হয় দুর্নীতিবাজ, না হয় আমি থাকব: গৃহায়ণমন্ত্রী

  যুগান্তর রিপোর্ট ২৫ এপ্রিল ২০১৯, ২১:৪৪ | অনলাইন সংস্করণ

গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম।
গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম। ফাইল ছবি

নিজ মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ সব প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীর উদ্দেশে হুশিয়ারি উচ্চারণ করে গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী অ্যাডভোকেট শ ম রেজাউল করিম বলেছেন, ‘প্রধানমন্ত্রী দুর্নীতির ওপর জিরো টলারেন্স ঘোষণা করেছেন। দুর্নীতি দূর করতে তিনি সরকার গঠন করেছেন। সেই সরকারের আমি একজন মন্ত্রী। আমার অধীনে কেউ দুর্নীতি করতে পারবে না। হয় দুর্নীতিবাজরা থাকবে, না হয় আমি থাকব।’

বৃহস্পতিবার রাজধানীর সেগুনবাগিচায় জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

এ সময় জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মো. রাশিদুল, গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. আখতার হোসেনসহ সংস্থার কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

মন্ত্রী বলেন, ‘আমি নিজে ঘুষ খাই না। কমিশন খাই না, কমিশন বাণিজ্যও করি না। আমার অধীনস্থ কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারীকেও ঘুষ খেতে দেব না, কমিশন বাণিজ্য ও সিন্ডিকেট করতেও দেব না। সিন্ডিকেট বাণিজ্য বন্ধ। তবে গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষ ও রাজউকের বেশকিছু কর্মকর্তা কর্মচারীর বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আমার কাছে রয়েছে। আমরা সবাইকে একটা সুযোগ দেয়ার জন্য বলেছি। ভালো হতে হবে। ভালো যদি না হয় খুব শিগগিরই তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। সিন্ডিকেট আমি ভাঙবই। এটা আমি করতে না পারি তাহলে আমি হারিয়ে যাব, অথবা যাদের দুর্নীতির কারণে মানুষ ভুগছে তারাই এখান থেকে হারিয়ে যাবে।’

তিনি বলেন, ‘রাজউকে এক হাজারের বেশি ফাইল পাওয়া যাচ্ছিল না। আমরা ইতিমধ্যে ৭০০ ফাইল উদ্ধার করেছি। অনেক ডেস্কের তালা ভেঙে ফাইল বের করেছি। আর বাকিগুলোর জন্য এক মাস সময় দিয়ে এসেছি। ফাইল বের করতে হবে। হয় ফাইল বের হবে, না হয় অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বের হয়ে যেতে হবে। যেহেতু আমার ব্যক্তিগত কোনো চাওয়া নেই, তাই কাউকে অনুকম্পা দেখানোর প্রয়োজন নেই। জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের ফাইলও সেভাবে উদ্ধার করা হবে। যদি কেউ সিন্ডিকেট বাণিজ্য করতে চান সাবধান হয়ে যান। সিন্ডিকেটের যদি ন্যূনতম ইনভলবমেন্ট পাই আমি কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করব।’

মন্ত্রী আরও বলেন, দুর্নীতিমুক্ত ও স্বচ্ছতার সঙ্গে কাজ করার জন্য আগামী ১ মে থেকে রাজউকে এবং ১ জুন থেকে জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের সব কার্যক্রম অটোমেশনের আওতায় নিয়ে আসা হচ্ছে। এ দুটি প্রতিষ্ঠানের সব কার্যক্রম ডিজিটাল পদ্ধতিতে অনলাইনের মাধ্যমে হবে। একজন নাগরিক বাড়িতে বসে ল্যাপটপে বসে আবেদন করবেন। শুধু ব্যাংকের টাকাটা জমা দিয়ে রিসিভ নম্বরটা দিতে হবে। তারপর সব কাজ বাড়িতে বসেই হবে। আমরা আধুনিক বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এগিয়ে যেতে চাই। ফাইল যাতে হারিয়ে না যায় তার জন্য আমরা ডাটাবেজ তৈরি করছি। সব ফাইল অনলাইনে রাখা হবে। ডাটাবেজটা কমপ্লিট হলে আর কোনো দফতরে না গিয়েই জনগণ তার ফাইলের অবস্থা বুঝতে পারবে।

নাগরিকদের জন্য অভিযোগ বাক্স স্থাপন করা হবে বলে জানান গণপূর্তমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘এসব কাজের প্রতিক্রিয়া পেতে অভিযোগ বাক্স স্থাপন করা হবে। কারণ আমি শুনতে চাই কারা দুর্নীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। শুনতে চাই কাদের কারণে মানুষ কাঙ্ক্ষিত সেবা পাচ্ছে না। বুঝতে চাই মানুষ কতটা সেবা পাচ্ছে। কারণ আমরা আমাদের দায়িত্ববোধ এড়িয়ে যেতে পারি না।’

সরকার ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান নয় উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ‘প্রয়োজনে রাজউক ও জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষকে সরকার ভর্তুকি দেবে, কিন্তু জনগণের ঘাড়ে অতিরিক্ত ট্যাক্স চাপিয়ে তাদের কষ্ট বাড়ানো এবং তার ভেতর থেকে আমাদের সুবিধা নেয়া, এটা কাঙ্ক্ষিত নয়।’

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×