লাশের সঙ্গে, কবরের পাশে....

  আল-মামুন ০১ মে ২০১৮, ১১:৫১ | অনলাইন সংস্করণ

মে দিবস

এমন অনেকে আছেন যারা, সামান্য রক্ত দেখলেও ভড়কে যান। অনেকে আবার রক্ত দেখেই সংজ্ঞাহীন হয়ে পড়েন। মৃত্যুর কথা আর নাই বললাম। চোখের সামনে কারো মৃত্যু অথবা মৃত ব্যক্তির লাশ দেখলেও অনেকে জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। কিন্তু যাদের কাজ মৃত ব্যক্তিদের নিয়ে, যারা দিনের পর দিন মৃত ব্যক্তির দাফন-কাফনে ব্যস্ত। আর এটাই যদি হয় তাদের রুটিরুজির মাধ্যম তাহলে বিষয়টা কেমন হয়। তেমনই কিছু দিনমজুর মানুষের গল্প তুলে ধরা হলো, শ্রমিক দিবসকে কেন্দ্র করে। যে গল্পগুলো এবং গল্পের মানুষের সাক্ষাৎকার নিয়েছেন যুগান্তরের রিপোর্টার আল-মামুন

যুগান্তর: আপনার নাম?

গোলাম রব্বানী: গোলাম রব্বানী।

গ্রামের বাড়ি: চাঁদপুর

যুগান্তর: রায়ের বাজার বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে কত দিন ধরে কবর খোঁড়ার কাজ করে যাচ্ছেন?

গোলাম রব্বানী: দুই বছর।

যুগান্তর: এই দুই বছরে এমন কি কোনো ঘটনা আপনার মনে পড়ে যা, আপনাকে তাড়িয়ে তোলে? গোলাম রব্বানী: এখানে তো বেদনারই জিনিস। হাসির কোনো কিছু নেই। এখানে কেউ হাসার জন্য আসে না। কারও আত্মীয় মারা গেছে তখন আসে।

যুগান্তর: কারো আত্মীয় মারা যাওয়ার পর, সে মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে। আবার এমন অনেকে আছেন যারা মৃত মানুষ দেখে মারাও যান। সেই জায়গা থেকে আপনি নিজেকে কতটা সাহস জোগাতে পারেন?

গোলাম রব্বানী: আসলে আমরা মানুষের সেবা করতে আসছি। আল্লাহপাক আমাদের সেই সাহস দিয়েছেন। সেই শক্তি আমাদের আছে। যার কারণে আমরা এই কাজ সাহসিকতার সঙ্গেই করতে পারি। আমরাও আবেগপ্রবণ হই। মানুষের কান্না দেখলে আমারও কান্না আসে। কিন্তু মানুষের সেবা তো আমাদের করতে হবে। আল্লাহরই একটা হুকুম ধৈর্যের সঙ্গে সেবা করতে পারছি।

যুগান্তর: দিনে আপনাদের কত ঘণ্টা দায়িত্বপালন করতে হয়?

গোলাম রব্বানী: এখানে আসলে ভোর ৬টা থেকে কাজ শুরু হয়ে রাত ১১টা পর্যন্ত চলে। আমাদের ৮ ঘণ্টা ডিউটি পালন করতে হয়। হয়তো কোনো সপ্তাহে সকালে করলাম। আবার কোনো সপ্তাহে বিকালে। এভাবেই আমাদের কাজ চলে।

যুগান্তর: আপনারা কি পরিশ্রম অনুযায়ী পারিশ্রমিক পান?

গোলাম রব্বানী: যা পাই তা দিয়ে চলে, আমাদের অফিসিয়ালি কোনো বেতন-ভাতা নেই। আমরা সমাজসেবায় নিয়োজিত। মানুষ খুশি হয়ে আমাদের যা দেয় তা দিয়েই চলে। তাতেই আমরা খুশি। আমাদের তেমন কোনো চাহিদা নেই।

যুগান্তর: আপনার নাম কী?

আলী আজগর

যুগান্তর: আপনি এখানে কত দিন আছেন?

আলী আজগর: দুই বছর হলো।

যুগান্তর: আপনার গ্রামের বাড়ি কোথায়?

আলী আজগর: শরীয়তপুর।

যুগান্তর: মানুষ মরে যাওয়ার পর নিজ হাতে কবর খোঁড়া, আপনার কি কখনও অনুভূতি হয় না যে আমাকেও একদিন মরে যেতে হবে?

আলী আজগর: অবশ্যই। মরার কথা তো স্মরণ হয়ই। তবে আমরা এখানে কবর খুঁড়ি, সহীহ-সুন্নতভাবে খুঁড়ি। আমরা যে মারা যাব সেই কথাটাও চিন্তা করি। এখানে আঞ্জুমানেরও লাশ আসছে (বেওয়ারিশ লাশ) যেগুলো এত দুর্গন্ধ, যা দাফনের মতো না। সেগুলোও আমরা আমাদের নিজ হাতে দাফন করি। আমরাও তো মানুষ। মানুষের সেবার জন্যই আমরা আসছি। আমার বাবাও মারা গেছে, মাও মারা গেছে। একসময় আমিও থাকব না (কান্না)। কেউই থাকব না। থাকবে শুধু কথা। সেবার জন্য আসছি। এ জন্য কেউ যদি হাদিয়া হিসেবে কিছু দেয়, দেবে। না দিলে কোনো দায়দাবি নেই। আমাদের রায়ের বাজার কবরস্থান, আপনাদের সবার জন্য উন্মুক্ত।

যুগান্তর: আপনার নাম কি?

আমার নাম মো. সাইফুল ইসলাম।

যুগান্তর: আপনার গ্রামের বাড়ি কোথায়?

সাইফুল ইসলাম : আমার গ্রামের বাড়ি নেত্রকোনায়।

যুগান্তর: কত দিন হলো আপনি এই কবর খোঁড়ার দায়িত্বে আছেন?

সাইফুল ইসলাম: দেড় মাস হলো।

যুগান্তর: দেড় মাসের অভিজ্ঞতায় আপনার কেমন লাগছে। কবর খোঁড়ার কাজ করতে?

সাইফুল ইসলাম: দেড় মাসে আর কি বোঝা যায়।

যুগান্তর: দেড় মাসে কতগুলো কবর খুঁড়লেন?

সাইফুল ইসলাম: প্রায় ৫০টা।

যুগান্তর: কবর খুঁড়তে গেলে ভয় হয় না?

সাইফুল ইসলাম: না ভয় পাওয়ার তো কিছু নেই।

ঘটনাপ্রবাহ : মে দিবস ২০১৮

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter