ভাসানচরে কারাগারের মতো রোহিঙ্গা ক্যাম্প নির্মাণ হচ্ছে: গার্ডিয়ান

  যুগান্তর ডেস্ক ২৯ নভেম্বর ২০১৮, ১২:৪৭ | অনলাইন সংস্করণ

ভাসানচরে কারাগারের মতো রোহিঙ্গা ক্যাম্প নির্মাণ হচ্ছে: গার্ডিয়ান
কক্সবাজারে রোহিঙ্গা শিশু। ছবি: গার্ডিয়ান

বাংলাদেশের পলি গঠিত দ্বীপ ভাসানচরে মিয়ানমারের রাখাইন থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের জন্য পুরোদস্তুর কংক্রিটের ক্যাম্প নির্মাণ করা হচ্ছে। শরণার্থীদের স্থানান্তরের বিতর্কিত পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই এসব ক্যাম্প নির্মাণ করা হচ্ছে।

একটি ভিডিও ফুটেজের বরাতে ব্রিটিশ দৈনিক গার্ডিয়ান এ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।

সর্বোচ্চ গোপনীয়তা বজায় রেখে ভাসানচরের উন্নয়ন কার্যক্রম চলছে। কিন্তু গার্ডিয়ান পত্রিকার জন্য গোপনে একটি ভিডিও ফুটেজ ধারণ করা হয়েছে।

এতে ১০ লাখের বেশি রোহিঙ্গা শরণার্থীকে আশ্রয় দিতে নির্মিত ক্যাম্পের বর্তমান পরিস্থিতি পুরোপুরি প্রকাশ পেয়েছে। আগামী বছরের শুরুতে রোহিঙ্গাদের এসব ক্যাম্পে সরিয়ে নিয়ে আসার কথা রয়েছে।

বাংলাদেশ সরকারের পরিকল্পনা অনুসারে, মিয়ানমারে নৃশংসতার শিকার হয়ে কক্সবাজারে আশ্রয় নেয়া সাত লাখ রোহিঙ্গা দ্বীপটিতে নির্মিত আশ্রয় শিবিরে স্থানান্তর করা হবে।

মেঘনা নদীতে পলি গঠিত ভাসানচর এর আগে বসতিশূন্য ছিল। বিচ্ছিন্ন দ্বীপটিতে কেবল নৌকা দিয়ে যাতায়াত করা যায়।

চলতি মাসে ধারণ করা এ ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, দুই মিটার চওড়া ও আড়াই মিটার উচ্চতার কক্ষগুলো কংক্রিটের ব্লকে নির্মিত। এতে ছোট ছোট গরাদের জানালা ও প্রতিটি ব্লকে একটি করে বাথরুম রয়েছে। ২৫টি বসতি ইউনিট মিলে একেকটি ব্লক।

একটি পরিবারের ভাগে পড়বে একটি ইউনিট। গত অক্টোবরে ভাসানচরে রোহিঙ্গাদের সরিয়ে নেয়ার কথা ছিল। কিন্তু সেখানে বসতি নির্মাণ এখনও চলমান থাকায় আগামী বছরের শুরুর দিকে এ স্থানান্তর করা হবে।

নির্মাণাধীন স্থলে দিনমজুর ছাড়া কারও প্রবেশের অনুমতি নেই। দ্বীপটির ভেতরে নির্মিত এসব বসতি পর্যবেক্ষণে বেছে বেছে জাতিসংঘ ও বাংলাদেশ সরকারের কর্মকর্তাদের প্রবেশের অনুমতি দেয়া হয়। এখন পর্যন্ত সেখানকার কার্যক্রমের কোনো আনুষ্ঠানিক ছবি প্রকাশ করা হয়নি।

গার্ডিয়ানের জন্য ধারণা করা ভিডিওটির সূত্র জানায়, বিষয়টি আতঙ্কজনক। কারাগারের মতো দেখতে কয়েক লাখ ইউনিট নির্মাণ করা হচ্ছে, যা রোহিঙ্গাদের একটি পুরো শহরের সঙ্গে খাপ খাবে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সূত্র আরও জানায়, শরণার্থীদের জন্য নির্মিত এসব আশ্রয়কেন্দ্রকে কারাক্যাম্পের মতো মনে হচ্ছে।

ভাসানচরে শরণার্থীদের স্থানান্তর নিয়ে মানবাধিকার সংস্থা ও বিভিন্ন এনজিও উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছে। আর ক্যাম্পের রোহিঙ্গারা বারবার বলছেন-নিজেদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে তারা সেখানে যাবেন না।

মূল ভূখণ্ড থেকে ৩০ কিলোমিটার দূরে ভাসানচর দ্বীপটি। দুই দশক আগে জেগে উঠেছিল এই চর। বিচ্ছিন্নতা ও দূরবর্তিতার কারণে রোহিঙ্গাদের সেখানে স্থানাস্তরিত করার প্রস্তাবটি বিতর্কিত।

মূল ভূখণ্ড থেকে সেখানে নৌকায় যেতে তিন ঘণ্টার বেশি সময় লাগে।

এ ছাড়া বন্যা ও ঘূর্ণিঝড় প্রবণতার কারণে দ্বীপটিতে বসবাস করা মানুষের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। এ ছাড়া রোহিঙ্গারা সেখানে কতটা স্বাধীনভাবে চলাফেরা করতে পারবেন, তা নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে।

যদি প্রাকৃতিক দুর্যোগ আঘাত হানে, তবে সেখান থেকে লাখ লাখ রোহিঙ্গাকে নিরাপদে সরিয়ে আনার ঝুঁকি ও জটিলতার ওপর গত বছর জোর দিয়েছিল বিভিন্ন বেসরকারি দাতব্য সংস্থা।

আগামী বছরের শুরুর দিকে নির্মাণ কার্যক্রম শেষ হবে। এর আগে ৩০ ডিসেম্বর বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। তবে গার্ডিয়ানের সঙ্গে এ পরিকল্পনা নিয়ে কথা বলতে অস্বীকার করেছেন শরণার্থী কমিশনার আবুল কালাম।

সম্প্রতি মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ জানিয়েছে, মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে বিচ্ছিন্নতার জন্য দ্বীপটি কারাকেন্দ্রে রূপ নেবে।

হিউম্যান রাইটস ওয়াচের এশিয়ার উপপরিচালক ফিল রবার্টসন বলেন, একটি বিচ্ছিন্ন দ্বীপকে কংক্রিটের ব্লকের আবাসস্থলে রূপ দেয়ায় রোহিঙ্গাদের স্বাধীনভাবে চলাফেরা ও স্থায়িত্ব নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে।

তিনি বলেন, এসব আবাসন ব্লক দেখতে মজবুত। কিন্তু টাইফুন কিংবা বন্যা আঘাত হানলে তারা কীভাবে নিরাপদ স্থানে চলে যাবেন। ঢাকা কী নিশ্চয়তা দিতে পারবে, দ্বীপটি কেউ স্বেচ্ছায় যেতে চাইলে তাদের স্বাধীনভাবে ফিরে আসার অনুমতি থাকবে।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক দাতব্য সংস্থা রেস্টলেস বিয়িংসের সহপরিচালক মাবরুর আহমেদ বলেন, দ্বীপের ভেতর শরণার্থীদের জন্য নির্মিত আবাসস্থল আরেকটি সহায়তাহীন সমাধান। রোহিঙ্গাদের সঙ্গে আলাপ না করেই তাদের সেখানে জোর করে সরিয়ে নেয়া হবে।

জাতিসংঘের একজন মুখপাত্র বলেন, ভাসানচরের পরিস্থিতি নিয়ে যখন প্রশ্ন রয়েছে-তখন কক্সবাজারে আশ্রয় শিবিরে রোহিঙ্গাদের গাদাগাদি বসবাস থেকে মুক্তি করার যে কোনো চেষ্টাকে তারা স্বাগত জানাবে।

ঘটনাপ্রবাহ : রোহিঙ্গা বর্বরতা

আরও
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter
×