সংলাপে সন্তুষ্ট নয় ঐক্যফ্রন্ট

চাইলে ফের আলোচনা হতে পারে : ওবায়দুল কাদের

  যুগান্তর রিপোর্ট ০২ নভেম্বর ২০১৮, ০১:২৭ | অনলাইন সংস্করণ

সংলাপের শুরুতে বক্তব্য দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ছবি-সংগৃহীত
সংলাপের শুরুতে বক্তব্য দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ছবি-সংগৃহীত

বহুল প্রত্যাশিত সংলাপে সন্তুষ্ট নয় জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। বৃহস্পতিবার সংলাপ শেষে গণভবন থেকে বেরিয়ে বেইলি রোডের বাসায় এক আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়ায় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ড. কামাল হোসেন বলেন, সংলাপ থেকে তেমন কোনো সমাধান পাওয়া যায়নি।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, আমরা এ সংলাপে সন্তুষ্ট নই। ঐক্যফ্রন্টের সাত দফা দাবি মেনে নেয়া না হলে আন্দোলন চলবে বলেও জানায় ঐক্যফ্রন্ট।

অন্যদিকে গণভবন থেকে বেরিয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, খোলামেলা পরিবেশে আলোচনা হয়েছে। চাইলে আরও আলোচনা হবে। ৮ নভেম্বরের পর যে কোনোদিন ফের সংলাপ হতে পারে। এ ক্ষেত্রে আরও ছোট পরিসরে বসা যেতে পারে।

সংলাপ শেষে গাড়ি নিয়ে বেরিয়ে যাওয়ার সময় ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে রাজি হননি। সংলাপে সন্তুষ্ট কিনা, সংলাপে কি কি হল সাংবাদিকদের বারবার এমন জিজ্ঞাসার মুখে তিনি বলেন, সন্তুষ্ট নই। আর কোনো কথা তিনি বলেননি।

তবে গণভবন থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সময় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ড. কামাল হোসেনকে সংলাপ কেমন হয়েছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আলোচনা ভালো হয়েছে। তবে এ বিষয়ে আর কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি তিনি।

রাত ১০টা ৩৫ মিনিটে সংলাপ শেষ হয়। সাড়ে তিন ঘণ্টার সংলাপে খোলামেলাভাবে অনেক বিষয় আলোচনা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ঐক্যফ্রন্ট ও আওয়ামী লীগের নেতারা। বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সবাইকে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তবে খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবির বিষয়ে আইন তার নিজের গতিতে চলবে এমন মনোভাবই দেখানো হয়েছে।

গণভবন থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পথে বিএনপি নেতা ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকার বলেছেন, ‘এ বিষয়ে ড. কামাল হোসেন ব্রিফ করবেন।’ আবার বিএনপির আরেক নেতা ড. মঈন খান বলেছেন, ‘সব বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। এ বিষয়ে মহাসচিব ব্রিফ করবেন।’

বেরিয়ে যাওয়ার সময় দলটির নেতা ড. আবদুর রাজ্জাক বলেছেন, আলোচনা খুবই সুন্দর হয়েছে। তবে আলোচনার সফলতা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি বলতে পারব না ওবায়দুল কাদের সাহেব বলবেন।’ আর সরকারের জোটে থাকা জাসদের (আম্বিয়া-বাদল) নেতা মাঈন উদ্দিন খান বাদল বলেছেন, ‘খুবই ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে। ইটস অ্যা পলিটিক্যাল স্টার্ট।’

এর আগে নৈশভোজের বিরতি দিয়ে রাত ১০টার দিকে সংলাপ আবারও শুরু হয়। রাত বাড়ায় ৯টা ২০-এর দিকে প্রধানমন্ত্রীর আহ্বানে নৈশভোজে উভয়পক্ষের সব নেতা অংশ নেন। উভয়পক্ষের নেতাদের আসনের সামনেই তাদের পছন্দ অনুযায়ী খাবার পরিবেশন করা হয়। খাবার খেতে খেতেই তারা নিজেদের মধ্যে কথা বলতে থাকেন। তবে রাত ১০টার দিকে আনুষ্ঠানিকভাবে আবারও আলোচনা শুরু হয়ে তা পরবর্তী আধা ঘণ্টা স্থায়ী হয়।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে আওয়ামী লীগ ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের মধ্যে সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগসহ ১৪ দলের ২২ সদস্য এবং ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে ঐক্যফ্রন্টের ১৯ সদস্য অংশ নেন। সন্ধ্যা সাতটার কিছু পরে শুরু হয় এ সংলাপ।

শুরুতে শুভেচ্ছা বক্তব্যে সবাইকে স্বাগত জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, গণভবন জনগণের ভবন, এখানে আপনাদের সবাইকে স্বাগত জানাচ্ছি। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের সময় কেমন উন্নয়ন হয়েছে সেই বিচারের ভার আপনাদের ওপর ছেড়ে দিলাম। এ দেশটা আমাদের সবার, আসুন সবাই মিলে দেশের উন্নয়ন করি। দেশের মানুষ যাতে সুখে-শান্তিতে বসবাস করে আমরা সবাই মিলে সে কাজটি করি। দেশের জন্য আমরা যে আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন করে যাচ্ছি এর গতিধারা অব্যাহত রাখতে হবে। তিনি বলেন, আমরা দীর্ঘ সংগ্রামের পথ পাড়ি দিয়ে গণতন্ত্রের ধারা অব্যাহত রেখেছি।

এর আগে সন্ধ্যা পৌনে সাতটার দিকে ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে ঐক্যফ্রন্টের নেতারা গণভবনে পৌঁছান। গাড়িবহর নিয়ে তারা সরাসরি গণভবনে প্রবেশ করেন। আগে প্রবেশ করেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান। সবার শেষে আসেন নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না। অসুস্থতার কারণে সংলাপে অংশ নিতে পারেননি বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়।

গণভবনে পৌঁছার পর আওয়ামী লীগের নেতারা ঐক্যফ্রন্টের নেতাদের স্বাগত জানান। তারা ঐক্যফ্রন্টের নেতাদের নিয়ে ব্যাঙ্কুয়েট হলে প্রবেশ করেন। কিছুক্ষণ পর সেখানে উপস্থিত হন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তার আগমনের সঙ্গে সঙ্গে সবাই দাঁড়িয়ে তাকে সালাম জানান। এরপর সাতটার দিকে শুরু হয় আনুষ্ঠানিক সংলাপ। শুরুতে প্রধানমন্ত্রী শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন। এরপর শুরু হয় আনুষ্ঠানিক সংলাপ। রুদ্ধদ্বার এ বৈঠক চলে সাড়ে তিন ঘণ্টা। সন্ধ্যা সাতটা থেকে রাত ১০টা ৩৫ মিনিট পর্যন্ত সভা চলে।

সংলাপ শেষে আওয়ামী লীগের পক্ষে দলটির সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের গণভবনের সামনে এবং ঐক্যফ্রন্টের পক্ষে বেইলি রোডে ড. কামাল হোসেন এবং মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আলাদাভাবে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন।

শুভেচ্ছা বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ৯ বছর ১০ মাস হতে চলল আমরা সরকারে। এই সময়ের মধ্যে দেশের কতটুকু উন্নয়ন করতে পেরেছি, সেটা নিশ্চয়ই আপনারা বিবেচনা করে দেখবেন। তবে এটুকু বলতে পারি, বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ ভালো আছে; তাদের ভাগ্যের পরিবর্তন ঘটছে। দিনবদলের যে সূচনা আমরা করেছিলাম সেই দিন বদল হয়েছে। এটাকে আরও সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে।

তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়ন করা, লাখো শহীদের রক্তের বিনিময়ে আমাদের এ স্বাধীনতা। আজ সেই স্বাধীনতার সুফল যেন প্রতিটি মানুষের ঘরে পৌঁছে দিতে পারি সেটাই একমাত্র লক্ষ্য। সে লক্ষ্য নিয়েই আমরা কাজ করছি। সংলাপ চলাকালে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট এবং আওয়ামী লীগ নেতারা পরস্পরে হালকা নাস্তা এবং শরবত গ্রহণ করেন।

সংলাপে দুই পক্ষ সামনাসামনি বসেন। প্রধানমন্ত্রীর বিপরীত দিকে ছিলেন ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ড. কামাল হোসেন। প্রধানমন্ত্রীর ডানপাশে ছিলেন দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এবং বামপাশে শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু। ড. কামাল হোসেনের ডানপাশে বসেন গণফোরামের নির্বাহী সভাপতি অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী ও বামপাশে ছিলেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতারা সাত দফা আলোচনার প্রস্তুতি নিয়ে গণভবনে গেছেন। সাত দফায় আছে ১. অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের লক্ষ্যে সরকারের পদত্যাগ, জাতীয় সংসদ বাতিল, আলোচনা করে নিরপেক্ষ সরকার গঠন এবং খালেদা জিয়াসহ সব রাজবন্দির মুক্তি ও মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার। ২. গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিদের সমন্বয়ে নির্বাচন কমিশনের পুনর্গঠন ও নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার না করার নিশ্চয়তা দিতে হবে। ৩. ব্যক্তি, সংবাদপত্র, টেলিভিশন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও সব রাজনৈতিক দলের সভা-সমাবেশের স্বাধীনতা এবং নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করতে হবে। ৪. কোটা সংস্কার ও নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন, সাংবাদিকদের আন্দোলন, সামাজিক গণমাধ্যমে স্বাধীন মতপ্রকাশের অভিযোগে ছাত্রছাত্রী, সাংবাদিকসহ সবার বিরুদ্ধে দায়ের করা হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহার ও গ্রেফতারকৃতদের মুক্তি দিতে হবে।

ডিজিটাল নিরাপত্তাসহ সব কালো আইন বাতিল করতে হবে। ৫. নির্বাচনের ১০ দিন আগে থেকে নির্বাচনের পর সরকার গঠন পর্যন্ত বিচারিক ক্ষমতাসহ সেনাবাহিনী মোতায়েন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নিয়োজিত ও নিয়ন্ত্রণের পূর্ণ ক্ষমতা নির্বাচন কমিশনের ওপর ন্যস্ত করতে হবে।

৬. নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক নিয়োগের ব্যবস্থা নিশ্চিত এবং সম্পূর্ণ নির্বাচন প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণে ভোট কেন্দ্র, পুলিং বুথ ও কন্ট্রোল রুমে তাদের প্রবেশের ওপর কোনো ধরনের বিধিনিষেধ আরোপ না করা। নির্বাচনকালীন সময়ে গণমাধ্যমকর্মীদের ওপর যে কোনো ধরনের নিয়ন্ত্রণ বন্ধ করতে হবে। ৭. নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার তারিখ থেকে নির্বাচনের চূড়ান্ত ফল প্রকাশিত না হওয়া পর্যন্ত চলমান সব রাজনৈতিক মামলা স্থগিত রাখা এবং নতুন কোনো মামলা না দেয়ার নিশ্চয়তা দিতে হবে।

অন্যদিকে আওয়ামী লীগের নেতারা সংবিধানের আলোকে আলোচনার প্রস্তিুতি নিয়ে গণভবনে পৌঁছেছেন। সংলাপকে কেন্দ্র করে গণভবনের সামনে সংবাদকর্মী ছাড়াও ছিল উৎসুক জনতার ভিড়। ভেতরে যখন সংলাপ চলছিল ঠিক সেই সময় গণভবনের সামনের সড়কের আইল্যান্ডে অবস্থান নেন জাতীয় যুব ঐক্য প্রক্রিয়ার নেতাকর্মীরা।

এ সময় তারা মোমবাতি হাতে গলায় ব্যানার ঝুলিয়ে সংলাপের সফলতা কামনা করেন। গণভবনের ভেতরেও ছিল উৎসবের আমেজ। বিএনপি নেতারা প্রবেশ করার পর আওয়ামী লীগের নেতারা তাদের স্বাগত জানান। এ সময় অনেকেই বলতে থাকেন দীর্ঘদিন পর দেখা হল। ব্যক্তিগত কুশল বিনিময়ও করেন তারা।

গত সোমবার ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে আওয়ামী লীগের সংলাপের ঘোষণা পুরো দেশের রাজনীতিতে স্বস্তির আবহ নিয়ে আসে। এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকেও এই উদ্যোগের প্রশংসা করা হয়েছে। সংলাপের মধ্য দিয়ে সবকিছু সমাধান না হলেও রাজনীতিতে একটা ইতিবাচক ধারার সৃষ্টি হবে বলে মনে করছেন বিশিষ্টজনরা। তারা বলেন, এই সংলাপের মধ্য দিয়ে একে অপরের মুখ না দেখার যে রাজনীতি শুরু হয়েছিল তার অবসান হবে। নির্বাচনের আগে এ সংলাপ রাজনীতিতে সুবাতাস বয়ে আনবে বলে প্রত্যাশা তাদের।

সব দলের অংশগ্রহণে একটি অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের লক্ষ্যে ধারাবাহিক সংলাপের অংশ হিসেবে আজ শুক্রবার বিকল্পধারা বাংলাদেশের সঙ্গে সংলাপে বসবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ৫ নভেম্বর জাতীয় পার্টির সঙ্গে সংলাপে বসছেন তিনি।

সংলাপে আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ২২ জন প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন। তারা হলেন, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু, বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী, শেখ ফজলুল করিম সেলিম, স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম, কাজী জাফর উল্লাহ এবং ড. আবদুর রাজ্জাক, আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, সাবেক পানিসম্পদমন্ত্রী রমেশ চন্দ্র সেন, আবদুল মতিন খসরু, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ, ডা. দীপু মনি, জাহাঙ্গীর কবির নানক, আবদুর রহমান, প্রচার সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ, দফতর সম্পাদক ড. আবদুস সোবহান গোলাপ এবং আইন সম্পাদক শ. ম. রেজাউল করিমও।

১৪ দলের শরিকদের মধ্যে সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক দিলীপ বড়ুয়া, ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি ও সমাজকল্যাণমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন, জাসদ একাংশের সভাপতি ও তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, জাসদ আরেক অংশের কার্যকরী সভাপতি মাঈনুদ্দিন খান বাদল সংলাপে অংশ নেন।

অন্যদিকে ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে ঐক্যফ্রন্টের ২০ জন প্রতিনিধি সংলাপে অংশ নেন। প্রতিনিধি দলে ছিলেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, ব্যারিস্টার মুহম্মদ জমিরউদ্দিন সরকার, মির্জা আব্বাস, ড. আবদুল মঈন খান, জোটের শরিক জাতীয়

সমাজতান্ত্রিক দল- জেএসডির পক্ষে সংলাপে প্রতিনিধিত্ব করবেন তিনজন। তারা হলেন, দলটির সভাপতি আসম আবদুর রব, সহসভাপতি তানিয়া রব, সাধারণ সম্পাদক আবদুল মালেক রতন।

গণফোরামের নেতাদের মধ্যে দলটির নির্বাহী সভাপতি অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মহসিন মন্টু, প্রেসিডিয়াম সদস্য মোকাব্বির খান, জগলুল হায়দার আফ্রিক, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ও ম শফিক উল্লাহ, নাগরিক ঐক্যের পক্ষে থাকবেন দলটির উপদেষ্টা এসএম আকরাম ও আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না, জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার নেতা সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহম্মেদ, আবম মোস্তফা আমিন ছাড়াও গণস্বাস্থ কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী সংলাপে অংশ নেন।

এদিকে সংলাপের প্রস্তুতি হিসেবে সকাল থেকেই আওয়ামী লীগ নেতারা ব্যস্ত সময় পার করেছেন। সন্ধ্যার এই সংলাপ উপলক্ষে বিকালে আওয়ামী লীগের ধানমণ্ডির অফিসে দলটি একটি যৌথ সভার আয়োজন করে। সভায় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের উপস্থিত নেতাদের কাছ থেকে সম্ভাব্য আলোচ্য বিষয়ে বিভিন্ন পরামর্শ নেন।

এদিকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সংলাপে অংশ নেয়ার আগে ব্যাপক হোমওয়ার্ক করেছেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতারা। এ জন্য তারা দফায় দফায় বৈঠক করেছেন। দিনভর ব্যস্ত সময় কাটিয়েছেন। বৃস্পতিবার সকালে ড. কামাল হোসেনের বেইলি রোডের বাসায় এক দফা রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল- জেএসডির সভাপতি আসম আবদুর রব এবং গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী।

বেলা ১১টার পর ড. কামাল হোসেনের মতিঝিলের চেম্বারে অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মহসিন মন্টু, সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য অ্যাডভোকেট জগলুল হায়দার আফ্রিকসহ দলের সিনিয়র নেতারা বৈঠক করেন। দুই ঘণ্টা চেম্বারে অবস্থান শেষে ড. কামাল হোসেন ফেরেন তার বেইলি রোডের বাসায়। এর আগে তোপখানা রোডের

কার্যালয়ে বৈঠক করেন নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না। দলের উপদেষ্টা এসএম আকরামও এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। বিকাল ৩টা পর আবার জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতারা ড. কামাল হোসেনের বাসায় সমবেত হন। সোয়া ৪টার দিকে তারা ফের বৈঠকে বসেন। ৫টা পর্যন্ত এই বৈঠক চলে।

এ সময় তারা আলোচনার কৌশল ঠিক করেন। সোয়া ৫টায় বেইলি রোড থেকে গণভবনের উদ্দেশে যাত্রা করেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতারা। ড. কামাল হোসেন তার নিজের গাড়িতে গণভবনে যান। অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী এবং মোস্তফা মহসিন মন্টু ড. কামাল হোসেনের গাড়িতে ছিলেন।

বাসা থেকে বের হওয়ার সময় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ড. কামাল হোসেন বলেন, আশা করি এই সংলাপের মধ্য দিয়ে দেশবাসী ভালো খবর পাবে। মানুষের ভোটের অধিকার নিশ্চিত হবে। তিনি এর বেশি কিছু এ সময় বলতে রাজি হননি। ঐক্যফ্রন্টের নেতাদের নিয়ে ড. কামাল হোসেন সাতটার কিছু আগে গণভবনে পৌঁছান।

এর আগে সংলাপে অংশ নিতে ঐক্যফ্রন্টের পক্ষ থেকে দুপুরে আরও পাঁচজনের নামের তালিকা যুক্ত করা হয়। ঐক্যফ্রন্ট নেতা ও গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মহসীন মন্টু দুপুরে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে নতুন পাঁচজনের নাম যুক্ত করেন। প্রথমে ১৬ জনের নামের তালিকা দিয়েছিল ঐক্যফ্রন্ট।

ঘটনাপ্রবাহ : বৃহত্তর জাতীয় ঐক্য

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter
×