জিয়া উদ্যানে জনতার ঢল
খালেদা জিয়ার কবরে সর্বস্তরের শ্রদ্ধা
যুগান্তর প্রতিবেদন
প্রকাশ: ০২ জানুয়ারি ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
রাজধানীর জিয়া উদ্যানে বৃহস্পতিবার বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার কবরে শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন দলীয় নেতাকর্মী ও সর্বস্তরের জনসাধারণ -যুগান্তর
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
সদ্য প্রয়াত বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার কবরে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন দলের নেতাকর্মীসহ সর্বস্তরের মানুষ। বৃহস্পতিবার বেলা ১২টা থেকে দিনভর রাজধানীর জিয়া উদ্যানে খালেদা জিয়ার কবর জিয়ারত করে তার রুহের মাগফিরাত কামনা করেন এবং শ্রদ্ধা জানান। ধীরে ধীরে মানুষের ভিড় বাড়তে থাকে। একপর্যায়ে সেখানে যেন জনতার ঢল নামে। এসময় অনেককেই কান্নায় ভেঙে পড়তে দেখা যায়। পাশেই অনেককে কুরআন তিলাওয়াত করতে দেখা গেছে।
বুধবার বিকালে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সমাধির পাশে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে সমাহিত করা হয়। নানা আনুষ্ঠানিকতা ও নিরাপত্তার কারণে বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টা পর্যন্ত সেখানে প্রবেশ বন্ধ রাখা হয়। এদিকে সকাল থেকেই সারা দেশ থেকে আসা নেতাকর্মীরা জিয়া উদ্যানের আশপাশের এলাকায় ভিড় করেন। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তা জনস্রোতে পরিণত হয়। সকাল ৯টার দিকে বিজয় সরণির সড়ক খুলে দেওয়া হলেও সমাধিস্থলে প্রবেশ পথে নিরাপত্তা রক্ষীরা সাধারণ মানুষকে প্রবেশ করতে দেয়নি। বেলা ১২টার দিকে সমাধিস্থল সাধারণ মানুষের জন্য খুলে দেওয়া হয়। সকালে কঠোর নিরাপত্তার মধ্যেই সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর খালেদা জিয়ার কবর জিয়ারত করেন। সকালে নিরাপত্তা বেষ্টনীর সামনে দাঁড়িয়ে মোনাজাত করেছেন দলের যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স।
জিয়ারত করে বাবর সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমাদের নেত্রী (খালেদা জিয়া) ছিলেন জিয়াউর রহমানের আদর্শকে উড্ডীন করে রাখা একজন। যিনি দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার মূর্ত প্রতীক হিসাবে পরিচিত। সেই নেত্রীর আদর্শ অনুসরণ করেছেন আমাদের নেতা তারেক রহমান। সবাই আমাদের নেত্রীর জন্য দোয়া করবেন। আল্লাহ তায়ালা যেন তাকে বেহেস্তের সবচেয়ে ভালো জায়গায় স্থান দেন।’
এদিকে, সমাধি প্রাঙ্গণ খুলে দেওয়ার পর শিশু, স্কুল শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে সব বয়সি নারী-পুরুষ আসেন কবরের সামনে। ঠিক খালেদা জিয়াকে যেখানে কবর দেওয়া হয়েছে, তার সামনে নীরবে দাঁড়িয়ে মানুষজন শ্রদ্ধা জানান ও দরুদ শরিফ পাঠ করেন। কাউকে কাউকে কান্নায় ভেঙে পড়তেও দেখা গেছে।
খালেদা জিয়ার কবর জিয়ারত করতে ভোর ৬টার দিকে নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ থেকে এসেছেন মুন্না নামের এক বিএনপি কর্মী। তার পরিহিত পোশাক সাদা টি-শার্ট, সাদা চাদর, সাদা লুঙ্গি ও সাদা টুপিতে ধানের শীষ প্রতীক ব্যবহার করা হয়েছে। তিনি বলেন, সকালে এখানে এসে ভেবেছিলাম হয়তো কবর জিয়ারত না করেই ফিরে যেতে হবে। তবে, শেষ পর্যন্ত কবর জিয়ারতের সুযোগ পেয়েছি, এটা খুব তৃপ্তি দিয়েছে। তিনি বলেন, আমাদের নেত্রীকে আমরা এমন সময়ে হারিয়েছি, যখন তাকে আরও বেশি দরকার ছিল। আমাদের নেত্রী থাকলে হয়তো আগামীর বাংলাদেশ আরও বেশি সুন্দর হতো।
কুড়িগ্রাম থেকে আসা যুবদলের কর্মী সুলতান মাহমুদ বলেন, ‘বাংলাদেশ যত দিন থাকবে, ততদিন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে কেউ ভুলে যাবে না। প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম তাকে স্মরণ করবে এ কারণে যে, তিনি গণতন্ত্রের পতাকাকে উড্ডীন করে রাখতে নিজের সব কিছুকে বিসর্জন দিয়েছেন শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে। তার মতো নেত্রী যিনি বলতে পারেন যে, আমার বিদেশে কোনো ঠিকানা নেই, আমাদের ঠিকানা বাংলাদেশ আর বাংলাদেশের মাটি। আমি তার জানাজায় অংশ নিয়েছি বুধবার। এক দিন অপেক্ষায় ছিলাম কবর জিয়ারতের জন্য। আজকে কবর জিয়ারতের সুযোগ পেয়েছি, শুকরিয়া জানাই আল্লাহর কাছে।’
নীলফামারী থেকে আসা আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘সেই ছোটবেলায় যখন আমি ছাত্রদল করেছি, তখন থেকে এ নেত্রীকে দেখেছি আমাদের নেতা শহীদ রাষ্ট্রপতির কবরে নেতাকর্মীদের নিয়ে শ্রদ্ধা জানাতে আসতে। আজকে তিনি নেই, আমরা বিএনপি এতিম হয়ে গেছি। তবে যখন দেখি নেত্রীর জানাজায় লাখ লাখ মানুষের সমাগম, তখন মনে সাহস জাগে। মনে হয় পথ হারাবে না বাংলাদেশ। আমরা এতিম হলেও আমাদের নেত্রীর পথ ধরে জাতীয়তাবাদের পতাকা উড্ডীন রাখবেন দেশনায়ক তারেক রহমান।’
লুৎফুজ্জামান বাবর বলেন, ‘সকালে বাসায় থাকতে ইচ্ছা করছিল না। নেত্রীর কবর জিয়ারত করতে এসেছি। দেশনেত্রী অনন্তকালে চলে গেছেন কিন্তু তার আদর্শ আমাদের পাথেয় হয়ে থাকবে। গণতন্ত্রের দেখানো পথে বিএনপি চলবে, আমাদের নেতা তারেক রহমান সেই পথে দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নেবেন।’ তিনি বলেন, আমাদের নেত্রী জনগণের জান-মালের নিরাপত্তায় আপসহীন ছিলেন। তার নির্দেশনায় আমরা র্যাব গঠন করেছিলাম। কিন্তু, র্যাবকে দলীয় স্বার্থে এক ঘণ্টা বা এক দিনের জন্যও ব্যবহার করেনি বিএনপি। তিনি বলেন, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় আমাদের নেত্রীর মধ্যে যে গুণাবলি আমি খুঁজে পেয়েছিলাম, তা আর কারও মধ্যে পাইনি। অনেক পরে এসে তার ছেলে আমাদের দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের মধ্যে আমি সেই গুণাবলি খুঁজে পেয়েছি। আপনারা সবাই দোয়া করবেন, যেন আগামীতে তার নেতৃত্বে একটি জনগণের রাষ্ট্র গঠন করতে পারি।
