বনানীর আগুন: লাফিয়ে পড়ে নিহত পুত্রশোকে প্রলাপ বকছেন বৃদ্ধা মা

  দিনাজপুর প্রতিনিধি ২৯ মার্চ ২০১৯, ২০:৫৯ | অনলাইন সংস্করণ

বনানীর আগুন: লাফিয়ে পড়ে নিহত পুত্রশোকে প্রলাপ বকছেন বৃদ্ধা মা
নিহত মামুনের (ইনসেট) লাশ দিনাজপুরে গ্রামের বাড়ি পৌঁছালে একনজর দেখতে স্বজন ও প্রতিবেশীদের ভিড়। ছবি: যুগান্তর

এ যেন এক শোকের মাতম, পরিবারের সবচেয়ে আদরের ও এলাকার শান্তশিষ্ট ছেলে হিসেবে পরিচিত আব্দুল্লাহ আল মামুনের লাশ দিনাজপুরে এসে পৌঁছালে এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়।

ঢাকার বনানীর এফ আর টাওয়ারে অগ্নিকাণ্ডে নিহত আব্দুল্লাহ আল মামুনের লাশ শুক্রবার সকালে ঢাকা থেকে দিনাজপুর শহরের পশ্চিম বালুয়াডাঙ্গার বাড়িতে নিয়ে আসা হয়।

এ সময় তার বাড়িতে শত শত মানুষ ভিড় করে তাকে একনজর দেখতে। সকাল ১০টায় মামুনের লাশবাহী গাড়িটি পশ্চিম বালুয়াডাঙ্গার বাসভবনে এসে পৌঁছালে স্বজনদের কান্না আর আহাজারিতে ভারি হয়ে ওঠে এলাকার পরিবেশ। তার মৃত্যুতে এলাকায় নেমে আসে শোকের ছায়া।

এদিকে মৃত্যুর সংবাদ পাওয়ার পর থেকেই ভুলভাল বকছেন মমতাময়ী বৃদ্ধা মা মেহেরুন নেছা। হাতে তসবিহ নিয়ে মাঝে মাঝেই খোঁজ করছেন তার ছেলে মামুন কখন আসবে। সে কেমন আছে, ঈদে আসবে কিনা। ছেলে ফিরেছে ঠিকই কিন্তু সে ছেলে কখনোই আর মা বলে ডেকে জড়িয়ে ধরবে না। সে যে চলে গেছে না ফেরার দেশে, এ কথা কে তাকে বোঝাবে?

মামুনের প্রথম জানাজা গত বৃহস্পতিবার রাতে অনুষ্ঠিত হয়েছে ঢাকার কল্যাণপুরে, যেখানে তিনি দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করে আসছিলেন।

শুক্রবার সকাল ১১টায় তার দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হয় গ্রামের বাড়ি বিরল উপজেলার কালিয়াগঞ্জ বাজারসংলগ্ন মিরাবন গ্রামে এবং জুমার নামাজের পরে তৃতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হয় দিনাজপুর শহরের দক্ষিণ বালুয়াডাঙ্গা মিনার জামে মসজিদের ঈদগাহ মাঠে।

জানাজা শেষে দিনাজপুর শহরের ফরিদপুর কবরস্থানে বাবার পাশে মামুনকে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয়।

জানাজায় জাতীয় সংসদের হুইপ ইকবালুর রহিমসহ বিভিন্ন স্তরের মানুষ অংশগ্রহণ করেন।

বৃহস্পতিবার অগ্নিকাণ্ডের সময় আটতলার ওপর থেকে ক্যাবল ধরে নিচে নামার চেষ্টাকালে হাত ফসকে পড়ে গিয়ে ঘটনাস্থলেই নিহত হন মামুন।

তার জানাজায় আত্মীয়স্বজন, বন্ধুবান্ধব, শুভাকাঙ্ক্ষীসহ স্থানীয় বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের নেতারা অংশ নেন।

মামুন দিনাজপুর শহরের পশ্চিম বালুয়াডাঙ্গা অন্ধহাফেজ মোড় এলাকার বন বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মৃত আবুল কাশেমের দ্বিতীয় ছেলে।

মামুন বনানীর এফ আর টাওয়ারে হ্যারিটেজ এয়ার লাইন্স কার্যালয়ের প্রধান হিসাবরক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

পরিবারের সূত্র জানায়, মামুন দিনাজপুর শহরের স্কুলজীবন সম্পন্ন করে ভারতে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করে। এলাকায় তার শান্তশিষ্ট ও সদালাপী হিসেবে সুনাম রয়েছে। ঢাকার কল্যাণপুরে বসবাস করলেও মাঝে মাঝেই আসতেন দিনাজপুরের বাড়িতে।

মামুনের বড়ভাই বিরল মহিলা ডিগ্রি কলেজের রসায়ন বিভাগের প্রভাষক মোশাররফ হোসেন জানান, এলাকায় ও পরিবারে মামুন খুবই আদরের ছিল। সবার সঙ্গেই তার সুসম্পর্ক ছিল। আল্লাহ এমন একজন ভালো ভাইকে আমাদের কাছ থেকে কেড়ে নিলেন। সে যেন ওপারে শান্তিতে থাকে এজন্য সবার কাছে দোয়া কামনা করেন তিনি।

তিনি জানান, ৩ ভাই ও ২ বোনের মধ্যে মামুন দ্বিতীয়। মামুন প্রায় ১৫ বছর ধরে স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে ঢাকায় নিজ বাড়িতে বসবাস করেন। বাড়িতে রয়েছেন বিধবা মা মেহেরুন নেছা। তার বাবা আবুল কাশেম প্রাক্তন বন কর্মকর্তা।

মোশাররফ হোসেন জানান, জীবন বাঁচাতে কয়েকজন মিলে তার ধরে নিচে নামছিলেন। এ সময় হাত থেকে তার ছুটে গিয়ে মামুন নিচে পড়ে গিয়ে মারা যায়।

উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার দুপুরে আগুন লাগে এফ আর টাওয়ারে। ভবনের নবম তলায় আগুনের সূত্রপাত। পরে ছড়িয়ে পড়ে ২৩ তলা ভবনের বেশ কয়েকটি তলায়। প্রায় সাড়ে ছয় ঘণ্টা চেষ্টার পর সন্ধ্যা ৭টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয় ফায়ার সার্ভিস। অগ্নিনির্বাপণ ও উদ্ধারকাজে সশস্ত্র বাহিনীর সদস্য ও বিমানবাহিনীর পাঁচটি হেলিকপ্টার ব্যবহার করা হয়। ভবনটির ছাদে আটকেপড়া অনেককে উদ্ধার করে বিমানবাহিনীর হেলিকপ্টার। এ ছাড়া অগ্নিনির্বাপণে হেলিকপ্টার থেকে ভবনটিতে পানিও ফেলা হয়।

ভয়াবহ এই আগুনে ২৫ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হওয়া গেছে। তাদের লাশও বুঝিয়ে দেয়া হয়েছে। আহত অন্তত ৭৩ জন রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

ঘটনাপ্রবাহ : বনানীতে এফআর টাওয়ারে আগুন

আরও
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×