‘কাজ বলতে কোনো ঘৃণা নেই’

প্রকাশ : ০১ মে ২০১৮, ১২:০৭ | অনলাইন সংস্করণ

  আল-মামুন

রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন জায়গায় পরিচ্ছন্ন শৌচাগারের ব্যবস্থা করেছে সিটি কর্পোরেশন। প্রতিনিয়ত শত শত মানুষ এসব শৌচাগার ব্যবহার করলেও নিয়মিত পরিচর্যায় তা অনেক বাসাবাড়ির বাথরুমের চেয়েও পরিচ্ছন্ন।  

এসব শৌচাগারগুলোতে কর্মরত আছেন আমাদের মতো কিছু মানুষ। যারা এই চাকরিটাকে এনজয় করেন। রাজধানীর মোহাম্মদপুরের বাসস্ট্যান্ডের পাশেই রয়েছে একটি শৌচাগার। যেখানে কর্মরত আছেন কয়েকজন নারী-পুরুষ। যুগান্তরের সঙ্গে আলাপে এই শ্রমিকরা জানান তাদের নানা বিষয়-

যুগান্তর: আপনার নাম কী?

আমার নাম সুমি

যুগান্তর: আপনার গ্রামের বাড়ি?

সুমি: আমরা ঢাকার স্থানীয়। রায়ের বাজারে আমাদের বাড়ি। 

যুগান্তর: কত দিন হলো এখানে কর্মরত আছেন?

সুমি: চার মাস হলো এটা চালু হয়েছে। শুরু থেকেই আছি। 

যুগান্তর: প্রতিদিন কত ঘণ্টা আপনাদের কাজ করতে হয়?

সুমি: ৮ ঘণ্টা আমাদের কাজ করতে হয়। আমরা দুই শিফটে কাজ করি। সকালে তিনজন, বিকালে ৩ জন। আর একজনের ছুটি থাকে। ক্লিনার কেয়ারের হেড অফিস থেকে আমাদের সম্মানি দেয়া হয়। আমাদের এ রকম নয়টা প্রজেক্ট আছে। আমি এখানে ক্যাশিয়ার পোস্টে আছি। 

যুগান্তর: এমন অনেকে আছেন, যাদের কাছে টাকা থাকে না। অথচ তার শৌচাগার ব্যবহার করা খুবই প্রয়োজন। তখন আপনারা কী করেন?

সুমি: আসলে বিনা পয়সায় শৌচাগার ব্যবহারের নিয়ম নেই। তবে টাকা না থাকলে মানবিক দিক বিবেচনায় তাদের ব্যবহারের অনুমতি দেয়া হয়। পরিস্থিতির শিকার হলে এছাড়া উপায় কি। 

যুগান্তর: অনেক সময় শৌচাগার ব্যবহার করে পর্যাপ্ত পানি না ঢেলে চলে গেলেন। যাতে করে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে গেল। তখন আপনাদের জন্য কাজটা কঠিন হয়ে যায় না?

সুমি: আসলে এমন অনেক দিনই হয়। তবে আমরা এটাকে মানবসেবা হিসেবে নেই। বিরক্তির কোনো কারণ নেই। আমরা ভালোভাবে পরিষ্কার করে মেডিসিন দিয়ে দেই। 

যুগান্তর: শৌচাগার ব্যবহারে কত টাকা করে নেয়া হয়?

সুমি: কেউ যদি বাথরুম ব্যবহার করে তাহলে তাকে ৫ টাকা করে দিতে হয়। আর গোসল করলে ১০ টাকা করে নেয়া হয়। এটা ১৬ ঘণ্টা খোলা থাকে। সকাল ৬টা থেকে রাত ১০ পর্যন্ত। 

যুগান্তর: আপনার কি নাম? মনোয়ারা

যুগান্তর: আপনার গ্রামের বাড়ি কোথায়?
মনোয়ারা: কিশোরগঞ্জ।

যুগান্তর: ঢাকায় কোথায় থাকেন?

মনোয়ারা: ধানমণ্ডি শংকরে আমার বাসা। 

যুগান্তর: আপনার কয় ছেলেমেয়ে?
মনোয়ারা: আমার দুই ছেলেমেয়ে।

যুগান্তর: আপনার স্বামী কী করেন?

মনোয়ারা: উনি মারা গেছেন।

যুগান্তর: এই চাকরির টাকা দিয়ে আপনার সংসার চলে?

মনোয়ারা: হ্যা, ভালোভাবেই চলে। আমি ভালো আছি।

যুগান্তর: এমন হয় না যে,  কেউ একজন শৌচাগার ব্যবহার করে পর্যাপ্ত পানি না ঢেলে চলে গেলেন। যাতে করে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে গেল। তখন আপনাদের জন্য কাজটা কঠিন হয়ে যায় না?

মনোয়ারা: না, কষ্ট হয় না। আমরা পরিষ্কার করে দেই। 

যুগান্তর: আপনার কি নাম?
আতাউর রহমান

যুগান্তর: আপনার গ্রামের বাড়ি কোথায়?

আতাউর রহমান: ‍উত্তরবঙ্গে 

যুগান্তর: আপনি কত দিন এখানে আছেন?
আতাউর রহমান: তিন মাস এখানে আছি।

যুগান্তর: আগে আপনি কী করতেন?

আতাউর রহমান: ড্রাইভিং করতাম।

যুগান্তর: ড্রাইভিং ছেড়ে এখানে এলেন? আপনার কি মনে হয়, আগের চেয়ে বেশ ভালো আছেন।
আতাউর রহমান: হ্যাঁ ভালো আছি। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ড্রাইভিং করার চেয়ে এটা করা অনেক ভালো। 

যুগান্তর: অনেক সময় শৌচাগার ব্যবহার করে পর্যাপ্ত পানি না ঢেলে চলে গেলে। যাতে করে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে গেল। তখন আপনাদের জন্য কাজটা কঠিন হয়ে যায় না?

আতাউর রহমান: না, কোনো কষ্ট নেই। কাজ বলতে কোনো ঘৃণা নেই।   


যুগান্তর: এই কাজটা আপনি কতটা ইনজয় করেন?

আতাউর রহমান: ভালো লাগে, আমার এই কাজে মানুষের উপকার হচ্ছে। অনেকে বলছে আপনাদের এখানের পরিবেশ ভালো লাগছে। এ কারণে অনেকে ধন্যবাদ দিচ্ছে।