ঋণখেলাপি-অর্থপাচারের তথ্য চেয়েছে হাইকোর্ট

  যুগান্তর রিপোর্ট ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ২১:১৯ | অনলাইন সংস্করণ

ঋণখেলাপি-অর্থপাচারের তথ্য চেয়েছে হাইকোর্ট
ফাইল ছবি

‘বিভিন্ন ব্যাংক থেকে ঋণ দেয়া হচ্ছে, কিন্তু কোনো সিকিউরিটি মানি নাই। যারা লোন নিচ্ছে তাদের ঠিকানায় খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। এভাবে হাজার হাজার কোটি টাকা লোপাট হয়ে যাচ্ছে। সরকারি-বেসরকারি ব্যাংকগুলো চরম দুরবস্থার মধ্যে পড়েছে।’

গত ২০ বছরে এক কোটি টাকার ওপরে ঋণখেলাপি, ঋণের সুদ মওকুফ, অর্থপাচার ও অর্থপাচারকারীদের বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের কাছে প্রতিবেদন চেয়েছেন হাইকোর্ট।

এ ছাড়া একই সময়ে (২০ বছর) ব্যাংকিং খাতে কী পরিমাণ অনিয়ম ও দুর্নীতি হয়েছে, তা নির্ণয়ে একটি শক্তিশালী কমিশন গঠনের জন্য কেন নির্দেশ দেয়া হবে না- তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন আদালত।

এক রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে বিচারপতি এফ আর এম নাজমুল আহাসান ও বিচারপতি কে এম কামরুল কাদেরের হাইকোর্টে বেঞ্চ বুধবার রুলসহ এ আদেশ দেয়।

আদেশে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরকে তিন দফা নির্দেশনা দিয়ে আদালত আদেশে বলেছেন, দেশের সরকারি-বেসরকারি ব্যাংক খাতে একটি নাজুক পরিস্থিতি সৃষ্টি করা হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে টাকা উধাও হয়ে গেছে। বিভিন্ন ব্যাংক থেকে ঋণ দেয়া হচ্ছে, কিন্তু কোনো সিকিউরিটি মানি নাই। যারা লোন নিচ্ছে তাদের ঠিকানায় খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। এভাবে হাজার হাজার কোটি টাকা লোপাট হয়ে যাচ্ছে এবং বাংলাদেশের সরকারি-বেসরকারি ব্যাংকগুলো চরম দুরবস্থার মধ্যে পড়েছে।

এই পরিস্থিতি দ্রুত কাটিয়ে তুলতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেয়ার ওপর জোর দিচ্ছেন আদালত।

যারা ঋণ নিয়েছেন এবং অর্থপাচার করেছেন, তাদের তালিকা করে আদালতে দাখিল করতে বলেছেন হাইকোর্ট। আত্মসাতের অর্থ দেশে কিংবা বিদেশের যেখানেই থাকুক না কেন, তা ফিরিয়ে আনতে কী কী পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে, তাও প্রতিবেদন উল্লেখ করতে বলেছেন আদালত।

বাংলাদেশ ব্যাংকসহ অন্যান্য ব্যাংকে আর্থিক দুর্নীতি, অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা রোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণে বিবাদীদের নিষ্ক্রিয়তাকে কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না এবং আর্থিক খাতে অনিয়ম, দুর্নীতি, অব্যবস্থাপনা বন্ধে কমিশন গঠন করে সে কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়ার জন্য কেন নির্দেশ দেয়া হবে না- তা জানতে চাওয়া হয়েছে রুলে।

এছাড়াও বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিন, সালেহ উদ্দিন আহমেদ, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা এ বি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম, সাবেক ডেপুটি গভর্নর খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ, সিটি ব্যাংক এনএ বাংলাদেশের সাবেক সিইও মামুন রশিদ, বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন প্রতিনিধি ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের একজন প্রতিনিধির সমন্বয়ে কমিশন গঠনের নির্দেশ কেন দেয়া হবে না এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে অর্থপাচার রোধে কেন কার্যকর ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দেয়া হবে না- রুলে তাও জানতে চাওয়া হয়েছে।

চার সপ্তাহের মধ্যে মন্ত্রিপরিষদ সচিব, প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের সচিব, অর্থ মন্ত্রণালয়ের দুই সচিব, আইন সচিব, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, সরকারি-বেসরকারি ব্যাংকের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

আদালতে রিট আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মনজিল মোরসেদ। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এ বি এম আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ বাশার।

আদেশের পর মনজিল মোরসেদ সাংবাদিকদের বলেন, ব্যাংকিং ব্যবস্থাপনার মধ্যে যেসব অনিয়ম-ত্রুটি আছে সেগুলো চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেয়া জন্য উকিল নোটিশ পাঠিয়েছিলেন তিনি। জবাব না পেয়ে জনস্বার্থ বিবেচনায় হিউমেন রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশের (এইচআরপিবি) পক্ষ থেকে মঙ্গলবার রিট আবেদন করা হয়।

এক প্রশ্নে এই আইনজীবী বলেন, ‘আদালত যে তালিকা চেয়েছে, সে তালিকা এলেই বোঝা যাবে কারা লোন নিয়েছেন, কারা লোন নিয়ে পরিশোধ করেননি, কারা মানি লন্ডারিং করেছেন বা করছেন। এগুলোর বিষয়ে শুনানির সময় আমরা পরবর্তী নির্দেশনা চাইব।’

অর্থপাচার বিষয়ে এক প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘মানি লন্ডারিংয়ের বিষয়ে কিছুদিন অগে একটা রিপোর্ট প্রকাশ হয়েছে আমেরিকা থেকে। সেখানে কিন্তু বলা হয়েছে, কত হাজার কোটি টাকা বাংলাদেশ থেকে পাচার হয়েছে। যে সমস্ত দেশে অর্থ যায় তাদেরও কিন্তু রিপোর্ট আছে। এসব রিপোর্ট ব্যাংকের গভর্নরকে কালেক্ট করে আদালতকে জানাতে হবে।’

এই আইনজীবী বলেন, ‘পত্রপত্রিকায় যা দেখেছি, তাতে এক লাখ কোটি টাকার ওপরে অর্থপাচার হয়েছে বলে আমরা জানি। আর লোন নেয়ার ক্ষেত্রে এক-দুই লাখ কোটি টাকার লোন বিভিন্ন লোকে পরিশোধ করছেন না।’ আদালত যে তালিকা চেয়েছে, সেটার সময়সীমা কী হবে- জানতে চাইলে মনজিল বলেন, ‘২০ বছরের মধ্যে যে ঘটনাগুলো ঘটেছে, মূলত সেসব ঘটনার বিষয়ে নির্দেশনা চাওয়া হয়েছিল।’

তবে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বাশার সাংবাদিকদের বলেন, ‘একটি কমিশন গঠন করে ঋণখেলাপি ও অর্থ আত্মসাৎকারীদের তালিকা করতে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। তবে সে তালিকা দাখিলের নির্দিষ্ট তারিখ আদালত দেননি।’

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×