তার সৃষ্টিপ্রতিভা বিস্তৃত হয়েছে চিত্রকর্মেও। নিজের বেশকিছু রচনার ইংরেজি অনুবাদও করেছেন তিনি।

কর্কটরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত শেকসপিয়রের ‘হ্যামলেট’ বাংলায় রূপান্তরসহ লিখে গেছেন তিনটি কবিতার বই, একটি গল্পের বই এবং ‘ভাবনার ডানা’ নামের ব্যতিক্রমী ভাবনাগুচ্ছ।

এখন পর্যন্ত সবচেয়ে কম বয়সে বাংলা একাডেমি পুরস্কারপ্রাপ্ত লেখক তিনি। প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা সমাপ্ত না করে পৃথিবীর পাঠশালায় শিক্ষিত হয়েছেন; আজ দেশ-বিদেশে তিনি নিজেই প্রাতিষ্ঠানিক গবেষণার বিষয়। ‘সব্যসাচী’ অভিধায় অভিষিক্ত সৈয়দ শামসুল হকের মঞ্চনাটক ‘নূরলদীনের সারাজীবন’, ‘পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়’ পৃথিবীর বিভিন্ন মহাদেশে মঞ্চস্থ হয়েছে। তার কাব্য ‘পরানের গহীন ভিতর’ বাংলা কবিতার অমৃত সম্পদ। তার বড়গল্প ‘রক্তগোলাপ’ বিশ্বসাহিত্যের জাদুবাস্তব ধারার পথিকৃৎ সংযোজন। তার উপন্যাস ‘খেলারাম খেলে যা’ আঙ্গিক ও বিষয়শৈলীতে এক সাহসী উপস্থাপনা; একই সঙ্গে ‘নিষিদ্ধ লোবান’, ‘নীল দংশন’ বা ‘বৃষ্টি ও বিদ্রহীগণ’ উপন্যাস বাঙালির মহাকাব্যিক মুক্তিযুদ্ধকে ধারণ করেছে অনন্য ব্যঞ্জনায়। তার প্রাবন্ধিক গদ্যগ্রন্থ ‘মার্জিনে মন্তব্য’, ‘কথা সামান্যই’ এবং ‘হৃৎকলমের টানে’ গোটা বাংলা সাহিত্যের প্রেক্ষিতেই অভিনব। বাংলা সাহিত্যের ভূগোলে তিনি ‘জলেশ্বরী’ নামের কল্পিত ভূখণ্ডের স্রষ্টা। সমস্ত অন্যায়-অসাম্য ও অবিচারের বিরুদ্ধে তিনি ‘জাগো বাহে কোনঠে সবাই’ বলে জাগরণের ডাক দেন। তিনি সৈয়দ শামসুল হক।

সৃজনশীল প্রকাশনা সংস্থা ঐতিহ্য প্রকাশ করতে যাচ্ছে বাংলা সাহিত্যের গৌরব ‘সৈয়দ শামসুল হক রচনাসমগ্র’।

২৭ ডিসেম্বর সৈয়দ শামসুল হকের ৮৫তম জন্মবার্ষিকীতে প্রকাশিত হচ্ছে তার প্রকাশিত, অপ্রকাশিত, অগ্রন্থিত সমুদয় রচনার সংকলন। এই রচনাসমগ্রের বিশেষ আকর্ষণ সৈয়দ হকের মর্মানুবাদে পবিত্র কুরআনের নির্বাচিত অংশের বাংলা ভাষ্য, তার রচিত চলচ্চিত্রের চিত্রনাট্য, তার লেখা বিখ্যাত গান, তার ইংরেজি রচনা এবং তার অঙ্কিত চিত্রকর্মের প্রতিলিপি।

৫ জুন ঐতিহ্যের প্রধান কার্যালয়ে সৈয়দ শামসুল হক পরিবারের পক্ষে লেখকের স্ত্রী আনোয়ারা সৈয়দ হক ও ঐতিহ্যের পক্ষে প্রকাশক আরিফুর রহমান নাইম চুক্তি সই করেন। সৈয়দ শামসুল হক রচনাসমগ্র প্রকাশিত হবে ৩৫ খণ্ডে।

৩৫ খণ্ডে সৈয়দ শামসুল হক রচনাসমগ্র

 অনলাইন ডেস্ক 
২৭ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০২:৫৫ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

বাংলা সাহিত্যের এমন কোনো শাখা নেই যা তার সৃষ্টিতে সমৃদ্ধ হয়নি। কবিতা, গল্প, উপন্যাস, নাটক, কাব্যনাট্য, প্রবন্ধ-নিবন্ধ, শিশু-কিশোরসাহিত্য, সায়েন্স ফিকশন, সাহিত্য-কলাম, অনুবাদ, আত্মজীবনী, স্মৃতিকথা, ভ্রমণকাহিনী-সবক্ষেত্রেই তাঁর সদর্প পদচারণা। 

আশি বছরের বর্ণাঢ্য জীবনে সবসময় সন্ধান করেছেন সাহিত্যের নতুন প্রকরণ। ‘গল্পপ্রবন্ধ’, ‘গল্পপট’, ‘গাথাকাব্য’-এর মতো নিজস্ব সাহিত্যশাখা তৈরি করেছেন। সাহিত্যকর্মের সমান্তরালে রচনা করেছেন স্মরণীয় কিছু চলচ্চিত্রের চিত্রনাট্য এবং কালজয়ী বাংলা গান। রবীন্দ্রনাথের মতোই তার সৃষ্টিপ্রতিভা বিস্তৃত হয়েছে চিত্রকর্মেও। নিজের বেশকিছু রচনার ইংরেজি অনুবাদও করেছেন তিনি।

কর্কটরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত শেকসপিয়রের ‘হ্যামলেট’ বাংলায় রূপান্তরসহ লিখে গেছেন তিনটি কবিতার বই, একটি গল্পের বই এবং ‘ভাবনার ডানা’ নামের ব্যতিক্রমী ভাবনাগুচ্ছ। 

এখন পর্যন্ত সবচেয়ে কম বয়সে বাংলা একাডেমি পুরস্কারপ্রাপ্ত লেখক তিনি। প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা সমাপ্ত না করে পৃথিবীর পাঠশালায় শিক্ষিত হয়েছেন; আজ দেশ-বিদেশে তিনি নিজেই প্রাতিষ্ঠানিক গবেষণার বিষয়। ‘সব্যসাচী’ অভিধায় অভিষিক্ত সৈয়দ শামসুল হকের মঞ্চনাটক ‘নূরলদীনের সারাজীবন’, ‘পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়’ পৃথিবীর বিভিন্ন মহাদেশে মঞ্চস্থ হয়েছে। তার কাব্য ‘পরানের গহীন ভিতর’ বাংলা কবিতার অমৃত সম্পদ। তার বড়গল্প ‘রক্তগোলাপ’ বিশ্বসাহিত্যের জাদুবাস্তব ধারার পথিকৃৎ সংযোজন।  তার উপন্যাস ‘খেলারাম খেলে যা’ আঙ্গিক ও বিষয়শৈলীতে এক সাহসী উপস্থাপনা; একই সঙ্গে ‘নিষিদ্ধ লোবান’, ‘নীল দংশন’ বা ‘বৃষ্টি ও বিদ্রহীগণ’ উপন্যাস বাঙালির মহাকাব্যিক মুক্তিযুদ্ধকে ধারণ করেছে অনন্য ব্যঞ্জনায়। তার প্রাবন্ধিক গদ্যগ্রন্থ ‘মার্জিনে মন্তব্য’, ‘কথা সামান্যই’ এবং ‘হৃৎকলমের টানে’ গোটা বাংলা সাহিত্যের প্রেক্ষিতেই অভিনব। বাংলা সাহিত্যের ভূগোলে তিনি ‘জলেশ্বরী’ নামের কল্পিত ভূখণ্ডের স্রষ্টা। সমস্ত অন্যায়-অসাম্য ও অবিচারের বিরুদ্ধে তিনি ‘জাগো বাহে কোনঠে সবাই’ বলে জাগরণের ডাক দেন।  তিনি সৈয়দ শামসুল হক।

সৃজনশীল প্রকাশনা সংস্থা ঐতিহ্য প্রকাশ করতে যাচ্ছে বাংলা সাহিত্যের গৌরব ‘সৈয়দ শামসুল হক রচনাসমগ্র’।

২৭ ডিসেম্বর সৈয়দ শামসুল হকের ৮৫তম জন্মবার্ষিকীতে প্রকাশিত হচ্ছে তার প্রকাশিত, অপ্রকাশিত, অগ্রন্থিত সমুদয় রচনার সংকলন। এই রচনাসমগ্রের বিশেষ আকর্ষণ সৈয়দ হকের মর্মানুবাদে পবিত্র কুরআনের নির্বাচিত অংশের বাংলা ভাষ্য, তার রচিত চলচ্চিত্রের চিত্রনাট্য, তার লেখা বিখ্যাত গান, তার ইংরেজি রচনা এবং তার অঙ্কিত চিত্রকর্মের প্রতিলিপি।

৫ জুন ঐতিহ্যের প্রধান কার্যালয়ে সৈয়দ শামসুল হক পরিবারের পক্ষে লেখকের স্ত্রী আনোয়ারা সৈয়দ হক ও ঐতিহ্যের পক্ষে প্রকাশক আরিফুর রহমান নাইম চুক্তি সই করেন। সৈয়দ শামসুল হক রচনাসমগ্র প্রকাশিত হবে ৩৫ খণ্ডে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন