গভর্নরকে হাইকোর্টের ৩ নির্দেশনা

  যুগান্তর রিপোর্ট ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ২১:২৩ | অনলাইন সংস্করণ

গভর্নরকে হাইকোর্টের ৩ নির্দেশনা
ছবি: সংগৃহীত

‘বিভিন্ন ব্যাংক থেকে ঋণ দেয়া হচ্ছে, কিন্তু কোনো সিকিউরিটি মানি নাই। যারা লোন নিচ্ছে তাদের ঠিকানায় খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। এভাবে হাজার হাজার কোটি টাকা লোপাট হয়ে যাচ্ছে। সরকারি-বেসরকারি ব্যাংকগুলো চরম দুরবস্থার মধ্যে পড়েছে।’

গত ২০ বছরে এক কোটি টাকার ওপরে ঋণখেলাপি, ঋণের সুদ মওকুফ, অর্থপাচার ও অর্থপাচারকারীদের বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের কাছে প্রতিবেদন চেয়েছেন হাইকোর্ট।

এ ছাড়া একই সময়ে (২০ বছর) ব্যাংকিং খাতে কী পরিমাণ অনিয়ম ও দুর্নীতি হয়েছে, তা নির্ণয়ে একটি শক্তিশালী কমিশন গঠনের জন্য কেন নির্দেশ দেয়া হবে না- তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন আদালত।

এক রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে বিচারপতি এফ আর এম নাজমুল আহাসান ও বিচারপতি কে এম কামরুল কাদেরের হাইকোর্টে বেঞ্চ বুধবার রুলসহ এ আদেশ দেয়।

গভর্নরকে যে ৩ নির্দেশনা হাইকোর্টের:

১. এক কোটি টাকার ওপরে ঋণখেলাপিদের নাম, ঠিকানা, তালিকা আদালতে দাখিল করতে হবে।

২. অর্থপাচারের ক্ষেত্রে কী কী ব্যবস্থা বাংলাদেশ ব্যাংক নিয়েছে এবং এখন পর্যন্ত কী পরিমাণ অর্থপাচার হয়েছে, সে বিষয়ে প্রতিবেদন দাখিল করতে হবে।

৩. ঋণ দেয়ার ক্ষেত্রে এবং ঋণের সুদ মওকুফের ক্ষেত্রে যে অনিয়ম চলছে, তা বন্ধে কী কী ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে, সে বিষয়ে প্রতিবেদন দাখিল করতে হবে। আদালতে রিট আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মনজিল মোরসেদ। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এ বি এম আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ বাশার।

আদেশের পর মনজিল মোরসেদ সাংবাদিকদের বলেন, ব্যাংকিং ব্যবস্থাপনার মধ্যে যেসব অনিয়ম-ত্রুটি আছে সেগুলো চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেয়া জন্য উকিল নোটিশ পাঠিয়েছিলেন তিনি। জবাব না পেয়ে জনস্বার্থ বিবেচনায় হিউমেন রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশের (এইচআরপিবি) পক্ষ থেকে মঙ্গলবার রিট আবেদন করা হয়।

এক প্রশ্নে এই আইনজীবী বলেন, ‘আদালত যে তালিকা চেয়েছে, সে তালিকা এলেই বোঝা যাবে কারা লোন নিয়েছেন, কারা লোন নিয়ে পরিশোধ করেননি, কারা মানি লন্ডারিং করেছেন বা করছেন। এগুলোর বিষয়ে শুনানির সময় আমরা পরবর্তী নির্দেশনা চাইব।’

অর্থপাচার বিষয়ে এক প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘মানি লন্ডারিংয়ের বিষয়ে কিছুদিন অগে একটা রিপোর্ট প্রকাশ হয়েছে আমেরিকা থেকে। সেখানে কিন্তু বলা হয়েছে, কত হাজার কোটি টাকা বাংলাদেশ থেকে পাচার হয়েছে। যে সমস্ত দেশে অর্থ যায় তাদেরও কিন্তু রিপোর্ট আছে। এসব রিপোর্ট ব্যাংকের গভর্নরকে কালেক্ট করে আদালতকে জানাতে হবে।’

এই আইনজীবী বলেন, ‘পত্রপত্রিকায় যা দেখেছি, তাতে এক লাখ কোটি টাকার ওপরে অর্থপাচার হয়েছে বলে আমরা জানি। আর লোন নেয়ার ক্ষেত্রে এক-দুই লাখ কোটি টাকার লোন বিভিন্ন লোকে পরিশোধ করছেন না।’ আদালত যে তালিকা চেয়েছে, সেটার সময়সীমা কী হবে- জানতে চাইলে মনজিল বলেন, ‘২০ বছরের মধ্যে যে ঘটনাগুলো ঘটেছে, মূলত সেসব ঘটনার বিষয়ে নির্দেশনা চাওয়া হয়েছিল।’

তবে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বাশার সাংবাদিকদের বলেন, ‘একটি কমিশন গঠন করে ঋণখেলাপি ও অর্থ আত্মসাৎকারীদের তালিকা করতে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। তবে সে তালিকা দাখিলের নির্দিষ্ট তারিখ আদালত দেননি।’

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×