কর্মচারীদের পক্ষে আন্দোলনে ছাত্রত্ব বাতিল করেছিল ঢাবি, দমে যাননি বঙ্গবন্ধু
jugantor
ঢাবির রাজনীতি নিয়ে বই ‘অসমাপ্ত ছাত্রজীবন’
কর্মচারীদের পক্ষে আন্দোলনে ছাত্রত্ব বাতিল করেছিল ঢাবি, দমে যাননি বঙ্গবন্ধু

  যুগান্তর রিপোর্ট  

২৭ অক্টোবর ২০২০, ২০:৫৭:৪৯  |  অনলাইন সংস্করণ

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী মুজিববর্ষ উপলক্ষে তাকে নিয়ে প্রকাশিত হয়েছে ‘অসমাপ্ত ছাত্রজীবন’ গ্রন্থটি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের ছাত্র থাকাকালীন বঙ্গবন্ধুর বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনকে ভিত্তি করে অনেক অজানা তথ্যে রচিত হয়েছে বইটি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের ছাত্র শরিফুল ইসলাম শুভ বইটি লিখেছেন। তিনি আইন অনুষদ শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি ছিলেন।

বইয়ের বিষয়বস্তু তুলে ধরে শুভ বলেন, বইটিতে বঙ্গবন্ধুর স্মৃতি বিজড়িত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আইন বিভাগে অধ্যয়নকালীন ছাত্ররাজনীতির ঘটনাবলি লিপিবদ্ধ রয়েছে। বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে অনেক গান, কবিতা, ছড়া ও প্রবন্ধ লেখা হয়েছে এবং হচ্ছে। এমনকি গবেষণাও হয়েছে। বঙ্গবন্ধুর ছাত্রজীবন ছিল বর্ণাঢ্য স্বপ্নময়। এখানে পরিশীলিত পরিসরে তাই ফুটিয়ে তোলার প্রয়াস চালানো হয়েছে। বইটি নতুন প্রজন্মকে বঙ্গবন্ধু সম্পর্কে আরও জানতে ও তাকে বুঝতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

তিনি বলেন, ছাত্রজীবনের শুরুতেই শারীরিক অসুস্থতার কারণে মোট চার বছর পড়াশোনা ব্যহত হয় বঙ্গবন্ধুর। ১৯৩৪ সালে সপ্তম শ্রেণিতে পড়ার সময় তার চোখ বেরিবেরি রোগে আক্রান্ত হয়। এতে তার হার্ট দুর্বল হয়ে পড়ে। চোখের চিকিৎসার জন্য কলকাতা নেয়া হয়। এই অসুখে তার দুই বছর শিক্ষাজীবন নষ্ট হয়। ১৯৩৬ সালে আবারও বঙ্গবন্ধুর চোখে গ্লুকোমা রোগ হয়। এবারও তাকে চিকিৎসা জন্য কলকাতা নিয়ে যাওয়া হয়। ছাত্রজীবনের শুরুতে এভাবেই তিনি বিভিন্ন বাধার সম্মুখীন হন। বঙ্গবন্ধু শিক্ষার জন্য এন্ট্রান্স পাস করার পরে কলকাতা চলে যান। সেখানে ইসলামি কলেজে ভর্তি হন। সেখানে পড়ার সময় ১৯৪৩ সালে নিখিল ভারত মুসলিম ছাত্রলীগের কাউন্সিলর নির্বাচিত হন। ১৯৪৬ সালে ইসলামিয়া কলেজ ছাত্র সংসদ নির্বাচনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। এভাবে ছাত্রজীবন থেকেই তার রাজনৈতিক সফলতার গল্প রচিত হতে থাকে।

শুভ বলেন, ১৯৪৭ সালে বঙ্গবন্ধু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগে ভর্তি হন। তার বাবার ইচ্ছা ছিল ছেলেকে আইনজীবী বানাবেন। সম্ভবত এ জন্যই তিনি আইন বিভাগে ভর্তি হন। এই সময়ে তিনি আরও গভীরভাবে রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়ে পড়েন। অনেক জেল-জুলুম এবং নির্যাতনের মধ্যেও তিনি রাজনীতিতে অটল ছিলেন। নেতা হওয়া কিংবা সুনাম অর্জনের জন্য তিনি রাজনীতি করেননি। রাজনীতি করেছেন দেশের সাধারণ খেটে-খাওয়া মানুষদের ভাগ্যের পরিবর্তনের জন্য। পাকিস্তান সরকার যখন উর্দুকে রাষ্ট্রভাষা করার জন্যে উঠেপড়ে লেগেছিল তখন বঙ্গবন্ধুসহ সব ছাত্র কঠোর প্রতিবাদ গড়ে তোলেন। কিন্তু পাকিস্তান সরকার তা সহ্য করতে পারেনি। তারা বঙ্গবন্ধুসহ বহু ছাত্রনেতাকে কারাবরণে বাধ্য করে। এই ঘটনা ঘটে ১৯৪৮ সালে। তারপর থেকে এদেশের ছাত্রসমাজ বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার প্রশ্নে বিন্দু পরিমাণ ছাড় দেয়নি।

শুভ আরও বলেন, বঙ্গবন্ধু ১৯৪৯ সালে যখন আইন বিভাগের ২য় বর্ষের ছাত্র তখন তার ছাত্রজীবনের সবচেয়ে স্মরণীয় ঘটনাটি ঘটে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিম্ন বেতনভোগী কর্মচারীদের মধ্যে দাবি-দাওয়া নিয়ে অসন্তোষ দেখা দেয়। এটি নিয়ে তাদের মধ্যে আন্দোলনের তোড়জোড় শুরু হয়। এক পর্যায়ে তারা ধর্মঘটে চলে যান। বঙ্গবন্ধুসহ বেশ কয়েকজন ছাত্রনেতাও কর্মচারীদের এই ধর্মঘটের সমর্থনে এগিয়ে আসেন। ছাত্রদের সহযোগিতা ও সমর্থন কর্মচারীদের মধ্যে বিশাল সাহস জোগায়। ছাত্রনেতাদের নেতৃত্বে ও পরিচালনায় কর্মচারীদের আন্দোলন তদানিন্তন পূর্ব পাকিস্তান সরকার এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের জন্য এক বিরাট চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়। এতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বঙ্গবন্ধুসহ ২৭ জন ছাত্রছাত্রীর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করে। বঙ্গবন্ধুকে জরিমানা ও মুচলেকা দেয়ার শর্তে তার ছাত্রত্ব ফিরিয়ে দেয়ার প্রস্তাব করা হয়। কিন্তু মুচলেকা দিয়ে এই শাস্তি থেকে রেহাই পেয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র থাকা শেখ মুজিবের কাছে মর্যাদাপূর্ণ মনে হয়নি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ২০১০ সালের ১৪ আগস্ট এক সিন্ডিকেট সভায় সিদ্ধান্ত নিয়ে বঙ্গবন্ধুর ছাত্রত্ব কেড়ে নেয়ার তৎকালীন সিদ্ধান্তটি বাতিল করেছে।

উল্লেখ্য, জামালপুর সদর উপজেলায় তুলশীরচর ইউনিয়নের হনুমানের চর গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন শরিফুল হাসান শুভ। মো. আবদুল রাজ্জাক এবং মা হামিদা বেগম দম্পতির ছেলে শুভ ব্রহ্মপুত্রের কোলেই সাঁতার কেটে কাটান তার শৈশব-কৈশোর। বঙ্গবন্ধুর স্মৃতি বিজড়িত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আইন বিভাগ থেকে সফলতার সঙ্গে এলএলবি অনার্স ও এলএলএম মাস্টার্স পাশ করেন। তিনি ছোটবেলা থেকেই বঙ্গবন্ধুর প্রতি অগাধ ভালোবাসা তাকে এই লেখার রসদ জুগিয়েছে।

ঢাবির রাজনীতি নিয়ে বই ‘অসমাপ্ত ছাত্রজীবন’

কর্মচারীদের পক্ষে আন্দোলনে ছাত্রত্ব বাতিল করেছিল ঢাবি, দমে যাননি বঙ্গবন্ধু

 যুগান্তর রিপোর্ট 
২৭ অক্টোবর ২০২০, ০৮:৫৭ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী মুজিববর্ষ উপলক্ষে তাকে নিয়ে প্রকাশিত হয়েছে ‘অসমাপ্ত ছাত্রজীবন’ গ্রন্থটি।  ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের ছাত্র থাকাকালীন বঙ্গবন্ধুর বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনকে ভিত্তি করে অনেক অজানা তথ্যে রচিত হয়েছে বইটি।  ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের ছাত্র শরিফুল ইসলাম শুভ বইটি লিখেছেন।  তিনি আইন অনুষদ শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি ছিলেন।

বইয়ের বিষয়বস্তু তুলে ধরে শুভ বলেন, বইটিতে বঙ্গবন্ধুর স্মৃতি বিজড়িত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আইন বিভাগে অধ্যয়নকালীন ছাত্ররাজনীতির ঘটনাবলি লিপিবদ্ধ রয়েছে। বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে অনেক গান, কবিতা, ছড়া ও প্রবন্ধ লেখা হয়েছে এবং হচ্ছে।  এমনকি গবেষণাও হয়েছে।  বঙ্গবন্ধুর ছাত্রজীবন ছিল বর্ণাঢ্য স্বপ্নময়।  এখানে পরিশীলিত পরিসরে তাই ফুটিয়ে তোলার প্রয়াস চালানো হয়েছে।  বইটি নতুন প্রজন্মকে বঙ্গবন্ধু সম্পর্কে আরও জানতে ও তাকে বুঝতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। 

তিনি বলেন, ছাত্রজীবনের শুরুতেই শারীরিক অসুস্থতার কারণে মোট চার বছর পড়াশোনা ব্যহত হয় বঙ্গবন্ধুর। ১৯৩৪ সালে সপ্তম শ্রেণিতে পড়ার সময় তার চোখ বেরিবেরি রোগে আক্রান্ত হয়।  এতে তার হার্ট দুর্বল হয়ে পড়ে।  চোখের চিকিৎসার জন্য কলকাতা নেয়া হয়।  এই অসুখে তার দুই বছর শিক্ষাজীবন নষ্ট হয়।  ১৯৩৬ সালে আবারও বঙ্গবন্ধুর চোখে গ্লুকোমা রোগ হয়।  এবারও তাকে চিকিৎসা জন্য কলকাতা নিয়ে যাওয়া হয়।  ছাত্রজীবনের শুরুতে এভাবেই তিনি বিভিন্ন বাধার সম্মুখীন হন। বঙ্গবন্ধু শিক্ষার জন্য এন্ট্রান্স পাস করার পরে কলকাতা চলে যান।  সেখানে ইসলামি কলেজে ভর্তি হন।  সেখানে পড়ার সময় ১৯৪৩ সালে নিখিল ভারত মুসলিম ছাত্রলীগের কাউন্সিলর নির্বাচিত হন।  ১৯৪৬ সালে ইসলামিয়া কলেজ ছাত্র সংসদ নির্বাচনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন।  এভাবে ছাত্রজীবন থেকেই তার রাজনৈতিক সফলতার গল্প রচিত হতে থাকে।

শুভ বলেন, ১৯৪৭ সালে বঙ্গবন্ধু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগে ভর্তি হন।  তার বাবার ইচ্ছা ছিল ছেলেকে আইনজীবী বানাবেন।  সম্ভবত এ জন্যই তিনি আইন বিভাগে ভর্তি হন।  এই সময়ে তিনি আরও গভীরভাবে রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়ে পড়েন।  অনেক জেল-জুলুম এবং নির্যাতনের মধ্যেও তিনি রাজনীতিতে অটল ছিলেন।  নেতা হওয়া কিংবা সুনাম অর্জনের জন্য তিনি রাজনীতি করেননি।  রাজনীতি করেছেন দেশের সাধারণ খেটে-খাওয়া মানুষদের ভাগ্যের পরিবর্তনের জন্য।  পাকিস্তান সরকার যখন উর্দুকে রাষ্ট্রভাষা করার জন্যে উঠেপড়ে লেগেছিল তখন বঙ্গবন্ধুসহ সব ছাত্র কঠোর প্রতিবাদ গড়ে তোলেন। কিন্তু পাকিস্তান সরকার তা সহ্য করতে পারেনি।  তারা বঙ্গবন্ধুসহ বহু ছাত্রনেতাকে কারাবরণে বাধ্য করে।  এই ঘটনা ঘটে ১৯৪৮ সালে।  তারপর থেকে এদেশের ছাত্রসমাজ বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার প্রশ্নে বিন্দু পরিমাণ ছাড় দেয়নি।

শুভ আরও বলেন, বঙ্গবন্ধু ১৯৪৯ সালে যখন আইন বিভাগের ২য় বর্ষের ছাত্র তখন তার ছাত্রজীবনের সবচেয়ে স্মরণীয় ঘটনাটি ঘটে।  ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিম্ন বেতনভোগী কর্মচারীদের মধ্যে দাবি-দাওয়া নিয়ে অসন্তোষ দেখা দেয়।  এটি নিয়ে তাদের মধ্যে আন্দোলনের তোড়জোড় শুরু হয়।  এক পর্যায়ে তারা ধর্মঘটে চলে যান।  বঙ্গবন্ধুসহ বেশ কয়েকজন ছাত্রনেতাও কর্মচারীদের এই ধর্মঘটের সমর্থনে এগিয়ে আসেন।  ছাত্রদের সহযোগিতা ও সমর্থন কর্মচারীদের মধ্যে বিশাল সাহস জোগায়।  ছাত্রনেতাদের নেতৃত্বে ও পরিচালনায় কর্মচারীদের আন্দোলন তদানিন্তন পূর্ব পাকিস্তান সরকার এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের জন্য এক বিরাট চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়।  এতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বঙ্গবন্ধুসহ ২৭ জন ছাত্রছাত্রীর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করে।  বঙ্গবন্ধুকে জরিমানা ও মুচলেকা দেয়ার শর্তে তার ছাত্রত্ব ফিরিয়ে দেয়ার প্রস্তাব করা হয়।  কিন্তু মুচলেকা দিয়ে এই শাস্তি থেকে রেহাই পেয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র থাকা শেখ মুজিবের কাছে মর্যাদাপূর্ণ মনে হয়নি।  ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ২০১০ সালের ১৪ আগস্ট এক সিন্ডিকেট সভায় সিদ্ধান্ত নিয়ে বঙ্গবন্ধুর ছাত্রত্ব কেড়ে নেয়ার তৎকালীন সিদ্ধান্তটি বাতিল করেছে।

উল্লেখ্য, জামালপুর সদর উপজেলায় তুলশীরচর ইউনিয়নের হনুমানের চর গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন শরিফুল হাসান শুভ।  মো. আবদুল রাজ্জাক এবং মা হামিদা বেগম দম্পতির ছেলে শুভ ব্রহ্মপুত্রের কোলেই সাঁতার কেটে কাটান তার শৈশব-কৈশোর। বঙ্গবন্ধুর স্মৃতি বিজড়িত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আইন বিভাগ থেকে সফলতার সঙ্গে এলএলবি অনার্স ও এলএলএম মাস্টার্স পাশ করেন।  তিনি ছোটবেলা থেকেই বঙ্গবন্ধুর প্রতি অগাধ ভালোবাসা তাকে এই লেখার রসদ জুগিয়েছে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন