বিশ্ব ইজতেমা দ্বিতীয় পর্ব

জিকিরে ফিকিরে প্রতিধ্বনিত টঙ্গী এখন ধর্মীয় নগরী

  এম এম হেলাল উদ্দিন, টঙ্গী থেকে: ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ১৯:১৭:০৩ | অনলাইন সংস্করণ

দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে বিশ্ব ইজতেমায় মুসল্লিদের আসার চিত্র। ছবি: যুগান্তর

ঘন কুয়াশা, কনকনে শীতের মধ্যেই তাবলিগ জামাতের শীর্ষ মুরব্বিদের গুরুত্বপূর্ণ বয়ান ও মুসলিমদের নফল নামাজ, তাসবিহ-তাহলিল, জিকির ফিকিরের মধ্য দিয়ে সোমবার বিশ্ব ইজতেমার দ্বিতীয় দিন পালিত হচ্ছে।

প্রতিকূল আবহাওয়া ও বজ্রসহ বৃষ্টিপাতের জন্য প্রয়োজনীয় কার্যক্রম পরিচালনা করতে না পারায় আয়োজক কমিটির আবেদনের প্রেক্ষিতে প্রশাসন আখেরি মোনাজাত একদিন পিছিয়ে দেয়।

এর প্রেক্ষিতে মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টা থেকে ১১টার মধ্যে আখেরি মোনাজাতের মাধ্যমে এবারের বিশ্ব ইজতেমা শেষ হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বিশ্ব ইজতেমার আয়োজক কমিটির মুরব্বি মো. হারুন-অর-রশিদ।

তাবলিগের ৬ উসূলের (মৌলিক বিষয়ে) ওপর সোমবার বাদ ফজর ভারতের নিজামুদ্দীন মারকাজের মুরব্বি মাওলানা মো. মুরসালিনের বয়ানের মধ্য দিয়ে দ্বিতীয় দিনের ইজতেমা শুরু হয়। তার বয়ান বাংলায় ভাষান্তর করেন স্বাগতিক বাংলাদেশের মাওলানা আব্দুল্লাহ কাসেদ।

বাদ জোহর বয়ান করেন দিল্লির মাওলানা মো. শাহজাদ, তার বয়ান বাংলায় তরজমা করেন বাংলাদেশের মাওলানা মুনীর বিন ইউসুফ। বাদ আছর বয়ান করেন বিশ্ব ইজতেমা দ্বিতীয়পর্বের আয়োজক কমিটির মুরব্বি সৈয়দ ওয়াসিফুল ইসলাম। বাদ মাগরিব বয়ান করেন দিল্লির মুরব্বি মাওলানা শওকত এবং তার বয়ান বাংলায় অনুবাদ করেন মুফতি জিয়া বিন কাসেম।

দ্বিতীয় দিনেও ইজতেমাস্থলে দেশ-বিদেশের মুসল্লিদের আগমন অব্যাহত রয়েছে। বিশ্ব ইজতেমা উপলক্ষে শিল্পনগরী টঙ্গী এখন ধর্মীয় নগরীতে পরিণত হয়েছে। আখেরি মোনাজাতের আগ পর্যন্ত মানুষের এ আগমন ঢল অব্যাহত থাকবে। বহুল কাঙ্ক্ষিত আখেরি মোনাজাত দিল্লির মারকাজের শীর্ষ মুরব্বি মাওলানা শামীম আহমদ পরিচালনা করার কথা রয়েছে।

মুসল্লিদের উদ্দেশে বয়ান: গতকাল বাদ ফজর ভারতের নিজামুদ্দীন মারকাজের মাওলানা মো. মুরসালিন ইমান, আমল, জাহান্নাম, জান্নাত ও দাওয়াতে তাবলিগের মেহনতের ওপর গুরুত্বপূর্ণ বয়ান রাখেন। তিনি বলেন, নবী করিম (স.) এর দেখানো পথে আমল করতে হবে, তাহলেই কামিয়াবি পাওয়া যাবে।

তিনি আরও বলেন, সব কাজের আগে 'বিসমিল্লাহ' বলা অনেক ফজিলত। যে ব্যক্তি বিসমিল্লাহ বলে খানা খায়, বিছানায় ঘুমাতে যায়, ঘর থেকে বের হয় এবং বিসমিল্লাহ বলে যে কাজই করুক শয়তান তার সঙ্গে শরিক হতে পারে না। তাই বিসমিল্লাহর সঙ্গে আমল করার জন্য সবাইকে প্রস্তুত থাকতে হবে।

তিনি বলেন, ভাই-বুজুর্গ, নবীর তরিকার ওপর শয়তান কোনো দখল নিতে পারে না। এ জন্য নবীর তরিকা ছাড়া কোনো রাস্তা নেই, নাজাতের কোনো পথ নেই। কারণ, আল্লাহ তাআলা নবী করিম (স.) এর সুন্নত অনুযায়ী চলা ব্যক্তিদেরকেই পছন্দ করেন।

তিনি বলেন, নবী করিম (স.) বলেছেন, আমার প্রতিটা উম্মতই জান্নাতে যাবে, কিন্তু যারা আমার তরিকাকে এহেনকার (ঘৃণা) করে, আমার তরিকা মতো চলে না, তারাই দোযখে যাবে। এ জন্য যে কোনো ছোট কাজ, বড় কাজ মুহাম্মদ (স.) এর তরিকা মতো করা এটাই দ্বীন, এটাই ধর্ম। এই আমলই তাকে জান্নাতে নিয়ে যাবে।

যদি এর বিপরীত হয় তাহলে সে ধ্বংস হয়ে যাবে। তিনি আরও বলেন, আস সালাতু ইমাদুদ্বীন'-অর্থাৎ নামাজ দ্বীনের খুঁটি। যে ব্যক্তি নামাজকে কায়েম করল, সে যেন দ্বীনকে কায়েম করল। যে ব্যক্তি নামাজকে ধ্বংস করল, সে যেন দ্বীনকে বরবাদ করল।

নবী করিম (স.) বলেন, মসজিদে আজান হলে যেসব ব্যক্তি মসজিদে না গিয়ে ঘরে বসে থাকে আমার দিলে চায় তাদের ঘর-দুয়ার আগুনে জ্বালিয়ে দিই। যারা মসজিদে মোয়াজ্জিনের আজান শুনে মসজিদে গেল না তাহলে তারা মোনাফেকি করল, কুফরি করল।

দুনিয়ায় যত রকমের চোর আছে সবচেয়ে খারাপ চোর হলো যে নামাজে মধ্যে চুরি করে। যে ব্যক্তি নামাজের মধ্যে ঠিকমতো রুকু-সিজদা করে না সেই নামাজের মধ্যে চুরি করল। তিনি আরও বলেন, যার নামাজ ঠিক নেই তার জিন্দেগি ঠিক নেই, যার নামাজ সুন্দর তার জিন্দেগি সুন্দর।

ধর্মপ্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট শেখ মো. আব্দুল্লাহ সোমবার শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার স্টেডিয়ামে জেলা পুলিশ কন্ট্রোলরুমে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, তাবলিগ জামাত একটি দেশি ও আন্তর্জাতিক ধর্মীয় সংগঠন। পবিত্র হজের পরে বিশ্ব মুসলমানের মিলনমেলা টঙ্গীর বিশ্ব ইজতেমা ময়দান।

তিনি আরও বলেন, প্রশাসনের পাশাপাশি বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিকস মিডিয়ার সাংবাদিকরা ইজতেমাকে সফল করার জন্য কঠোর পরিশ্রম করেছেন এ জন্য তাদেরকে অশেষ ধন্যবাদ।

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত