অভিবাসনের সুখ-বিড়ম্বনা! (পর্ব-৯)
jugantor
অভিবাসনের সুখ-বিড়ম্বনা! (পর্ব-৯)

  মাহমুদ হাসান  

১১ মে ২০২২, ০০:৪৮:৪৬  |  অনলাইন সংস্করণ

হ্যাঁ, ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ দু'টো দলিল। এর একটি ছাড়াও জীবন চলে না। দু'টোই জীবন-জীবিকার অপরিহার্য ভিত্তি। অর্থ-বিত্ত জীবনের অংশ, আর এই অর্থ বিত্তের পরিসংখ্যান যে দলিলে একটি ইউনিক নম্বরের মাধ্যমে লিপিবদ্ধ হয় তার কানাডিয়ান নাম সোস্যাল আইডেন্টিফিকেশন নাম্বার, যা সিন কার্ড হিসেবেই সর্ব মহলে পরিচিত। এদেশে সিন কার্ড বা সিন বিহীন কোনো ব্যক্তি বৈধ উপায়ে আয় রোজগার করতে পারেন না। এমন কি সরকারি কোনো সুযোগ-সুবিধাও তাদের ভাগ্যে জোটে না। কানাডায় কোনো কাজ, চাকুরি বা যে কোনো রকম সরকারি সুবিধা পেতে হলে প্রাথমিক ও প্রধান পূর্বশর্ত হচ্ছে আবেদনকারীকে কানাডার ফেডারেল সরকারের সার্ভিস কানাডা কর্তৃক ইস্যুকৃত সিন কার্ড বা নম্বর থাকতে হবে। তাই আজকের প্রাথমিক কাজ হচ্ছে, শিশু সন্তান তাহমিদসহ আমাদের তিনজনের সিন কার্ডের আবেদন করা।

স্বদেশে থাকতেই জেনেছিলাম কল্যাণ রাষ্ট্র কানাডায় চিকিৎসা ব্যবস্থা ফ্রি অর্থাৎ এর জন্য সেবা গ্রহীতাকে কোনো অর্থ ব্যয় করতে হয় না! বিষয়টি কি আসলেই তাই? পরবর্তী কোনো এক পর্বে এ নিয়ে নিশ্চয় আলোচনা করব। তবে আজ গুরুত্বপূর্ণ দু'টো দলিলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকতে চাই। বেঁচে থাকার জন্য যেমন অর্থ অনিবার্য, আর অর্থের যোগান নিশ্চিত করতে সুস্থ জীবনেরও কোনো বিকল্প নেই। কানাডায় স্বাস্থ্য সেবার মান নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়, তবে এ সেবাটি একেবারে সহজলভ্য ও সবার জন্য উম্মুক্ত নয়। এর জন্য প্রাথমিক শর্ত হচ্ছে প্রভিন্সিয়াল সরকারের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ কর্তৃক ইস্যুকৃত একটি ইউনিক নম্বর সংবলিত হেলথ কার্ড থাকা বাধ্যতামূলক। চিকিৎসক বা ডায়াগনস্টিক সেবা, যেমন স্বাস্থ্য সম্পর্কিত পরীক্ষা নীরিক্ষা, অথবা হাসপাতালের সেবা নিতে হলে, প্রত্যেকের জন্যই হেলথ কার্ড প্রদর্শন বাধ্যতামূলক। দেশের প্রধানমন্ত্রীকেও এই অতি আবশ্যকীয় কার্ড ব্যতিত চিকিৎসা সেবা নেয়ার কোনো সুযোগ নেই। আর হেলথ কার্ডে যে নম্বরটি থাকে তার অনূকূলেই প্রত্যেক নাগরিকের সারাজীবনের স্বাস্থ্য সম্পর্কিত তথ্য ডিজিটাল উপায়ে সংরক্ষিত হয়।

ভিজিটিং ভিসা ব্যতিত বৈধ উপায়ে কানাডায় অভিবাসী হওয়া, যে কোনো বয়সের ব্যক্তিই সিন কার্ড ও হেলথ কার্ড পাওয়ার যোগ্য। আর অর্থ-বিত্ত ও স্বাস্থ্যের নিরাপত্তায় অনিবার্য এ দু'টি ডকুমেন্টস সংক্রান্ত কাজ সম্পন্ন করতে, সকাল সকালই ঘর থেকে বেরিয়ে পড়ি। বাসা থেকে গাড়িতে করে ত্রিশ মিনিটের দূরত্বে ডাউন টাউনে কেলগেরি হেলথ রিজিউনের অফিস। সংরক্ষিত স্থান থেকে আবেদন ফর্ম সংগ্রহ করে কয়েক মিনিটেই ফর্ম পূরণ করে টোকেন সংগ্রহ করে অপেক্ষা করি। আরামদায়ক লাউঞ্জে এক ভিন্ন রকম পরিবেশে অপেক্ষার সময়টি বেশ উপভোগ্যই ছিলো। মাত্র দশ মিনিটের মাথায়, ডিজিটাল ডিসপ্লেতে আমাদের টোকেন নম্বর ভেসে উঠে। এগিয়ে যেতেই স্বচ্ছ কাঁচের ওপারে থাকা ভদ্রমহিলা 'নিউ ইমিগ্র্যান্টস, ওয়েলকাম টু কানাডা' বলে হাস্যমুখে পাসপোর্ট আর ল্যান্ডিং পেপারগুলো দেখতে চাইলেন!

ডকুমেন্টসগুলো দেখতে মিনিট পাঁচেক সময় নিলেন, পরবর্তী পাঁচ মিনিটের মধ্যেই তিনজনের হেলথ কার্ড বাড়িয়ে দিয়ে অন্য কোনো সাহায্যের প্রয়োজন আছে কিনা জানতে চাইলেন। পারস্পরিক ধন্যবাদ বিনিময়ের মাধ্যমে একটি গুরুত্বপূর্ণ কাজের এমন সহজ সমাপ্তি, মনের মধ্যে এক ব্যতিক্রমী অনুভূতির জন্ম দেয়। আমি তদবিরের দেশের মানুষ। অজুহাত আর তদবির ছাড়া আমাদের দৈনন্দিন জীবন অচল। তদবির করতেও পরিচিতি লাগে, তদবিরের মানুষ খোঁজতেই মাথার ঘাম পায়ে পড়ে। তারপর শুরু হয় অজুহাতের পালা। একদিনে এক সাক্ষাতে কোন সরকারি দপ্তরে কোনো কাজের পরিসমাপ্তির ইতিহাস যে দেশের মানুষের খতিয়ানে নেই, সেই দেশের মানুষ হয়ে দশ মিনিটে এমন গুরুত্বপূর্ণ কাজের পরিসমাপ্তি! এ যেন কালো মেঘে ঢেকে যাওয়া জীবনে আলোর ঝলকানি!!

ডাউন টাউন থেকে মারলবরো সার্ভিস কানাডা অফিসের দূরত্ব প্রায় দশ কিলোমিটার, পৌঁছাতে সময় লাগে সাত মিনিট। পৌঁছেই রিসেপশন কাউন্টার থেকে স্ত্রী, সন্তানসহ তিনজনের সিন কার্ডের আবেদনের জন্য সার্ভিস এডভাইজারের এপয়েন্টমেন্ট নিয়ে লাউঞ্জে অপেক্ষা করি। আজ বিকেলেই কানাডার নতুন কর্মস্থলে যেতে হবে। সোস্যাল আইডেন্টিফিকেশন (SIN) নাম্বার ছাড়া, কাজ শুরুর কোন উপায় নেই। নয় ডিজিটের এই ম্যাজিক নম্বর টি একদিকে আয়-ব্যয়, সহায় সম্পদের খতিয়ান, অন্যদিকে বৈধ অভিবাসী হিসেবে আয় রোজগার করার জন্য কানাডা সরকারের একমাত্র ও সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অনুমতি পত্র। পাসপোর্ট, ভিসা, ল্যান্ডিং পেপারের সাথে সরকারের কেন্দ্রীয় ডাটাবেইজ নীরিক্ষা করে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা আমাদের জন্য সিন কার্ড ইস্যু করবেন।

দারোয়ান,পিয়ন, চাপরাশি পরিবেষ্টিত বিলাসবহুল কক্ষে দামি তোয়ালা পেছানো আরামদায়ক কেদারায় গুরু গম্ভীর সরকারি আমলাদের দেখেই আমরা অভ্যস্ত। অপেক্ষা করছি, কেতাদুরস্ত কোন এক পিয়ন নিশ্চয় আমাদের ডাকবেন!! ঠিক পঁচিশ মিনিট পর দীর্ঘদেহী বাদামি বর্ণের একজন ওয়েটিং লাউঞ্জে এসে নাম ধরে আমায় ডাকলেন। 'নাইস টু সি ইউ' বলে তাকে অনুসরণ করতে অনুরোধ করলেন। বেজায় নিরিবিলি এক কক্ষে প্রবেশ করে, একটি চেয়ার দেখিয়ে আমাকে বসতে বললেন। তারপর টেবিলের অপর পাশে একই রকম আর একটি চেয়ারে বসে আমার ডকুমেন্টসগুলো চাইলেন। না, কোনো পিয়ন চাপরাশি নেই, তিনিই কর্মকর্তা। সমীহ দেখে মনে হলো, স্বপ্লতম সময়ে কাজ সম্পাদন করে আমাদের সন্তুষ্ট করাই যেন তার চাকুরি।

স্বদেশের আমলা আর বিদেশের কর্তাদের মধ্যে এতো তফাৎ! অবাক বিস্ময়ে লক্ষ্য করলাম, আমি চেয়ার টেনে বসার পর তিনি বসলেন। আমার দেশের আমলাতান্ত্রিক রীতিনীতি আর সংস্কৃতি ব্রিটিশদের তৈরি। আমরা যেমন একসময়ে ব্রিটিশদের শাসনে ছিলাম, কানাডার মতো অনেক উন্নত দেশও একসময়ে ব্রিটিশদেরই অনুশাসনের অংশ ছিল। তাহলে রীতিনীতি আর সংস্কৃতির এই অদ্ভুত আচরণ ভারতীয় উপমহাদেশ ছাড়া অন্য কোথাও নেই কেন? আমাদের দেশের কর্তাদের সামনে সেবা প্রার্থীরা যেখানে ভৃত্যের মতো দাঁড়িয়ে থাকতে হয়, সেখানে পশ্চিমের দেশে সেবা প্রার্থীর অসন্তুষ্টির ভয়ে যেন, আমলাকেই তটস্থ থাকতে হয়। এটি কি বিনয়, নাকি দায়িত্ব ও কর্তব্যের প্রতি সর্বোত্তম শ্রদ্ধাবোধের বহিঃপ্রকাশ?

পাসপোর্ট, ভিসা আর ল্যান্ডিং পেপার ছাড়া সিন কার্ডের আবেদনের সুযোগ নেই। তাই প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টসগুলো অফিসারের সামনে উপস্থাপন করি। অনলাইনে কিছুক্ষণ পরীক্ষা নীরিক্ষার পর আমার ডকুমেন্টস এ মারাত্মক এক ভ্রান্তি আবিস্কৃত হলো। একাডেমিক সার্টিফিকেট, জন্ম নিবন্ধন,পাসপোর্ট সহ সকল ডকুমেন্টস এ নামের সাথে, ল্যান্ডিং পেপারে নামের একটি অংশের মিল নেই!! এটি মোটেও কোন ছোটখাটো ভূল নয়, পাসপোর্ট আর ল্যান্ডিং পেপারের এমন অমিল নিয়ে আমি কিভাবে কানাডায় অবতরণ করলাম সেটিই প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে যায়! সার নেম (Surname), ফ্যামিলি নেম (Family Name), লাস্ট নেম ( last Name) তিনটিই সমার্থক, গিভেন নেম (Given Name), আর ফার্স্ট নেম ( First Name) সমার্থক। আমার ল্যান্ডিং পেপারে নামটি পুরোপুরি পাল্টে যায় অর্থাৎ লাস্ট নেমটি ফার্স্ট নেম হয়ে যায়। এটি সংশোধনের জন্য ফেডারেল সরকারের ২০০৩ সালে আমার জমা দেয়া প্রাথমিক আবেদনসহ সবকিছু পরীক্ষা নীরিক্ষা করে তারপর সিন কার্ডের আবেদন করতে হবে। অফিসার বিনয়ের সাথে আমাকে অপেক্ষা করতে অনুরোধ করলেন।

এদেশে যে কোন সরকারি, বেসরকারি অফিসে সেবা প্রার্থীর কাজের ধরন ভেদে এপয়েন্টমেন্ট এর একটি টাইম ব্লক থাকে। আমার ক্ষেত্রে টাইম ব্লকটি দীর্ঘায়িত হওয়া ছাড়া যে উপায় নেই, সেটি বুঝতে বাকী থাকে না। জটিল সমস্যাটির সমাধান হবে, সে প্রত্যাশায় বসে আছি, আর তথ্যানুসন্ধানের ফাঁকে ফাঁকে অফিসার আমার সংগে কথাও বলছেন। কিছুক্ষণের মধ্যেই আবিস্কৃত হলো, ভুলটি আমারই ছিল। মোট ছয়ত্রিশ পৃষ্ঠার পাঁচটি আলাদা আলাদা প্রাথমিক আবেদন ফরমের কোন একটিতে আমি সার নেম (Surname) এর জন্য নির্ধারিত স্থানে 'মাহমুদ' লিখেছিলাম কিন্ত ফ্যামিলি নেম ও লাস্ট নেম এর ঘরে 'হাসান' লিখেছি। তাই ল্যান্ডিং পেপারে আমার লাস্ট নেম টি ফার্স্ট নেম হয়ে যায়। বুঝতে পারি বিভ্রাটটি জ্ঞানের, অসাবধানতা নয় অজ্ঞতার।

আজকালের মতো ২০০৩ সালে আমার দেশে তথ্যের অবাধ প্রবাহ ছিলো না। সীমাবদ্ধ ইন্টারনেট সর্বসাধারণের জন্য উম্মুক্ত ছিলো না, চাইলেই গুগলের আশ্রয় নিয়ে সংশয় দূর করার পদ্ধতিও ছিল না। আমি সেদিন সারনেম (Surname) বলতে হয়তো বা আমার মূল নামটিকেই বুঝেছিলাম। সারনেম, ফ্যামিলি নেম, আর লাস্ট নেম সমার্থক, আর এটি যে এদেশের সংস্কৃতিতে কত গুরুত্বপূর্ণ বাংলার মাটিতে বসে এটি অনুধাবণের সুযোগ নেই। লাস্ট নেম শুধুমাত্র নামের শেষাংশ নয়, পশ্চিমা সংস্কৃতিতে এটি পরিবার তথা বংশানুক্রমিক ধারাবাহিকতার অকাট্য দলিল, এর ব্যতিক্রম নানা সংশয়, সন্দেহ আর অবিশ্বাসের জন্ম দেয়। আমার প্রিয় দেশের সমাজ সংস্কৃতিতে করিম হুসেনের সন্তান ফজলে আলী হয়ে যায়, আবার শিক্ষিত ফজলে আলীর সন্তান আধুনিকতার ছোঁয়ায় ফাহিম ফজলে হয়ে যায়। এমন অদ্ভুত পরিবর্তনগুলো কিভাবে বাঙালি সংস্কৃতির অংশ হলো, পশ্চিমা সংস্কৃতির পরিবেশে সেটি ভাবনার বিষয় হয়ে দাঁড়ায়।

অর্ধ ঘন্টার এপয়েন্টমেন্ট ব্লক শেষ হতে দেড় ঘন্টা লাগে। ফেডারেল ডাটাবেজে ভ্রম সংশোধনের মাধ্যমে আমার সিন কার্ডের আবেদনটিও শেষ হলো। কার্ডটি ডাকযোগে আমার ঠিকানায় পৌঁছাতে এক সপ্তাহ সময় লাগবে, তাই সিন নম্বর সংবলিত একটি ছাপানো কাগজ ধরিয়ে দেয়া হলো। এবার ছেলের পালা। সন্তানের লাস্ট নেম ভিন্ন কেন? সংস্কৃতির অংশ। তোমারটি নয় কেন? জাতীয় সংস্কৃতিতে কোন বাধ্যবাধকতা নেই। অফিসার মুচকি হেসে কাজ শুরু করলেন। ডকুমেন্টস এ কোন গড়মিল না থাকায় দশ মিনিটেই কাজ শেষ। কর্তা মহোদয় চেয়ার থেকে উঠে অভ্যর্থনা কক্ষ অবধি এসে 'হেভ এ নাইস ডে' বলে বিদায় জানালেন।

সার্ভিস কানাডা থেকে বেরিয়ে মার্টিনডেলের বাসায় ফিরছি। মনে মাতৃভূমির স্মৃতি। ১৯৮৩ সালের কথা, এসএসসির মার্কশীটে মাহমুদ নামে 'ম' এর সাথে আকার নেই। সংশোধনের জন্য শিক্ষা বোর্ডে যেতে হবে। দুই দিনের মামলা, সাথে অর্থ কড়ির প্রশ্ন। এলাকার এক বড় ভাই ভিক্টোরিয়া কলেজের ছাত্র। তিন’শ টাকা যোগাড় করে একদিন তার সংগে কুমিল্লা যাই। রাতে তার মেসে থেকে পরদিন তাকে সংগে নিয়ে শিক্ষা বোর্ডে যাই। দফতরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা জানালেন, পঁচাত্তর টাকা আবেদন ফি, পত্রিকায় নাম সংশোধনের বিজ্ঞাপন আর প্রথম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক বিজ্ঞাপনের কপি সত্যায়িত করে আবেদনের সাথে জমা দিতে হবে। আমার নয়, ভূলটি ছিল করণিক। তবুও নানা হয়রানি, অর্থ আর সময় দিয়ে প্রায়শ্চিত্তটি আমাকেই করতে হয়েছিল। সেই ঘটনার সাথে আজকের ঘটনাটি তুলনা করলে, প্রিয় সমাজটির জন্য করুণা ছাড়া কিই বা থাকতে পারে? নতুন কর্মস্থলের অপেক্ষায় হ্রদয় মনে এক অজানা শিহরণ কাজ করছে। আর মাত্র কয়েক ঘণ্টা পরই নতুন অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হতে যাচ্ছি!!

অভিবাসনের সুখ-বিড়ম্বনা! (পর্ব-৯)

 মাহমুদ হাসান 
১১ মে ২০২২, ১২:৪৮ এএম  |  অনলাইন সংস্করণ

হ্যাঁ, ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ দু'টো দলিল। এর একটি ছাড়াও জীবন চলে না। দু'টোই জীবন-জীবিকার অপরিহার্য ভিত্তি। অর্থ-বিত্ত জীবনের অংশ, আর এই অর্থ বিত্তের পরিসংখ্যান যে দলিলে একটি ইউনিক নম্বরের মাধ্যমে লিপিবদ্ধ হয় তার কানাডিয়ান নাম সোস্যাল আইডেন্টিফিকেশন নাম্বার, যা সিন কার্ড হিসেবেই সর্ব মহলে পরিচিত। এদেশে সিন কার্ড বা সিন বিহীন কোনো ব্যক্তি বৈধ উপায়ে আয় রোজগার করতে পারেন না। এমন কি সরকারি কোনো সুযোগ-সুবিধাও তাদের ভাগ্যে জোটে না। কানাডায় কোনো কাজ, চাকুরি বা যে কোনো রকম সরকারি সুবিধা পেতে হলে প্রাথমিক ও প্রধান পূর্বশর্ত হচ্ছে আবেদনকারীকে কানাডার ফেডারেল সরকারের সার্ভিস কানাডা কর্তৃক ইস্যুকৃত সিন কার্ড বা নম্বর থাকতে হবে। তাই আজকের প্রাথমিক কাজ হচ্ছে, শিশু সন্তান তাহমিদসহ আমাদের তিনজনের সিন কার্ডের আবেদন করা।

স্বদেশে থাকতেই জেনেছিলাম কল্যাণ রাষ্ট্র কানাডায় চিকিৎসা ব্যবস্থা ফ্রি অর্থাৎ এর জন্য সেবা গ্রহীতাকে কোনো অর্থ ব্যয় করতে হয় না! বিষয়টি কি আসলেই তাই? পরবর্তী কোনো এক পর্বে এ নিয়ে নিশ্চয় আলোচনা করব। তবে আজ গুরুত্বপূর্ণ দু'টো দলিলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকতে চাই। বেঁচে থাকার জন্য যেমন অর্থ অনিবার্য, আর অর্থের যোগান নিশ্চিত করতে সুস্থ জীবনেরও কোনো বিকল্প নেই। কানাডায় স্বাস্থ্য সেবার মান নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়, তবে এ সেবাটি একেবারে সহজলভ্য ও সবার জন্য উম্মুক্ত নয়। এর জন্য প্রাথমিক শর্ত হচ্ছে প্রভিন্সিয়াল সরকারের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ কর্তৃক ইস্যুকৃত একটি ইউনিক নম্বর সংবলিত হেলথ কার্ড থাকা বাধ্যতামূলক। চিকিৎসক বা ডায়াগনস্টিক সেবা, যেমন স্বাস্থ্য সম্পর্কিত পরীক্ষা নীরিক্ষা, অথবা হাসপাতালের সেবা নিতে হলে, প্রত্যেকের জন্যই হেলথ কার্ড প্রদর্শন বাধ্যতামূলক। দেশের প্রধানমন্ত্রীকেও এই অতি আবশ্যকীয় কার্ড ব্যতিত চিকিৎসা সেবা নেয়ার কোনো সুযোগ নেই। আর হেলথ কার্ডে যে নম্বরটি থাকে তার অনূকূলেই প্রত্যেক নাগরিকের সারাজীবনের স্বাস্থ্য সম্পর্কিত তথ্য ডিজিটাল উপায়ে সংরক্ষিত হয়।

ভিজিটিং ভিসা ব্যতিত বৈধ উপায়ে কানাডায় অভিবাসী হওয়া, যে কোনো বয়সের ব্যক্তিই সিন কার্ড ও হেলথ কার্ড পাওয়ার যোগ্য। আর অর্থ-বিত্ত ও স্বাস্থ্যের নিরাপত্তায় অনিবার্য এ দু'টি ডকুমেন্টস সংক্রান্ত কাজ সম্পন্ন করতে, সকাল সকালই ঘর থেকে বেরিয়ে পড়ি। বাসা থেকে গাড়িতে করে ত্রিশ মিনিটের দূরত্বে ডাউন টাউনে কেলগেরি হেলথ রিজিউনের অফিস। সংরক্ষিত স্থান থেকে আবেদন ফর্ম সংগ্রহ করে কয়েক মিনিটেই ফর্ম পূরণ করে টোকেন সংগ্রহ করে অপেক্ষা করি। আরামদায়ক লাউঞ্জে এক ভিন্ন রকম পরিবেশে অপেক্ষার সময়টি বেশ উপভোগ্যই ছিলো। মাত্র দশ মিনিটের মাথায়, ডিজিটাল ডিসপ্লেতে আমাদের টোকেন নম্বর ভেসে উঠে। এগিয়ে যেতেই স্বচ্ছ কাঁচের ওপারে থাকা ভদ্রমহিলা 'নিউ ইমিগ্র্যান্টস, ওয়েলকাম টু কানাডা' বলে হাস্যমুখে পাসপোর্ট আর ল্যান্ডিং পেপারগুলো দেখতে চাইলেন!

ডকুমেন্টসগুলো দেখতে মিনিট পাঁচেক সময় নিলেন, পরবর্তী পাঁচ মিনিটের মধ্যেই তিনজনের হেলথ কার্ড বাড়িয়ে দিয়ে অন্য কোনো সাহায্যের প্রয়োজন আছে কিনা জানতে চাইলেন। পারস্পরিক ধন্যবাদ বিনিময়ের মাধ্যমে একটি গুরুত্বপূর্ণ কাজের এমন সহজ সমাপ্তি, মনের মধ্যে এক ব্যতিক্রমী অনুভূতির জন্ম দেয়। আমি তদবিরের দেশের মানুষ। অজুহাত আর তদবির ছাড়া আমাদের দৈনন্দিন জীবন অচল। তদবির করতেও পরিচিতি লাগে, তদবিরের মানুষ খোঁজতেই মাথার ঘাম পায়ে পড়ে। তারপর শুরু হয় অজুহাতের পালা। একদিনে এক সাক্ষাতে কোন সরকারি দপ্তরে কোনো কাজের পরিসমাপ্তির ইতিহাস যে দেশের মানুষের খতিয়ানে নেই, সেই দেশের মানুষ হয়ে দশ মিনিটে এমন গুরুত্বপূর্ণ কাজের পরিসমাপ্তি! এ যেন কালো মেঘে ঢেকে যাওয়া জীবনে আলোর ঝলকানি!!

ডাউন টাউন থেকে মারলবরো সার্ভিস কানাডা অফিসের দূরত্ব প্রায় দশ কিলোমিটার, পৌঁছাতে সময় লাগে সাত মিনিট। পৌঁছেই রিসেপশন কাউন্টার থেকে স্ত্রী, সন্তানসহ তিনজনের সিন কার্ডের আবেদনের জন্য সার্ভিস এডভাইজারের এপয়েন্টমেন্ট নিয়ে লাউঞ্জে অপেক্ষা করি। আজ বিকেলেই কানাডার নতুন কর্মস্থলে যেতে হবে। সোস্যাল আইডেন্টিফিকেশন (SIN) নাম্বার ছাড়া, কাজ শুরুর কোন উপায় নেই। নয় ডিজিটের এই ম্যাজিক নম্বর টি একদিকে আয়-ব্যয়, সহায় সম্পদের খতিয়ান, অন্যদিকে বৈধ অভিবাসী হিসেবে আয় রোজগার করার জন্য কানাডা সরকারের একমাত্র ও সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অনুমতি পত্র। পাসপোর্ট, ভিসা, ল্যান্ডিং পেপারের সাথে সরকারের কেন্দ্রীয় ডাটাবেইজ নীরিক্ষা করে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা আমাদের জন্য সিন কার্ড ইস্যু করবেন।

দারোয়ান,পিয়ন, চাপরাশি পরিবেষ্টিত বিলাসবহুল কক্ষে দামি তোয়ালা পেছানো আরামদায়ক কেদারায় গুরু গম্ভীর সরকারি আমলাদের দেখেই আমরা অভ্যস্ত। অপেক্ষা করছি, কেতাদুরস্ত কোন এক পিয়ন নিশ্চয় আমাদের ডাকবেন!! ঠিক পঁচিশ মিনিট পর দীর্ঘদেহী বাদামি বর্ণের একজন ওয়েটিং লাউঞ্জে এসে নাম ধরে আমায় ডাকলেন। 'নাইস টু সি ইউ' বলে তাকে অনুসরণ করতে অনুরোধ করলেন। বেজায় নিরিবিলি এক কক্ষে প্রবেশ করে, একটি চেয়ার দেখিয়ে আমাকে বসতে বললেন। তারপর টেবিলের অপর পাশে একই রকম আর একটি চেয়ারে বসে আমার ডকুমেন্টসগুলো চাইলেন। না, কোনো পিয়ন চাপরাশি নেই, তিনিই কর্মকর্তা। সমীহ দেখে মনে হলো, স্বপ্লতম সময়ে কাজ সম্পাদন করে আমাদের সন্তুষ্ট করাই যেন তার চাকুরি। 

স্বদেশের আমলা আর বিদেশের কর্তাদের মধ্যে এতো তফাৎ! অবাক বিস্ময়ে লক্ষ্য করলাম, আমি চেয়ার টেনে বসার পর তিনি বসলেন। আমার দেশের আমলাতান্ত্রিক রীতিনীতি আর সংস্কৃতি ব্রিটিশদের তৈরি। আমরা যেমন একসময়ে ব্রিটিশদের শাসনে ছিলাম, কানাডার মতো অনেক উন্নত দেশও একসময়ে ব্রিটিশদেরই অনুশাসনের অংশ ছিল। তাহলে রীতিনীতি আর সংস্কৃতির এই অদ্ভুত আচরণ ভারতীয় উপমহাদেশ ছাড়া অন্য কোথাও নেই কেন? আমাদের দেশের কর্তাদের সামনে সেবা প্রার্থীরা যেখানে ভৃত্যের মতো দাঁড়িয়ে থাকতে হয়, সেখানে পশ্চিমের দেশে সেবা প্রার্থীর অসন্তুষ্টির ভয়ে যেন, আমলাকেই তটস্থ থাকতে হয়। এটি কি বিনয়, নাকি দায়িত্ব ও কর্তব্যের প্রতি সর্বোত্তম শ্রদ্ধাবোধের বহিঃপ্রকাশ?

পাসপোর্ট, ভিসা আর ল্যান্ডিং পেপার ছাড়া সিন কার্ডের আবেদনের সুযোগ নেই। তাই প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টসগুলো অফিসারের সামনে উপস্থাপন করি। অনলাইনে কিছুক্ষণ পরীক্ষা নীরিক্ষার পর আমার ডকুমেন্টস এ মারাত্মক এক ভ্রান্তি আবিস্কৃত হলো। একাডেমিক সার্টিফিকেট, জন্ম নিবন্ধন,পাসপোর্ট সহ সকল ডকুমেন্টস এ নামের সাথে, ল্যান্ডিং পেপারে নামের একটি অংশের মিল নেই!! এটি মোটেও কোন ছোটখাটো ভূল নয়, পাসপোর্ট আর ল্যান্ডিং পেপারের এমন অমিল নিয়ে আমি কিভাবে কানাডায় অবতরণ করলাম সেটিই প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে যায়! সার নেম (Surname), ফ্যামিলি নেম (Family Name), লাস্ট নেম ( last Name) তিনটিই সমার্থক, গিভেন নেম (Given Name), আর ফার্স্ট নেম ( First Name) সমার্থক। আমার ল্যান্ডিং পেপারে নামটি পুরোপুরি পাল্টে যায় অর্থাৎ লাস্ট নেমটি ফার্স্ট নেম হয়ে যায়। এটি সংশোধনের জন্য ফেডারেল সরকারের ২০০৩ সালে আমার জমা দেয়া প্রাথমিক আবেদনসহ সবকিছু পরীক্ষা নীরিক্ষা করে তারপর সিন কার্ডের আবেদন করতে হবে। অফিসার বিনয়ের সাথে আমাকে অপেক্ষা করতে অনুরোধ করলেন।

এদেশে যে কোন সরকারি, বেসরকারি অফিসে সেবা প্রার্থীর কাজের ধরন ভেদে এপয়েন্টমেন্ট এর একটি টাইম ব্লক থাকে। আমার ক্ষেত্রে টাইম ব্লকটি দীর্ঘায়িত হওয়া ছাড়া যে উপায় নেই, সেটি বুঝতে বাকী থাকে না। জটিল সমস্যাটির সমাধান হবে, সে প্রত্যাশায় বসে আছি, আর তথ্যানুসন্ধানের ফাঁকে ফাঁকে অফিসার আমার সংগে কথাও বলছেন। কিছুক্ষণের মধ্যেই আবিস্কৃত হলো, ভুলটি আমারই ছিল। মোট ছয়ত্রিশ পৃষ্ঠার পাঁচটি আলাদা আলাদা প্রাথমিক আবেদন ফরমের কোন একটিতে আমি সার নেম (Surname) এর জন্য নির্ধারিত স্থানে 'মাহমুদ' লিখেছিলাম কিন্ত ফ্যামিলি নেম ও লাস্ট নেম এর ঘরে 'হাসান' লিখেছি। তাই ল্যান্ডিং পেপারে আমার লাস্ট নেম টি ফার্স্ট নেম হয়ে যায়। বুঝতে পারি বিভ্রাটটি জ্ঞানের, অসাবধানতা নয় অজ্ঞতার।

আজকালের মতো ২০০৩ সালে আমার দেশে তথ্যের অবাধ প্রবাহ ছিলো না। সীমাবদ্ধ ইন্টারনেট সর্বসাধারণের জন্য উম্মুক্ত ছিলো না, চাইলেই গুগলের আশ্রয় নিয়ে সংশয় দূর করার পদ্ধতিও ছিল না। আমি সেদিন সারনেম (Surname) বলতে হয়তো বা আমার মূল নামটিকেই বুঝেছিলাম। সারনেম, ফ্যামিলি নেম, আর লাস্ট নেম সমার্থক, আর এটি যে এদেশের সংস্কৃতিতে কত গুরুত্বপূর্ণ বাংলার মাটিতে বসে এটি অনুধাবণের সুযোগ নেই। লাস্ট নেম শুধুমাত্র নামের শেষাংশ নয়, পশ্চিমা সংস্কৃতিতে এটি পরিবার তথা বংশানুক্রমিক ধারাবাহিকতার অকাট্য দলিল, এর ব্যতিক্রম নানা সংশয়, সন্দেহ আর অবিশ্বাসের জন্ম দেয়। আমার প্রিয় দেশের সমাজ সংস্কৃতিতে করিম হুসেনের সন্তান ফজলে আলী হয়ে যায়, আবার শিক্ষিত ফজলে আলীর সন্তান আধুনিকতার ছোঁয়ায় ফাহিম ফজলে হয়ে যায়। এমন অদ্ভুত পরিবর্তনগুলো কিভাবে বাঙালি সংস্কৃতির অংশ হলো, পশ্চিমা সংস্কৃতির পরিবেশে সেটি ভাবনার বিষয় হয়ে দাঁড়ায়।

অর্ধ ঘন্টার এপয়েন্টমেন্ট ব্লক শেষ হতে দেড় ঘন্টা লাগে। ফেডারেল ডাটাবেজে ভ্রম সংশোধনের মাধ্যমে আমার সিন কার্ডের আবেদনটিও শেষ হলো। কার্ডটি ডাকযোগে আমার ঠিকানায় পৌঁছাতে এক সপ্তাহ সময় লাগবে, তাই সিন নম্বর সংবলিত একটি ছাপানো কাগজ ধরিয়ে দেয়া হলো। এবার ছেলের পালা। সন্তানের লাস্ট নেম ভিন্ন কেন? সংস্কৃতির অংশ। তোমারটি নয় কেন? জাতীয় সংস্কৃতিতে কোন বাধ্যবাধকতা নেই। অফিসার মুচকি হেসে কাজ শুরু করলেন। ডকুমেন্টস এ কোন গড়মিল না থাকায় দশ মিনিটেই কাজ শেষ। কর্তা মহোদয় চেয়ার থেকে উঠে অভ্যর্থনা কক্ষ অবধি এসে 'হেভ এ নাইস ডে' বলে বিদায় জানালেন।

সার্ভিস কানাডা থেকে বেরিয়ে মার্টিনডেলের বাসায় ফিরছি। মনে মাতৃভূমির স্মৃতি। ১৯৮৩ সালের কথা, এসএসসির মার্কশীটে মাহমুদ নামে 'ম' এর সাথে আকার নেই। সংশোধনের জন্য শিক্ষা বোর্ডে যেতে হবে। দুই দিনের মামলা, সাথে অর্থ কড়ির প্রশ্ন। এলাকার এক বড় ভাই ভিক্টোরিয়া কলেজের ছাত্র। তিন’শ টাকা যোগাড় করে একদিন তার সংগে কুমিল্লা যাই। রাতে তার মেসে থেকে পরদিন তাকে সংগে নিয়ে শিক্ষা বোর্ডে যাই। দফতরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা জানালেন, পঁচাত্তর টাকা আবেদন ফি, পত্রিকায় নাম সংশোধনের বিজ্ঞাপন আর প্রথম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক বিজ্ঞাপনের কপি সত্যায়িত করে আবেদনের সাথে জমা দিতে হবে। আমার নয়, ভূলটি ছিল করণিক। তবুও নানা হয়রানি, অর্থ আর সময় দিয়ে প্রায়শ্চিত্তটি আমাকেই করতে হয়েছিল। সেই ঘটনার সাথে আজকের ঘটনাটি তুলনা করলে, প্রিয় সমাজটির জন্য করুণা ছাড়া কিই বা থাকতে পারে? নতুন কর্মস্থলের অপেক্ষায় হ্রদয় মনে এক অজানা শিহরণ কাজ করছে। আর মাত্র কয়েক ঘণ্টা পরই নতুন অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হতে যাচ্ছি!!
 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন