সেই তরুণীকে নিয়ে তসলিমার স্ট্যাটাস!

  যুগান্তর ডেস্ক ২৫ অক্টোবর ২০১৮, ১৮:৫৮ | অনলাইন সংস্করণ

সেই তরুণীকে নিয়ে তসলিমার স্ট্যাটাস!
তসলিমা নাসরিন। ফাইল ছবি

সোমবার রাতে ঢাকার রামপুরা এলাকায় চেকপোস্টে তরুণীর সঙ্গে পুলিশের বাদানুবাদের জেরে দুই পুলিশ সদস্য সাময়িক বরখাস্ত হয়েছেন। বাদানুবাদের ওই ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা হয়েছে। এবার এ নিয়ে মন্তব্য করেছেন ব্যাপক আলোচিত লেখিকা তসলিমা নাসরিন।

বৃহস্পতিবার দুপুর ১টা ৩৭ মিনিটে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এনিয়ে একটি স্ট্যাটাস দেন তসলিমা নাসরিন।

তার স্ট্যাটাসটি হুবহু তুলে ধরা হলো-

ঢাকা শহরে রাত আড়াইটায় এক মেয়ে অটোয় করে কোথাও যাচ্ছিল, পুলিশ অটোটিকে থামিয়ে মেয়েটির সঙ্গে কথা বলেছে, ওই কথাগুলো নিশ্চিতই চূড়ান্ত অপমানজনক। কথোপকথনের ভিডিওটি পুলিশই ফেসবুকে পোস্ট করেছে।ওটি দেখে মানুষ তেলেবেগুনে জ্বলে উঠেছে। পুলিশের আচরণ দেখে ভীষণ ক্ষুব্ধ সবাই। আমার কাছে কিন্তু পুলিশের আচরণ মোটেও অস্বাভাবিক বলে মনে হয়নি।

পুলিশ যেসব প্রশ্ন করেছে, মেয়েটিকে একই প্রশ্ন তার বাবা মা আত্মীয়স্বজন, পড়শি, কলিগ, বন্ধু-বান্ধবী, চেনা অচেনা সবাই করত। পুলিশ এই সমাজেরই মানুষ। সমাজে মেয়েদের মানুষ যে চোখে দেখে, পুলিশও সেই চোখে দেখে। সমাজের পুরুষেরা মেয়েদের যৌন হেনস্তা করে, পুলিশও করে। সমাজের পুরুষরা মেয়েদের ধর্ষণ করে, খুন করে, পুলিশও করে।

আর সব লোক যে প্রশ্ন করত, সে রাতে পুলিশ সেই প্রশ্নই করেছে, এত রাতে কেন বাড়ির বাইরে! কোত্থেকে ফিরছে মেয়ে, হোটেল থেকে নাকি! মেয়েটা নিশ্চয়ই খারাপ মেয়ে! আমি বরং ধন্যবাদ দিই পুলিশকে যে তারা ল্যাং মেরে মেয়েটিকে তুলে নিয়ে গিয়ে কোথাও ধর্ষণ করে যে মেরে ফেলে রাখেনি। পারত তো। পুলিশ কেন মেয়েদের ভক্ষক না হয়ে রক্ষক হবে! তাদের কি ট্রেনিংয়ের সময় শেখানো হয় মেয়েদের অধিকারকে পুরুষের অধিকারের সমান বলে বিবেচনা করতে? তাদের কি শেখানো হয় মেয়েদের একই সম্মান দিতে, যে সম্মান তারা পুরুষকে দেয়? শেখানো হয় নিরপরাধ নারী পুরুষকে হেনস্থা করার নয়, নিরাপত্তা দেয়ার ভার পুলিশের! শেখানো হয় না। শেখানো হয় না বলে সমাজের আর সব পুরুষ যেমন নারীকে যৌন বস্তু বলে মনে করে, পুলিশও মনে করে।

আমার কাছে বরং অস্বাভাবিক মনে হয়েছে মেয়েটির আচরণ। ঠাসঠাস করে কী রকম কথার পিঠে কথা বলছিল! পুলিশকে ভয় না পেয়ে পুলিশকেই নির্ভীকের মতো প্রশ্ন করছিল। আমার যখন খুশি বাইরে বেরোব, তাতে আপনাদের সমস্যা কী? এই প্রশ্ন রাত-বিরাতে একা একটি মেয়ে অসভ্য পুলিশ দ্বারা বেষ্টিত হয়ে করেছে। কটা মেয়ে করতে পারবে? সমাজের নারীবিরোধী নিয়মনীতি হাজার বছর ধরে মেয়েদের বোবা, ভীতসন্ত্রস্ত, বিনীত, লজ্জাবনত করে রেখেছে। মেয়েটি যে শেখানো জিনিসগুলোকে তুচ্ছ করতে পেরে নিজের মর্যাদা নিজে বজায় রেখেছে, এটিই অস্বাভাবিক, এবং এটিই ইউনিক এবং এটির কারণেই মেয়েটিকে স্যালুট।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×