প্রধানমন্ত্রীকে বরণে প্রস্তুত মুন্সীগঞ্জ

  যুগান্তর রিপোর্ট, মুন্সীগঞ্জ ও মাদারীপুর প্রতিনিধি ১৩ অক্টোবর ২০১৮, ১৩:০৯ | অনলাইন সংস্করণ

প্রধানমন্ত্রীকে বরণে প্রস্তুত মুন্সীগঞ্জ
প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে কেন্দ্র করে মাওয়ায় ব্যাপক প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। ছবি: যুগান্তর

‘পদ্মা সেতু রেল সংযোগ নির্মাণ’ প্রকল্পের উদ্বোধন করতে আগামীকাল রোববার মুন্সিগঞ্জের মাওয়ায় যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

এদিন ঢাকা থেকে পদ্মা সেতু হয়ে যশোরের রেল লিংক রোডের নির্মাণ প্রকল্প ছাড়াও মাওয়া প্রান্তে এক হাজার ৩০০ মিটার নদী তীররক্ষা কাজের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী।

এছাড়া ১০ হাজার ৮৪ কোটি টাকা ব্যয়ে ঢাকা-ভাঙ্গা পর্যন্ত ৫৫ কিলোমিটার দীর্ঘ দেশের প্রথম এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণের চলমান কাজের অগ্রগতিসহ সেতুর সামগ্রিক কাজের অগ্রগতি পরিদর্শন করবেন তিনি।

এদিকে প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে কেন্দ্র করে ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে প্রশাসনসহ স্থানীয় আওয়ামী লীগ। এলাকায় বিরাজ করছে উৎসবের আমেজ।

মুন্সীগঞ্জ জেলা প্রশাসক, সায়লা ফারজানা জানান, প্রধানমন্ত্রী আগমনে সবরকমের প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। মাওয়ায় প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন কাজের উদ্ধোধন ও সুধী সমাবেশে অংশ নেবেন। সেখান থেকে তিনি (প্রধানমন্ত্রী) শরিয়তপুরে যাবেন, প্রধানমন্ত্রী আগমনে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। ইতিমধ্যেই চূড়ান্ত নিরাপত্তা সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

এছাড়া কাল ঢাকা-মাওয়া হাইওয়ের পদ্মা থানা ভবন পাশেই বড় অংশে সুধী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে।

প্রধানমন্ত্রী আগমন ও সুধী সমাবেশ উপলক্ষে মাওয়া এলাকায় নেয়া হয়েছে ব্যাপক প্রস্তুতি। শেষ পর্যায়ে সুধী সমাবেশের মঞ্চ ও নামফলক উন্মোচনের স্থান তৈরির কাজ।

পুরোদমে কাজ করছে শ্রমিকরাও, নেয়া হচ্ছে শেষ সময়ের পূর্ণঙ্গ প্রস্তুতি।

এছাড়া সুধী সমাবেশে মাওয়ায় লক্ষাধিক মানুষের সমাগম হওয়ার কথা নিশ্চিত করেছেন আওয়ামী লীগের দায়িত্বশীল নেতারা।

সেতুতে বসছে রেলসংযোগ, মূলপদ্মার মাঝে বসেছে বেশ কয়েকটি পিলার। আর বহু পিলারের মূলকাঠামো ইতোমধ্যেই তৈরি হয়ে গেছে।

মাওয়া সফরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মাওয়া প্রান্তে ১৩০০ মিটার নদীর তীররক্ষা কাজের উদ্বোধন করবেন।

এ ছাড়া ১০ হাজার ৮৪ কোটি টাকা ব্যয়ে ঢাকা থেকে ফরিদপুরের ভাঙ্গা পর্যন্ত ৫৫ কিলোমিটার দীর্ঘ দেশের প্রথম এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণকাজের অগ্রগতিও পরিদর্শন করবেন। ইতিমধ্যে এক্সপ্রেসওয়ের কাজের ৭০ ভাগ সম্পন্ন হয়ে গেছে বলে প্রকল্পের দায়িত্বশীল সূত্রে জানা গেছে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাহসী ভূমিকায় দেশীয় অর্থায়নে নির্মিতব্য পদ্মা সেতু এখন দৃশ্যমান। প্রায় ৩১ হাজার কোটি টাকা ব্যয়সাপেক্ষ এই প্রকল্পের নির্মাণকাজের ৬০ ভাগ এবং মূলসেতুর ৭০ ভাগ সম্পন্ন হয়েছে।

দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের দাবি, পদ্মা সেতুর সঙ্গেই চালু হোক রেললাইন। এই রেল নেটওয়ার্ক বিস্তৃত করে বরিশাল, কুয়াকাটা, মংলা, পায়রা পর্যন্ত নেয়ার দাবি দক্ষিণের মানুষের। প্রায় দুই হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে রেললাইন হবে সিঙ্গেল লাইন।

কেরানীগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগর রেলস্টেশন, শিবচরে ২টি স্টেশন, যশোর ও ভাঙ্গায় একটি করে জংশন নির্মাণ করা হবে। এ ছাড়াও ৩৪টি সেতু, ৯৬টি বক্স কালভার্ট এবং আন্ডারপাস থাকবে এ প্রকল্পে। বুড়িগঙ্গা ও ধলেশ্বরী নদীতে নির্মিত হবে ২১.৮৪ কিমি. উড়াল সংযোগ সেতু।

প্রথম পর্যায়ে ভাঙ্গা পর্যন্ত ৮২ কিলোমিটার অধিগ্রহণ শেষে চলছে ক্ষতিপূরণ বিতরণ কার্যক্রম। মোট ৩৫৮.৪১ হেক্টর জমি অধিগ্রহণ করা হয়। রেললাইন নির্মাণে উঁচু জমিতে একশ ২০ ফুট ও নিচু জমিতে একশ ৫০ ফুট প্রশস্থতায় জমি অধিগ্রহণ করা হয়।

পদ্মা সেতুর পঞ্চম স্প্যানসহ মূলসেতুর কাজ ও সেতু সংশ্লিষ্ট ঢাকা-খুলনা মহাসড়ক ৬ লেন এক্সপ্রেস হাইওয়ে উন্নীতকরণের কাজ দৃশ্যমান হলেও রেললাইন নির্মাণ বিলম্ব হওয়ায় জনমনে সংশয় বাড়ছিল।

গত জুনে চীনের সঙ্গে রেললাইন নির্মার্ণের চুক্তির পর গতি বেড়েছে প্রকল্পের কার্যক্রম। ইতোমধেই অধিগ্রহণকৃত এলাকা থেকে সরিয়ে নেয়া হয়েছে সকল স্থাপনা।

গত কয়েকদিন ধরে মাঠ পর্যায়ে কাজ করতে দেখা গেছে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান চীনের কর্মকর্তা কর্মচারীদের। চলছে মাটি পরীক্ষাসহ নানান কার্যক্রম।

দক্ষিণাঞ্চলের ২১ জেলার মানুষের দীর্ঘদিনের স্বপ্নের পদ্মা সেতুকে বাস্তবে রূপ দিতে ২০০১ সালের ১২ জুলাই মুন্সীগঞ্জের লৌহজংয়ের কুমারভোগ এলাকায় পদ্মা সেতু নির্মাণকাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

২০০৯ সালে শেখ হাসিনা সরকার গঠনের পর ফের সেতুটি নির্মাণের উদ্যোগ নেন। ২০১২ সালে বিশ্বব্যাংক দুর্নীতির অভিযোগ তুলে ঋণ চুক্তি বাতিল করে।

বিশ্বব্যাংকের অভিযোগ মিথ্যা দাবি করে ২০১৩ সালের ৪ মে নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণের ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

ঘটনাপ্রবাহ : পদ্মা সেতু নির্মাণ

আরও
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×