জানাজা ঘিরে ছিল কঠোর নিরাপত্তাবলয়
যুগান্তর প্রতিবেদন
প্রকাশ: ০১ জানুয়ারি ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
রাজধানীতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার জানাজা ও দাফন ঘিরে ছিল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কঠোর নিরাপত্তাবলয়। অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে বুধবার দিনভর জাতীয় সংসদ ভবন এবং জিয়া উদ্যানসহ আশপাশের এলাকায় পুলিশ, বিজিবি, র্যাব ও সেনাবাহিনীসহ গোয়েন্দা সংস্থার ব্যাপকসংখ্যক সদস্য দায়িত্ব পালন করেন। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলেও লাখো মানুষের ভিড়ে এক ব্যক্তির প্রাণহানির ঘটনা ঘটে।
শেরে বাংলানগর থানার পরিদর্শক সজীব দে যুগান্তরকে বলেন, স্বজনরা এসেছেন। আইনি প্রক্রিয়া শেষ লাশ তাদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
তার কাছ থেকে পাওয়া পরিচয়পত্রের বরাতে পুলিশ জানায়, ওই ব্যক্তির নাম মো. নিরব হোসেন। বাবার নাম মতিউর রহমান মিঞা। ১৭৪ বড় মগবাজার, ডাক্তার গলি, শান্তিনগর, রমনা, ঢাকা। স্থায়ী ঠিকানা পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলায়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, জানাজা শুরুর আগেই মানিক মিয়া এভিনিউয়ের পশ্চিম পাশে বিপুলসংখ্যক মানুষের সমাগম ঘটে। একপর্যায়ে ভিড়ের চাপ বেড়ে গেলে ধাক্কাধাক্কির সৃষ্টি হয়। ওই সময় মানিক মাটিতে পড়ে যান এবং অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে আশপাশের লোকজন তাকে উদ্ধার করে দ্রুত নিকটবর্তী হাসপাতালে নেওয়ার চেষ্টা করেন। তবে পথেই তার মৃত্যু হয়।
মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া। বুধবার ৯টার একটু আগে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কড়া নিরাপত্তায় বাংলাদেশের পতাকায় মোড়ানো একটি গাড়িতে এভারকেয়ার হাসপাতাল থেকে গুলশানের উদ্দেশে বের করা হয় তার লাশ। এরপর নেওয়া হয় গুলশানের তারেক রহমানের বাসায়। সেখান থেকে তার লাশ জানাজা ও দাফনের জন্য নেওয়া হয় জাতীয় সংসদ ভবনে।
জানাজা ঘিরে বুধবার সকাল থেকে জাতীয় সংসদ ভবন এবং জিয়া উদ্যান এলাকা ঘিরে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করে বিজিবি, র্যাব, সেনাবাহিনীসহ গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা। অনুমতি ছাড়া সংসদ ভবনের উত্তর প্লাজায় কাউকে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। ছিল ব্যাপক নিরাপত্তা তল্লাশি ও নজরদারি। ২৭ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়। আনসার ও গ্রামপ্রতিরক্ষা বাহিনীর বিভিন্ন ইউনিটের এক হাজার ৫০০ সদস্যকে দায়িত্বপূর্ণ স্থানে মোতায়েন করা হয়।
এর আগে মঙ্গলবার রাত থেকেই এভারকেয়ার হাসপাতাল, সংসদ ভবন ও জিয়া উদ্যান এলাকায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সদস্য মোতায়েন করা হয়।
এছাড়াও রাজধানীজুড়ে ছিল পুলিশসহ অন্যান্য বাহিনীর সতর্ক অবস্থান। প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম জানিয়েছিলেন, জানাজা ঘিরে ১০ হাজারের বেশি পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য থাকবে। এ ছাড়া সেনাবাহিনীও নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করবে।
