ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন স্বাধীন সাংবাদিকতার পরিপন্থী: সম্পাদক পরিষদ

  যুগান্তর রিপোর্ট ১৫ অক্টোবর ২০১৮, ১২:০৫ | অনলাইন সংস্করণ

সম্পাদক পরিষদ
ছবি-যুগান্তর

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনকে স্বাধীন সাংবাদিকতার পরিপন্থী বলে মনে করছে জাতীয় দৈনিক পত্রিকাগুলোর সম্পাদকদের সংগঠন সম্পাদক পরিষদ।

সোমবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে আয়োজিত এক মানববন্ধনে সম্পাদক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক দ্য ডেইলি স্টারের সম্পাদক মাহফুজ আনাম বলেন, আমরা ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনটিকে স্বাধীন সাংবাদিকতার পরিপন্থী বলে মনে করি।

তিনি বলেন, এ আইন বলবৎ থাকলে প্রেস মিডিয়া, টেলিভিশন, অনলাইন মিডিয়াসহ কেউ-ই আমরা স্বাধীনভাবে পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে পারব না।

লিখিত বক্তব্যে মাহফুজ আনাম বলেন, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন-২০১৮ পাস হওয়ার আগ থেকেই এ আইনটি নিয়ে, এর বিভিন্ন ধারা নিয়ে সম্পাদক পরিষদের পক্ষ থেকে প্রতিবাদ জানিয়ে আসছিলাম।

‘আমরা মনে করি এ আইনটি স্বাধীন সাংবাদিকতা ও মুক্ত গণমাধ্যমের পরিপন্থী। আমরা ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের বিরোধী নই। আমরা এ আইনটির বিশেষ কতগুলো ধারার সংশোধন দাবি করছি।’

তিনি বলেন, বর্তমান আইনটি শুধু সাইবার জগৎ নয়, স্বাধীন গণমাধ্যমের কণ্ঠরোধ করার আইন। আমরা চাই আগামী সংসদ অধিবেশনে এ আইনটি সংশোধনের মাধ্যমে স্বাধীনতা ও স্বাধীন সাংবাদিকতা নিশ্চিত করা হোক।

এ সময় মাহফুজ আনাম পরিষদের পক্ষ থেকে সাত দফা দাবি তুলে ধরেন।

সম্পাদক পরিষদের সাত দফা

• সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা ও বাকস্বাধীনতা সুরক্ষার লক্ষ্যে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ৮, ২১, ২৫, ২৮, ২৯, ৩১, ৩২, ৪৩ ও ৫৩ ধারা অবশ্যই যথাযথভাবে সংশোধন করতে হবে।

• এসব সংশোধনী বর্তমান সংসদের শেষ অধিবেশনে আনতে হবে।

• পুলিশ বা অন্য কোনো সংস্থার মাধ্যমে কোনো সংবাদমাধ্যম প্রতিষ্ঠানে তল্লাশি চালানোর ক্ষেত্রে তাদের শুধু নির্দিষ্ট বিষয়বস্তু আটকে দেয়ার অনুমতি দেয়া যাবে; কিন্তু কোনো কম্পিউটারব্যবস্থা বন্ধ করার অনুমতি দেয়া যাবে না। তারা শুধু তখনই প্রকাশের বিষয়বস্তু আটকাতে পারবে, যখন সংশ্লিষ্ট সংবাদ প্রতিষ্ঠানের সম্পাদকের সঙ্গে আলোচনা করে কেন ওই বিষয়বস্তু আটকে দেয়া উচিত, সে বিষয়ে যৌক্তিকতা প্রমাণ করতে পারবে।

• কোনো সংবাদমাধ্যম প্রতিষ্ঠানের কোনো কমপিউটারব্যবস্থা আটকে দেয়া বা জব্দ করার ক্ষেত্রে অবশ্যই উচ্চ আদালতের আগাম নির্দেশ নিতে হবে।

• সংবাদমাধ্যমের পেশাজীবীদের সাংবাদিকতার দায়িত্বের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অপরাধের ক্ষেত্রে প্রথমেই আদালতে হাজির হওয়ার জন্য তাদের বিরুদ্ধে সমন জারি করতে হবে (যেমনটি বর্তমান আইনে আছে) এবং সংবাদমাধ্যমের পেশাজীবীদের কোনো অবস্থাতেই পরোয়ানা ছাড়া ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ ছাড়া আটক বা গ্রেফতার করা যাবে না।

• সংবাদমাধ্যমের পেশাজীবীর দ্বারা সংঘটিত অপরাধের ক্ষেত্রে তার বিরুদ্ধে মামলার গ্রহণযোগ্যতা আছে কিনা, তার প্রাথমিক তদন্ত প্রেস কাউন্সিলের মাধ্যমে করা উচিত। এই লক্ষ্যে প্রেস কাউন্সিলকে যথাযথভাবে শক্তিশালী করা যেতে পারে।

• এ সরকারের পাস করা তথ্য অধিকার আইনকে দ্ব্যর্থহীনভাবে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ওপর প্রাধান্য দেয়া উচিত। ওই আইনে নাগরিক ও সংবাদমাধ্যমের জন্য যেসব স্বাধীনতা ও অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে, সেগুলোর সুরক্ষা অত্যাবশ্যক।

মাহফুজ আনাম বলেন, বিভিন্ন মন্ত্রী বলেছেন আলোচনার দরজা বন্ধ হয়নি। আমরাও মনে করি না আলোচনার দরজা বন্ধ। আলোচনার নামে প্রহসন যেন না হয়। আমরা আলোচনায় গিয়েছি, আমরা অত্যন্ত বিশ্বাস নিয়ে গিয়েছি।

‘কিন্তু সেই বিশ্বাসের প্রতিফলন এখনও হয়নি। তারা (মন্ত্রীরা) বলেছেন, আলোচনার দরজা খোলা, শুনে আমরা খুশি, আমরা আলোচনা করতে চাই, তবে গ্রহণযোগ্য আলোচনা চাই। যে আলোচনা গ্রহণযোগ্য সমাধানের দিকে নিয়ে যাবে। শুধু আলোচনার জন্য আলোচনা নয়। ’

মানববন্ধনে দেশের বিভিন্ন সংবাদপত্রের সম্পাদকেরা অংশ নেন। মানববন্ধনে সম্পাদকদের মধ্যে ছিলেন, মানবজমিনের প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী, নিউ এইজের সম্পাদক নুরুল কবির, প্রথম আলোর সম্পাদক মতিউর রহমান, যুগান্তরের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সাইফুল আলম, সংবাদের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক খন্দকার মনিরুজ্জামান, ভোরের কাগজের সম্পাদক শ্যামল দত্ত, বাংলাদেশ প্রতিদিনের সম্পাদক নঈম নিজাম, কালের কণ্ঠের সম্পাদক ইমদাদুল হক মিলন, করতোয়ার সম্পাদক মো. মোজাম্মেল হক, ইনকিলাব সম্পাদক এ এম এম বাহাউদ্দীন, ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেসের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক শহীদুজ্জামান খান, ঢাকা ট্রিবিউনের সম্পাদক জাফর সোবহান, সমকালের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মুস্তাফিজ শফি, বণিক বার্তার সম্পাদক দেওয়ান হানিফ মাহমুদ, ইন্ডিপেনডেন্টের সম্পাদক এম শামসুর রহমান প্রমুখ।

প্রসঙ্গত সাংবাদিক, সুশীল সমাজসহ বিভিন্ন পক্ষের আপত্তি উপেক্ষা করে গত ১৮ সেপ্টেম্বর জাতীয় সংসদে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের বিল পাস করা হয়।

ঘটনাপ্রবাহ : ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন

আরও
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×