Logo
Logo
×
   

সুস্থ থাকুন

রোজায় পানির গুরুত্ব

Icon

আখতারুন নাহার আলো

প্রকাশ: ০৭ মার্চ ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

রোজায় পানির গুরুত্ব

রোজায় সারা দিন অনাহারে থাকার পর ইফতার (সন্ধ্যায়) ও সেহরির (রাতের) খাবারে অনেককে পানি কম পান করতে দেখা যায়। ফলে তাদের মধ্যে পানিস্বল্পতা বা ডিহাইড্রেশন দেখা যায়। এ ছাড়া এ সময় প্রস্রাবে সংক্রমণ, কোষ্ঠকাঠিন্য, বদহজম দেখা দিতে পারে। পানি দেহের স্থিতিস্থাপকতার জন্য প্রয়োজন। দেহে পানি আছে বলেই লালাগ্রন্থির জন্য আমরা খাবার গিলে খেতে পারি। এ ছাড়া শ্লেষ্মা ক্ষরণের জন্য অন্ত্রনালি, শ্বাস-প্রশ্বাস, বিপাক ক্রিয়া এসবের জন্যও পানি প্রয়োজন। পানি সহজে খাবার হজম করে কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে। এ ছাড়া রক্তে অক্সিজেন সরবরাহ বজায় রাখে ও শরীর থেকে রাসায়নিক ও টক্সিন বের করে দেয়। এর অভাবে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া ব্যাহত হয়।

প্রোস্টেটের অসুস্থতা অনেকটা পানির অপর্যাপ্ততার জন্য হয়ে থাকে। যদি দেহে প্রয়োজনীয় পানি না থাকে, তাহলে কিডনিতে পাথরসহ নানা ধরনের সমস্যা হতে পারে। পানির অভাবে দেহের কোষে প্রোটিন ও চর্বি ক্রমাগত ভাঙতে থাকায় ত্বক, পেশি, স্নায়ুতন্ত্র প্রভৃতি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ফলে দেহের ওজন কমে যায়, ত্বক শুকিয়ে যায়। পানি উত্তম দ্রাবক বলে বহু অবাঞ্ছিত পদার্থ এতে দ্রবীভূত অবস্থায় থাকে। ফলে শরীর সহজেই রোগাক্রান্ত হয়ে পড়ে। আমাদের দেহের প্রায় ৭০ শতাংশই পানি। পানি গ্রহণ ও বর্জন এ দুইয়ের মধ্যে অবশ্যই সমতা থাকতে হবে। পানি গ্রহণের মাধ্যমে এর ভারসাম্য ঠিক থাকে। একে জলীয় সাম্য বলে।

যুগ যুগ ধরে ইফতারের প্রথম গ্রহণীয় উপাদান হিসাবে শরবতকে প্রাধান্য দেওয়া হয়। এটা বিভিন্ন দেশে বিভিন্নভাবে তৈরি করা হয়। যেমন-ইসবগুলের ভুসি, তোকমা, চিয়াসিড, টকদই, দুধ, খেজুর, বাদাম, ক্যারেট মিল্ক সেইক, ব্যানানা মিল্ক সেইক, লেবু, তরমুজ, তেঁতুল, আদা, পুদিনা, শসা, জাফরানি শরবত, চিড়ার লাচ্ছি, বিভিন্ন ফলের রস ইত্যাদি দিয়ে পানীয় তৈরি করা হয়। শরবত ছাড়াও পানির উপস্থিতি হিসাবে খাওয়া যেতে পারে-নরম খিচুড়ি, ভেজানো চিড়া, হালিম, পায়েস, ক্ষীর, দই বড়া, দুধ-সেমাই, দুধ-সুজি, পাতলা ডাল, দুধ, ঝোলসহ তরকারি, শসার রায়তা, ফালুদা, ফলের সালাদ ইত্যাদি।

রমজানে ডাবের পানিও ভালো পানীয়। এতে ক্যালোরি কম থাকে। পটাশিয়ামের জন্য প্রস্রাবের সংক্রমণ রোধ হয়। এটি ইলেকট্রোলাইট ও রক্তচাপ ঠিক রাখে। ডিটক্সফ্রিকশনেও সাহায্য করে। আমাদের শরীরের সব দূষিত উপাদান বের করে দেওয়ার জন্যই ডিটক্স পানির ব্যবহার। বিভিন্নভাবে ডিটক্স পানি তৈরি করা যায়। যেমন-আদা, লেবু, পুদিনা পাতা, শসা ভিজিয়ে রেখে ছেকে খেতে হবে। টকদই, পানি, জিরা, গোলমরিচ, লবণ ব্লেন্ড করেও খাওয়া যায়। শুধু জিরাপানিও ভালো ডিটক্স হিসাবে কাজ করে। হালকা গরম পানি পান করলেও ভালো ফল পাওয়া যায়।

তৃষ্ণা একটি শারীরিক প্রক্রিয়া। যা পানিস্বল্পতা নির্দেশ করে। পানি পান করা অনেকটা নির্ভর করে অভ্যাস ও চাহিদার ওপর। এ চাহিদার কথা চিন্তা করেই ইফতার থেকে সেহরি পর্যন্ত কিছুক্ষণ পরপর পানি পান করতে হবে। এমনকি তারাবির নামাজ আদায় করার সময় হাতের কাছে পানির গ্লাস বা বোতল রাখতে হবে। শরীরে পানির চাহিদা পূরণ হলে রোজা রাখায় কোনো সমস্যা হয় না। রোজার খাবার হবে জলীয়, হালকা মসলাযুক্ত, সহজপাচ্য ও সুষম।

লেখক : চিফ নিউট্রিশন অফিসার, পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টার, শ্যামলী ও অ্যাডভান্স হাসপাতাল, ঢাকা

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম