সৈয়দ আশরাফকে নিয়ে তিন সহযোদ্ধার কথা

আমাদের মাথার ওপরের আকাশটা সরে গেছে

  এটিএম নিজাম, কিশোরগঞ্জ ব্যুরো ০৬ জানুয়ারি ২০১৯, ১২:০৬ | অনলাইন সংস্করণ

স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম। ফাইল ছবি
স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম। ফাইল ছবি

সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম বলতেন, ‘রাজনীতি একটি শিল্প, আর এ শিল্প পরিচালিত হয় দলীয় আদর্শ ও চেতনাবোধ থেকে। অর্থের মোহ আর স্বেচ্ছাচারিতা এ শিল্পের সৌন্দর্য নষ্ট করে। রাজনীতিকদের গণবিচ্ছিন্ন করে।’

তিনি আরও বলতেন, ‘আমার অনুভূতির নাম বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ। আমার রক্ত আওয়ামী লীগের। আমি আমৃত্যু আওয়ামী লীগ হয়েই থাকব।’

আওয়ামী লীগের অন্যতম প্রাণপুরুষ সৈয়দ আশরাফুল ইসলামকে খুব কাছে থেকে দেখা কিশোরগঞ্জ পৌরসভার মেয়র আওয়ামী লীগ নেতা মাহমুদ পারভেজ সৈয়দ আশরাফকে নিয়ে স্মৃতি রোমন্থন করতে গিয়ে সজল চোখে যুগান্তরের কাছে এসব কথা বলছিলেন।

এ সময় তিনি আরও বলেন, ‍"সৈয়দ আশরাফ বলতেন- ‘আওয়ামী লীগ আমার অনুভূতির নাম’। আর আমরা কিশোরগঞ্জবাসী বলি, সৈয়দ আশরাফ আমাদের কিশোরগঞ্জবাসীর অনুভূতির নাম, আমাদের হৃদস্পন্দনের নাম। এসব বলতে বলতে একপর্যায়ে কেঁদে ফেললেন তিনি। বললেন, আমাদের মাথার ওপরের আকাশটা সরে গেছে।"

মহান মুক্তিযুদ্ধ ও রণাঙ্গনের সাথী কিশোরগঞ্জ জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সদ্য বিদায়ী কমান্ডার মো. আসাদউল্লাহ বললেন, সাদা মনের ও সততার প্রতীক রাজনীতিক সৈয়দ আশরাফ খুবই মানবিক গুণাবলি সম্পন্ন ও হৃদয়বান মানুষ ছিলেন। ভুল চিকিৎসার কারণে আমার ক্যান্সার হয়েছে বলা হলে ভারতে গিয়ে চিকিৎসার জন্য আমাকে টাকা দিয়ে সাহায্য করেছিলেন। এমনকি আমাদের কিশোরগঞ্জের মুক্তিযোদ্ধাদের বসার একটি ভালো স্থান ছিল না, তার সহযোগিতায় দেশের প্রথম বহুতল মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স কিশোরগঞ্জে নির্মিত হয়। এ ভবনটি তিনি এসে উদ্বোধন করবেন বলে কথা দিয়েছিলেন। আমরা আশা করেছিলাম তিনি সুস্থ হয়ে দেশে ফিরে আমাদের এ কমপ্লেক্স উদ্বোধন করবেন। কিন্তু আমাদের সেই স্বপ্ন, স্বপ্নই রয়ে গেল।

শিক্ষাজীবন ও রাজনৈতিক জীবনের সাথী আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য কিশোরগঞ্জ জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট মো. জিল্লুর রহমান বললেন, সৈয়দ আশরাফ তার শহীদ পিতা সৈয়দ নজরুল ইসলামের সুযোগ্য উত্তরাধিকার ছিলেন। এখানে না উল্লেখ করলেই নয় যে, সামরিক বাহিনী সমর্থিত বিগত ওয়ান-ইলেভেনের সরকারের সময় আওয়ামী লীগ সভানেত্রী বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ অসংখ্য নেতাকর্মী গ্রেফতার হয়ে কারাগারে অন্তরীণ হলে চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়ে আওয়ামী লীগ।

দলের সেই অবর্ণনীয় দুর্দিন-দুঃসময়ে অসীম সাহসিকতার সঙ্গে কাণ্ডারির ভূমিকায় অবতীর্ণ হন সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম। গভীর অন্ধকার থেকে দলকে তখন টেনে তুলে নিয়ে এলেন নতুন অবারিত সম্ভাবনাময় গন্তব্যে। এমনই করে মহান মুক্তিযুদ্ধ পূর্ব ও উত্তরকালে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের দুর্যোগ-দুর্বিপাকে তার পিতা শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলামও দলের কাণ্ডারির ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়ে ইতিহাস সৃষ্টি করেন।

মহান মুক্তিযুদ্ধ পূর্ব আন্দোলন-সংগ্রামের টালমাটাল দিনগুলোতে আওয়ামী লীগের সভাপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যতবার গ্রেফতার হয়ে কারাগারে বিক্ষিপ্ত হয়েছেন, ততবারই দলের সহসভাপতি হিসেবে সৈয়দ নজরুল ইসলাম ভারপ্রাপ্ত সভাপতির দায়িত্ব নিয়ে দলের কাণ্ডরির ভূমিকা পালন করেছিলেন।

প্রসঙ্গত, ১৯৯৬ সালে দেশে ফিরে এসে কিশোরগঞ্জ-১ (সদর) আসন থেকে আওয়ামী লীগদলীয় প্রার্থী হিসেবে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেন। তার পর একে একে চারবার কিশোরগঞ্জ-১ (সদর) এবং সংস্কারকৃত কিশোরগঞ্জ- ১ (সদর ও হোসেনপুর) আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার গৌরব অর্জন করেন। শহীদ পিতা সৈয়দ নজরুল ইসলামের উত্তরাধিকার আর আস্থা ও বিশ্বাসের স্থান থেকে তিনি প্রথমে বেসামরিক বিমান ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এবং পরে দলের মুখপাত্র এমনকি সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করে সর্বশেষ জনপ্রশাসনমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছিলেন।

ঘটনাপ্রবাহ : সৈয়দ আশরাফ আর নেই

আরও
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×