কে জানতো এটিই সজীবের শেষ কাজ

প্রকাশ : ২৬ মে ২০১৯, ১৭:০৪ | অনলাইন সংস্করণ

  যুগান্তর রিপোর্ট

সজীবের ফেসবুক থেকে নেয়া ছবি

সজীব নামটির মতোই সদা চঞ্চল, উচ্ছ্বল এক তরুণ। কথা শুরু করলে যেন থামতেই চাইত না, সবাইকে মুগ্ধ করে রাখতো সবসময়। সম্প্রতি সজীব যুগান্তর অনলাইনের জন্য একটি ভিডিও নির্মাণ করেন। কে জানতো এটিই সজীবের শেষ কাজ।

শুক্রবার গভীর রাতে মেধাবী এই সাংবাদিক, লেখক, আলোকচিত্রী সজীব পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করে আত্মহত্যা করেছেন। আত্মহননের একদিন আগে বুধবার 'স্কুটিতে চড়ে দুই নারীর ৬৪ জেলা ভ্রমণ' শিরোনামে একটি ভিডিও যুগান্তরের ফেসবুক পেজে আপ করা হয়। এই ভিডিওটি ধারণ ও সম্পাদনা করেছিলেন সজীব চন্দ। তার কাজ দেখেই বোঝা যায় কতোটা মেধাবী ছিলেন সংবাদকর্মী, লেখক, আলোকচিত্রীসহ বহুগুণ সম্পন্ন এই তরুণ।

সজীব বাবা-মাকে নিয়ে রাজধানীর মোহাম্মদপুরের ঢাকা উদ্যান সংলগ্ন এক ভাড়াবাসায় বসবাস করতেন। স্থায়ী নিবাস নোয়াখালী জেলার কোম্পানীগঞ্জ থানার সিরাজপুর ইউনিয়নের শাহজাদপুর গ্রাম। শনিবার বিকালের দিকে আত্মীয়-স্বজনের উপস্থিতিতে সেখানেই সজীবের শেষকৃত সম্পন্ন হয়। সজীবের এই অকাল মৃত্যুতে তার কর্মস্থল, শিক্ষা-প্রতিষ্ঠানসহ সর্বত্র শোকের ছায়া নেমেছে।

সজীবের বাবা জীবন কুমার, একজন অবসরপ্রাপ্ত ব্যাংক কর্মকর্তা। তিনি নিজেও দীর্ঘদিন ধরে হৃদরোগে ভুগছেন। মা আকুল রানীর একমাত্র আদরের ধন সজীব। পড়াশোনার গণ্ডি পেরুতে না পেরুতেই কোনো এক ঝড়ে জীবনযুদ্ধে হেরে গেল সম্ভাবনাময় একটি জীবন।

নিহতের চাচাতো ভাই সুব্রত চন্দ বলেন, 'সজীব দীর্ঘদিন থেকে মানসিক হতাশায় ভুগছিল। মানসিক চাপ সইতে না পেরেই সে আত্মহননের পথ বেছে নেয়।' গলায় ফাঁস দিয়ে সজীব নিজেকে শেষ করেন বলে জানান তিনি।

তিনি বলেন, 'শুক্রবার আনুমানিক রাত ২টার দিকে নিজ রুমে সিলিং ফ্যানে গামছা দিয়ে আত্মহত্যা করেন সজীব। বিষয়টি সর্বপ্রথম বুঝতে পারেন সজীবের মা। তিনি প্রতিদিনের মতো সজীব ঘুমিয়েছে কি না বা ঠাণ্ডা লাগছে কি না তা দেখতে গিয়ে নিজের সন্তানকে ঝুলন্ত অবস্থায় আবিষ্কার করেন। পরে তাকে নিকটস্থ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে নেয়া হলে ডাক্তাররা মৃত ঘোষণা করেন।' 

সজীব রাজধানীর ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস বাংলাদেশে (ইউল্যাব) মিডিয়া স্টাডিজ অ্যান্ড জার্নালিজমের শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। এছাড়াও তিনি টোয়েন্টিফোর লাইভ নিউজপেপারে (অনলাইন পোর্টাল) কর্মরত ছিলেন।

যুগান্তর অনলাইনের জন্য একটি ভিডিও নির্মাণ করেন সজিব। এটাই ছিল তার শেষ কাজ-