নুসরাতকে পুড়িয়ে হত্যা: নজরদারিতে উপজেলা আ’লীগ সভাপতি

  যুগান্তর রিপোর্ট ১৯ এপ্রিল ২০১৯, ১২:১৮ | অনলাইন সংস্করণ

নুসরাতকে পুড়িয়ে হত্যা: নজরদারিতে উপজেলা আ’লীগ সভাপতি
ছবি: সংগৃহীত

ফেনীর সোনাগাজীতে মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাতকে নিপীড়নের পর পুড়িয়ে হত্যার ঘটনায় গ্রেফতার একাধিক আসামির জবানবন্দিতে একটি নাম উঠে এসেছে। তিনি হলেন সোনাগাজী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি রুহুল আমিন।তাকে নজরদারিতে রেখেছে আইনপ্রয়োগকারী সংস্থা।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছে মামলার তদন্তকারী সংস্থা- পিবিআই (পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন)।

পিবিআই জানায়, নুসরাত হত্যার ঘটনায় রুহুল আমিনের সংশ্লিষ্টতা নিয়ে যেসব অভিযোগ উঠেছে- সেগুলো খতিয়ে দেখা শুরু করেছে পিবিআই।

তদন্ত কমিটির প্রধান ও পুলিশ সদর দফতরের ডিআইজি এসএম রুহুল আমিন বৃহস্পতিবার বিকালে যুগান্তরকে বলেন, ‘আমরা এখন পর্যন্ত শিক্ষক, গভর্নিং বডি, রাফির পরিবারের সদস্যসহ ১৫ জনের বক্তব্য রেকর্ড করেছি, তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করেছি। এগুলো পর্যালোচনা করা হচ্ছে। তদন্তের আনুষঙ্গিক কার্যক্রম শেষ করতে আমাদের আরও ৪-৫ দিন লেগে যেতে পারে। চেষ্টা করব দ্রুততম সময়ের মধ্যে তদন্ত শেষ করতে। বহিষ্কৃত অধ্যক্ষ সিরাজ উদ্দৌলার আরও অনেক অপকর্মের তথ্য পেয়েছি। সময়মতো ব্যবস্থা নিলে এ ধরনের ঘটনা ঘটত না।

স্থানীয়দের সন্দেহ এ ঘটনায় উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি রুহুল আমিন সম্পৃক্ত।মূল আসামি অধ্যক্ষ সিরাজ উদ্দৌলাকে তিনি বাঁচানোর চেষ্টা করেছেন।

এর আগে নুসরাত হত্যাচেষ্টা মামলার প্রধান আসামি নিপীড়ক অধ্যক্ষ সিরাজউদ্দৌলার পক্ষে মামলা পরিচালনা করায় ফেনীর কাজীরবাগ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও ইউপি চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট কাজী বুলবুল সোহাগকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

সিরাজউদ্দৌলাসহ অন্য আসামিদের আইন সহায়তা দেয়ায় তার বিরুদ্ধে এ ব্যবস্থা নেয়া হয়।

মামলার তদন্তের বিষয়ে পিবিআই’র প্রধান ডিআইজি বনজ কুমার মজুমদার যুগান্তরকে বলেন, নুসরাত হত্যার ঘটনার তদন্তে যথেষ্ট অগ্রগতি হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িতদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। পাশাপাশি সোনাগাজী থানার সাবেক ওসি মোয়াজ্জেম হোসেনের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলার তদন্তও চলছে। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী আমরা তদন্ত শেষ করে প্রতিবেদন জমা দেব।

প্রসঙ্গত গত ৬ এপ্রিল সকালে আলিম পরীক্ষা দিতে সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসায় যান নুসরাত জাহান রাফি। কয়েকজন তাকে কৌশলে ছাদে ডেকে নিয়ে অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে করা শ্লীলতাহানির মামলা তুলে নিতে চাপ দেয়। অস্বীকৃতি জানালে তার গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়া হয়। এ ঘটনায় অধ্যক্ষ সিরাজ উদ্দৌলা, পৌর কাউন্সিলর মাকসুদ আলমসহ আটজনের নাম উল্লেখ করে সোনাগাজী মডেল থানায় মামলা করেন রাফির বড় ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান। ১০ এপ্রিল রাতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে মারা যান অগ্নিদগ্ধ রাফি। এর আগে ২৭ মার্চ ওই ছাত্রীকে নিজ কক্ষে নিয়ে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে অধ্যক্ষ সিরাজ উদ্দৌলাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। ওই ঘটনার পর থেকে তিনি কারাগারে আছেন।

ঘটনাপ্রবাহ : পরীক্ষা কেন্দ্রে ছাত্রীর গায়ে আগুন

আরও
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×