নিউজিল্যান্ডে হামলায় ড. সামাদ জীবিত কিনা, নিশ্চিত নয় পরিবার

প্রকাশ : ১৫ মার্চ ২০১৯, ১৯:৩৪ | অনলাইন সংস্করণ

  কুড়িগ্রাম ও নাগেশ্বরী প্রতিনিধি

ড. আব্দুস সামাদ। ছবি: সংগৃহীত

নিউজিল্যান্ডে ক্রাইস্টচার্চে দুটি মসজিদে সন্ত্রাসী হামলায় ড. আব্দুস সামাদ নামে এক বাংলাদেশি নিহত হওয়ার খবর পাওয়া যাচ্ছে বিভিন্ন গণমাধ্যমে। কিন্তু তার পরিবার বলছে, ওই হামলায় অধ্যাপক সামাদ জীবিত না, মৃত তা এখনো নিশ্চিত নয় তার পরিবার।

ড. সামাদ কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার মধুরহাইল্যা গ্রামের জামাল উদ্দিন সরকারের বড় ছেলে।

পরিবার জানায়, মেধাবী আব্দুস সামাদ বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ালেখা শেষে সেখানেই কৃষিতত্ত্ব বিভাগের শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন। পিএইচডি করেন নিউজিল্যান্ডে। পরবর্তীতে তিনি ওই বিভাগের প্রধান হিসেবে দায়িত্বপালন করেন।

২০১৩ সালে চাকরি ছেড়ে দিয়ে নাগরিকত্ব নিয়ে স্ত্রী ও তিন ছেলেকে নিয়ে স্থায়ীভাবে নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চ শহরে বসবাস শুরু করেন। এ সময় তিনি সেখানকার ‘মসজিদে নুর’ নামে একটি মসজিদের মোয়াজ্জিন হিসেবে দায়িত্বপালন করেন।

এদিকে নিউজিল্যান্ডে বাবা-মায়ের সঙ্গে কিছুদিন বসবাস করার পর তার বড় ছেলে তোহান মোহাম্মদ দেশে ফিরে ঢাকায় বসবাস করছেন। তোহান বর্তমানে ঢাকায় একটি বেসরকারি সংস্থায় কর্মরত। আর তার অপর দুই ভাই তারেক, তানভির ও মা কেশোয়ারা সুলতানাকে নিয়ে বাবা ড. আব্দুস সামাদ সেখানেই থাকতেন।

শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টায় ঢাকায় বসবাসরত তোহান মোহাম্মদের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করলে তিনি যুগান্তরকে জানান, 'সর্বশেষ গত দুদিন আগে তার বাবার সঙ্গে পারিবারিক বিভিন্ন বিষয়ে কথা হয়েছিল। শুক্রবার তিনি বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের খবরে জানতে পারেন নিউজিল্যান্ডের স্থানীয় সময় শুক্রবার দুপুর দেড়টায় ক্রাইস্টচার্চ শহরের হ্যাগলি পার্কমুখী সড়ক দীন এভিনিউতে ‘মসজিদে নুর’ ও ‘লিংউড’ মসজিদ দুটিতে হামলা চালিয়েছে সন্ত্রাসীরা। এতে ২ বাংলাদেশিসহ বেশ কয়েকজন মুসল্লি নিহত ও আহত হয়েছেন। এ খবর জেনেই তিনি তার মায়ের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তার মা জানান- ঘটনার পরপরই তিনি ছুটে গেছেন হাসপাতালে। কিন্তু পুলিশ ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাদের হাসপাতালে ঢুকতে দেয়নি। তারা বলেছে- গুরুতর আহতদের চিকিৎসা চলছে। এ মুহূর্তে কোনো কিছুই জানানো সম্ভব নয়।'

তোহান মোহাম্মদ আরও জানান, 'পরিস্থিতি শান্ত না হওয়া পর্যন্ত তারা কোনো কিছুই প্রকাশ করবে না বলে জানিয়েছে। তাই তিনি তার মা কেউই নিশ্চিত করে বলতে পারছেন না তার বাবা মৃত না জীবিত। এ বিষয়ে নিশ্চিত হতে তাদের আরও কিছু সময় অপেক্ষা করতে হবে।'

উল্লেখ্য, নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে দুটি মসজিদে শুক্রবার জুমার নামাজের সময় বন্দুকধারীর হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৪৯ জনে দাঁড়িয়েছে। খবর দ্য গার্ডিয়ানের।

দেশটির সাউথ আইল্যান্ডে আল নূর মসজিদে স্বয়ংক্রিয় রাইফেল দিয়ে অন্তত ৫০টি গুলি করা হয়েছে।

সামাজিকমাধ্যমে মসজিদের ভেতর থেকে গোলাগুলির লাইভ ভিডিও সম্প্রচার করা হয়।

স্থানীয় সময় দুপুর দেড়টার দিকে যখন এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে, তখন শুক্রবারের জুমার নামাজের প্রস্তুতি চলছিল।

পার্শ্ববর্তী লিনউড মসজিদেও হামলায় নিহতের ঘটনা ঘটেছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেন, একটি আধা স্বয়ংক্রিয় শর্টগান ও রাইফেল দিয়ে সাউথ আইল্যান্ডে 'মসজিদে নুর'-এ অন্তত ৫০টি গুলি ছোড়েন ২৮ বছর বয়সী ব্রেনটন ট্যারেন্ট। তিনি নিউ সাউথ ওয়েলসের গ্রাফটন থেকে এসেছেন।

ঘটনার বর্ণনা দিয়ে এক প্রত্যক্ষদর্শী তরুণ বলেন, আমি গুলির শব্দ শুনে যতটা সম্ভব দৌড়ে পালিয়েছি। এ সময় আমি অনবরত শুধু গুলির শব্দ শুনেছি।

হামলায় জড়িত সন্দেহে এখন পর্যন্ত এক নারীসহ চার ব্যক্তিকে কারাগারে আটক রাখা হয়েছে।

আটকের সময় তাদের একজন সুইসাইড ভেস্ট পরা অবস্থায় ছিলেন।

হত্যাকাণ্ড ঘটনার আগে টুইটারে ৮৭ পাতার ইশতেহার আপলোড করেছেন হামলাকারী। এর মাধ্যমে সন্ত্রাসী হামলার আভাস আগেই তিনি দিয়েছিলেন।

নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জেসিন্দা আরডান এ হামলাকে নিউজিল্যান্ডের জন্য সবচেয়ে অন্ধকার দিন বলে উল্লেখ করেছেন।