সাংবিধানিক অধিকার নিয়ে সোচ্চার দুই এমপি

সংসদকে পাশ কাটিয়ে সৌদির সঙ্গে সামরিক চুক্তি নিয়ে প্রশ্ন

  সংসদ রিপোর্টার ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০১:৫৮ | অনলাইন সংস্করণ

সংসদকে পাশ কাটিয়ে সৌদির সঙ্গে সামরিক চুক্তি নিয়ে প্রশ্ন

সংসদকে পাশ কাটিয়ে সৌদি আরবের সঙ্গে সামরিক চুক্তি করা নিয়ে সংসদে প্রশ্ন তুলেছেন সরকারের শরীক ১৪ দলীয় জোট ও বিরোধী দলীয় দুই সংসদ সদস্য।

তারা বলেছেন, গণতান্ত্রিক দেশ হিসেবে সংসদ সব আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। কিন্তু এই সংসদ চলমান থাকা অবস্থায় বিদেশের সঙ্গে একটি সামরিক চুক্তি হলেও তা নিয়ে সংসদে কোনো আলোচনা হয়নি।

সংসদকে মূল্যহীন করে এটা করা কতটা যুক্তিযুক্ত হয়েছে তা ভেবে দেখা আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

বৃহস্পতিবার রাতে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে অধিবেশনে এই আহ্বান জানানো হয়।

অনির্ধারিত আলোচনায় অংশ নিয়ে ক্ষমতাসীন জোটের শরীক ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন বিবিসি’র সংবাদের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, বিবিসি সংবাদ দিয়েছে সৌদি আরবের সঙ্গে বাংলাদেশ ১৪ ফেব্রুয়ারি একটি প্রতিরক্ষা সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষর করার কথা।

আমরা জানতে পেরেছি চুক্তি স্বাক্ষর সম্পন্ন পর্যায়ে। এব্যাপারে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় স্বীকার বা অস্বীকার কোনটাই করেনি। ওই সমঝোতা চুক্তির আওতায় ইয়েমেন সীমান্তে বাংলাদেশের এক হাজার ৮০০ সেনা নিয়োগ দেয়ার কথা।

তিনি আরও বলেন, সৌদি আরবে ইসলামী সেনাবাহিনী কাউন্টার টেরোরিজম কমিশন (আইএমসিটিসি) বাংলাদেশ থেকে একজন ব্রিগেডিয়ার জেনারেলসহ ৪ জন কর্মকর্তাকে নিয়োগের জন্য নামও দেয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, ২০১৫ সালে সৌদি নেতৃত্বাধীন সন্ত্রাস বিরোধী উদ্যোগে বাংলাদেশ নাম লেখালে আমরা বিষয়টি নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণের আহ্বান জানিয়েছিলাম। তখন সৌদি আরব ওটাকে ৩৪ জাতি সামরিক জোন বললেও সন্ত্রাস বিরোধী সন্মিলিত উদ্যোগ বলে উল্লেখ করেছিলো আমাদের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

সেই সময় জনগণের সেই উদ্যোগ ও আশঙ্কাকে নিরসন করে প্রধানমন্ত্রী স্পষ্টভাবে বলেছিলেন, মক্কা ও মদিনায় হেরেম শরীফ মসজিদ দু’টি যদি আক্রমণের মুখে পড়ে, তখনই কেবল বাংলাদেশ সেনাবাহিনী পাঠাবে। তখন আমরা আশ্বস্ত হলেও এখন কিছু বলছে না পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

ওই চুক্তির মধ্য দিয়ে সংবিধানের ২৫ বিধি লঙ্ঘিত হচ্ছে দাবি করে সাবেক এই মন্ত্রী বলেন, সংবিধানে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান বজায় রাখতে বলা হয়েছে। তাই এই বিষয়টি পর্যালোচনার দাবি রাখে।

প্রথমটি হচ্ছে সেনাবহিনী মোতায়েন। এটা জাতিসংঘের সিদ্ধান্তের সাথে সঙ্গিতপূর্ণ কি না? দ্বিতীয়ত, আমাদের সেনাবাহিনী বিদেশ উপস্থিতিতে আমাদের রাজনৈতিক ভাবমুর্তি কি হবে?

তিনি আরো বলেন, জাতিসংঘের মহাসচিব স্পষ্ট করে বলেছেন ইয়েমেনের ঘটনা এখন পৃথিবীর সবচেয়ে খারাপ মানবিক বিপর্যয়। সেখানে আমাদের সেনাবাহিনী উপস্থিত হয়ে সীমান্তে মাইন অপসারণ করবে, যারা একদিন ইরাকী আগ্রসনের বিরুদ্ধে কুয়েতে মাইন অপসারণ করে সুনাম অর্জন করেছিল, তারা কেন মাইন অপসারণের নামে নিজেদের জীবন দেবে।

যেটা সংবিধান অনুমোদন করে না। এছাড়া ইয়েমেন সীমান্তে সেনাবাহিনী থাকলে খুব স্বভাবিকভাবেই একটি বিরোধপূর্ণ সম্পর্ক সেখানে সৃষ্টি হবে। তাই আমি পররাষ্ট্রমন্ত্রী ৩০০ বিধিতে একটি বিবৃতি দাবি করছি। পাশাপাশি বিষয়টি সংবিধানের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ কি না সে বিষয়ে আপনার (স্পিকার) কাছ থেকে রুলিং আশা করছি।

ওই চুক্তি প্রশ্ন উত্থাপন করে বিরোধী দল জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য মো. ফখরুল ইমাম বলেন, আজ যদি সংসদ চলমান না থাকতো তাহলে একটা কথা ছিল।

সংসদ চলমান আছে, অথচ সংসদকে এ বিষয়ে কিছু জানানো হয়নি। এটা প্রত্যাশিত নয়। তিনি বলেন, সংবিধানের বিধান অনুযায়ী দেশের সকল চুক্তির বিষয় রাষ্ট্রপতির মাধ্যমে সংসদকে অবহিত করার কথা। কিন্তু এ পর্যন্ত টিকফা চুক্তি, ২৫ বছরের চুক্তিসহ কোনো চুক্তি সংসদে জমা পড়েছে কিনা জানা নেই।

জাতীয় পার্টির এই সংসদ সদস্য বলেন, সংবিধানের দ্বিতীয় ভাগে ১১ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, প্রজাতন্ত্র হবে একটি গণতন্ত্র। যেখানে মৌলিক মানবাধিকার ও স্বাধীনতার নিশ্চয়তা থাকবে।

তিনি বলেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানেন চুক্তিটা হবে, তিন কেন আমাদের জনালেন না? এটা (চুক্তি) না জানালে আমাদের (সংসদ সদস্যদের) অধিকার ক্ষুন্ন হয় কিনা সেটা খতিয়ে দেখার জন্য স্পিকারের প্রতি অনুরোধ জানান তিনি।

--
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×