নুসরাতের ভিডিও করার কথা স্বীকার ওসি মোয়াজ্জেমের

  সোনাগাজী (ফেনী) প্রতিনিধি ২৫ এপ্রিল ২০১৯, ২০:০৭ | অনলাইন সংস্করণ

নুসরাতের ভিডিও করার কথা স্বীকার ওসি মোয়াজ্জেমের
ওসি মোয়াজ্জেম হোসেন। ফাইল ছবি

ফেনীর সোনাগাজীর ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসার আলিম পরীক্ষার্থী নুসরাত জাহান রাফিকে পুড়িয়ে হত্যার ঘটনায় স্থানীয় পুলিশ কর্মকর্তাদের গাফিলতির তথ্য খুঁজে পেয়েছে তদন্ত দল।

পুলিশ সদর দফতরের তদন্তে কয়েকজন পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে এ অভিযোগ উঠে এসেছে।

তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সোনাগাজী থানার তৎকালীন ওসি মোয়াজ্জেম হোসেন ও ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তা সাংবাদিকদের কাছে ঘটনাটি আত্মহনন বলে প্রচারের চেষ্টা চালিয়েছিলেন বলে প্রাথমিক তদন্তে সত্যতা পাওয়া গেছে।

ওসি মোয়াজ্জেম হোসেনের মোবাইল ফোন দুটি জব্দ করা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদে মোয়াজ্জেম হোসেন ভিডিও করে- তা ছড়িয়ে দেয়ার কথা অস্বীকার করেছেন। এ কারণে নুসরাতকে জিজ্ঞাসাবাদের সময় থানায় উপস্থিত সবার মোবাইল ফোন জব্দ করে ফরেনসিক পরীক্ষা করা হবে বলে জানিয়েছে সূত্র।

এ ছাড়া নুসরাতের শরীরে আগুন ধরিয়ে দেয়ায় সারা দেশে তোলপাড় হলেও ফেনীর পুলিশ সুপার (এসপি) জাহাঙ্গীর আলম সরকার ঘটনার চার দিন পর চট্টগ্রাম রেঞ্জের উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) খন্দকার গোলাম ফারুকের সঙ্গে প্রথমবার ঘটনাস্থলে যান।

এসপি, ওসিসহ সংশ্লিষ্ট ১০ পুলিশ কর্মকর্তা, মাদ্রাসার কমিটি, স্থানীয় সাংবাদিক, জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের প্রতিনিধি মিলিয়ে কমপক্ষে ৩৭ জনের বক্তব্য নিয়েছে পুলিশ সদর দফতরের ওই তদন্ত দল।

তথ্য পর্যালোচনা শেষে আগামী শনিবারের পর তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়া হবে বলে জানা গেছে।

তদন্ত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পুলিশসহ স্থানীয় বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যক্তিরা সচেষ্ট হলে নুসরাতকে পুড়িয়ে হত্যার ঘটনাটি এড়ানো যেত। এ ক্ষেত্রে প্রত্যেক ব্যক্তির বিতর্কিত ভূমিকাগুলো শনাক্ত করছে তদন্ত দল।

এদিকে নুসরাতের ওপর হামলার আগে (যৌন হয়রানির পর) তার জবানবন্দি ভিডিও চিত্রধারণ এবং অনলাইনে ছড়িয়ে দেয়ার মামলায় ওসি মোয়াজ্জেম হোসেনকে জিজ্ঞাসাবাদ এবং তার দুটি মোবাইল ফোন জব্দ করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

গত মঙ্গলবার বিকালে ঢাকায় পিবিআই সদর দফতরে তিন ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ শেষে মোয়াজ্জেম হোসেনকে ছেড়ে দেয়া হয়।

তদন্তসংশ্লিষ্টরা বলছেন, মামলার আলামত হিসেবে ওসি মোয়াজ্জেম হোসেনের ফোন দুটি ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হবে। এর মাধ্যমে ফোনে ভিডিও ধারণ, অনলাইনে আপলোড এবং নুসরাতের ঘটনায় মোয়াজ্জেম হোসেনের সংশ্লিষ্টতা পরীক্ষা করে দেখা হবে।

তদন্ত সংস্থা পিবিআই প্রধান ডিআইজি বনজ কুমার মজুমদার বলেন, ‘সোনাগাজীর সাবেক ওসি মোয়াজ্জেম হোসেনকে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডেকে কথা বলেছেন। এটি তদন্তের অংশ। কিছু আলামতও জব্দ করা হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা সর্বোচ্চ পেশাদারি বজায় রেখে তদন্ত করছি। এ মামলায় আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়া হবে। রহস্য উদ্ঘাটন করে আসামিদের আইনের আওতায় আনা হয়েছে। তদন্তের বিভিন্ন দিক যাচাই-বাছাই শেষে খুব শিগগির প্রতিবেদন জমা দেয়া হবে।’ পিবিআই সূত্র জানায়, নুসরাত জাহান রাফিকে জিজ্ঞাসাবাদের জবানবন্দি ভিডিও করে- তা অনলাইনে ছড়িয়ে দেয়ার অভিযোগে গত ১৫ এপ্রিল ওসি মোয়াজ্জেম হোসেনের বিরুদ্ধে ঢাকার সাইবার ক্রাইম ট্রাইব্যুনালে মামলা দায়ের করেন সুপ্রিমকোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন।

আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে পিবিআইকে তদন্তের নির্দেশ দেন। ওই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআই সদর দফতরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রিমা সুলতানা বিষয়টি তদন্ত করতে সোনাগাজী যান।

সেখানে নুসরাতের পরিবার, পৌর মেয়র ও পুলিশের এক এসআইয়ের জবানবন্দি গ্রহণ করেন। নুসরাতের মৃত্যুর ঘটনা তদন্তের অভিযোগ ওঠার পরই ওসি মোয়াজ্জেম হোসেনকে সোনাগাজী থানা থেকে প্রত্যাহার করে ঢাকার আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) সদর দফতরে সংযুক্ত করে রাখা হয়েছে। তার কর্মকাণ্ড পুলিশ সদর দফতরের তদন্ত কমিটির পাশাপাশি পিবিআইয়ের তদন্তকারীরাও খতিয়ে দেখছেন।

তদন্ত কমিটির প্রধান এবং পুলিশ সদর দফতরের ডিআইজি এস এম রুহুল আমীন বলেন, ‘বক্তব্য গ্রহণ এবং তদন্তকাজ শেষ হয়েছে। আমরা ১০ জন পুলিশ সদস্যসহ ৩৭ থেকে ৩৮ জনের সঙ্গে কথা বলেছি। এখন পর্যালোচনা শেষে প্রতিবেদন দেব।’

তিনি আরও বলেন, ‘সোনাগাজী থানার সাবেক ওসিসহ পুলিশের কারো কারো ত্রুটি-বিচ্যুতি পাওয়া গেছে। যৌন হয়রানির ঘটনার পর স্থানীয় প্রশাসন, মাদ্রাসা কমিটিসহ অনেকের গাফিলতি ছিল। এটা না হলে মর্মান্তিক ঘটনা এড়ানো যেত।

উল্লেখ্য, গত ৬ এপ্রিল ফেনীর সোনাগাজীতে মাদ্র্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি আলিম পরীক্ষা দিতে যান। পরীক্ষার আগে তাকে কৌশলে ছাদে ডেকে নিয়ে পুড়িয়ে হত্যার চেষ্টা করা হয়। ১০ এপ্রিল রাত সাড়ে ৯টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে নুসরাত মারা যান।

সরাসরি কিলিং মিশনে অংশ নেয় পাঁচ জন। তারা হল- শাহাদাত হোসেন শামীম, জোবায়ের হোসেন, জাবেদ হোসেন, কামরুন নাহার মণি ও উম্মে সুলতানা পপি। এ ঘটনায় ৮ এপ্রিল রাতে মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলা ও পৌর কাউন্সিলর মুকছুদ আলমসহ ৮ জনের নাম উল্লেখ করে সোনাগাজী মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন অগ্নিদগ্ধ রাফির বড় ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান।

ঘটনাপ্রবাহ : পরীক্ষা কেন্দ্রে ছাত্রীর গায়ে আগুন

আরও
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×