তামাকে কর বৃদ্ধি চেয়ে অর্থমন্ত্রীকে ৮ এমপির চিঠি

প্রকাশ : ০১ জুন ২০১৯, ২২:৫৯ | অনলাইন সংস্করণ

  রংপুর ব্যুরো

আসন্ন বাজেটে সকল তামাকজাত পণ্যে করারোপের মাধ্যমে মূল্য বৃদ্ধির দাবিতে অর্থমন্ত্রী আ. হ. ম. মুস্তফা কামালকে চিঠি দিয়েছেন রংপুর ও রাজশাহী বিভাগের ৮ সংসদ সদস্য। চিঠিতে তারা প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা মোতাবেক শক্তিশালী তামাক শুল্কনীতি গ্রহণ ও বাস্তবায়নেরও দাবি জানান।

চিঠিতে সাংসদরা উল্লেখ করেন, তামাকপণ্য ব্যবহারজনিত রোগে দেশে প্রায় ১ লাখ ২৬ হাজার মানুষের অকাল মৃত্যু হয়। 

বর্তমানে ৩ কোটি ৭৮ লক্ষ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ তামাক সেবন করেন, যার মধ্যে ১৮ শতাংশ (১ কোটি ৯২ লক্ষ) ধূমপানের মাধ্যমে তামাক ব্যবহার করেন। ২০ দশমিক ৬ শতাংশ (২ কোটি ২০ লক্ষ) ধোঁয়াবিহীন তামাক (জর্দা, গুল, খৈনী, সাদাপাতা) ব্যবহার করেন।

চিঠিতে আরও বলা হয়, ধোঁয়াবিহীন তামাক ব্যবহারের হার নারীদের মধ্যে অনেক বেশি। বাংলাদেশে ১৩ থেকে ১৫ বছর বয়সের প্রায় ৭ শতাংশ কিশোর-কিশোরী তামাকপণ্য ব্যবহার করে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।

দেশে তামাকপণ্য খুবই সহজলভ্য। পৃথিবীর যেসব দেশে তামাকপণ্যের দাম অত্যন্ত সস্তা বাংলাদেশ তার মধ্যে অন্যতম। সহজলভ্য হওয়ায় তামাকজনিত মৃত্যু ও ক্ষয়ক্ষতি বেড়েই চলছে। অথচ কার্যকরভাবে করারোপের মাধ্যমে তামাকপণ্যের দাম বাড়ালে তামাকের ব্যবহার হ্রাস পাবে এবং একইসঙ্গে সরকারের রাজস্ব আয়ও বৃদ্ধি পাবে।

জনস্বাস্থ্য, পরিবেশ ও অর্থনীতির ওপর তামাকের নেতিবাচক প্রভাবের কথা বিবেচনা করে প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা ‘২০৪০ সাল নাগাদ তামাকমুক্ত বাংলাদেশ‘ বাস্তবায়নে আসন্ন ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেটের জন্য সুনির্দিষ্ট কিছু সুপারিশ চিঠিতে তুলে ধরেন।

চিঠিতে যেসব তামাকপণ্যের ওপর করারোপ করে যেসব সুপারিশ তুলে ধরা হয় সেগুলো হলো- সিগারেটের ক্ষেত্রে বিদ্যমান ৪টি মূল্যস্তর (৩৫ টাকা, ৪৮ টাকা, ৭৫ টাকা এবং ১০৫ টাকা) বিলুপ্ত করে ২টি মূল্যস্তর (৫০ টাকা ও ১০৫ টাকা তদূর্ধ্ব) নির্ধারণ এবং গুল জর্দার ক্ষেত্রে ট্যারিফ ভ্যালু প্রথা বাতিল করে সিগারেট ও বিড়ির ন্যায় খুচরা মূল্যের ভিত্তিতে করারোপ করা।

পাশাপাশি সকল তামাকপণ্যের প্যাকেট অথবা কৌটাপ্রতি সম্পূরক শুল্কের একটি অংশ সুনির্দিষ্ট আকারে আরোপ করা হোক, যাতে ক্ষতিকর এসব পণ্যের প্রকৃত মূল্য বৃদ্ধি পায়। 

যে সবসংসদ সদস্য মন্ত্রীকে চিঠি দিয়েছেন তারা হলেন জাতীয় সংসদের হুইপ ইকবালুর রহিম, রাজশাহী-২ আসনের সাংসদ ফজলে হোসেন বাদশা, সিরাজগঞ্জ-২ আসনের অধ্যাপক ডা. মো. হাবিবে মিল্লাত, নাটোর-৪ আসনের অধ্যাপক মো. আব্দুল কুদ্দুস, লালমনিরহাট-১ আসনের মো. মোতাহার হোসেন, রংপুর-২ আসনের আবুল কালাম মো. আহসানুল হক চৌধুরী, কুড়িগ্রাম-১ আসনের মো. আছলাম হোসেন সওদাগর ও নীলফামারীর সংরক্ষিত আসনের (মহিলা আসন-২৩) সংসদ সদস্য রাবেয়া আলীম।