বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে যা বলেছে সিএনএন

প্রকাশ : ২৯ ডিসেম্বর ২০১৮, ১১:৫৪ | অনলাইন সংস্করণ

  যুগান্তর ডেস্ক

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা টানা তৃতীয়বারের মতো প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হবেন কিনা আগামীকাল রোববারের নির্বাচনে সেই রায় দেবেন বাংলাদেশের ভোটাররা। এবারের নির্বাচনে তার সরকারের বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘনের ব্যাপক অভিযোগ রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম সিএনএন এমন খবর ছেপেছে।

এখন আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে রয়েছেন ৭১ বছরের শেখ হাসিনা। ২০০৯ সাল থেকে দেশ চালাচ্ছে তার দল। মাঝে ২০১৪ সালের জাতীয় নির্বাচন বয়কট করে প্রধান বিরোধী দলসহ অনেকে। ফলে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে নির্বাচিত হন তিনি।

টানা দুই মেয়াদে দেশের ব্যাপক উন্নতি সাধন করেছে বর্তমান সরকার। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে যা উল্লেখযোগ্য। এ কারণে ফের নির্বাচিত হতে পারেন বঙ্গবন্ধু কন্যা।

মার্কিন গণমাধ্যমটিতে উঠে এসেছে, বাংলাদেশের প্রধান বিরোধীদল বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী ৭৩ বছরে খালেদা জিয়া। তিনি কারাবন্দি থাকায় এবারের জাতীয় নির্বাচনে অংশ নিতে পারছেন না। কিন্তু তার দল নির্বাচনী মাঠে রয়েছে। জোরেশোরে প্রচার-প্রচারণা চালিয়েছে। 

তবুও তাদের হারিয়ে রেকর্ড টানা তিনবার ক্ষমতায় আসতে পারেন শেখ হাসিনা। তবে খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ আনা হয়েছে তা রাজনৈতিক উদ্দেশ্য-প্রণোদিত বলে দাবি করছে বিএনপি।

নির্বাচনে সহিংসতা প্রতিরোধে সারাদেশে তৎপর রয়েছে আইনশৃংখলা বাহিনী। নির্বাচন কমিশনের (ইসি) দাবি-সুষ্ঠু, সুন্দর, উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট হবে। নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারবেন ভোটাররা।

গেল অক্টোবরে সংসদে পাস হয়েছে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন। সিএনএনের দাবি, বিতর্কিত আইনটির কারণে বাংলাদেশে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা খর্ব হবে। সোশ্যাল মিডিয়ায খোলাখুলিভাবে নিজেদের মতামত প্রকাশ করার সাহস পাবে না জনগণ। তবে সবকিছুর ঊর্ধ্বে, ওই দিন নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের প্রত্যাশা করেছে গণমাধ্যমটি।

মানবাধিকার গোষ্ঠীগুলো বলেছেন, কর্তৃপক্ষ স্বচ্ছ নির্বাচনের আশ্বাস দিলে ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনে কারচুপি হতে পারে।

লন্ডনভিত্তিক সংবাদিক সলির ত্রিপাঠি বলেছেন, নির্বাচনে স্বচ্ছতার প্রতিশ্রুতি দিলেও এশিয়ান নেটওয়ার্ক ফর ফ্রি ইলেকশনসের (এনফ্রেল) মতো নির্বাচন পর্যবেক্ষক সংস্থাগুলোকে ভিসা দিতে বিলম্ব করেছে।

সিএনএনকে তিনি বলেছেন, নির্বাচনের সময় কী ঘটছে তা দেখতে সরেজমিনে কোনো পর্যবেক্ষক থাকবেন কিনা তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

তিনি বলেন, একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের সুযোগ হারাচ্ছে বাংলাদেশ। আপনি যদি একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন করতে চান, কিন্তু পর্যবেক্ষকদের আসতে না দেন, তবে কীভাবে সেটা প্রমাণিত হবে।

গত সপ্তাহে এক প্রতিবেদনে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ বলেছেন, বাংলাদেশে দমনমূলক রাজনৈতিক পরিবেশ বিশ্বাসযোগ্যতার পরিবেশকে ক্ষুণ্ণ করছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাক স্বাধীনতায় ধরপাকড় ও বিস্তৃত নজরদারির মতো কর্তৃত্বপরায়ণ পদক্ষেপ ব্যাপকভাবে চিত্রিত ভয়ের পরিবেশ তৈরিতে অবদান রাখছে। পুলিশ নিরপেক্ষতা প্রমাণে ব্যর্থ হয়েছে ও বিরোধী শিবিরের ওপর হামলাকে উপেক্ষা করছে।