রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শুরু নভেম্বরের মধ্যে: মিন্ট থোয়ে

  উখিয়া (কক্সবাজার) প্রতিনিধি ৩১ অক্টোবর ২০১৮, ১৮:০৯ | অনলাইন সংস্করণ

রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ডি-৫ কমিউনিটি হলে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন মিয়ানমারের পররাষ্ট্র সচিব মিন্ট থোয়ে
রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ডি-৫ কমিউনিটি হলে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন মিয়ানমারের পররাষ্ট্র সচিব মিন্ট থোয়ে। ছবি: উখিয়া প্রতিনিধি

নভেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের মধ্যে থেকে শনাক্তকৃত ৫ হাজার রোহিঙ্গাকে প্রথম ধাপে ফেরত নেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন বাংলাদেশ-মিয়ানমার জয়েন্ট ওয়ার্কিং কমিটির মিয়ানমার প্রতিনিধিদলের নেতা ও সেদেশের পররাষ্ট্র সচিব মিন্ট থোয়ে। এখান থেকে গিয়ে মিয়ানমার সরকারের সঙ্গে আলোচনা করে বাকি রোহিঙ্গাদেরও পর্যায়ক্রমে ফেরত নেয়ার কথা দেন মিয়ানমার পররাষ্ট্র সচিব।

একই সঙ্গে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের নিরাপত্তা, নাগরিকত্বসহ বিভিন্ন দাবিদাওয়া বিবেচনার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।

মিয়ানমারের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল কক্সবাজারের উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন ও তাদের সঙ্গে আলাপ শেষে দুপুর দেড়টার দিকে কক্সবাজারের উখিয়ার কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ডি-৫ কমিউনিটি হলে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে মিয়ানমারের পররাষ্ট্র সচিব এই আশ্বাস দেন।

এ সময় জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপের বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের নেতা পররাষ্ট্র সচিব শহিদুল হক, চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার মো. আব্দুল মান্নান, কক্সবাজার শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মো. আবুল কালাম, কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেন, পুলিশ সুপার এবিএম মাসুদ হোসেন ও উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নিকারুজ্জামানসহ দুদেশের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

গত বছরের ২৫ আগস্ট মিয়ানমারের রাখাইনে সহিংস ঘটনার পর প্রাণভয়ে বাংলাদেশে পালিয়ে আসার ১৪ মাসের মাথায় দ্বিতীয়বারের মতো মিয়ানমারের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল কক্সবাজারের উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করেছেন। রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের জন্য গঠিত জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপের মিয়ানমার দলের নেতা ও সেদেশের পররাষ্ট্র সচিব মিন্ট থোয়েসহ ১৬ সদস্যের একটি প্রতিনিধিল বুধবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে কক্সবাজারের উখিয়ার কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করেন।

ক্যাম্পে পৌঁছে মিয়ানমার প্রতিনিধিদল সেখানে দায়িত্বরত কর্মকর্তা, আন্তর্জাতিক বিভিন্ন দাতা সংস্থার কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। পরে কুতুপালং ডি-৫ ব্লকের একটি কমিউনিটি সেন্টারে শতাধিক নির্যাতিত রোহিঙ্গা প্রতিনিধিদের সঙ্গেও আলাপ করেন এবং তাদের বিভিন্ন দাবি মনোযোগ দিয়ে শুনেন।

এদিন বেলা সাড়ে ১১টার দিকে কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্পে এসে প্রথমে ক্যাম্প কর্মকর্তাসহ আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থার কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। পরে আশ্রয় নেয়া শতাধিক রোহিঙ্গা নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।

রাখাইনের বিভিন্ন নির্যাতনের ঘটনার পাশাপাশি প্রত্যাবাসনের শর্ত হিসেবে রোহিঙ্গাদেরও বিভিন্ন দাবি তুলেন ধরেন। এ সময় মিয়ানমারের প্রতিনিধিদলের নেতা মিন্ট থোয়ে তাদের দাবি মনোযোগ দিয়ে শুনেন এবং বিবেচনার আশ্বাস দেন।

বৈঠকে রোহিঙ্গারা নেতারা জানিয়েছেন, তাদের নাগরিকত্বসহ নিজেদের ভিটে বাড়ি ও মৌলিক অধিকার নিশ্চিত না করলে তারা মিয়ানমারের ফেরত যাবে না।

মিয়ানমারের পররাষ্ট্র সচিব মিন্ট থোয়ের সঙ্গে কথা বলেছেন, বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গা নেতা আব্দুর রহিম (৪৫)। জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমরা মিয়ানমারের পররাষ্ট্রসচিব মিন্ট থোয়ের সঙ্গে আলাপ করেছি এবং রাখাইনে বর্বর নির্যাতনের কথা তুলে ধরেছি। এ সময় আমরা বলেছি, আমরা মিয়ানমারের নাগরিক। আমাদের নাগরিকত্বেও স্বীকৃতি দিতে হবে। নিজেদের ভিটেবাড়ি ও জমিজমা ফেরত দিতে হবে। মিয়ানমারের যাওয়ার সময় ট্রানজিট ক্যাম্পে তিন দিনের বেশি রাখা যাবে না। এ কথা শোনার পর আমার প্রশ্নের কোনো উত্তর দেয়নি তারা।’

রোহিঙ্গা নেতা মহিব উল্লাহ বলেন, ‘আমরা মিয়ানমারের পররাষ্ট্র সচিবকে বলেছি আমাদের ফিরিয়ে নেয়ার আগে আকিয়াব শহরে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অবস্থানরত রোহিঙ্গাদের রাখাইনে ফেরত নিয়ে যান এবং রাখাইনে স্বাধীনভাবে চলাফেরার সুযোগ করে দেন। এতে করে বাংলাদেশের রোহিঙ্গারা এমনিতে চলে যাবে।’

রোহিঙ্গা নারী ছেকুফা বেগম বলেন, ‘পররাষ্ট্র সচিব আমাদের বলেছেন মিয়ানমারে ফিরে গিয়ে প্রথমে ন্যাশনাল ইনভেস্টিগেশন কার্ড (এনভিসি) নিতে হবে। এতে বোঝা যায় মিয়ানমার আমাদের কীভাবে ফিরিয়ে নিচ্ছে। এ রকম হলে আমরা কোনোভাবেই বাংলাদেশ থেকে মিয়ানমারে যাব না।’

একই কথা বলছেন, রোহিঙ্গা নেতা হামিদ হোসেন। তিনি বলেন, ‘আমাদেরকে রাখাইনে আন্তর্জাতিক কোনো বাহিনীর নিরাপত্তায় ফিরিয়ে নিয়ে যেতে হবে। মিয়ানমারের সংসদে সেদেশের ১৩৫টি জাতিগোষ্ঠীর মতো আমাদের মর্যাদা দিয়ে ফিরিয়ে নিতে হবে।’

উত্তরে মিয়ানমারের পররাষ্ট্রসচিব আমাদের বলেছেন, ‘বিষয়টি মিয়ানমারের ফিরে গিয়ে সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলাপ করতে হবে। এতে বোঝা যায় আমাদের মিয়ানমারের ফিরিয়ে নেয়ার ব্যাপারে নাটক করছে। আমরা মিয়ানমারের মিথ্যা আশ্বাসে রাজি নয়।’

মিয়ানমারের পররাষ্ট্র সচিব মিন্ট থোয়ের সঙ্গে অন্যদের মধ্যে কথা বলেছেন রোহিঙ্গা নেতা আমান উল্লাহ, দেলোয়ার সাদেক, ছৈয়দ উল্লাহ, মাস্টার কামাল, নুরুল আলমসহ সিরাজুল মোস্তফা, মোহাম্মদ নুর, জামালিকা বেগমসহ শতাধিক রোহিঙ্গা নেতা ও নেত্রীরা। এ সময় তারা মিয়ানমারের ভাষায় কথা বলেন।

রোহিঙ্গাদের বিভিন্ন দাবিদাওয়ার প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মিন্ট থোয়ে আরও বলেন, তারা এখানে এসে রোহিঙ্গাদের কথা শুনেছেন এবং বেশকিছু শর্ত দিয়েছেন। মিয়ানমারে ফিরে গিয়ে সরকারের ঊর্ধ্বতন মহলে বিষয়টি জানাবেন।

সাংবাদিকদের সঙ্গে ব্রিফিং করার পর বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া হিন্দু রোহিঙ্গা প্রতিনিধিদের সঙ্গেও আলাপ করেন। তবে জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপের বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলের কোনো কর্মকর্তা সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেননি।

ঘটনাপ্রবাহ : রোহিঙ্গা বর্বরতা

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter
×