অ্যাপল নাকি স্যামসাং, কার ওয়ারেন্টি পরিকল্পনা সেরা?
আইটি ডেস্ক
প্রকাশ: ২৮ জুন ২০২৬, ০৪:০২ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
আজকের দিনে একটি ফ্ল্যাগশিপ বা প্রিমিয়াম স্মার্টফোন কেনা মানেই বড় অঙ্কের আর্থিক বিনিয়োগ। আর অসাবধানতাবশত এই ডিভাইসগুলোর কোনো ক্ষতি হলে, তা মেরামত করার খরচও আকাশছোঁয়া।
বর্তমানে বাজারে থাকা অ্যাপল ও স্যামসাং—উভয় প্রতিষ্ঠানই তাদের প্রিমিয়াম ডিভাইসগুলোর (যেমন: আইফোন ১৭ এবং স্যামসাং গ্যালাক্সি এস২৬ সিরিজ) সঙ্গে ১ বছরের সীমিত ওয়ারেন্টি প্রদান করে। এই ওয়ারেন্টি সাধারণত ডিভাইসের অভ্যন্তরীণ হার্ডওয়্যার ত্রুটি এবং নির্মাণজনিত সমস্যার সমাধান করে।
তবে ব্যবহারকারীর নিজস্ব ভুলের কারণে সফটওয়্যার সমস্যা কিংবা যেকোনো ধরনের দুর্ঘটনাবশত ক্ষতি এই বেসিক ওয়ারেন্টির আওতাভুক্ত নয়।
ফলে বাড়তি নিরাপত্তার জন্য গ্রাহকদের অতিরিক্ত অর্থ খরচ করে বর্ধিত সুরক্ষা প্ল্যান কিনতে হয়। তবে অ্যাপল এবং স্যামসাংয়ের এই পরিকল্পনাগুলোর মধ্যে কিছু মৌলিক পার্থক্য রয়েছে, যা ক্রেতাদের সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করতে পারে।
অ্যাপল কেয়ার প্লাস: একাধিক ডিভাইসের সর্বোচ্চ সুরক্ষা
অ্যাপলের প্রিমিয়াম সুরক্ষা সেবা ‘অ্যাপল কেয়ার প্লাস’ তৈরিকৃত ত্রুটির বাইরেও দুর্ঘটনাবশত ক্ষতি, চুরি এবং হারিয়ে যাওয়ার মতো ঘটনার ক্ষেত্রে কভারেজ দেয়।
পরিকল্পনা ও সুবিধা: ‘AppleCare+ with Theft and Loss’ প্ল্যানের আওতায় গ্রাহকরা দুর্ঘটনাবশত ক্ষতির জন্য আনলিমিটেড মেরামতের সুবিধা পান। এছাড়া প্রতি ১২ মাসে সর্বোচ্চ দুটি চুরি বা হারিয়ে যাওয়ার দাবি করার সুযোগ থাকে। গ্রাহকরা এটি মাসিক বা বার্ষিক কিস্তিতে পরিশোধ করতে পারেন।
অ্যাপল কেয়ার ওয়ান: যাদের একাধিক অ্যাপল ডিভাইস রয়েছে, তাদের জন্য রয়েছে ‘AppleCare One’। এই প্ল্যানে একসঙ্গে ৩টি ডিভাইস কভার করা যায়, চুরি বা হারানোর ক্লেম বছরে ৩টি পর্যন্ত বৃদ্ধি পায় এবং নষ্ট ফোন জমা দেওয়ার আগেই অগ্রিম প্রতিস্থাপনকারী ডিভাইস সরবরাহ করা হয়। তবে এটি শুধুমাত্র মাসিক বিলিংয়ের মাধ্যমেই সচল করা সম্ভব।
স্যামসাং কেয়ার প্লাস: নমনীয়তা ও সাশ্রয়ী মেরামত
স্যামসাং ব্যবহারকারীদের জন্য রয়েছে ‘Samsung Care+’ এবং ‘Samsung Care+ with Theft and Loss’। ডিভাইসের মডেল অনুযায়ী মোট ৪টি প্রাইস টিয়ার বা স্তরে এই সেবা বিভক্ত।
পরিকল্পনা ও সুবিধা: স্যামসাং কেয়ার প্লাসেও দুর্ঘটনাবশত ক্ষতির জন্য আনলিমিটেড কভারেজ পাওয়া যায়, তবে যান্ত্রিক ত্রুটি ছাড়া অন্য মেরামতের জন্য ২৯ ডলারের একটি সার্ভিস ফি দিতে হয়।
চুরি ও হারানোর কভারেজ: চুরির সুবিধাসহ প্ল্যানটিতে বছরে সর্বোচ্চ ৩টি ক্লেম করা যায় এবং একই দিনে প্রতিস্থাপনকারী ডিভাইস দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেয় স্যামসাং। সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো, স্ক্রিন বা পেছনের গ্লাস ফেটে গেলে এর জন্য বাড়তি কোনো ডিডাক্টিবল বা সার্ভিস চার্জ দিতে হয় না।
খরচ এবং ডিভাইস নিবন্ধনের পার্থক্য
অ্যাপলের সবচেয়ে দামি ফোন ‘আইফোন ১৭ প্রো ম্যাক্স’-এর জন্য ৩টি ডিভাইস কভারসহ ২ বছরের ‘AppleCare One’ প্ল্যানের খরচ পড়ে প্রায় ৪০০ ডলার (মাসিক বিলিংয়ে)। অন্যদিকে, স্যামসাংয়ের ‘গ্যালাক্সি এস২৬ আল্ট্রা’-র জন্য সমপর্যায়ের একক ডিভাইস সুরক্ষাসহ ‘Samsung Care+’ প্ল্যানের এককালীন খরচ ৩৪৯ ডলার।
ডিভাইস নিবন্ধনের ক্ষেত্রে স্যামসাং অনেক বেশি নমনীয়। ফোন কেনার ৬০ দিন পার হয়ে গেলেও গ্রাহকরা অনলাইনেই ভেরিফিকেশন সম্পন্ন করে এই প্ল্যানটি কিনতে পারেন।
বিপরীতে, অ্যাপলের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট সময় পার হয়ে গেলে অনলাইন ভেরিফিকেশন কাজ করে না; গ্রাহককে সশরীরে অ্যাপল স্টোরে গিয়ে ডিভাইস পরীক্ষা করাতে হয়।
আন্তর্জাতিক ওয়ারেন্টি সাপোর্ট: এগিয়ে অ্যাপল
ভ্রমণকারীদের জন্য আন্তর্জাতিক ওয়ারেন্টির ক্ষেত্রে অ্যাপল বেশ সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। প্রয়োজনীয় পার্টস বা যন্ত্রাংশ মজুত থাকা সাপেক্ষে অ্যাপল বিশ্বব্যাপী মেরামত সুবিধা দেয়।
তুলনামূলকভাবে স্যামসাংয়ের আন্তর্জাতিক ওয়ারেন্টি কিছুটা জটিল ও সীমাবদ্ধ। বিভিন্ন ফোরাম ও কমিউনিটি পোস্টের তথ্য অনুযায়ী, ফ্রান্সে কেনা স্যামসাং ফোন সংযুক্ত আরব আমিরাতে স্থানীয় ক্রয়ের রশিদ বা লোকাল রিসিট না থাকার কারণে পরিবর্তন করে দেওয়া হয়নি। এছাড়া অনেক ব্যবহারকারীই নিজ দেশের বাইরে স্যামসাংয়ের ওয়ারেন্টি সুবিধা পেতে ভোগান্তির কথা উল্লেখ করেছেন।
চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত কার পক্ষে?
উভয় প্রতিষ্ঠানই প্রিমিয়াম সেবা দিলেও তা ভিন্ন ঘরানার ব্যবহারকারীদের জন্য উপযোগী।
আপনি যদি ঘনঘন বিদেশে ভ্রমণ করেন কিংবা আপনার কাছে একাধিক আইফোন বা অ্যাপল ডিভাইস থাকে, তবে অ্যাপলের প্ল্যানটি আপনার জন্য সেরা।
আর আপনি যদি স্ক্রিন ভাঙার অতিরিক্ত খরচ এড়াতে চান এবং ফোন কেনার বেশ কিছুদিন পরও সহজে ঘরে বসে ইন্সুরেন্স বা কভারেজ নিতে চান, তবে স্যামসাংয়ের পরিকল্পনাটি আপনার জন্য বেশি আকর্ষণীয় হবে।
সূত্র: সামা টিভি

