জীবনে প্রথম পুরান ঢাকায় গিয়েই লাশ হলেন ডা. আশরাফ

  বাঞ্ছারামপুর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি ২২ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ১৯:০৬ | অনলাইন সংস্করণ

জীবনে প্রথম পুরান ঢাকায় গিয়েই লাশ হলেন ডা. আশরাফ
জীবনে প্রথম পুরান ঢাকায় গিয়েই লাশ হলেন ডা. আশরাফ। ছবি: যুগান্তর

ডাক্তার বন্ধু ইমতিয়াজ ইমরুল রাশুর চেম্বার পুরান ঢাকা চকবাজারে মদিনা ডেন্টাল ক্লিনিকে ব্যবহারিক কাজ শিখতে গিয়েছিলেন ডা. আশরাফুল হক রাজন। জীবনের প্রথম পুরাতন ঢাকার চকবাজারে গিয়েছিলেন তিনি। ভাগ্যের কি নির্মম পরিহাস প্রথম পুরাতন ঢাকায় গিয়েই লাশ হয়ে ফিরলেন ডা. আশরাফুল হক রাজন।

একই সময় তার সঙ্গে আগুনে দগ্ধ হয়ে মারা গেছেন তার বন্ধু ও চকবাজারে মদিনা ডেন্টাল ক্লিনিক মালিক ঢাবির ছাত্র হাফেজ কাউছার আহম্মেদ।

আশরাফুল বিকালে বাসা থেকে বের হওয়ার সময় মাকে বলে গিয়েছেন ফিরতে দেরি হবে। মা গভীর রাত পর্যন্ত অপেক্ষা করেন ছেলের জন্য। মোবাইল ফোনে রিং হলেও ফোন ধরছেন না ছেলে। উৎকন্ঠায় পুরো পরিবার। সকালে তার ক্যাম্পাস বাংলাদেশ মেডিকেল কলেজে গিয়ে তার পরিবার জানতে পারে বন্ধুর সঙ্গে দেখা করতে পুরাতন ঢাকায় গিয়েছেন আশরাফুল।

তার ভাইরা ছুটে যান পুরান ঢাকার চকবাজারে। কিন্তু ঘটনাস্থলে যেতে না পেরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যান তারা। হাসপাতালে আহতদের তালিকায় ভাইকে না দেখতে পেরে উৎকন্ঠা আরও বেড়ে যায় তাদের।

এ সময় মর্গে গিয়ে লাশ শনাক্ত করে তার ছোট ভাই মো. ফখরুল হক সুজন। তার মৃত্যুর খবর তার গ্রামের বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার ফরদাবাদ গ্রামে পৌঁছলে তার আত্মীয়স্বজন ও এলাকাবাসীর মধ্যে শোকের ছায়া নেমে আসে।

বাবা জামশেদ মিয়ার স্বপ্ন পূরণ করতেই ডেন্টাল মেডিকেল কলেজে ডেন্টাল বিভাগে ভর্তি হন ডা. আশরাফুল হক রাজন। নিজ গ্রাম ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার ফরদাবাদ গ্রামে নিজ বাড়িতে বিনামূল্যে দরিদ্র মানুষের চিকিৎসা করবেন এই স্বপ্ন নিয়ে গিয়েছিলেন বন্ধুর কাছে ব্যবহারিক কাজ শিখতে।

কিন্তু অগ্নিকাণ্ডে তার স্বপ্ন কেড়ে নিল আগুন। শুধু তাই নয়, তার সঙ্গে আরও দুই বন্ধুর স্বপ্নের পরিসমাপ্তি ঘটে আগুনের লেলিহান শিখায়।

গত বৃহস্পতিবার রাতে তার প্রিয় ক্যাম্পাস বাংলাদেশ মেডিকেল কলেজে প্রথম জানাজা ও শুক্রবার তার গ্রামের বাড়ি ফরদাবাদে সকাল ৮টায় দ্বিতীয় জানাজা শেষে তাকে পরিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।

স্থানীয় সংসদ সদস্য ক্যাপ্টেন (অব.) এবি তাজুল ইসলাম সমবেদনা জানাতে নিহতের বাড়িতে শুক্রবার দুপুরে যান। এ সময় উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নুরুল ইসলামসহ দলীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

ডা. আশরাফুল হকের বাবা জামশেদ মিয়া জানান,‘‘আমার ছেলে খুবই মেধাবী ও ধার্মিক ছিল। আমার ইচ্ছা ছিল ছেলে ডাক্তার হয়ে গ্রামের মানুষকে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা দেবে। আমার ইচ্ছা পূরণ করতে সে সবসময়ই চেষ্ট করত। ডাক্তারি শেষ করে ব্যবহারিক কাজ শিখতে বন্ধুর চেম্বারে গিয়েছিল। আর আগুন আমার ছেলেকে আমার কাছ থেকে কেড়ে নিল।

উল্লেখ্য, রাজধানীর চকবাজার এলাকার নন্দকুমার দত্ত সড়কের চুড়িহাট্টা শাহী মসজিদের পেছনের একটি ভবনে বুধবার রাত ১০টা ১০ মিনিটে আগুন লাগে। এ ঘটনায় অন্তত ৬৭ জন নিহতের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। এখনও অনেকে নিখোঁজ রয়েছেন বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

ঘটনাপ্রবাহ : চকবাজার আগুনে মৃত্যুর মিছিল

আরও
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×