ব্যারিস্টার মইনুলের সঙ্গে দেখা করতে পারেননি তার আইনজীবীরা

  যুগান্তর রিপোর্ট ২৩ অক্টোবর ২০১৮, ০১:৪৯ | অনলাইন সংস্করণ

সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলছেন সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন। ছবি: যুগান্তর
সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলছেন সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন। ছবি: যুগান্তর

জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতা ব্যারিস্টার মইনুল হোসেনকে গ্রেফতার করে ডিবি কার্যালয়ে নেয়ার খবরে অন্যদের মধ্যে ছুটে আসেন সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন। তিনি সম্পর্কে ব্যারিস্টার মইনুলের মামা।

মিন্টো রোডের ডিবি কার্যালয়ের সামনে এলেও অনুমতি না পাওয়ায় ব্যারিস্টার মইনুল হোসেনের সঙ্গে দেখা করতে পারেননি। রাত পৌনে ১১টার দিকে তিনি মিন্টো রোডে অবস্থিত ডিবি কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নেন।

ফিরে যাওয়ার সময় তিনি সাংবাদিকদের বলেন, মইনুলকে কোন মামলায় গ্রেফতার করা হয়েছে সংবিধান অনুযায়ী তার আইনজীবীর জানার অধিকার আছে। কিন্তু আমরা যখন তার গ্রেফতারের সংবাদ পেয়ে দেখা করতে এলাম তখন আমাদের ডিবি কার্যালয়ে ঢুকতে দেয়া হয়নি। ঊর্ধ্বতনদের সঙ্গেও কথা বলতে দেয়া হয়নি।

তিনি বলেন, শুনেছি তাকে মানহানির মামলায় গ্রেফতার করা হয়েছে। গত দু’দিনে তার বিরুদ্ধে তিনটি মামলা হয়েছে। ঠিক কোন মামলায় তাকে গ্রেফতার করা হল তা জানতেই এসেছিলাম। আমি ডিবি অফিসের গেটে থাকা অফিসারকে অনুরোধ করি ভেতরে ঢুকতে দেয়ার জন্য। কিন্তু সেখানকার কর্মকর্তারা উচ্চপর্যায়ে কথাবার্তা বলার পরামর্শ দেন।

একাদশ সংসদ নির্বাচনের আগে কামাল হোসেনের উদ্যোগে বিএনপিকে নিয়ে গঠিত জাতীয় ঐক্যফ্রন্টে সক্রিয় আছেন ব্যরিস্টার মইনুল। রবসহ ফ্রন্টের বিভিন্ন নেতার বাড়িতে বৈঠকে তার নিয়মিত যাতায়াত।

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের উপকমিশনার (উত্তর) মশিউর রহমান যুগান্তরকে জানান, গ্রেফতারের পরপরই মইনুল হোসেনকে ডিবি কার্যালয়ে নেয়া হয়েছে।

দায়িত্বশীল এক গোয়েন্দা কর্মকর্তা বলেন, মইনুলকে গ্রেফতারে বিকাল থেকেই তাদের আয়োজন পাকাপাকি হয়। তারপর সন্ধ্যার পর থেকে পুলিশ ও গোয়েন্দা পুলিশ রবের বাসার দিকে যায়। ওই বাসায় মইনুল অবস্থান করছিলেন। পরে তাকে গোয়েন্দা পুলিশের পক্ষ থেকে গ্রেফতার করা হবে জানিয়ে একটি এসএমএস পাঠানো হয়।

আজ (মঙ্গলবার) সকালে রংপুরের মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে ঢাকা মহানগর মুখ্য হাকিমের আদালতে সোপর্দ করা হবে।

মইনুল হোসেমনকে গ্রেফতারের পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় সাংবাদিক মাসুদা ভাট্টি বলেন, আমি আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। আমার চাওয়া প্রচলিত আইনে তার বিচার হোক। সত্য প্রকাশ পাক। তার ওপর আমার ব্যক্তিগত কোনো রাগ বা ক্ষোভ নেই।

ডিবির যুগ্ম-কমিশনার মাহবুব আলম যুগান্তরকে জানান, আটকের পরপরই ব্যারিস্টার মইনুলকে গোয়েন্দা কার্যালয়ে আনা হয়েছে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদও করা হচ্ছে।

অভিযানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একজন পুলিশ কর্মকর্তা যুগান্তরকে জানান, ব্যারিস্টার মইনুলকে যখন গাড়িতে তুলে নেয়া হয় তখন তিনি জানতে চান, তাকে কোথায় নিয়ে যাওয়া হবে? জবাবে একজন গোয়েন্দা কর্মকর্তা বলেন, ‘আপনাকে মিন্টো রোডে নেয়া হবে।’ গাড়িতে ওঠার পরই ব্যারিস্টার মইনুল বাসায় ফোন করে তাকে নিয়ে যাওয়ার বিষয়টি জানান।

প্রসঙ্গত, সাংবাদিক মাসুদা ভাট্টিকে মানহানির রংপুরের দায়ের করা মানহানির মামলায় সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ব্যারিস্টার মইনুল হোসেনকে গ্রেফতার করা হয়।

সোমবার রাত ৯টা ২৫ মিনিটে ডিবি পুলিশের একটি দল রাজধানীর উত্তরায় জেএসডি নেতা আ স ম আবদুর রবের বাসা থেকে তাকে গ্রেফতার করে। ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের যুগ্ম-কমিশনার মাহবুব আলম যুগান্তরকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, ব্যারিস্টার মইনুলকে রংপুর ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় দায়ের করা মামলায় গ্রেফতার করা হয়েছে। মঙ্গলবার তাকে আদালতে নেয়া হবে।

রংপুরে সোমবার ব্যারিস্টার মইনুল হোসেনের বিরুদ্ধে ১০ কোটি টাকার মানহানির মামলা করেন মানবাধিকারকর্মী মিলি মায়া। তিনি রংপুর নগরীর মুলাটোল মহল্লার বাসিন্দা। মামলাটি তার পক্ষে রংপুরের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে দাখিল করেন সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট আইনুল হোসেন। আদালতের বিচারক আরিফা ইয়াসমিন মুক্তা মামলাটি গ্রহণ করেন।

জানা গেছে, ব্যারিস্টার মইনুল রাতে উত্তরায় আ স ম আবদুর রবের বাসায় বৈঠক করতে যান। আটকের আগে ডিবি পুলিশের একটি টিম তার সঙ্গে দেখা করে। তার গতিবিধি লক্ষ্য করছিলেন গোয়েন্দারা। একজন পুলিশ সুপার মর্যাদার কর্মকর্তা এর নেতৃত্ব দেন।

এদিকে সাংবাদিক মাসুদা ভাট্টি কোন তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে ব্যারিস্টার মইনুল হোসেনকে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের মিটিংয়ে জামায়াতের প্রতিনিধি হিসেবে অংশগ্রহণ করেছেন বলে মন্তব্য করেন, তা জাতির সামনে তুলে ধরতে তাকে একটি আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে। সোমবার আইনজীবী সমাজের পক্ষে সুপ্রিমকোর্টের আইনজীবী এসএম জুলফিকার আলী জুনু রেজিস্ট্রি ডাকযোগে মাসুদা ভাট্টিকে এ নোটিশ পাঠান। পাশাপাশি নোটিশের জবাব না পাওয়া গেলে মাসুদা ভাট্টির বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণে ডিএমপি পুলিশ কমিশনারকে অনুরোধ জানানো হয়েছে। এছাড়া ওই উকিল নোটিশে মাসুদা ভাট্টিকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ব্যারিস্টার মইনুল হোসেনের কাছে ক্ষমা চাইতে বলা হয়েছে।

ঘটনাপ্রবাহ : মাসুদা ভাট্টি-মইনুল হোসেন বিতর্ক

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter