গ্রাফিতি প্রদর্শনী ও মতবিনিময় সভায় বক্তারা
কাঙ্ক্ষিত দেশ গড়তে জুলাই যোদ্ধাদের আবার এক হতে হবে
যুগান্তর প্রতিবেদন
প্রকাশ: ১৯ জুলাই ২০২৫, ০৯:৫১ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়, মাদ্রাসার ছাত্র, শ্রমজীবী বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ও নারীদের অধিকাংশ এখন নেতৃত্বের সারিতে নেই। তাই মানুষের কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ গড়তে হলে জুলাই যোদ্ধাদের আবার একত্রিত হয়ে নিজেদের কাঙ্ক্ষিত নতুন বাংলাদেশ গড়ার প্রস্তাবনা সামনে নিয়ে আসতে হবে। পুরোনো ব্যবস্থায় যারা লাভবান হয়েছে, তারা কখনো নতুন বাংলাদেশ চায় না।
শনিবার রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের তোফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে ‘জেন-জির প্রত্যাশা ও প্রাপ্তি : গ্রাফিতির আল্পনায় ৩৬ জুলাই’ শীর্ষক গ্রাফিতি প্রদর্শনী ও মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন বক্তারা। নীতি গবেষণা কেন্দ্র (এনজিকে) অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
এতে স্বাগত বক্তব্য দেন শান্ত মারিয়াম ইউনিভার্সিটির শিক্ষক ও নীতি গবেষণা কেন্দ্রের গবেষণা ফেলো ড. খান শরীফুজ্জামান। গ্রাফিতি প্রেজেন্টেশন করেন সাংবাদিক ও গবেষক মোহাম্মদ মাহমুদুজ্জামান।
মুখ্য আলোচকের বক্তৃতায় সুপ্রিমকোর্টের আইনজীবী মানজুর আল মতিন বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আমরা আসলে অনেকে ছিলাম, সে বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই। নানা মতো পথের মানুষ এক হয়েছিলেন জুলাইয়ে এবং সে কারণে একটা বড় পরিবর্তন হয়েছে। এটা আমাদের সবার সম্মিলিত অর্জন। সেখানে নারীরা যেমন ছিলেন, মাদ্রাসার ছাত্রছাত্রীরা ছিলেন, ইংরেজি মাধ্যম, বাংলা মাধ্যমের ছাত্রছাত্রীরা ছিলেন। সমতলের মানুষ ছিলেন, আদিবাসীরা ছিলেন। এসব মানুষ রাস্তায় এসেছিলেন। ঢাকার রাস্তায় যারা সে সময় বেরিয়েছেন, তারা একটা উদ্দেশ্য নিয়ে রাস্তায় বেরিয়েছিলেন শেখ হাসিনার পতনের জন্য। রাস্তায় যেমন মানুষ নেমে এসেছেন, প্রতিবাদ করতে গিয়ে অনেকে হাত তুলে মোনাজাত করেছেন। শেখ হাসিনাকে যেন আল্লাহ তুলে নেন- এই দোয়া পথে পথে মানুষকে আমি করতে দেখেছি। মানে কতভাবে মানুষ চেষ্টা করেছে। সেটা সৃষ্টিকর্তার নিয়মে হোক, মানুষের চেষ্টায় হোক, যে করে হোক- এই যে নির্যাতন সেখান থেকে মুক্তির জন্য মানুষ এক হয়েছে। প্রশ্ন হচ্ছে- এর পরে আসলে আমরা কেমন বাংলাদেশ চাই, এটা কি ওই মুহূর্তে দাঁড়িয়ে আমরা ভেবেছিলাম? ওই সময় একটা প্রশ্ন করা হচ্ছিল যে শেখ হাসিনা গেলে কী হবে। বিকল্পহীন নেত্রী, তাই না? ১৫ বছর ধরে আমাদেরকে শেখানো হয়েছে।
তিনি বলেন, আমরা যদি একমত হয়ে সামনে এগিয়ে যেতে পারি, তাহলে পরিবর্তন আসবে এবং সেটা জুলাইয়ের মতো রক্তস্নাত পদ্ধতিতে নয়। এই যে ১৪শ মানুষের মৃত্যু, সেটা কারোই কাম্য নয় এবং এটা যদি বারবার হতে থাকে সেটা একটা দেশের জন্য ভালো কিছু নয়। তাই আমাদের চেষ্টা করতে হবে আমরা যাতে কথা বলে নিজেদের মধ্যে দূরত্বটা ঘুচিয়ে এই যে শত্রুতার দেওয়াল বছরের পর বছর তোলা হয়েছে, সেটা একেবারে ধ্বংস করতে না পারি, অন্তত উচ্চতায় ছোট করে হলেও নিজেদের মধ্যে মিল খুঁজে পেয়ে সামনে এগিয়ে যেতে পারি।
সভায় বক্তব্য দেন বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি, সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, ইংরেজি মাধ্যম, বাংলা মাধ্যম এবং মাদ্রাসা শিক্ষাপদ্ধতির শিক্ষার্থীরা। তারা তাদের প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা, আন্দোলনের প্রেক্ষাপট, প্রত্যাশা এবং এক বছরের ব্যবধানে প্রাপ্তির অভাব নিয়ে মত প্রকাশ করেন।
