সেই আবজাল দম্পতির যেসব সম্পত্তি জব্দ করল দুদক

  যুগান্তর রিপোর্ট ২৩ জানুয়ারি ২০১৯, ০৭:০০ | অনলাইন সংস্করণ

আবজাল কেরানির সম্পদ
অবৈধভাবে সম্পদের পাহাড় গড়া স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মেডিকেল এডুকেশন শাখার বরখাস্ত হওয়া হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা আবজাল হোসেন

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মেডিকেল এডুকেশন শাখার বরখাস্ত হওয়া হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা আবজাল হোসেন ও তার স্ত্রী রুবিনা খানমের নামে থাকা ২৫টি বাড়ি-প্লট ও জমি জব্দ করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

এছাড়াও আরও জব্দ করা হয়েছে ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, অগ্রণী ব্যাংক, এবি ব্যাংকসহ অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে তাদের নামে থাকা কয়েকটি অ্যাকাউন্ট এবং রুবিনার নামে থাকা একটি ‘টয়োটা হ্যারিয়ার’ গাড়ি।

মঙ্গলবার (২২ জানুয়ারি) এ বিষয়ে আদালতের আদেশ পেয়ে আবজাল ও তার স্ত্রীর এসব সম্পত্তি জব্দ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রনব কুমার ভট্টাচার্য্য।

দুদক সূত্রে জানা গেছে, জব্দ করা ২৫টি বাড়ি ও প্লটের মধ্যে ১৫টি ঢাকায় অবস্থিত।

উল্লেখ্য, চলতি বছরের ৮ জানুয়ারি যুগান্তরে প্রকাশ, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এই হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা ও তার স্ত্রীর নামে রাজধানীর উত্তরায় ১৩ নম্বর সেক্টরের ১১ নম্বর রোডে তিনটি পাঁচতলা বাড়ি আছে। বাড়ি নম্বর ৪৭, ৬২ ও ৬৬।

এ ছাড়া ১৬ নম্বর রোডে রয়েছে পাঁচতলা বাড়ি। বাড়ি নম্বর ১৬। উত্তরার ১১ নম্বর রোডে রয়েছে একটি প্লট। প্লট নম্বর ৪৯।

রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় ও ফরিদপুরের বিভিন্ন জায়গায় রয়েছে তাদের অঢেল সম্পদ।

অস্ট্রেলিয়ায় তাদের বাড়ি রয়েছে। দুদক সেই বাড়ির সন্ধানও পেয়েছে বলে জানা গেছে।

উত্তরা মডেল টাউনের ১৩নং সেক্টরের ১১ নম্বর রোডে একটি বাড়ি, তামান্না ভিলা নামের ৮ তলা সুরম্য বাড়ি আছে তার।

এসব ভবন ও জমির মূল্য মিলিয়ে আবজালের মোট সম্পদের দাম এখন অন্তত ১৫ হাজার কোটি টাকা।

আবজাল হোসেনের নামে সিটি ব্যাংকের একটি অ্যাকাউন্টে বিপুল পরিমাণ অর্থের লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে।

এছাড়া তার মালিকানাধীন গার্মেন্টের নামে একটি ব্যাংক হিসাব ও আরব বাংলাদেশ ব্যাংকের মহাখালী শাখায় তার একাধিক ব্যাংক হিসাবের তথ্য পাওয়া গেছে।

দুদক জানায়, ঢাকা ছাড়াও আবজাল তার গ্রামের বাড়ি ফরিদপুরে বিপুল পরিমাণ কৃষি জমি কিনেছেন।

এসব অবৈধ সম্পদের বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আবজাল হোসেনকে ১০ জানুয়ারি জিজ্ঞাসাবাদ করে দুদক।

তার দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞাও জারি করা হয়। এরপর আবজালের অবৈধ সম্পদের বিষয়ে সত্যতা নিশ্চিত হলে আবজাল হোসেনকে চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করে স্বাস্থ্য অধিদফতর।

জব্দ করা হলো আবজাল হোসেনের যেসব সম্পদ -

* রাজধানীর উত্তরার ১৫/সি নম্বর সেক্টরে তিন কাঠা জমির ২৪ ও ২৬ নম্বর প্লট।

* রাজধানীর খিলক্ষেতে তিন কাঠা জমি।

* রাজধানীর মিরপুরে আড়াই কাঠা জমির ওপর টিনসেড বাড়ি।

* পল্লবীতে ছয় কাঠা জমি।

* বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় চার কাঠার প্লট।

* ফরিদপুরের কোতয়ালী পৌরসভা মৌজা এলাকায় সাড়ে ১০ শতাংশ জমিতে দোতলা বাড়ি।

* রঘুনন্দনপুর মৌজায় সাড়ে ১৩ শতাংশ জমি।

* জেলার পশ্চিম টেপাখোলা এলাকায় ১১৩ শতাংশ জমি।

* রাজবাড়ী জেলার বসন্তপুর ইউনিয়নে ২৩০ শতাংশ জমি।

* খুলনা সিটি করপোরেশনের খালিশপুর বয়রা মৌজায় সাড়ে ৫ কাঠা জমি ও মুজগুনি আবাসিক এলাকায় সাড়ে তিন কাঠা প্লট।

জব্দ করা হলো আবজাল হোসেনের স্ত্রী রুবিনার নামে থাকা যেসব সম্পত্তি-

* রাজধানীর উত্তরার ১৩ নম্বর সেক্টরের ১১ ও ১৬ নম্বর সড়কে যথাক্রমে সাড়ে তিন কাঠা ও তিন কাঠার প্লটে দুটি ছয়তলা বাড়ি।

* মিরপুরে একটি টিনসেড বাড়ি।

* পল্লবীতে আড়াই কাঠা জমি।

* বসুন্ধরা আবাসিক প্রকল্পকের ৩০৬৭ ও ৩০৬৬ নম্বর ব্লকে তিন কাঠার দুটি প্লট।

* কেরাণীগঞ্জের একটি মার্কেটে দোকান।

* সাভারে ১৫ শতাংশ জমি।

* ফরিদপুরের কোতয়ালী পৌরসভার হাবেলী গোলাপপুরে দোতলা বাড়ি ও চর পশ্চিম টেপাখোলা এলাকায় পাঁচ, আট ও নয় শতাংশের তিনটি জমি।

দুদকের তথ্য অনুযায়ী, এতো সম্পদের মালিক আবজাল হোসেন বেতন পেতেন সব মিলিয়ে ৩০ হাজার টাকা।

১৯৯৫ সালে স্বাস্থ্য অধিদফতরের একটি প্রকল্পে ‘অফিস সহকারী’ পদে অস্থায়ীভাবে যোগ দেন আবজাল।

পরে তিনি হিসাবরক্ষক কর্মকর্তা হিসেবে পদোন্নতি পেয়ে অধিদফতরের মহাখালী এডুকেশন শাখায় আসেন।

তার স্ত্রী রুবিনা খানম একই অধিদফতরের অন্য একটি প্রকল্পে ‘স্টেনোগ্রাফার’ পদে দুই বছর চাকরি করে স্বেচ্ছায় অবসরে যান।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×