যুগান্তরকে একান্ত সাক্ষাৎকারে ধর্মপ্রতিমন্ত্রী

ইজতেমা ঐক্যবদ্ধভাবে হলে তাবলিগের বিভক্তি কমে যাবে

  তানজিল আমির ২৯ জানুয়ারি ২০১৯, ২২:২৭ | অনলাইন সংস্করণ

ধর্মপ্রতিমন্ত্রী আলহাজ শেখ আবদুল্লাহ। ছবি: যুগান্তর
ধর্মপ্রতিমন্ত্রী আলহাজ শেখ আবদুল্লাহ। ছবি: যুগান্তর

বছরের শুরু থেকে বিশ্ব ইজতেমাকে ঘিরে চলছে নানান সমীকরণ। তাবলিগ জামাতের দুপক্ষের বিপরীতমুখী দৃঢ় অবস্থানের কারণে এ বছর বিশ্ব ইজতেমার আয়োজন অনেকটা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছিল, ইজতেমা হলেও দুপক্ষই আলাদাভাবে করার ব্যাপারে অনঢ় ছিল, কিন্তু হঠাৎ করেই ঘুরে গেল পরিস্থিতি।

একসঙ্গে ইজতেমা করার ব্যাপারে দুপক্ষই একমত হলো, শুধু তাই নয় এত দিন যাদের একসঙ্গে বসানোও যায়নি, তারা একে অপরকে জড়িয়ে ধরে কাঁদল। শুধু বাংলাদেশ নয়, সারা বিশ্বের তাবলিগপ্রেমীদের মাঝে ছড়িয়ে গেল আনন্দের বন্যা।

তাবলিগ বিষয়ে শুরু থেকে সমাধানের জন্য যারা কাজ করেছিলেন তার মধ্যে অন্যতম আওয়ামী লীগের ধর্মবিষয়ক সম্পাদক আলহাজ শেখ আবদুল্লাহ। বর্তমানে তিনি ধর্ম মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্বপালন করছেন।

তাবলিগ সমস্যা সমাধানের নানা বিষয় নিয়ে যুগান্তরকে একান্ত সাক্ষাৎকারে ধর্মপ্রতিমন্ত্রী আলহাজ শেখ আবদুল্লাহ জানিয়েছেন নানা খোলামেলা কথা। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন তানজিল আমির।

যুগান্তর: তাবলিগের কার্যক্রম নিয়ে আপনার মূল্যায়ন কী?

ধর্মপ্রতিমন্ত্রী শেখ আবদুল্লাহ: তাবলিগ জামাত বিশ্বব্যাপী পরিচালিত একটি ব্যতিক্রমী মেহনত। অন্যান্য দলগুলোর মতো কোনো ক্ষমতা, পদ বা দুনিয়াবি স্বার্থ তাবলিগে নেই। এ জন্যই এটি সর্বসাধারণকে আকর্ষিত করতে পেরেছে। বিশ্ব ইজতেমা বাংলাদেশের এখন ঐতিহ্যের অংশ। বিশ্বের অনেক দেশের মানুষ বাংলাদেশের সঙ্গে পরিচিত হয় টঙ্গীর নামে। আমি নিজেও এমন অনেক মানুষকে পেয়েছি, যারা বাংলাদেশকে টঙ্গীর ইজতেমার কারণেই চেনে।

যুগান্তর: তাবলিগের দুপক্ষের সমঝোতা ও চ্যালেঞ্জ কী?

ধর্মপ্রতিমন্ত্রী শেখ আবদুল্লাহ: আসলে তাবলিগের বিভক্তিটা দুঃখজনক একটা ব্যাপার। কেন এ বিভক্তি হলো সে প্রসঙ্গে কথা না বলাই ভালো। বাংলাদেশে শান্তিশৃঙ্খলা যেন স্বাভাবিক থাকে, শুরু থেকেই মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বিষয়টি খুব গুরুত্বের সঙ্গে দেখেছেন।

গত ইজতেমায় যখন সমস্যা হয়েছিল, তখন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীসহ সবার অনুরোধে বিষয়টির সঙ্গে আমি সম্পৃক্ত হই। এ কঠিন কাজে সম্পৃক্ত হওয়ার পর আমি আল্লাহর কাছে খাসভাবে দোয়া করেছি, যেন আল্লাহ এর সুন্দর একটা সমাধান করে দেন। তখন থেকে সবার সঙ্গে সেভাবেই আমি কথাবার্তা বলেছি।

আল্লাহর রহমতে এখন একটা সমাধানের পথ আমরা খুঁজে পেয়েছি। ইজতেমাসহ সামনের কাজগুলো যেন সুষ্ঠুভাবে করা যায়, সেটিই এখন আমাদের জন্য চ্যালেঞ্জের বিষয়।

যুগান্তর: দুপক্ষ কীভাবে তাদের অনঢ় অবস্থা থেকে সরে এলো?

ধর্মপ্রতিমন্ত্রী শেখ আবদুল্লাহ: তাবলিগের যে দুটি পক্ষ হয়েছে, এরা উভয়েই তাবলিগের প্রতি আন্তরিক। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীসহ আমরা যখন একসঙ্গে ইজতেমা করার কথা বলেছি। উভয়পক্ষই নিজেদের অনঢ় অবস্থান থেকে সরে এসে ঐক্যবদ্ধভাবে ইজতেমা করার ব্যাপারে একমত হয়েছে। এর মাধ্যমে বিশ্ববাসীর সামনে আমরা একটি নজির স্থাপন করেছি। কারণ বিবাদ সত্বেও তাবলিগের দুপক্ষই একসঙ্গে ইজতেমা করবে। মূলত আমাদের সবার দিলের চাওয়া যখন এক হয়েছে, তখন আল্লাহ সবার মন নরম করে দিয়েছেন। আল্লাহর অশেষ রহমত ছাড়া এটা অসম্ভব ছিল।

যুগান্তর: একসঙ্গে ইজতেমা করার ক্ষেত্রে অনেকে নিরাপত্তা বিষয়ে আশঙ্কা করছেন। এ বিষয়ে কী ধরনের পদক্ষেপ নেয়া হবে?

ধর্মপ্রতিমন্ত্রী শেখ আবদুল্লাহ: বিশ্ব ইজতেমা সুন্দরভাবে সম্পন্ন করতে যত পদক্ষেপ নিতে হয়, সরকার সব ধরনের ব্যবস্থাই নেবে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকবে, ইনশাআল্লাহ। তাবলিগের মুরব্বিরা ইজতেমার জন্য এক হলেও বিষয়টি দুপক্ষের অনেকেই মানতে পারছে না। আসলে একদিনে তো সবার মন এক করা সম্ভব না। আশা করি ইজতেমা সফলভাবে হলে তাবলিগের বিভক্তি অনেকটাই কমে যাবে।

যুগান্তর: ইজতেমার অভ্যন্তরীণ আয়োজন কীভাবে করার পরিকল্পনা করা হয়েছে?

ধর্মপ্রতিমন্ত্রী শেখ আবদুল্লাহ: এখনও কোনো কিছুই চূড়ান্ত হয়নি। উভয়পক্ষের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমেই সুন্দরভাবে ইজতেমা করার চেষ্টা করছি। যদি কাজগুলো যৌথভাবে করলে সুবিধা হয়, তাহলে সেটাও করা হবে। যেভাবে সবাই খুশি হয়, সেভাবেই আগানোর চেষ্টা চলছে। তবে তাবলিগের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে আমরা হস্তক্ষেপ করব না। তাবলিগের মুরব্বিরাই তাবলিগের কাজ পরিচালনা করবে। আমরা শুধু সহযোগিতা করব। যাতে সবাই শান্তিপূর্ণভাবে মিলেমিশে চলেন।

যুগান্তর: ইজতেমা আয়োজন সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ার জন্য আপনি কতটুকু আশাবাদী?

ধর্মপ্রতিমন্ত্রী শেখ আবদুল্লাহ: আসলে আল্লাহর রহমতই আমাদের ভরসা। মাত্র তো রাজি হলো, পুরো কাজ এখনও সামনে। দুপক্ষের মুরব্বিরাই যথেষ্ট আন্তরিক। যেহেতু আল্লাহ ও রাসূলের সন্তুষ্টির জন্য সবাই তাবলিগ করে, তাই বৃহত্তর এক্যের স্বার্থে কিছুটা ছাড় উভয়পক্ষকে দিতে হবে। তবে আমরা এতটুকু অবশ্যই বলব যে, এ বছর বিশ্ব ইজতেমা হবেই, ইনশাআল্লাহ। প্রতি বছরের মতোই সুন্দরভাবে এবারের ইজতেমাও সফলভাবে সম্পন্ন হবে। এ জন্য আমি দেশবাসী সবার কাছে দোয়া চাই।

যুগান্তর: তাবলিগ জামাতের সঙ্গে আপনার কোনো বিশেষ স্মৃতি আছে কিনা?

ধর্মপ্রতিমন্ত্রী শেখ আবদুল্লাহ: তাবলিগ জামাতের সঙ্গে আমার সম্পর্ক শৈশব থেকেই। হজরত মাওলানা শামসুল হক ফরীদপুরী (রহ.) আমাকে প্রথম ইজতেমায় পাঠিয়েছিলেন। একদিনের নিয়ত করে গেলেও আমি তিন দিনই ছিলাম। কারণ ইজতেমা ময়দানে যাওয়ার পর অন্যরকম একটা ভালো লাগা কাজ করছিল।

ঘটনাপ্রবাহ : বিশ্ব ইজতেমা ২০১৯

আরও
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×