নুসরাত হত্যা: মানি লন্ডারিংয়ের প্রমাণ পেলে মামলা করবে সিআইডি

প্রকাশ : ২৩ এপ্রিল ২০১৯, ১৯:১৩ | অনলাইন সংস্করণ

  সোনাগাজী (ফেনী) প্রতিনিধি

সোনাগাজীতে সিআইডির তদন্ত দল। ছবি: যুগান্তর

ফেনীর সোনাগাজীর মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি হত্যার ঘটনায় মানি লন্ডারিংয়ের বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

সিআইডি সদর দফতরের ইকোনোমিক ক্রাইম স্কোয়ার্ডের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. ফারুক হোসেন বলেছেন, নুসরাত হত্যাকাণ্ড নিয়ে মানি লন্ডারিং বিষয়ে গণমাধ্যম ও বিভিন্নমাধ্যমে ওঠে আসা তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করা হয়েছে।

তিনি বলেন, সোনাগাজীর বিভিন্ন ব্যাংকে সন্দেহভাজনদের আর্থিক লেনদেনের বিষয়ে তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করা হয়েছে। এসব তথ্য যাচাই-বাছাই চলছে। আর্থিক বিষয়ে পাওয়া তথ্য প্রমাণিত হলে মানি লন্ডারিং আইনে দোষীদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হবে।

মঙ্গলবার দুপুরে সোনাগাজীতে মানি লন্ডারিং বিষয়ে তদন্তে গিয়ে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি। নুসরাত হত্যাকাণ্ড নিয়ে মোটা অঙ্কের আর্থিক লেনদেনের কথা ওঠে আসে বিভিন্ন গণমাধ্যমে।

তারই সূত্র ধরে সিআইডি সদর দফতর বিষয়টি তদন্তের জন্য তিন সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করে। তদন্ত কমিটির প্রধান হিসেবে ঘটনাস্থল পরিদর্শন ও ব্যাংকের বিভিন্ন শাখায় অনুসন্ধান চালান সিআইডি কর্মকর্তা মো. ফারুক হোসেন।

সিআইডি কর্মকর্তা বলেন, গত ২৭ মার্চ নুসরাতের ওপর যৌন হয়রানির পর থেকে তার মৃত্যুর পর পর্যন্ত সন্দেহভাজনদের আর্থিক লেনদেনের বিষয়ে অনুসন্ধান চলছে। যদি স্থানীয় কোনো ব্যাংক সন্দেহভাজনদের আর্থিক লেনদেনের ব্যাপারে তথ্য গোপনও করে, তাহলে সেই তথ্য বাংলাদেশ ব্যাংকের মানি লন্ডারিং শাখার মাধ্যমে সংগ্রহ করা হবে।

উল্লেখ্য, সোনাগাজী মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদ্দৌলার বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির মামলা দায়ের করায় গত ৬ এপ্রিল আলিম পরীক্ষার্থী নুসরাতকে মাদ্রাসার ছাদে ডেকে নিয়ে আগুন লাগিয়ে দেয়া হয়।

গত ১০ এপ্রিল রাত সাড়ে ৯টায়  নুসরাত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। পরদিন ১১ এপ্রিল সন্ধ্যায় আলহেলাল একাডেমিসংলগ্ন সামাজিক কবরস্থানে দাদির কবরের পাশে সমাহিত করা হয় তাকে।

এ ঘটনায় নুসরাতের বড়ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান বাদী হয়ে গত ৮ এপ্রিল ৮ জনের নাম উল্লেখ করে সোনাগাজী মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন। ১০ এপ্রিল মামলাটি তদন্তের জন্য পিবিআইকে দেয়া হয়।

পিবিআই ২২ জন আসামি গ্রেফতার করে। এর মধ্যে নিজেদের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে ৮ জন। সাতজন রিমান্ডে রয়েছেন।