যেভাবে বাংলাদেশে বিশ্ব ইজতেমা এল

  যুগান্তর ডেস্ক ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ১২:৩৬ | অনলাইন সংস্করণ

বিশ্ব ইজতেমা
বিশ্ব ইজতেমা। ছবি: সংগৃহীত

টঙ্গীর তুরাগ নদের তীরে দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনা করে বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্বের আখেরি মোনাজাত শেষ হয়েছে।

শনিবার সকাল ১০টা ৪০ মিনিটে শুরু হয়ে মোনাজাত শেষ হয় ১১ টা ৬ মিনিটে। আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে শেষ হল ৫৪তম এ আয়োজনের প্রথম পর্ব।

আগামীকাল রোববার বাদ ফজর দ্বিতীয় পর্ব শুরু হয়ে সোমবার আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে শেষ হবে এবারের বিশ্ব ইজতেমা।

বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার ‍অদূরে টঙ্গীতে তুরাগ নদীর তীরে প্রতি বছর তাবলীগ জামাতের সবচেয়ে বড় জমায়েত ইজতেমা অনুষ্ঠিত হয়।

সাধারণত ডিসেম্বরের কিংবা জানুয়ারি মাসে এই জমায়েতে লাখ লাখ মানুষ অংশ নেন। এদের মধ্যে বিদেশিদের অংশগ্রহণও থাকে।

সবচেয়ে বড় ধর্মীয় জমায়েত হজের পর এই বিশ্ব ইজতেমাকে বলা হয় মুসলমানদের দ্বিতীয় বড় জমায়েত। এর গোড়াপত্তন হয় ভারতে, কিন্তু পরবর্তী সময়ে এটা অর্ধ শতকের বেশি সময় ধরে বাংলাদেশে হয়ে আসছে।

বাংলাপিডিয়ায় দেয়া তথ্যমতে, ১৯২৬ সালে হযরত মাওলানা ইলিয়াস (রহ.) ভারতের উত্তর প্রদেশের মেওয়াত এলাকায় তাবলিগী আন্দোলনের গোড়াপত্তন করেন।

একইসঙ্গে এলাকাভিত্তিক সম্মেলন বা ইজতেমার আয়োজন করেন।

১৯৪৭ সালে ভারত বিভাগের সূত্র ধরে উপমহাদেশের ভারত, পশ্চিম পাকিস্তান ও পূর্ব পাকিস্তান- এ তিনটি অঞ্চলে তাবলীগের তিনটি কেন্দ্র স্থাপিত হয়।

বাংলাদেশে ইজতেমার সূত্রপাত হয় চট্টগ্রামকে কেন্দ্র করে। কারণ ১৯৪০-এর দশকের শেষের দিকে চট্টগ্রামের সমুদ্রবন্দর দিয়ে হজে যাওয়ার জন্য সেখানকার হজ ক্যাম্পে জড়ো হতেন যাত্রীরা। আর সেখান থেকেই শুরু হয়েছিল আঞ্চলিক ইজতেমার প্রক্রিয়াটা।

বাংলাদেশে প্রথম দাওয়াতে তাবলীগ নিয়ে আসেন তাবলীগ আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা মোহাম্মদ ইলিয়াসের ছেলে মোহাম্মদ ইউসুফ। ভারতের বাইরে বিভিন্ন দেশে ইসলাম প্রচারের কাজ করছিলেন মোহাম্মদ ইউসুফ।

ভারত এবং পাকিস্তান দুটি আলাদা দেশ হওয়ার পর মোহাম্মদ ইউসুফ দুদেশেই জামাত পাঠানো শুরু করেন ইজতেমা আয়োজনের জন্য। তবে তখন ছোট আকারে ইজতেমা হত।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্ট্যাডিজ বিভাগের শিক্ষক এবং গবেষক ড. আব্দুর রশিদ বলেন, ১৯৪৬ সালে ঢাকার রমনা পার্কের কাছে কাকরাইল মসজিদ সে সময় মালওয়ালি মসজিদ নামে পরিচিত ছিল। সেখানে এই সম্মেলন শুরু হয়। এরপর হয়েছে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে।

তাবলীগের জমায়েতে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা বাড়তে থাকার কারণে ১৯৬৬ সালে ইজতেমা হয় টঙ্গীর মনসুর জুট মিলের কাছে। এর পরের বছর ঠিক করা হয় ইজতেমা হবে টঙ্গীর তুরাগ নদের কাছে।

এর আরো অনেক পরে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান টঙ্গীতে ইজতেমার জন্য ১৬০ একর জমি নির্ধারণ করে দেন।, জানাচ্ছিলেন খান শাহাবুদ্দিন নাফিস।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্ট্যাডিজ বিভাগের শিক্ষক এবং গবেষক ড. আব্দুর রশিদ বলেন, 'বিশ্ব ইজতেমা' তাবলীগের দেয়া নাম নয়, বরং তাবলীগের লোকজন এটাকে বার্ষিক সম্মেলন বলতেন।

এরপর এক সময় তাবলীগ জামাতের পক্ষ থেকে বিদেশীদের পাঠানো শুরু হয়। যখন বিদেশ থেকে লোক আসা শুরু করল, তখন গ্রামের লোক এটাকে বিশ্ব ইজতেমা বলা শুরু করে।

তবে শুরুতেই 'বিশ্ব ইজতেমা' নাম নিয়ে তাবলীগ জামাতের মধ্যেই বিতর্ক ছিল। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বিশ্ব ইজতেমা নামটি প্রচলিত হয়ে যায়।

ইজতেমার ধারণা শুরু হয়েছিল ভারতে। ভারত ভাগের পর পূর্ব পাকিস্তানে ইজতেমা হতো। কিন্তু বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর এটি ভারত, পাকিস্তান বা অন্য কোন দেশে না হয়ে বাংলাদেশেই স্থায়ী হয়েছে।

এর বেশকিছু কারণ রয়েছে। একটা কারণ ছিল সে সময়ে বাংলাদেশের ভিসা পাওয়া সহজ ছিল। ইজতেমার নামে কেউ ভিসা আবেদন করলে কেউ ফেরত যেত না।

এছাড়া ভূরাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের কারণে ভারতের মুসলিমরা পাকিস্তানে এবং পাকিস্তানের মুসলিমরা ভারতে যেত ভয় পান।

তাবলীগের জমায়েত বাংলাদেশে শুরু থেকে যতটা সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেয়েছে ততটা ভারত বা অন্য কোথাও পায়নি। এছাড়া সবচেয়ে কম খরচে মানুষ বাংলাদেশে আসতে পারতো।

এছাড়া ভারতের কিছু স্থানে সে সময় মুসলমানদের মধ্যে শিয়া-সুন্নি মতবিরোধ ছিল। তবে বাংলাদেশে মুসলমানদের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান ছিল, যাকে একটা নিরাপদ পরিবেশ বলে মনে করেছিলেন তারা। সূত্র: বিবিসি।

ঘটনাপ্রবাহ : বিশ্ব ইজতেমা ২০১৯

আরও
--
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×