বনানীতে আগুন: মৃত্যুর আগে স্ত্রী-সন্তানদের দেখে রাখার আকুতি আতিকের

  শরীয়তপুর প্রতিনিধি ২৯ মার্চ ২০১৯, ১৮:৫১ | অনলাইন সংস্করণ

বনানীতে আগুন: মৃত্যুর আগে স্ত্রী-সন্তানদের দেখে রাখার আকুতি আতিকের
স্ত্রী-সন্তানদের ভালোবাসার বাঁধনে জড়িয়ে মির্জা আতিক। ফাইল ছবি

রাজধানীর বনানী এফ আর টাওয়ারে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় নিহত মির্জা আতিকের শরীয়তপুরের গ্রামের বাড়িতে চলছে শোকের মাতম।

শুক্রবার সকালে লাশ শরীয়তপুর সদর উপজেলার সারেঙ্গা গ্রামে নিজ বাড়িতে আনার পর এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়।

স্ত্রী-সন্তান, আত্মীয়স্বজন ও পাড়া-প্রতিবেশীদের কান্নায় বাতাশ ভারি হয়ে ওঠে। মা পুত্রশোকে বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন। তাকে শেষবারের মতো দেখার জন্য শত শত উৎসুক জনতা ভিড় জমান।

শুক্রবার বাদ জুমা তার জানাজা শেষে সারেঙ্গা গ্রামের জামে মসজিদ কবরস্থানে দাফন করা হয়।

স্থানীয় ও স্ত্রীর বড় ভাই মুকুল খান জানান, শরীয়তপুর সদর উপজেলার সারেঙ্গা গ্রামের মৃত আব্দুল কাদির মির্জার ছেলে মির্জা আতিকুর রহমান বনানীর স্ক্যান অয়েল কোম্পানিতে প্রায় ১৫ বছর থেকে এক্সিকিউটিভ পদে কর্মরত ছিলেন।

তিনি স্ত্রী এ্যানি আক্তার পলি, চতুর্থ শ্রেণিতে পড়–য়া মেয়ে তানহা (১০) ও ছেলে রাফিউর রহমান (৪) নিয়ে ঢাকার মানিকদি এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকতেন। প্রতিদিনের মতো বৃহস্পতিবার তিনি এফ আর টাওয়ারের ১৩ তলায় কর্মস্থলে যান।

অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার পর দুপুর ১টার দিকে স্ত্রীকে ফোনে ভবনে আগুন লাগার খবর দেন এবং দোয়া করতে বলেন। এ সময় তিনি স্ত্রীকে বলেন, পুরো ভবনে আগুন লেগে ধোঁয়ায় অন্ধকার হয়ে নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে আসছে। আমি শ্বাস-প্রশ্বাস নিতে পারছি না। হয়তো আমি আর বাঁচব না। আমার জন্য দোয়া কর। মৃত্যুর কিছুক্ষণ আগে দুপুর ১টা ১০ মিনিটে তার স্ত্রীর বড় ভাই মুকুল খানের সঙ্গে মোবাইল ফোনে শেষ কথা হয়।

এ সময় তিনি মোবাইল ফোনে বলেন, এখান থেকে বের হওয়ার কোনো রাস্তা খুঁজে পাচ্ছি না। আমার স্ত্রী-সন্তানদের দেখে রাখবেন। এর কিছুক্ষণ পর আতিকের মোবাইল ফোনের সংযোগ আর পাওয়া যায়নি।

সর্বশেষ বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৯টায় ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা আতিকের কাছে থাকা মোবাইল ফোনের সূত্র থেকে স্বজনদের জানান, কুর্মিটোলা হাসপাতালে আতিকের লাশ নেয়া হয়েছে। সেখানে গেলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, আতিকের লাশ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

পরে মুকুল খানসহ অন্যান্য স্বজনরা রাত সাড়ে ১০টায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে আতিকের লাশ শনাক্ত করে গ্রহণ করেন। শুক্রবার সকাল ১১টায় আতিকের লাশ তার শরীয়তপুরের গ্রামের বাড়িতে পৌঁছে।

এরপর বাদ জুমা নিজ গ্রামের সারেঙ্গা জামে মসজিদ মাঠে জানাজা শেষে সারেঙ্গা জামে মসজিদ কবরস্থানে দাফন করা হয়।

নিহত আতিকের স্ত্রী এ্যানি আক্তার পলি কান্নায় ভেঙে পড়ে যুগান্তরকে বলেন, আগুন লাগার পর আমাকে ফোন দিয়ে বলে পলি তুমি কি বাসায় এসেছো। আমার জন্য দোয়া কর। আমার অফিসের পুরো ফ্লোর অন্ধকার হয়ে আসছে। আমি নিঃশ্বাস নিতে পারছি না। এই শেষ কথা আর আমার সঙ্গে কথা হয়নি। আমার সব শেষ হয়ে গেছে। আমি এখন কী নিয়ে বাঁচব।

উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার দুপুরে আগুন লাগে এফ আর টাওয়ারে। ভবনের নবম তলায় আগুনের সূত্রপাত। পরে ছড়িয়ে পড়ে ২৩ তলা ভবনের বেশ কয়েকটি তলায়। প্রায় সাড়ে ছয় ঘণ্টা চেষ্টার পর সন্ধ্যা ৭টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয় ফায়ার সার্ভিস। অগ্নিনির্বাপণ ও উদ্ধারকাজে সশস্ত্র বাহিনীর সদস্য ও বিমানবাহিনীর পাঁচটি হেলিকপ্টার ব্যবহার করা হয়। ভবনটির ছাদে আটকেপড়া অনেককে উদ্ধার করে বিমানবাহিনীর হেলিকপ্টার। এ ছাড়া অগ্নিনির্বাপণে হেলিকপ্টার থেকে ভবনটিতে পানিও ফেলা হয়।

ভয়াবহ এই আগুনে ২৫ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হওয়া গেছে। তাদের লাশও বুঝিয়ে দেয়া হয়েছে। আহত অন্তত ৭৩ জন রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

ঘটনাপ্রবাহ : বনানীতে এফআর টাওয়ারে আগুন

আরও
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×