মিরপুরে ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে গণমুখী সেমিনার অনুষ্ঠিত
মিরপুর (ঢাকা) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৮ এপ্রিল ২০২৬, ০২:০০ এএম
সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক।
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবস উপলক্ষে ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশের উদ্যোগে গণমুখী সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) সকালে রাজধানীর মিরপুরে ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশনের অডিটোরিয়ামে সেমিনারটি অনুষ্ঠিত হয়।
‘খেলাধুলা বাড়ায় প্রাণ, হৃদয় থাকে শক্তিমান’ শীর্ষক এই সেমিনারে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার শতাধিক মানুষ অংশ নেন। সেমিনারের শুরুতে পবিত্র কুরআন তেলাওয়াত করা হয়।
ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশের সভাপতি অধ্যাপক খন্দকার আব্দুল আউয়াল রিজভীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন সংগঠনের মহাসচিব অধ্যাপক ফজিলা-তুন্নেসা মালিক।
সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক বলেন, সবার জন্য মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে। এ লক্ষ্যে ধাপে ধাপে এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ, ই-হেলথ কার্ড চালু, স্বাস্থ্যবিমা ব্যবস্থা সম্প্রসারণ এবং পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপের মাধ্যমে চিকিৎসাসেবা উন্নয়নের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, মাদক ও তামাকের মতো নেশাজাতীয় দ্রব্য গ্রহণের ফলে তরুণসমাজ ভয়াবহ আসক্তির দিকে ঝুঁকে পড়ছে। এসব তরুণদের খেলাধুলায় আনতে সরকার উদ্যোগ নিয়েছে। হৃদরোগীদের কাছে ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন আস্থার জায়গায় পরিণত হয়েছে। এজন্য এই প্রতিষ্ঠানকে বিভাগীয় পর্যায়ে ছড়িয়ে দেওয়া প্রয়োজন বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।
মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ফাউন্ডেশনের অ্যাপিডেমিওলজি অ্যান্ড রিসার্চ বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. সোহেল রেজা চৌধুরী। তিনি বলেন, মানুষের স্বাস্থ্য, প্রাণিকুল ও পরিবেশ এই তিনটি একে অপরের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত। ‘ওয়ান হেলথ’ ধারণা অনুযায়ী, টেকসই স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তুলতে এই তিনটি ক্ষেত্রকে সমন্বিতভাবে বিবেচনা করতে হবে।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার শরফ উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী। তিনি বলেন, বর্তমানে তরুণদের মধ্যে ই-সিগারেট ব্যবহার ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। তাদের সুরক্ষায় তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন শক্তিশালী করা প্রয়োজন।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, দেশে অসংক্রামক রোগ বিশেষ করে হৃদরোগ আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। এ পরিস্থিতিতে চিকিৎসার পাশাপাশি প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা জোরদার করা জরুরি। নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম, সুষম খাদ্যগ্রহণ, তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার না করা ও খেলাধুলা হৃদরোগ প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
শেষে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতাল অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউটের পরিচালক বিগ্রে. জেনা. (অব.) অধ্যাপক মো. ইউনুছুর রহমান।
ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য স্বাস্থ্যকর এবং একটি নিরাপদ পৃথিবী গড়ে তোলার অঙ্গীকারকে সামনে রেখে বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও 'বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবস ২০২৬' উদ্যাপিত হচ্ছে। এ বছরের প্রতিপাদ্য 'স্বাস্থ্যসেবায় বিজ্ঞান, সুরক্ষিত সকল প্রাণ'।

