দুর্ঘটনাস্থলে পানির বদলে ভিডিও কেন?

প্রকাশ : ২৮ মার্চ ২০১৯, ২২:৩৩ | অনলাইন সংস্করণ

  স্পোর্টস ডেস্ক

যেখানে সবাই পানি নিয়ে সাহায্য করার কথা সেখানে তারা সবাই দাঁড়িয়ে ভিডিও করছেন বলে অনুযোগ করেছেন বাংলাদেশ জাতীয় দলের ক্রিকেটার মেহেদী হাসান মিরাজ।
বৃহস্পতিবার রাতে তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এ নিয়ে দুঃখ প্রকাশ করেন। 

মিরাজ বলেন, নিমতলী, রানা প্লাজা, চকবাজারের পর আরো একটি বড় দুর্ঘটনা বনানীর এফআর বিল্ডিংয়ের নিচে জনতার ভিড়ে ফায়ার সার্ভিস ইউনিট যেতে পারছে না ঠিকঠাক সময় মতো জায়গায়। দূর থেকে পানি দিতে হয়েছে।

একদিকে আগুনে গ্লাস ভেঙে পড়ছে। ভেতরের মানুষগুলো বাঁচার আকুতি করে যাচ্ছেন।

কেউ কেউ লাফ দেওয়ার চেষ্টা করছেন ৯ বা ১০ কিংবা ১১ তলা থেকে।

আর অপর দিকে সবাই মোবাইল নিয়ে রেডি। কে কার থেকে ভালো অ্যাঙ্গেলে ফুটেজ নিতে পারে সেই প্রতিযোগিতা। যেখানে সবাই পানি নিয়ে সাহায্য করার কথা তারা সবাই দাঁড়িয়ে ভিডিও করছেন। দায়িত্বটা কি শুধুই প্রশাসন বা দায়িত্বরত বাহিনীদের আমরা নাগরিক হিসেবে মানবতা কি হারিয়ে যাচ্ছে?

সাধুবাদ জানাই সেসব ভাইদের যারা ইমারজেন্সি লেন তৈরি করে সাহায্য হাত বাড়িয়েছেন।

পুনশ্চঃ কেউ তাদের বাজেভাবে কথা বলবেন না। এবার হতে শিক্ষা নেই সামনে যেনো নাগরিক হিসেবে মানবতার হাত প্রসারিত হয়, নিহতদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করছি। সাথে আহতরা দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠুক। মহান সৃষ্টিকর্তা আমাদের হেফাজত করুক।

এর আগে রাজধানীবাসীর উদ্দেশে বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা বলেছেন, বনানীর আগুন নেভাতে আপনিও ভূমিকা রাখতে পারেন। প্লিজ স্পটের কাছেও যাবেন না। টিভিতেই দেখেন। এটাই হবে আপনার সবচেয়ে বড় ভূমিকা।

বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে নিজের অফিসিয়াল টুইটারে এক বার্তায় এসব কথা বলেন মাশরাফি।

রাজধানীর বনানীর ১৭ নম্বর রোডে এফআর টাওয়ারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে। আগুনে অন্তত ১৯জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন অনেকেই। আগুনের এই সংবাদ শুনে অনেকেই ঘটনাস্থালে উপস্থিত হন। এতে করে উপকারের চেয়ে ক্ষতিই বেশি হয়েছে।

সাধারণ জনগণ ভিড় করায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিয়োজিত বাহিনীর কাজ করতে সমস্যায় পড়তে হয়। রাস্তায় অতিরিক্ত লোকজন থাকায় ঘনাস্থল থেকে আহত মানুষদের উদ্ধারের পর চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠাতে সময় নষ্ট হয়।

বিষয়টি নিয়ে সচেতনতা তৈরির জন্য টাইগার অধিনায়ক ও বর্তমান জাতীয় সংসদের অন্যতম এ তরুণ সদস্য এসব কথা বলেন।

এর আগে বাংলাদেশ দলের তারকা পেসার মোস্তাফিজ নিজের অফিসিয়াল ফেসবুকে লেখেন, আপনারা যারা বনানী, গুলশান, ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় আছেন দয়া করে কুর্মিটোলা হসপিটালে যান, আহতদের রক্ত লাগবে। মানবতায় এগিয়ে আসুন।

এর কিছু সময় আগেই বনানীর ঘটনায় আহতদের সহযোগিতায় এগিয়ে আসার আহ্বান জানান মাশরাফি বিন মুর্তজা।

বৃহস্পতিবার দুপুর পৌনে ১টায় এফআর টাওয়ারের ৯ তলা থেকে অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়। পরে এর ব্যাপকতা বাড়ে এবং ১১ তলা পর্যন্ত বিস্তার লাভ করে। টাওয়ারের ভেতরে অসংখ্য লোকজন বন্দি আছেন। উদ্ধারে কাজ করছেন বিমান-নৌ বাহিনীর সদস্যরাও। ব্যবহৃত হচ্ছে হেলিকপ্টার।

এদিকে বনানীর ঘটনায় অন্য ক্রিকেটাররাও শোক জানিয়েছেন। জাতীয় দলের পেসার রুবেল লেখেন, ঢাকা বনানীর এফআর টাওয়ারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড। আটকা পড়েছে অনেক মানুষ। হে মহান আল্লাহ তুমি সবাইকে রক্ষা করো। আমিন।