ঈদযাত্রায় নৌপথের নিরাপত্তায় ১৮ দফা প্রস্তাবনা

  যুগান্তর রিপোর্ট ২২ মে ২০১৯, ১৮:২০ | অনলাইন সংস্করণ

ঈদযাত্রায় নৌপথের নিরাপত্তায় ১৮ দফা প্রস্তাবনা
বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি। লোগো সংগৃহীত

পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে নৌপথে যাতায়াতকারী যাত্রী সাধারণের নিরাপদ ও হয়রানিমুক্ত যাতায়াত নিশ্চিত করতে ১৮ দফা প্রস্তাবনা দিয়েছে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি। এর মধ্যে ওভারলোড কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ, অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের নৈরাজ্য প্রতিরোধ এবং লঞ্চ ও খেয়াঘাটে ইজারাদারের দৌরাত্ম্য বন্ধ করাসহ অন্যান্য বিষয়গুলো নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে।

বুধবার বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির পক্ষ থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দুর্যোগপূর্ণ কালবৈশাখীর এ সময়ে কঠোর নিয়ন্ত্রণের মধ্যে নৌপথে ঈদযাত্রা নিশ্চিত করা না গেলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি রয়েছে।

সংগঠনের পক্ষ থেকে এসব ঝুঁকি মোকাবেলা করে নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন নৌপথে ঈদযাত্রা নিশ্চিত করতে ১৮ দফা প্রস্তাবনা প্রদান করা হয়।

১৮ দফা প্রস্তাবগুলো হলো- যাত্রীবাহী সব নৌযানে ওভারলোড বা অতিরিক্ত যাত্রীবহন কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা; সব নৌবন্দর, লঞ্চঘাট, খেয়াঘাটে ঘাটভাড়ার নামে ইজারাদারের দৌরাত্ম্য ও অতিরিক্ত টোল আদায় বন্ধ করতে হবে।

এছাড়াও সব নৌবন্দর ও লঞ্চঘাটে অজ্ঞানপার্টি, মলমপার্টি, প্রতারকচক্র, কুলিদের দৌরাত্ম্য বন্ধ করা; প্রত্যন্ত অঞ্চলে বিশেষ করে উপকূলীয় অঞ্চলে, হাওর ও পাহাড়ি জনপদে অবৈধ, অনিবন্ধিত, ফিটনেসবিহীন, ঝুঁকিপূর্ণ নৌযান চলাচল নিষিদ্ধ করা; শিমুলিয়া-কাঠাঁলবাড়ি ও পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌপথে ফেরি, লঞ্চ ও স্পিডবোটসমূহে অতিরিক্ত যাত্রীবহন নিষিদ্ধ করার পাশাপাশি সুশৃঙ্খলভাবে চলাচল নিশ্চিত করতে হবে।

সব নৌবন্দর ও লঞ্চঘাটে পুলিশ, র্যাব, কোস্টগার্ড ও আনসার বাহিনী মোতায়েন করে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা; গুরুত্বপূর্ণ নৌবন্দরসমূহ ও লঞ্চঘাটে সিসিটিভি স্থাপন করে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা; নৌপথে যাত্রীদের সেহেরি ও ইফতারিতে সাশ্রয়ী মূল্যে মানসম্পন্ন খাবার ও নিরাপদ পানীয় জলের ব্যবস্থা করা দরকার।

নৌপথে সব ধরনের অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা, যাত্রী হয়রানি ও ভাড়া নৈরাজ্য প্রতিরোধে সমুদ্র পরিবহন অধিদফতর, বিআইডাব্লিউটিএ, ভোক্তা অধিদফতর, জেলা প্রশাসন, উপজেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের সমন্বয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা; সব লঞ্চটার্মিনাল ও নৌবন্দরের গণশৌচাগার ও অজুখানায় পর্যাপ্ত পানীয় জলের ব্যবস্থাসহ পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখা জরুরি।

প্রস্তাবনায় ভাড়া নৈরাজ্য ও টিকিট কালোবাজারি বন্ধ করা; টিকিট দিয়ে ভাড়া আদায় নিশ্চিত করা; ঈদযাত্রার সময় রাতে সব ধরনের বালুবাহী ও পণ্যবাহী লঞ্চ চলাচল নিষিদ্ধ করা; সদরঘাট থেকে গুলিস্তান পর্যন্ত রাস্তা ও ফুটপাত যানজট ও দখলমুক্ত করা; রাতের বেলায় স্পিডবোট চলাচল বন্ধ রাখা; স্পিডবোটের যাত্রীদের লাইফ জ্যাকেট পরিধান নিশ্চিত করা করতে বলা হয়েছে।

লঞ্চের স্বাভাবিক চলাচল নিশ্চিত করতে বয়া, বাতি ও মার্কিং ব্যবস্থা করা; স্পেশাল সার্ভিসের নামে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের নৈরাজ্য বন্ধ করা; প্রতিটি লঞ্চে লাইফ জ্যাকেটসহ যাত্রী অনুপাতে অন্যান্য নিরাপত্তা সরঞ্জাম নিশ্চিত করা এবং প্রতিটি লঞ্চে লাইসেন্সধারী প্রশিক্ষিত ও দক্ষ চালক, সারেং রাখার বিষয় নিশ্চিত করতে হবে।

বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, অতিরিক্ত যাত্রী বহনের পাশাপাশি সরকার নির্ধারিত ভাড়া আদায়ের নামে প্রতিবছর ঈদে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের নৈরাজ্যের শিকার হচ্ছে নৌপথের যাত্রীরা।

কেবিনের টিকিট কালোবাজারিদের হাতে তুলে দিয়ে কয়েকগুণ বাড়তি দামে বিক্রির খবর ইতিমধ্যে গণমাধ্যমে আসতে শুরু করেছে। এহেন অসাধু তৎপরতা জরুরি ভিত্তিতে বন্ধের দাবি জানান তিনি।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×