সরানো হচ্ছে বিজিএমইএ ভবনের মালামাল

  যুগান্তর রিপোর্ট ১৬ এপ্রিল ২০১৯, ১৪:৩১ | অনলাইন সংস্করণ

সরানো হচ্ছে বিজিএমইএ ভবনের মালামাল
ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর হাতিরঝিল লেকে অবৈধভাবে নির্মিত বিজিএমইএর বহুতল ভবন থেকে মালামাল সরিতে নেয়া হচ্ছে। মঙ্গলবার সকাল থেকে ট্রাক, পিকআপ, ভ্যানগাড়িতে করে নিজ নিজ অফিসের মালামাল সরিয়ে নিচ্ছে বিজিএমইএ ভবনে অবস্থিত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান।

বিজিএমইএ ভবনে বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। ব্যাংক-বীমা ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের অফিসও রয়েছে এখানে। ব্যাংকের ভল্টে টাকাসহ অফিসের অন্য মালামাল তারা (বিভিন্ন অফিসসংশ্লিষ্টরা) সরিয়ে নেয়ার কাজ করছে। তারা মালামাল সরিয়ে নেয়ার পরই ভাঙার কাজ শুরু করবে বিজিএমইএ।

এদিকে ভবন থেকে মালামাল সরিয়ে নিতে আরও এক ঘণ্টা সময় দেয়া হয়েছে। এর পরই শুরু হবে ভবন ভাঙার কাজ।

সকালে বিজিএমইএ বিকাল ৫টা পর্যন্ত সময় চেয়ে আবেদন করে। রাজউক আগের দুই ঘণ্টা সময়ের সঙ্গে আরও এক ঘণ্টা সময় বাড়িয়ে দেয় মালামাল সরাতে।

কিছুক্ষণের মধ্যেই ওই সময় শেষ হচ্ছে। এর পরই ভবনের গ্যাস, বিদ্যুৎ, পানি, টেলিফোন লাইনসহ সব ইউটিলিটি সার্ভিসের সংযোগ বিচ্ছিন্নের মাধ্যমে ভবন ভাঙার কাজ শুরু করবে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক)।

তবে বিজিএমইএ ভবনে যেসব অফিস বা প্রতিষ্ঠান ভাড়া নিয়ে অথবা ক্রয় করে অফিস পরিচালনা করে আসছে, তাদের আগে থেকে বিজিএমইএ কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে কিছুই জানায়নি বলে অভিযোগ করেছেন কেউ কেউ। বিজিএমইএ ভবনে ব্যাংকসহ এমন অনেক অফিস রয়েছে। ওইসব অফিসের কর্মকর্তারা বলছেন, হঠাৎ ভবন ভাঙতে এসেছে রাজউক। তারা আগে থেকে প্রস্তুত ছিল না। তবে বাধ্য হয়ে দ্রুততম সময়ের মধ্যে মালামাল সরিয়ে নিতে হচ্ছে।

রাজউক পরিচালক (প্রশাসন) খন্দকার অলিউর রহমান জানান, বিজিএমইএ ভবন ভাঙার কাজে সার্বিকভাবে প্রস্তুত আছে রাজউক। ভবন ভাঙার জন্য বুলডজারসহ অন্যান্য যন্ত্রাদি ভবনের সামনে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এই ভবনে ব্যাংকসহ অন্যান্য অফিস আছে। তারা মালামাল সরিয়ে নিচ্ছে।

এর আগে মঙ্গলবার সকাল ৯টায় তৈরি পোশাক ও রফতানিকারকদের শীর্ষ সংগঠন বিজিএমইএ ভবনের সামনে রাজউকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা অবস্থান নেন। পাশাপাশি ভবন ভাঙার গাড়ি প্রস্তুত রাখা হয়।

সবশেষ ১২ এপ্রিলের মধ্যে ভবনটি অন্যত্র সরিয়ে নিতে সময় দিয়েছিলেন আদালত। নির্দিষ্ট সময় পার হওয়ার পর আদালতের নির্দেশনা বাস্তবায়নে নামছে রাজউক।

এ বিষয়ে রাজউক সূত্র জানায়, ভবনটি ভাঙতে বিজিএমইএকে দেয়া সময় পার হওয়ার পরই এটি ভাঙার কার্যক্রম শুরু হয়েছে। ভবনটি ভাঙতে রাজউক সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়েছে বলে বিজিএমইএ ভবনের সামনে উপস্থিত রাজউকের কর্মকর্তারা সকালেই জানান।

এর আগে সোমবার গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম জানিয়েছিলেন, মঙ্গলবার থেকে বিজিএমইএ ভবন ভাঙার কাজ শুরু হচ্ছে। তিনি বলেন, দীর্ঘ আইনি জটিলতার অবসান শেষে আমরা উচ্চ আদালত কর্তৃক নতুন করে কোনো প্রকার সময় বৃদ্ধি বা ভবন ভাঙা কার্যক্রম স্থগিত রাখতে কোনো নির্দেশনা না পাওয়ায় বিজিএমইএ ভবনটি ভেঙে ফেলার কাজ শুরু করছি।

‘বিজিএমইএ ভবন’ অপসারণে আপিল বিভাগের দেয়া এক বছর সময় শেষ হয়েছে গত ১২ এপ্রিল। গত বছরের ২ এপ্রিল সর্বোচ্চ আদালত ভবনটি অপসারণে তৈরি পোশাক ও রফতানিকারকদের শীর্ষ সংগঠন বিজিএমইএকে এক বছর ১০ দিন সময় দেন।

রাজউক চেয়ারম্যান আবদুর রহমান যুগান্তরকে বলেন, বিজিএমইএ ভবন ভাঙতে আদালত যদি আর সময় না দেন, তা হলে আমরা ভবনটি ভেঙে ফেলব। এ বিষয়ে আমাদের সার্বিক প্রস্তুতি রয়েছে।

এ বিষয়ে করা রিটের আইনজীবী মনজিল মোরসেদ বলেন, হাতিরঝিলে খালের ওপর নির্মিত বহুতল ভবন অপসারণে বিজিএমইএকে আপিল বিভাগের দেয়া এক বছর সময় শেষ হয়েছে গত শুক্রবার। ইতিমধ্যে বিজিএমইএ ভবন থেকে তাদের মালামাল সরিয়ে নেয়ার কাজ শুরু করেছে বলে শুনেছি।

জলাধার আইন ভেঙে নির্মিত বিজিএমইএ ভবনকে সৌন্দর্যমণ্ডিত হাতিরঝিল প্রকল্পে ‘একটি ক্যান্সার’ বলেছিলেন হাইকোর্ট। ওই ভবন অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্টের দেয়া রায় আপিলেও বহাল থাকে। পরে বিজিএমইএ রায় পুনর্বিবেচনার (রিভিউ) আবেদন করলেও তা খারিজ হয়ে যায়। ভবনটি টিকিয়ে রাখতে বিজিএমইএ নেতারা বহু চেষ্টা করেছেন। দীর্ঘ আট বছর মামলা লড়ে পরাজিত হন তারা।

ভবনটি সরাতে একাধিকবার সময় নেয় বিজিএমইএ। পরে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে ৫০ শতাংশ কমমূল্যে উত্তরার ১৭নং সেক্টরে ১১০ কাঠা জমির ওপর ১৩তলা ভবন নির্মিত হচ্ছে। ২০১৭ সালে নতুন এই ভবন নির্মাণের কাজ শুরু হয়। এখন পর্যন্ত ৬ তলার নির্মাণকাজ শেষ হওয়া ভবনটির পুরো কাজ শেষ হতে পারে ২০২০ সালের জুনে। তবে কয়েকটি তলার নির্মাণকাজ শেষ হওয়ায় ও আদালতের বাধ্যবাধকতা থাকায় চলতি মাসেই বিজিএমইএর প্রধান কার্যালয় উত্তরায় স্থানান্তর করা হচ্ছে।

ঘটনাপ্রবাহ : বিজিএমইএ ভবন

আরও
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×