মে দিবসে একজন শ্রমিকের সততার গল্প

প্রকাশ : ০১ মে ২০১৮, ১২:৩৬ | অনলাইন সংস্করণ

  হোসাইন এমরান

হাতিয়ার অজপাড়া চরইশশ্বর গায়ের সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্ম নেয়া অশিক্ষিত ভাগ্যবঞ্চিত তরুণ আনোয়ার। বাবা ছিলেন ওই বাজারের বড় কাপড় ব্যবসায়ী গোলাম কিবরিয়া সওদাগর। এক ভাই তিন বোন নিয়ে ছোট সংসার। ১৯৭০ সালে বাবা মারা যান। সংসারের প্রয়োজনে মাঠে হাল দিয়ে চাষ করতেন। মানুষ তিরস্কার করার কারণে আর জমিতে হাল দিতে যেতেন না। গ্রামের এক মাতুব্বরকে দেখলে সবাই ভয়ে লুকিয়ে যেতেন। কিন্তু একটি ছেলে লুকাত না। তাকে আদর করে ওই মাতুব্বর কাছে বসাতেন। সেই ছেলেটি ছিল এলাকার মোটরসাইকেলের একমাত্র মেকার। 

এটা দেখে প্রায়ই তরুণ আনোয়ারকে মনে মধ্যে তাড়না দিত, যদি আমিও মেকার হতে পারতাম। একসময় সে স্বপ্ন সত্যি হয় সেই আনোয়ারের। মিরপুরের পরিচিত মুখ, একজন ভালো মানুষ হিসেেব রয়েছে যার পরিচিতি।  সেই মানুষটি হলেন মিরপুর ১২ নম্বর সেকশনের পল্লবীর আনোয়ার মর্টরসের কর্ণধার মোস্তফা আনোয়ার। ৩৬ বছর ধরে জীবনের সঙ্গে সংগ্রাম করে হয়েছেন আনোয়ার সাহেব। এখন ২টি মোটরসাইকেলর  সার্ভিস সেন্টারসহ রয়েছে স্বনামধন্য কয়েকটি মোটরসাইকেল কোম্পানির পার্সের ডিলার। 

তবে আজকের আনোয়ার হতে জীবনে অনেক যুদ্ধ করতে হয়েছে তাকে।  আর মহান মে দিবসে আগে যুগান্তরের সঙ্গে কথা হয় সেই সর্বদা হাস্যোজ্জ্বল আনোয়ারের।  শোনালেন কী করে জীবনে বড় হয়েছেন। প্রথমে জানতে চাওয়া হয় মে দিবস সম্পর্কে। তিনি বলেন, শুনেছি এদিনে শ্রমিকদের দাবি নিয়ে মিছিল করাতে বিদেশে পুলিশ গুলি করেছে। অনেক শ্রমিক মারা গেছেন। তাই এ বিসটি আমিও পালন করি। এদিনে আমার ছেলেদেরকেও (স্টাফ)  ছুটি দেই। 

: আপনার জীবনের বড় হওয়ার গল্প বলেন, তিনি একটু হেসে বলেন, আমার জীবনে সততাই আমাকে বড় করেছে। আমি সেই গায়ের আনোয়ার থেকে আজ মোস্তফা আনোয়ার। আমার স্বপ্ন ছিল বড় হওয়ার। 
আমি ১৯৮২ সালে আমার এক দুলাভাইয়ের সহযোগিতায় প্রথমে ঢাকার মিরপুরে আসি। থাকতাম তার বাসায়। প্রথমে রিকশা-সাইকেলরে কাজ করতাম। এ পেশা আমার বেশি নি ভালো লাগে নাই। আস্তে আস্তে বিভিন্ন মোটরসাইকেলের গ্যা রেেজ কাজ করি। ওই সময়ে আমি প্রতিদিন মিরপুর ১২ থেকে মিরপুর ১০ হেঁটে যেতাম কাজ শেখার জন্য। এভাবে ১৪ বছর বিভিন্ন গ্যারেজে কাজ করে ১৯৯৬ সালে মিরপুর ১২ তে মোটরসাইকেলের গ্যারেজ দেই।  আমার জীবনে ছিল শুধুই সততা। এটাই আমার মূলধন ছিল।  আজ ২২ বছর পরে আমার দুটি গ্যারেজ হয়েছে। আমার গ্যারেজে ১০ জন কাজ করে। আমি প্রতিষ্ঠিত তিনটি কোম্পানির পার্সের ডিলার। আমার ৩ ছেলে রয়েছে। বড় ছেলে টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পড়ে মেঝ ছেলে ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে এইচএসসি পরীক্ষার্থী আর ছোট ছেলে ক্লাস ওয়ানে একটি প্রাইভেট স্কুলে পড়ে। ঢাকায় থাকি বাড়িতে যাওয়া হয় না। 

আপনার জীবনের কোনো খারাপ অভিজ্ঞতা আছে জানতে চাইলে তিনি একটু মুচকি হেসে দিয়ে বলেন, আমাকে কাজ করার সময় কেউ কষ্ট দেয় নাই। তবে আমিও কাউকে কষ্ট দেই না। এখানে যারা কাজ করে তারা আমার সন্তানের মতো। 
মহান মে দিবস উপলক্ষে শ্রমিকদের জন্য কিছু বলেন, হেসে দিয়ে বললেন সততা থাকলে সব কিছু করা সম্ভব। আমার জীবনের সবচেয়ে বড় অর্জন হলো সততা।  আজকের দিন (১ মে) থেকে প্রতিজ্ঞা নিন কাউকে ঠকাবেন না। তাহলে কোনো দিন আপনি ঠকবেন না। একদিন সফলতা আসবেই।  ধন্যবাদ আপনাকে। আপনাকেও ধন্যবাদ।