যমুনা টিভির টকশো

‘আ’লীগ-বিএনপির দ্বন্দ্ব এখন স্থুল পর্যায়ে চলে গেছে’

  যুগান্তর ডেস্ক ২২ অক্টোবর ২০১৮, ০০:৫২ | অনলাইন সংস্করণ

মহিউদ্দিন আহমেদ

আওয়ামী লীগ-বিএনপির দ্বন্দ্ব এখন একটা স্থুল পর্যায়ে চলে গেছে বলে মন্তব্য করেছেন বিশিষ্ট রাজনীতি বিশ্লেষক মহিউদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেছেন, আওয়ামী লীগ-বিএনপির দ্বন্দ্ব এখন একটা স্থুল পর্যায়ে চলে গেছে। সব সময়ই একে অন্যের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেই যাচ্ছে। এখন সামনে নির্বাচন।

নির্বাচনের জন্য সবাই বলছেন এক ধরনের সমান্তরাল মাঠ দরকার যাতে সবগুলো রাজনৈতিক দল সমান সুযোগ পায়। কিন্তু তাতে বিঘ্ন সৃষ্টি করা হচ্ছে। এক্ষেত্রে বিএনপি আওয়ামী লীগ পরস্পরকে দোষারোপ করছে। কিন্তু তাদের কার কথা কতটুকু বিশ্বাসযোগ্য তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ আছে।

যমুনা টেলিভিশনে অল্প দিনেই জনপ্রিয়তা পাওয়া টকশো ‘রাজনীতি’ এর রোববার সন্ধ্যায় অনুষ্ঠিত পর্বে হাজির হয়ে মহিউদ্দিন আহমেদ এই মন্তব্য করেন।

‘রাজনীতির নতুন সপ্তাহ’ শীর্ষক এ পর্বে অতিথি হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী ও বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ইমরান সালেহ প্রিন্স।

আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ড. কামাল হোসেন ওয়ান ইলেভেনের কুশীলব ছিলেন। তার মাধ্যমেই বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে চিকিৎসার নামে বিদেশে পাঠানো হয় বলেও অভিযোগ করেন আওয়ামী লীগের এই নেতা।

বিএনপি নেতা আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীকে একটি মামলায় গ্রেফতার করে কারাগারে প্রেরণের পর বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর অভিযোগ করেছেন, দেশে এখন প্রতিহিংসার প্রবল প্রভাব চলছে। যার বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে আমীর খসরু মাহমুদের গ্রেফতারে।

এ বিষয়ে উপস্থাপক রোখসানা আঞ্জুমান নিকোল আওয়ামী লীগের অবস্থান জানতে চাইলে খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেন, খসরুর গ্রেফতারে প্রতিহিংসার কোনো বিষয় নেই। বরং তিনি ছাত্রদের আন্দোলনের সময় সরকার ও রাষ্ট্রবিরোধী তৎপরতা চালিয়েছেন। মোবাইল ফোনে তার নির্দেশনার অডিও ফাঁস হয়েছিল। আইন শৃংখলা বাহিনী তাদের পদক্ষেপ নিয়েছে। একটা ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি মতলব আছে কিনা এসব জানতেই হয়তো ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। এর সাথে আওয়ামী লীগের রাজনীতির কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই।

দলের গুরুত্বপূর্ণ আরও একজন নেতা কারাগারে গেলেন। এতে করে বিএনপি কি আরও সংকটের দিকে অগ্রসর হচ্ছে কিনা? এমন প্রশ্নের জবাবে বিএনপি নেতা ইমরান সালেহ প্রিন্স বলেন, সাবেক মন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ যখন একটি মিথ্যা মামলায় যখন আদালতে হাজিরা দিতে গিয়েছিলেন তখন তার জামিন বাতিল করে গ্রেফতার করা হয়েছে। বর্তমান সরকার বিরোধী দলের ওপর দমন নিপীড়নের এমন কোনো পন্থা নাই যা অবলম্বন করেনি। এটা সরকারের প্রতিহিংসা চুড়ান্ত বহিঃপ্রকাশ। সরকারের শেষ মুহূর্তে বিরোধীদের দমনের জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা চালাচ্ছে। গত ১০ বছরে এই সরকার ২৫ লক্ষ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মিথ্যা ও গায়েবী মামলা দিয়েছে, ৫০০ এর বেশি নেতাকর্মীকে গুম করেছে, ১৫০০ এর বেশি নেতাকর্মীকে হত্যা করেছে।

তিনি আরও বলেন, এইসব পরিসংখ্যানই বলে দেয় আওয়ামী লীগের প্রতিহিংসার রাজনীতি চালাচ্ছে।

সিলেটে সমাবেশের অনুমতির ইঙ্গিত পেয়েও ঐক্যফ্রন্ট নাটক করছে- আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের অভিযোগের প্রেক্ষিতে বিএনপি নেতা ইমরান সালেহ প্রিন্স বলেন, আমরা ইঙ্গিত বুঝতে পারি না। সমাবেশে করতে চেয়েছি, তার জন্য অনুমতি চেয়েছি। পুলিশ আবেদনপত্র গ্রহণ করেও বলেছেন, আমরা জানাবো। পরে পুলিশ জানায় ২৩ তারিখ অনুমতি দেয়া সম্ভব নয়। এরপর ২৪ তারিখ অনুমতির জন্য আবেদন করলে সেটিরও অনুমতি দেয়া হয়নি।

এ বিষয়ে আওয়ামী লীগ নেতা খালিদ মাহমুদ বলেন, হত্যা মামলার আসামি যে দলের প্রধান, যে দলে স্বাধীনতাবিরোধীরা যুক্ত আছে, জঙ্গিদের মদদদাতারা আছে, যে দলে বঙ্গবন্ধুর খুনিদের প্রশ্রয়দাতারা রয়েছে সেই দল যখন কোনো কর্মসূচি নেবে তখন আইন শৃংখলা বাহিনীর পক্ষ থেকে বিচার বিশ্লেষণের বিষয় আছে।

তিনি আরও বলেন, দেশে কিছু পণ্ডিত তৈরি হয়েছে যারা বিএনপির সঙ্গে আওয়ামী লীগকে তুলনা করেন। কিন্তু বিএনপির সঙ্গে আওয়ামী লীগের তুলনা হতে পারে না। বিএনপি যেসব অপকর্ম করেছে আওয়ামী লীগ কখনো তা করেনি।

জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়া নিয়ে খালিদ মাহমুদ বলেন, ওয়ান ইলেভেনের কুশীলব ড. কামাল হোসেন আজকে যে ভূমিকায় অবর্তীণ হয়েছেন। এখন কিন্তু মানুষের কাছে খুব পরিস্কার চিকিৎসার নাম করে মুচলেকা দিয়ে তারেক রহমানকে দেশের বাইরে পাঠিয়ে দেয়ার ব্যবস্থা করার পেছনে কার ভূমিকা ছিল। যেহেতু ওই দলের সঙ্গে ওই খুনিদের সঙ্গে তিনি যুক্ত হয়েছে ফলে বাংলাদেশের মানুষ তাদেরকে নিয়ে খুব আতঙ্কে আছে।

নির্বাচনকালীন সরকার নিয়ে কী ভাবনা- এমন প্রশ্নে বিএনপি নেতা প্রিন্স বলেন, আমরা একটা অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন চাই যাতে মানুষ নির্বিঘ্নে তাদের ভোট দিয়ে পছন্দের প্রার্থীকে নির্বাচিত করতে পারে। কিন্তু আওয়ামী লীগের অধীনে এমন নির্বাচন সম্ভব নয় যা অতীতের সব সিটি, উপেজলা ও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে প্রমাণিত হয়েছে। আওয়ামী লীগ অনুগত নির্বাচন কমিশন দিয়ে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়। আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন সংসদ রেখেও সম্ভব নয়। সে কারণেই আমরা নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকার চাই, যা নিরপেক্ষ ব্যক্তিদের সমন্বয়ে গঠিত হবে।

ওয়াল ইলেভেনের কুশীলব বিষয় খালিদ মাহমুদের বক্তব্যের প্রেক্ষিতে প্রিন্স বলেন, ওয়ান ইলেভেনের আসল কুশীলব হচ্ছে আওয়ামী লীগ। ওই সরকারের সব কাজের বৈধতা আওয়ামী লীগ আগেই দিয়ে রেখেছিল।

ঘটনাপ্রবাহ : একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter