চিকিৎসক না হলে আইনজীবী হতাম: ডা. হোসাইন আল-আমিন

  যোবায়ের আহসান জাবের ১৮ মার্চ ২০১৯, ১৭:৩৩ | অনলাইন সংস্করণ

​ডা. হোসাইন আল আমিন। ফাইল ছবি
​ডা. হোসাইন আল আমিন। ফাইল ছবি

মেডিকেল শিক্ষার্থীদের জন্য সবচেয়ে গৌরবের বিষয় অনার্স মার্ক পাওয়া। কোন বিষয়ে প্রতিটি আলাদা আলাদা বিভাগে শতকরা ৮৫ ভাগের বেশি নাম্বার অনার্স মার্ক বলে।

এবারের এমবিবিএস ফাইনাল প্রফেশনাল পরীক্ষায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত মেডিকেল কলেজসমূহ থেকে একমাত্র অনার্স মার্ক পেয়েছেন রংপুরের প্রাইম মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থী হোসাইন মো আল-আমিন। নবীন চিকিৎসক হোসাইন আল আমিন মেডিসিন বিষয়ে এ গৌরব অর্জন করেছেন।

রংপুরের তারাগঞ্জের রহিমাপুর জন্ম ও বেড়ে ওঠা ডা. হোসাইন আল আমিনের বাবা আ.ন.ম আমজাদ হোসেন একজন শিক্ষক। আর মা মাহবুবা খাতুন একজন গৃহিণী।তরুণ চিকিৎসক ডা. হোসাইন আল আমিন যুগান্তরকে বলেছেন তার স্বপ্নের কথা। বলেছেন নানা প্রিয় বিষয়ে কথা। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন যোবায়ের আহসান জাবের

যুগান্তর: ছোটবেলায় কী হওয়ার স্বপ্ন দেখতেন?

ডা. হোসাইন আল আমিন: ছোটবেলা থেকেই ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন দেখেছি। আলহামদুলিল্লাহ সে স্বপ্ন পূরণ হয়েছে। আর যদি ডাক্তার না হতাম তাহলে হয়তো ল'ইয়ার হতাম!

যুগান্তর: আপনার ডাক্তার হয়ে ওঠার গল্প বলুন

ডা. হোসাইন আল আমিন: আমার গল্প এত সহজ ছিল না। আমি নীলফামারী গভর্নমেন্ট হাই স্কুল থেকে এসএসসি পরীক্ষায় ২০১১ সালে দিনাজপুর বোর্ডে সেকেন্ড হই। ২০১৩ সালে নীলফামারী সরকারি কলেজ থেকেও ভালো রেজাল্ট নিয়ে পাস করি। কিন্তু সরকারি মেডিকেল কলেজে আমার চান্স হয়নি!

ছোটবেলায় ভাল ছাত্র ছিলাম। কিন্তু সরকারি মেডিকেলে চান্স না পাওয়ায় আশপাশের অনেক মানুষের অপমান শুনতে হয়। তারপরও থেমে থাকিনি।আব্বু আম্মুর অনেক সাপোর্ট আমাকে নতুন করে কিছু করার অনুপ্রেরণা জোগায়। এরপর আর পিছে ফেরার আর দরকার হয়নি। স্যার, ম্যাডামদের অকুণ্ঠ ভালবাসা আর নিজের বন্ধুদের সাহস আমাকে নতুন করে ভাবাতে শুরু করে। একসময়ের ফেইলর থেকে ধীরে ধীরে সাফল্য পেতে শুরু করি। আলহামদুলিল্লাহ চান্স না পাওয়ার দায় কিছুটা মোচন হয়েছে।

যুগান্তর: এমবিবিএস পড়ার সময়ই আপনি বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের সঙ্গে জড়িত ছিলেন বলে জানতে পেরেছি। এ বিষয়ে জানতে চাই।

ডা. হোসাইন আল আমিন: আমি ২০০৯-২০১১ সালে NCTF নীলফামারীর সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছি। ইউনিসেফ, ইউনেস্কো, প্ল্যান, ইউরোপীয়ান ইউনিয়ন ও সেভ দ্য চিলড্রেনের বিভিন্ন সংগঠনের সাথে যুক্ত ছিলাম। শিশু সাংবাদিক হিসেবেও কাজ করেছি। এছাড়াও ন্যাশনাল চাইল্ড পার্লামেন্টের উপদেষ্টা হিসাবে কাজ করেছি।

২০১২ সালে প্রথম বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথম ন্যাশনাল ইয়ুথ পার্লামেন্টের স্পিকার ছিলাম। এছাড়াও নীলফামারী ডিবেট ফেডারেশনের সহসভাপতি হিসাবেও দায়িত্ব পালন করছি।

এছাড়াও বিভাগীয় ও জাতীয় লেভেলে এ ডিবেট, পাবলিক স্পিচ ও অভিনয়ে আমার পুরস্কার আছে। ক্রীড়া পর্যায়ে ২০১০ সালে বিভাগীয় পর্যায়ে বেস্ট হ্যান্ডবল গোলকিপার হয়েছিলাম।

২০১২ সালে নীসক-এ বেস্ট কলেজ স্টুডেন্ট অ্যাওয়ার্ড পেয়েছিলাম। পরপর ৪ বার আমার মেডিকেলে বেস্ট স্টুডেন্ট অ্যাওয়ার্ড পেয়েছি।বর্তমানে কাজ করছি-Friendship Bangladesh SIMS, SOMA তে (মডারেটর হিসাবে) কাজ করছি।

যুগান্তর: এমবিবিএস পড়ার সঙ্গে এতগুলো সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠনের সঙ্গে জড়িত হওয়ার পরও এত ভালো রেজাল্ট কীভাবে হলো? আপনার সাফল্যের মন্ত্র কী?

ডা. হোসাইন আল আমিন: আত্মবিশ্বাসটাই এখানে সবচেয়ে বড় বিষয়। আমার এটা ছিল। তার সঙ্গে বাবা-মায়ের দোয়া ও আল্লাহর অশেষ রহমত।

শিক্ষকরাও অনেক আমাকে সাপোর্ট দিয়েছেন। আমার কাছের ৩ জন ভাইয়ের মত বন্ধু আছে অন্তিক,নিলয়, জীবন। আর আমার ডুপ্লিকেট জাকি নামের এক ছোট ভাই। ও রাজশাহীতে আইনে পড়ে।

এরা সবসময় পাশে ছিল আমার। আমি ছোটবেলা থেকে এক মাঠে খেলে বড় হই। প্রভাতির মাঠ।সেখানে আমার অনেক টিমমেট আছে; যাদের বয়স ৭ থেকে শুরু। আমার খারাপ টাইমে এদের সাথে খেলে কনফিডেন্স পেতাম। ভাল্লাগতো অনেক!

যুগান্তর: ভালো রেজাল্টের জন্য কী ধরনের পড়াশোনা করা উচিত?

ডা. হোসাইন আল আমিন: ভাল ফলাফলের জন্য প্রতিটা দিন ‘The best’ হওয়া জরুরি। সব পড়া পরীক্ষার আগের জন্য রাখা যাবে না।মনে রাখা উচিত " Success Has no shortcut'

যুগান্তর: যারা বর্তমানে এমবিবিএসে পড়াশোনা করছেন তাদের উদ্দেশে আপনার পরামর্শ কী?

ডা. হোসাইন আল আমিন: এমবিবিএস শিক্ষার্থীদের প্রতি আমার অনুরোধ কখনই inferior extremity তে ভুগবেন না। কোনো হতাশা নয়। আপনি যেখানেই পড়েন সেখানকার best হওয়ার চেষ্টা করুন। খারাপ সময় আসতেই পারে। But time is the best healer এবং Silence is the best revenge!

যুগান্তর: বাংলাদেশের চিকিৎসা ব্যবস্থাকে আপনি কোন পর্যায়ে দেখতে চান?

ডা. হোসাইন আল আমিন: আমি চাই আমাদের ডাক্তাররা রোল মডেল হোন। আমাদের কোনো রোগী যাতে বিদেশমুখী আর না হোন। এমন হেলথ সার্ভিস দরকার যে, বিদেশের রোগীরা আমাদের কাছে ট্রিটমেন্ট নিতে আসবেন। আর আমরা গ্রাম লেভেলেও উন্নত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা যেদিন সম্ভব হবে সেদিনই আমাদের চূড়ান্ত সফলতা অর্জন হবে।

যুগান্তর: আপনার ভবিষ্যত পরিকল্পনা কী?

ডা. হোসাইন আল-আমিন: আমি কার্ডিওভাসকুলার সার্জারিতে ক্যারিয়ার গড়তে চাই। দেশের বাইরে থেকে এ বিষয়ে মেডিকেলে উচ্চতর ডিগ্রি অর্জনের ইচ্ছা আছে।তবে পড়াশোনা শেষে দেশেই ফিরতে চাই।নিজ গ্রামে নিজ মানুষদের নিয়ে কাজ করতে চাই। কোনো গরিব মানুষ যাতে চিকিৎসার অভাবে মারা না যায়।

যা কিছু প্রিয়

প্রিয় মানুষ: আমার বাবা

প্রিয় ব্যক্তি: হযরত মুহাম্মদ (সা)

প্রিয় সময়: বিকাল বেলা

প্রিয় রং: সাদা

প্রিয় খাবার: আম্মুর হাতের সাদা ভাত, মগজ ভুনা, বেগুন ভাজি

অবসর: মোটিভেশনাল স্পিচ দেই। মানুষকে ইন্সপিরেশন দিতে অনেক ভাল লাগে।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×