ঘুষ লেনদেন: ডিআইজি মিজান ও বাছিরের কী শাস্তি হবে?

প্রকাশ : ১০ জুন ২০১৯, ২১:১২ | অনলাইন সংস্করণ

  যুগান্তর রিপোর্ট

ডিআইজি মিজান ও দুদক পরিচালক খন্দকার এনামুল বাছির। ফাইল ছবি

শৃঙ্খলা ভঙ্গ ও তথ্য পাচারের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পরিচালক খন্দকার এনামুল বাছিরকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। ঘুষ গ্রহণের অভিযোগে গঠিত তদন্ত কমিটির প্রাথমিক প্রতিবেদনের ভিত্তিতে কমিশন এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। 

এখন অনেকের মনেই প্রশ্ন জেগেছে ঘুষ লেনদেনের কারণে ডিআইজি মিজান ও দুদক কর্মকর্তা বাছিরের কী ধরনের শাস্তি হবে? 

সোমবার এ বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে দুদক চেয়ারম্যান বলেন, ‘অসদাচরণের বিভিন্ন ধরনের দণ্ড আছে তার মধ্যে গুরুদণ্ড, মাঝারি দণ্ড ও লঘু দণ্ড রয়েছে। তবে এখনই এ বিষয়ে কোনো কথা বলা যাবে না। অভিযুক্ত ব্যক্তি বলছেন ঘুষ দিয়েছেন এনামুল বাছির বলছেন ঘুষ নেইনি।’

তিনি বলেন, কমিশনের কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী যদি অনৈতিক বিষয়ে জড়িয়ে পড়েন তাদেরকে শাস্তির আওতায় আনা হবে। 

আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, অডিওতে আমাকে জড়িয়ে ফেললে কী করবেন? জড়িয়ে ফেললে জড়িয়েছে আর কি। ঘুষ দেয়ার অভিযোগে ডিআইজি মিজানের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়া হবে কিনা জানতে চাইলে দুদক চেয়ারম্যান বলেন, ‘সে ব্যাপারটি তদন্ত করতেই কমিটি। নিয়ম আইনের মধ্য থেকে একটি অনুসন্ধান করতে হবে তারপরে পরবর্তী ব্যবস্থা। 

ডিআইজি মিজানের যে ঘুষ দেয়ার দাবি যদি দেখেন যে সেটা সত্য তখন কি আপনারা তার বিরুদ্ধে মামলায় যাবেন কিনা জানতে চাইলে দুদক চেয়ারম্যান বলেন, ‘ডেফিনেটলি। এ ব্যাপারে কোনো প্রশ্ন হবে না।

এনামুল বাছিরের সম্পদ অনুসন্ধান করা হবে জানতে চাইলে ইকবাল মাহমুদ বলেন, সেটা ডিফারেন্ট ইস্যুজ। তদন্ত কমিটি যদি মনে সেটা করা দরকার তাহলে সেটা করবে। 

সাংবাদিকদের দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ আরও বলেন, যে অডিও রেকর্ডের বিষয়টি মিডিয়ায় প্রচার করা হয়েছে সেটা ফরেনসিক ছাড়া যাচাই করা মুশকিল।

ইকবাল মাহমুদ বলেন, ‘তদন্তকারী কর্মকর্তারা যেহেতু কোনো রিপোর্ট দাখিল করেনি তাই খন্দকার এনামুল বাছিরকে ওই অনুসন্ধানের দায়িত্ব (ডিআইজি মিজানুর রহমানের জ্ঞাত আয় বহির্ভুত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ) থেকে অব্যাহতি দিয়ে সাময়িক বরখাস্ত করেছি। এ ছাড়াও ওই অভিযোগ অনুসন্ধানে নতুন একজন পরিচালককে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।’ 

তিনি বলেন, ‘অভিযুক্ত ব্যক্তি মিজানুর রহমান ও তার স্ত্রীর সম্পদের বিষয়ে যতটুকু অনুসন্ধান হয়েছে তার ভিত্তিতেই যাচাই-বাছাই করে নতুন তদন্তকারী কর্মকর্তা শেষ করবে।

এ ঘটনায় দুদক সম্পর্কে মানুষের আস্থা সংকট দেখা দেবে কিনা জানতে চাইলে দুদক চেয়ারম্যান বলেন, কমিশনে ৮৭৪ জন কর্মকর্তা রয়েছে। সবার বাড়ি বাড়ি গিয়ে তাদের সম্পর্কে খোঁজ নেয়া সম্ভব নয়। আমরা যখনই সংশ্লিষ্ট পরিচালকের বিরুদ্ধে অভিযোগ পেয়েছি সঙ্গে সঙ্গেই এ বিষয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করেছি ও ব্যবস্থা নিয়েছি। তাই আমি মনে করি জনগণের আস্থা সংকটের কিছু নেই।

ডিআইজি মিজানকে সাসপেন্ড করার পর তার ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ক্লোজড করা ছিল, তারপরও কীভাবে তিনি এত টাকা লেনদেন করলেন?-এমন প্রশ্নের জবাবে দুদক চেয়ারম্যান বলেন, ‘যখন ঘুষ লেনদেনের বিষয় আসবে তখন অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তা নিশ্চয়ই জিজ্ঞেস করবে এত টাকা তিনি কোথায় পেলেন? এই টাকার উৎস কী? এই টাকা যদি আপনিই দিয়ে থাকেন আপনারই উৎস কী? সবকিছুই আসবে।’ 

দুদকে কি কোনো গোয়েন্দা কার্যক্রম নাই যে দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের চিহ্নিত করা যায়? এমন প্রশ্নের জবাবে ইকবাল মাহমুদ বলেন, গোয়েন্দা কার্যক্রম আছে বলেই তো ২২-২৫ জন কর্মকর্তাকে বের করে দেয়া হয়েছে এবং অ্যাকশন নেয়া হয়েছে। 

এ ঘটনায় কমিশন বিব্রত কিনা জানতে চাইলে বলেন, না না, কেন কমিশন বিব্রত হবে। কমিশন কি কোনো ঠুনকো জিনিস নাকি কোনো ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে বিব্রত হবে। কোনো ব্যক্তির অপরাধের দায় প্রতিষ্ঠান নেয় না, নিবেও না। তবে দায়ী ব্যক্তির অপরাধ আমলে নেয়া হয়েছে বলেই তো তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছে।