শ্রমিক থেকে গণমাধ্যমকর্মী হচ্ছেন সাংবাদিকরা

  যুগান্তর রিপোর্ট ১৫ অক্টোবর ২০১৮, ২০:৩৪ | অনলাইন সংস্করণ

সোমবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠক
সোমবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠক। ছবি-যুগান্তর

সব ধরনের গণমাধ্যমকর্মীর জন্য চাকরির শর্ত ঠিক করে ‘গণমাধ্যমকর্মী (চাকরির শর্তাবলি) আইন ২০১৮’ এর খসড়ায় নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা।

এই আইনের খসড়ায় সাংবাদিকদের আগের মতো ‘শ্রমিক’ হিসেবে বর্ণনা না করে ‘গণমাধ্যমকর্মী’ হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে।

সোমবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে আইনসহ মোট ৬টি আইন ও নীতিমালার অনুমোদন দেয়া হয়।

বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান।

এ প্রসঙ্গে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম বলেন, আগে গণমাধ্যমকর্মীরা চলতেন ‘দ্য নিউজপেপার এমপ্লয়িজ (চাকরির শর্তাবলি) আইন- ১৯৭৪’ এর আওতায়। এর সঙ্গে শ্রম আইনের কিছু বিষয় সাংঘর্ষিক হচ্ছিল। পরে সাংবাদিকদের শ্রম আইনের আওতায় নিয়ে যাওয়া হয় এবং ডেফিনেশনের মধ্যে তাদের শ্রমিক হিসেবে ডিফাইন করা হয়। নতুন আইনের খসড়ায় ওখান থেকে বেরিয়ে এসেছে।’

শফিউল আলম বলেন, ‘শ্রম আইনের অধীনে গণমাধ্যম কর্মীদেরও ‘শ্রমিক’ হিসেবে বিবেচনা করা হতো। নতুন আইন পাস হলে গণমাধ্যম কর্মীরা আর শ্রমিক থাকবেন না, তাদের গণমাধ্যমকর্মী হিসেবে অভিহিত করা হবে।’ দ্য নিউজপেপার এমপ্লয়িজ (চাকরির শর্তাবলি) আইনে সাংবাদিক, প্রেস শ্রমিক ও প্রেস কর্মচারীদের চাকরির শর্ত, আর্থিক বিষয় ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা নির্ধারণ করা ছিল। সরকার ওই আইনকে রহিত করে সব শ্রমিকের জন্য ২০০৬ সালে ‘শ্রম আইন’ প্রণয়ন করে, যাতে সংবাদপত্রের সাংবাদিক, প্রেস শ্রমিক ও প্রেস কর্মচারীদের বিষয়গুলোও অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, নতুন আইনের খসড়ায় গণমাধ্যমকর্মীর সংজ্ঞায় বলা হয়েছে- গণমাধ্যমে কর্মরত পূর্ণকালীন সাংবাদিক, কলাকুশলী, প্রশাসনিক কর্মকর্তা, কর্মচারী বা নিবন্ধিত সংবাদপত্রের মালিকাধীন ছাপাখানা এবং বিভিন্ন বিভাগে নিয়োজিত কর্মী। সম্প্রচার কাজে সার্বক্ষণিক নিয়োজিত গণমাধ্যমের কর্মীরা সম্প্রচারকর্মী এবং প্রযোজক, পাণ্ডলিপি লেখক, শিল্পী, ডিজাইনার, কার্টুনিস্ট, ক্যামেরাম্যান, অডিও ও ভিডিও এডিটর, চিত্র সম্পাদক, শব্দধারণকারী, ক্যামেরা সহকারী, গ্রাফিকস ডিজাইনারসহ যে পেশাজীবীরা এ কাজের সঙ্গে জড়িত, প্রস্তাবিত আইনে তাদের ‘কলাকুশলী’ হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে।

গণমাধ্যম কর্মীদের সপ্তাহে কর্মঘণ্টা ৪৮ ঘণ্টা থেকে কমিয়ে ৩৬ ঘণ্টা করার প্রস্তাব করা হয়েছে জানিয়ে শফিউল আলম বলেন, ‘এর চেয়ে বেশি কাজ করালে ওভারটাইম দিতে হবে। আগের ১০ দিনের নৈমিত্তিক ছুটি (সিএল) ১৫ দিন করা হয়েছে। অর্জিত ছুটি ৬০ দিনের বদলে ১০০ দিন করা হচ্ছে, ১১ দিনে একদিন করে ছুটি জমা হবে।’

তিনি বলেন, প্রত্যেক গণমাধ্যমকর্মী চাকরির ১৮ ভাগের একভাগ সময় পূর্ণ বেতনে অসুস্থতাজনিত ছুটি পাবেন; সেক্ষেত্রে চিকিৎসকের প্রত্যয়নপত্র থাকতে হবে। এককালীন বা একাধিকবার সর্বোচ্চ ১০ দিন উৎসব ছুটি পাবেন। নারী কর্মীরা সরকারি বিধি অনুযায়ী, অর্থাৎ ছয় মাস মাতৃত্বকালীন ছুটি পাবেন। আগে আট সপ্তাহ মাতৃত্বকালীন ছুটি পেতেন নারী গণমাধ্যমকর্মীরা। গণমাধ্যম কর্মীদের তিন বছর পর পর পূর্ণ বেতনে শ্রান্তি বিনোদন ছুটি এবং বিধিমালা অনুযায়ী স্বাস্থ্যবিমা সুবিধা দেয়ার কথা বলা হয়েছে প্রস্তাবিত আইনে।

নতুন আইন হলে গণমাধ্যম কর্মীদের জন্য প্রভিডেন্ট ফান্ড গঠন করতে হবে জানিয়ে কেবিনেট সচিব বলেন, নিয়োগের এক বছর পর থেকে ভবিষ্যৎ তহবিলে মাসিক চাঁদা জমা দেয়া যাবে। আগে দুই বছর চাকরি পার হলে ভবিষ্যৎ তহবিলে চাঁদা জমা দেয়া যেত। সর্বনিম্ন ৮ ও সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ এই তহবিলে জমা রাখা যাবে। আগে ৭ শতাংশ জমা রাখা যেত। মালিককে সমান হারে প্রভিডেন্ট ফান্ডে টাকা রাখতে হবে। গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানে নারীবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে প্রচলতি আইন অনুসরণ করে নীতিমালা প্রণয়ন করে অভিযোগ নিরসন পদ্ধতি প্রবর্তন করার কথা বলা হচ্ছে খসড়ায়। নতুন আইনে বলা হয়েছে, গণমাধ্যমকর্মীদের বেতন কাঠামো পর্যালোচনার জন্য সরকার প্রজ্ঞাপন দিয়ে ওয়েজবোর্ড গঠন করবে।

ওয়েজবোর্ডের সিদ্ধান্ত সব গণমাধ্যম মালিককে পালন করতে হবে জানিয়ে শফিউল বলেন, যদি কোনো গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানে কোনো গণমাধ্যমকর্মীর বকেয়া থাকে তবে তিনি বা তার লিখিত ক্ষমতাপ্রাপ্ত ব্যক্তি, মৃত গণমাধ্যম কর্মীর ক্ষেত্রে তার পরিবারের কোনো সদস্য বকেয়া পাওনা আদায়ে যথোপযুক্ত আদালতে মামলা করতে পারবেন। এই আইনের বিধি লঙ্ঘন করলে তা শাস্তিযোগ্য অপরাধ হবে, এ জন্য সর্বনিম্ন ৫০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা করা যাবে। জরিমানা আদায় না হলে আদালত জেল দিতে পারবে। সরকার এই আইন লংঘনকারী প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেয়াসহ যে কোনো পর্যায়ে সরকার প্রদত্ত যে কোনো সুযোগ-সুবিধা স্থগিত বা বন্ধ করে দিতে পারবে।

এ আইন পাস হলে পরিদর্শন কমিটি করা হবে জানিয়ে সচিব বলেন, পরিদর্শন কমিটির সদস্যরা পরিদর্শক হিসেবে গণ্য হবেন। পরিদর্শন কমিটির অনুমোদন সাপেক্ষে প্রত্যেক গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব চাকরিবিধি থাকবে। কোনো বিষয়ে বিরোধ দেখা দিলে বিকল্প বিরোধ নিস্পত্তি পদ্ধতি অনুসরণ করতে হবে। প্রস্তাবিত আইনে গণমাধ্যম কর্মীদের শিক্ষাগত যোগ্যতা নির্ধারণ করে দেয়া হয়নি, সেটি বিধি দিয়ে নির্ধারণ করা হবে বলে জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter